সভা-সমাবেশ, মিছিল, পোস্টার ও ব্যানারের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বিশেষ করে ফেসবুক এখন রাজনীতিবিদদের সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানোর বড় মাধ্যম। তবে অনলাইনে জনপ্রিয়তা কি শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সেও প্রতিফলিত হচ্ছে?
একসময় নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান ভরসা ছিল মাঠের জনসভা, মিছিল, পোস্টার, ব্যানার ও দেয়াল লিখন। প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এখন একজন রাজনীতিবিদকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে সবসময় মঞ্চে উঠতে হয় না; একটি ফেসবুক পোস্টই মুহূর্তের মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।
ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, এক্সসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক বক্তব্য, কর্মসূচি, প্রতিক্রিয়া ও প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলন কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণাও প্রথমে আসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণআন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফলে দলীয় প্রচারণার পাশাপাশি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ব্র্যান্ড তৈরিতেও ফেসবুককে গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজনীতিবিদরা।
রাজনীতিবিদদের সরাসরি যোগাযোগের নতুন মাধ্যম:
রাজনৈতিক নেতাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এখানে মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি মানুষের কাছে বক্তব্য পৌঁছানো যায়। সংবাদ সম্মেলন বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা না করে একজন নেতা নিজের অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেন।
সাম্প্রতিক সময়ে এমন অনেক ঘটনাও দেখা গেছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘোষণা প্রথমে এসেছে কোনো নেতার ফেসবুক পোস্টে। পরে সেটিই সংবাদমাধ্যমের অন্যতম প্রধান সংবাদে পরিণত হয়েছে।
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদদের অনেকেই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফেসবুকে যুক্ত হয়েছেন। তাদের পেজ বা প্রোফাইলে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, শুভেচ্ছা বার্তা কিংবা বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে শুধু প্রচারণার জন্য ব্যবহার করছেন না। তারা রাজনৈতিক বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন, প্রতিপক্ষের বক্তব্যের জবাব দিচ্ছেন, বিভিন্ন ইস্যুতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছেন।
এ কারণে অনেক সময় একজন রাজনীতিবিদের ফেসবুক পোস্ট নিজেই সংবাদ হয়ে যাচ্ছে।
ফলোয়ার কি রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার মাপকাঠি?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের জনপ্রিয়তা বোঝার ক্ষেত্রে ফলোয়ারের সংখ্যা এখন একটি আলোচিত বিষয়। বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদের ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইলে লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে।
তরুণ প্রজন্মের নেতাদের অনেকেই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে। নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন তরুণ রাজনৈতিক নেতার বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। একইভাবে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও বড় অনলাইন অনুসারী গড়ে উঠেছে।
তবে ফলোয়ারের সংখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বা নির্বাচনী সক্ষমতা পুরোপুরি পরিমাপ করা যায় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা মানেই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়া নয়।
অনলাইন জনপ্রিয়তা বনাম ভোটের ফল:
সাম্প্রতিক নির্বাচনী রাজনীতিতে এর বেশ কিছু উদাহরণ দেখা গেছে। কোনো কোনো প্রার্থী অনলাইনে ব্যাপক আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে প্রত্যাশিত ফল পাননি।
