জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য এবং পানিসম্পদ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে জেলগেটে এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে জেলগেটে এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত তাকে জেলগেটে এক দিন জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।
১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৯ হাজার ৯২৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখা এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে মোট ৮৫ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগে গত বছরের ২৪ এপ্রিল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির উপপরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মামলা দায়ের করেন।
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে জ্যাকবকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পুরো নির্বাচন কমিশনের কাছে ৯ দফা লিখিত দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম পরওয়ার। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কিছু বিষয়ে সম্মতির কথা জানালেও কয়েকটি ক্ষেত্রে কমিশনের ‘অসহায়ত্ব’ প্রকাশে ক্ষোভ জানান গোলাম পরওয়ার। নির্বাচন কমিশন কোনো বিশেষ দলীয় সরকারের চাপের মুখে কাজ করছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। জামায়াতের অন্যতম প্রধান দাবি, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণাসংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতি ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা অংশ নিয়েছেন। তাই শুধু স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমঅধিকারের নীতির পরিপন্থি এবং বৈষম্যমূলক। সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার না হলে আইনি চ্যালেঞ্জ করা হবে বলেও জানান তিনি। দ্বিতীয় দাবিতে জামায়াত বলেছে, সরকার যেসব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে, সেসব দলের পদ-পদবিধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। তাদের মতে, নিষিদ্ধ দলের পদধারী ব্যক্তির নির্বাচনে অংশগ্রহণও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ। তবে সাধারণ সমর্থকদের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানায়নি দলটি। ইসি সচিবালয়ে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা বিএনপির নির্বাচন বিষয়ক সাব-কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এমন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা ব্যক্তির নিয়োগ নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করে জামায়াত। বিষয়টি সরকারকে জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। তাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ, এডিপি বরাদ্দ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এসব প্রশাসককে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানায় দলটি। জামায়াতের দাবি, তপশিল ঘোষণার পর প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন ওই নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন। পাশাপাশি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তির নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ বন্ধে কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। ফলে দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে না। আগ্রহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্য কেবল জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলগুলোর নিজস্বভাবে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ওই ঐক্যের কোনো বাধ্যবাধকতা বা সমঝোতার শর্ত নেই। বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ৯ দফা দাবি লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান গোলাম পরওয়ার।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা থাকলেও ভারতের প্রতিক্রিয়া, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অন্য দেশের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে ঢাকার সামনে এখন বড় প্রশ্ন—এই জোটে যুক্ত হওয়া কি কৌশলগত সুবিধা, নাকি পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন ঝুঁকির সূচনা? সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যেই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হয়েছে। মক্কায় স্বাক্ষরিত হওয়ায় চুক্তিটি পরিচিতি পেয়েছে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ হিসেবে। ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান চুক্তিতে সই করে। এর মূল ধারণা হলো—জোটের কোনো সদস্য রাষ্ট্র সশস্ত্র হামলার শিকার হলে সেটিকে শুধু ওই দেশের ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে না; অন্য সদস্যরাও সম্মিলিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। এই কাঠামোর কারণে অনেকেই চুক্তিটিকে ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে ন্যাটোর মতো সমন্বিত সামরিক কমান্ড কাঠামো এই জোটে এখনো নেই। চুক্তিতে সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প, যৌথ সামরিক মহড়া এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়ও রয়েছে। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ দলিল প্রকাশ না হওয়ায় এর ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশের নাম আলোচনায় কেন? সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন এই নিরাপত্তা কাঠামোতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে বাংলাদেশকে জোটে নেওয়ার বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশের পরই যোগদানের বিষয়টি বিবেচনায় আসবে বলে তিনি জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরও চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তার মতে, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি হলে বাংলাদেশের সেটিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা স্বাভাবিক। তবে বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ শুধু সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক নয়। স্বাধীনতার পর থেকে ঢাকা সামরিক জোটে সরাসরি যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সাধারণত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দীর্ঘদিনের মূলনীতি—‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। ফলে কোনো সামরিক জোটে প্রবেশের সিদ্ধান্ত এই ঐতিহ্যবাহী ভারসাম্যের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কী সুবিধা পেতে পারে বাংলাদেশ? সমর্থকদের মতে, মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হলে বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। প্রথমত, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। তুরস্ক বর্তমানে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, নৌযান ও বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার সৌদি আরব। দেশটির সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়লে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তৃতীয়ত, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের ভূমিকা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, এ ধরনের প্রতিরক্ষা কাঠামোতে যুক্ত হলে বাংলাদেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই কিছু সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তার মতে, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক অভিজ্ঞতা—এই তিনটি দেশের সক্ষমতা একসঙ্গে বাংলাদেশের জন্য নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। সৌদি আরব কেন বাংলাদেশকে চাইতে পারে? বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি শুধু ঢাকার আগ্রহ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। জোটের প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোরও নিজস্ব কৌশলগত হিসাব রয়েছে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটি বিপুল পরিমাণ মার্কিন অস্ত্রও কিনেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর রিয়াদ নিজের নিরাপত্তার জন্য একক কোনো শক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে চাইছে না বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন। তুরস্কের রয়েছে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প। পাকিস্তানের রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী এবং পারমাণবিক সক্ষমতা। অন্যদিকে সৌদি আরব দিতে পারে অর্থনৈতিক শক্তি, বিনিয়োগ ও কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। এই তিন দেশের সক্ষমতা পরস্পরের পরিপূরক। ফলে ভবিষ্যতে জোটটি শুধু সামরিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও মুসলিম-অধ্যুষিত একটি দেশের অংশগ্রহণ সেই কাঠামোর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পারে—এমন ধারণাও রয়েছে। তাহলে আরব দেশগুলো কেন যোগ দিচ্ছে না? এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সৌদি আরবের প্রতিবেশী অনেক গুরুত্বপূর্ণ দেশ এখনো এই জোটে যোগ দেয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও মিশরের মতো দেশগুলো আপাতত বাইরে রয়েছে। এর পেছনে তাদের নিজস্ব কূটনৈতিক হিসাব রয়েছে। উপসাগরীয় অনেক দেশ একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কোনো একটি সামরিক শিবিরে সরাসরি যুক্ত হলে সেই ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কাতারের সঙ্গে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশ একটি বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র ভাগ করে ব্যবহার করে। ফলে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক বিরোধে যাওয়ার মতো কোনো কাঠামোতে দোহা যেতে চাইবে কি না, সেটি বড় প্রশ্ন। অতীতের অভিজ্ঞতাও আরব দেশগুলোর জন্য সতর্কতার কারণ। বিভিন্ন সময়ে একাধিক আঞ্চলিক সামরিক জোট তৈরি হলেও সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে পরিণত হয়নি। তাই নতুন কোনো প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিতে যোগ দেওয়ার আগে অন্য দেশগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কোথায়? সুবিধার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি বড় ঝুঁকিও রয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক: বাংলাদেশ কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হলে ভারতের প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের এই কাঠামোকে দিল্লি কীভাবে দেখবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত ও বিস্তৃত অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এমন কোনো সিদ্ধান্ত, যা দিল্লির নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়, তা বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত জটিলতা তৈরি করতে পারে। গবেষক ও বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হলে ভারত বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন সামরিক প্রতিযোগিতা বা প্রক্সি রাজনীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক: আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ইরানকে ঘিরে। মক্কা জোটের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগগুলোর একটি যদি ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতে জোট ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে ঢাকাকে একটি কঠিন কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা: বাংলাদেশের জন্য এটি সবচেয়ে বাস্তব ঝুঁকিগুলোর একটি। কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানি চুক্তি রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হরমুজ প্রণালিনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত তীব্র হলে এই নৌপথে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ যদি এমন কোনো সামরিক জোটের অংশ হয়, যার সঙ্গে ইরানের সরাসরি বিরোধ তৈরি হয়, তাহলে জ্বালানি সরবরাহের ওপরও পরোক্ষ চাপ পড়তে পারে। অন্য দেশের যুদ্ধে বাংলাদেশ জড়াবে কি? এটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। মক্কা চুক্তির মূল নীতি যদি হয়—এক সদস্যের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা—তাহলে কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে? ধরা যাক, জোটের কোনো একটি দেশের সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশের যুদ্ধ শুরু হলো। বাংলাদেশ কি সেই সংঘাতে সামরিকভাবে পাশে দাঁড়াবে? নাকি বলবে, সংঘাতটি বাংলাদেশের সরাসরি স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়? সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার আগে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন। কারণ অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক জোটে কোনো সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকে। কিন্তু পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সামরিক প্রতিশ্রুতির বিষয়টি অনেক বেশি স্পর্শকাতর। কূটনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন: বাংলাদেশের আরেকটি বড় শক্তি হলো ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি। ঢাকা একই সঙ্গে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। কোনো একটি শক্তির বলয়ে পুরোপুরি ঢুকে না গিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করাই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কৌশল। সামরিক জোটে যোগ দিলে সেই ভারসাম্য কতটা বজায় রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ যদি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হয়, তাহলে শুধু সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নয়—ভারত, ইরান, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তির সঙ্গেও সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের সামনে তাই কঠিন হিসাব: মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে সম্ভাবনা ও ঝুঁকির দরজা খুলতে পারে। একদিকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামরিক প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ, সৌদি শ্রমবাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে রয়েছে ভারতের সম্ভাব্য উদ্বেগ, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা, জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি এবং দূরের কোনো সংঘাতে বাংলাদেশের জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশের সরাসরি সামরিক হুমকি এবং জোটের প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর নিরাপত্তা বাস্তবতা এক নয়। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যে ধরনের আঞ্চলিক সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, বাংলাদেশকে সেই একই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় না। তাই শুধু আবেগ, ধর্মীয় সম্পর্ক কিংবা তাৎক্ষণিক কৌশলগত সুবিধার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করাই হবে ঢাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব রাজনীতির পুরোনো সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা, চীন-রাশিয়ার উত্থান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নতুন জোট—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের জন্যও নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি বড় কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে সেটি নিরাপত্তার নতুন ছাতা হবে, নাকি বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করবে—তার উত্তর নির্ভর করবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্ত, বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির মাত্রা এবং ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ‘মক্কা প্যাক্টে অংশ নিতে পরিস্থিতি যাচাই বাছাই করছে বাংলাদেশ। এই জোটে যুক্ত হতে বাংলাদেশের স্বার্থ আগে বিবেচনা করা হবে। এখনো কোন আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসেনি।’ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আইপিইউ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠককের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ফেরত এসেছে। আইপিইউ মহাসচিবের সফর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।’ তিনি জানান, বর্তমানের তরুণ সংসদ সদস্যদের ইতিবাচক ভাবে দেখছে আইপিইউ। বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সার্জিও গোরের মন্তব্য আগের চুক্তিকে নিয়ে হতে পারে বলে জানান তিনি।