ঢাকার বিভিন্ন আসনে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো প্রার্থী ছিলেন অত্যন্ত দৃশ্যমান। তার বক্তব্য, প্রচারণা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়মিতভাবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে সেই অনলাইন জনপ্রিয়তার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায়নি।
এতে একটি বিষয় পরিষ্কার—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনৈতিক পরিচিতি বাড়াতে পারে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে পারে, কিন্তু ভোটারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মাঠপর্যায়ের সংগঠন, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, স্থানীয় জনপ্রিয়তা এবং ভোটকেন্দ্রিক বাস্তব রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ, ফেসবুকের জনপ্রিয়তা এখনো ভোটের সমার্থক হয়ে ওঠেনি।
তরুণ রাজনীতিবিদরা কেন এগিয়ে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের স্বাভাবিক যোগাযোগই তাদের রাজনৈতিক প্রচারণায় বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
তরুণ রাজনীতিবিদরা সাধারণত ভিডিও, লাইভ, ছোট পোস্ট, ইনফোগ্রাফিক, মিম কিংবা বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। একটি বক্তব্য মুহূর্তেই হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে পুরোনো ধারার রাজনীতিবিদদের অনেকেই এখনো সংবাদমাধ্যম, জনসভা ও সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর বেশি নির্ভরশীল।
তবে এর অর্থ এই নয় যে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রয়েছেন। বরং তাদের অনেকেই নিজস্ব অ্যাডমিন বা ডিজিটাল টিমের মাধ্যমে নিয়মিত অনলাইন উপস্থিতি বজায় রাখছেন।
প্রচারণার বাইরে ‘ফেসবুক অ্যাক্টিভিজম’:
রাজনীতিবিদদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার শুধু নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ব্যক্তিগত মতামত, সমসাময়িক ঘটনা, প্রতিপক্ষকে নিয়ে মন্তব্য কিংবা বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতেও তারা সক্রিয় হচ্ছেন।
কখনো কোনো পোস্ট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, আবার কখনো সমালোচনার মুখে সেটি মুছে ফেলা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরে সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা দুঃখপ্রকাশও করতে দেখা যাচ্ছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশেষ করে তরুণ রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে বেশি দৃশ্যমান।
এখানেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক বক্তব্য যখন ফেসবুকে প্রকাশিত হয়, তখন সেটি শুধু সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রতিপক্ষ, সাধারণ নাগরিক এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর কাছেও তা দ্রুত পৌঁছে যায়।
ফলে রাজনৈতিক নেতার একটি মন্তব্য কখনো কখনো উত্তেজনা, বিভাজন কিংবা সামাজিক বিরোধের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দায়িত্ব:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনীতিবিদদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাড়িয়েছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু একই সঙ্গে তাদের বক্তব্যের সামাজিক প্রভাবের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
একটি রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্য হয়তো সেখানে উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষ শুনেছেন। কিন্তু একই বক্তব্য ফেসবুকে প্রকাশিত হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা লাখো মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং দীর্ঘ সময় অনলাইনে থেকে যেতে পারে।
তাই রাজনৈতিক নেতাদের ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা আরও বেশি প্রয়োজন।
বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে দেওয়া বক্তব্য যদি ঘৃণা, সহিংসতা কিংবা বৈষম্যকে উসকে দেয়, তাহলে সেটির প্রভাব বাস্তব জীবনেও পড়তে পারে।
এ কারণে রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রচারণার ইতিবাচক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও এর সঙ্গে দায়িত্বশীলতার বিষয়টি অবশ্যই যুক্ত করতে হবে।
ফেসবুক কি ভবিষ্যতের প্রধান রাজনৈতিক মঞ্চ?
বাংলাদেশে ফেসবুক এখন শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি সংবাদ, বিনোদন, ব্যবসা এবং রাজনৈতিক মতামত প্রকাশেরও অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম।
ভবিষ্যতে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরতা বাড়বে।
তবে রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য শুধু অনলাইন উপস্থিতি যথেষ্ট হবে না। মাঠপর্যায়ের সংগঠন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়তো রাজনীতির নতুন মঞ্চ হয়ে উঠেছে, কিন্তু এখনো সেটি বাস্তব রাজনৈতিক মাঠের বিকল্প নয়।
আগামী দিনে প্রশ্নটি সম্ভবত আর হবে না যে রাজনীতিবিদরা ফেসবুক ব্যবহার করবেন কি না। বরং প্রশ্ন হবে—তারা কীভাবে এটি ব্যবহার করবেন, কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করবেন এবং অনলাইন জনপ্রিয়তাকে কীভাবে বাস্তব রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তর করবেন।
ডিজিটাল রাজনীতির এই যাত্রায় ফেসবুক গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের শক্তিশালী হাতিয়ার হবে, নাকি রাজনৈতিক বিভাজনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে—তার উত্তর নির্ভর করবে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীলতার ওপরও।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আহত করে সাত লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮। ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে এসআরবি-৮-এর মিডিয়া অফিসার ও সহকারী পুলিশ সুপার সাথী আক্তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলার পর টাকা ও মোবাইল ছিনতাই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজাপুর উপজেলার বারাকপুর এলাকায় বিকাশ ব্যবসায়ী সুমন হোসেন মৃধার গতিরোধ করে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় তাকে ধারালো রামদা ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে নগদ সাত লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ ঘটনায় পরদিন ১৮ অক্টোবর ভুক্তভোগী সুমন মৃধা রাজাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযানে পাঁচজন গ্রেপ্তার, নগদ অর্থ উদ্ধার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে ২০ অক্টোবর রাতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-৮-এর একটি দল। অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৯ হাজার ৫৫১ টাকা এবং চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আফজাল হোসেন (৫০), লিটন হাওলাদার (৩০), আবুল কালাম (৩৮), চান মিয়া (২৯) এবং মামুন হাওলাদার (২৪)। তাদের বাড়ি রাজাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার লিটন হাওলাদারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। আদালতে পাঠানো হয়েছে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফিরোজ কামাল জানান, এসআরবি-৮-এর সহযোগিতায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুর ২টার দিকে তাদের ঝালকাঠির আদালতে পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, মামলার অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রেখে সঠিক পথে পরিচালিত করতে শিক্ষকদের যুগোপযোগী ও পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মকে সামলে রাখা শিক্ষকদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে এবং তাদের উপযোগী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আজ বুধবার ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে স্থানীয় শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে সরিয়ে এনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হলে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করাও গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, শিক্ষকরাও যদি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেন কিংবা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত হন, সেটিও কোনোভাবেই সহনীয় হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে প্রথমে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নেতাকর্মীদের নিজেদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। যারা দুর্নীতি বন্ধের কথা বলবেন, তাদের নিজেদের আচরণেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে। অন্যথায় দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। মতবিনিময় সভায় শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ এবং উপজেলার বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
শারদীয় দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে সমুদ্র, পাহাড় ও হ্রদঘেরা পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। কক্সবাজার ও কুয়াকাটার বিস্তীর্ণ সৈকত, খাগড়াছড়ি ও সাজেকের মেঘে ঢাকা পাহাড় এবং রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অবকাশ কাটাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের এই বাড়তি উপস্থিতিতে দর্শনীয় স্থানগুলো যেমন মুখর হয়ে উঠেছে, তেমনি গতি ফিরেছে পর্যটননির্ভর এলাকার হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়। প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ছুটির এই সময়ে পর্যটকদের কাছে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে সমুদ্রস্নান, নৌভ্রমণ, পাহাড়ি পথে ঘোরাঘুরি এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়া। কোথাও সৈকতে ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতেছেন দর্শনার্থীরা, কোথাও পাহাড়ের বাঁকে দাঁড়িয়ে মেঘের ভেলা দেখছেন, আবার কোথাও কাপ্তাই হ্রদের বুকে নৌযানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সবমিলিয়ে দুর্গাপূজার ছুটি দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করেছে। দেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারে এখন উৎসবের আমেজ। নীল সমুদ্র, বিস্তৃত বালুকাবেলা ও ঢেউয়ের গর্জন উপভোগ করতে প্রতিদিনই আসছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সমুদ্রস্নানে ব্যস্ত, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সৈকতে বসে উপভোগ করছেন নোনা বাতাসের স্নিগ্ধতা। পর্যটকদের আগমনে শহরের হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে বেড়েছে ব্যস্ততা। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, পূজার ছুটিতে কক্সবাজারে কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে। অনেক হোটেলে কক্ষের অগ্রিম বুকিং ৮০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বাসস-কে বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রাখা হচ্ছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে সময় কাটাতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাতেও বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল অভিজ্ঞতা নিতে সেখানে যাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। দীর্ঘ সৈকতে হাঁটাহাঁটি, সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ, স্থানীয় খাবারের স্বাদ গ্রহণ এবং বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে সময় কাটিয়ে ছুটি উপভোগ করছেন তারা। সমুদ্রের পাশাপাশি পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে ছুটির আনন্দ। খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহা, রিছাং ঝরনা ও মায়াবিনী লেকসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। পাহাড়ি পথ, ঝরনার জলধারা ও সবুজ প্রকৃতির সান্নিধ্যে নগরজীবনের ব্যস্ততা ভুলে সময় কাটাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়দের আগ্রহ বাড়ছে জিপলাইন ও জায়ান্ট সুইংয়ের মতো বিনোদনমূলক কার্যক্রমেও। অন্যদিকে মেঘে ঢাকা পাহাড়, আঁকাবাঁকা পথ ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত সাজেক ভ্যালিও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজ মালিকদের সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, পূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ আবাসনকেন্দ্রে আগাম বুকিং বেড়েছে। পর্যটকদের এই উপস্থিতিতে স্থানীয় পরিবহন, খাবারের দোকান ও অন্যান্য সেবামূলক ব্যবসায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাহাড়, সবুজ অরণ্য ও কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশির মেলবন্ধনে অনন্য রাঙামাটিতেও পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্য বেড়েছে। জেলা শহরের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুতে সকাল থেকেই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে পাহাড় ও হ্রদের দৃশ্য উপভোগ করছেন, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছবি তুলছেন। অনেকে ভাড়া করা পর্যটকবাহী নৌযানে কাপ্তাই হ্রদ ঘুরে দেখছেন। হ্রদের জলরাশি পেরিয়ে সুবলং ঝরনার দিকে যাত্রাও পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। বাড়তি পর্যটকের চাপে শহরের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে। রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, দুর্গাপূজার ছুটিকে ঘিরে তাদের আবাসনকেন্দ্রের কক্ষগুলোর চাহিদা বেড়েছে। পর্যটকদের আগমন অব্যাহত থাকায় সামনের দিনগুলোতেও ভালো ব্যবসার প্রত্যাশা করছেন তারা। জামালপুর থেকে পরিবার নিয়ে রাঙামাটি বেড়াতে আসা শিক্ষক মো. হানিফ জানান, পাহাড় ও কাপ্তাই হ্রদের অপূর্ব সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করেছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোর আরও আধুনিকায়ন করা গেলে সারা বছরই এখানে পর্যটকদের আগমন বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতুর টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মো. ইউসুফ বলেন, পূজার ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কমপ্লেক্সের আবাসনে থাকা অতিথিদের পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ঝুলন্ত সেতু দেখতে আসছেন। অনেকে নৌযান ভাড়া করে কাপ্তাই হ্রদেও ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বাসস-কে বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন ও পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে। পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, স্থানীয় পরিবহন, নৌযান, পর্যটকবাহী জিপ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের চাপ বেড়েছে। পর্যটননির্ভর এসব ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় পরিবার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জনপদগুলোতে পর্যটন মৌসুম অনেক মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ, সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও তৈরি করছে এই ভ্রমণ। সমুদ্রের গর্জন, পাহাড়ের নীরবতা, ঝরনার কলতান কিংবা হ্রদের বুকে নৌভ্রমণ— প্রতিটি অভিজ্ঞতা ছুটিকে দিচ্ছে ভিন্ন মাত্রা। দুর্গাপূজার এই দীর্ঘ ছুটি তাই একদিকে পর্যটকদের অবকাশযাপনের আনন্দ বাড়িয়েছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাত ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে তৈরি করেছে নতুন আশাবাদ।