ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেছেন, দ্রব্যমূল্য কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার নিজ নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার মুরাদনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য হিসেবে পুনঃনিবাচিত হয়ে মন্ত্রীত্ব গ্রহণের পর আজই তিনি প্রথমবারের মতো এলাকায় আসেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যেন বাড়তি চাপ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন। রমজানকে সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর।’
হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, হাজিদের জন্য আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। অতীতের তুলনায় উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। হজ ব্যয়ের যৌক্তিকীকরণ এবং সেবার মানোন্নয়নেও উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি মুরাদনগরসহ সমগ্র কুমিল্লা জেলার উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে এলাকার অবকাঠামো, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণের পর ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। এলাকায় আগমনে বিভিন্ন স্থানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে ২০২৫ সাল নাগাদ দেশে-বিদেশে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দের আদেশ থাকলেও, এর ৮০ শতাংশ স্থাবর সম্পদে রিসিভার নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি। ফলে মালিকানা কাগজে-কলমে অবরুদ্ধ থাকলেও অভিযুক্তরাই কৌশলে এসব সম্পদের সুবিধা ভোগ করছেন। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী গুলশান-২-এর ৭১ নম্বর সড়কে ‘ইস্টার্ন হারমোনি’ ভবনের একটি ফ্ল্যাটের মালিক ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ২০২৫ সালে আদালত এটি জব্দের আদেশ দিলেও সেখানে এখনও রিসিভার নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে সেগুনবাগিচায় শেখ রেহানার নামে থাকা একটি ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ থাকলেও এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তা বুঝে নিতে পারেনি দুদক। দুদকের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের মধ্যে দেশে রয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ হাজার ১৩৭ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। তবে এই বিপুল সম্পদের সিংহভাগেরই রিসিভার নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার, এস আলম গ্রুপ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদসহ আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগীরা এখনও এসব সম্পদের সুফল পাচ্ছেন। দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, আদালতের আদেশের পর অনুসন্ধানী কর্মকর্তা অনুমতি নিয়ে রিসিভার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেন। তবে মাঠপর্যায়ে সম্পদ বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে লোকবলের অভাব ও সময়সাপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়াকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন দুদকের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নথিপত্র সংগ্রহ ও বিভিন্ন দপ্তরে তদন্তের জন্য প্রচুর সময়ের প্রয়োজন হয়। লোকবল সংকটের কারণে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ দ্রুত করা যাচ্ছে না।’ তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম। তার মতে, দুদকের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার ঘাটতিই এই ব্যর্থতার প্রধান কারণ। তিনি বলেন, ‘সম্পদ থেকে অর্জিত আয় রিসিভারের কাছে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু দুদক আবেদন করে সেই নিয়ন্ত্রণ না নেওয়ায় মূল অভিযুক্তরাই সম্পদ ভোগ করছেন।’ অবশ্য ধীরগতির মধ্যেও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ কয়েকজন প্রভাবশালীর সম্পদে রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ জমা হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও সম্পদ সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুদককে আরও সক্রিয় ও কৌশলী হতে হবে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুর্নীতির অভিযোগে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দের আদেশ দেয় আদালত। নিয়ম অনুযায়ী, এসব সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও আয় সংগ্রহের জন্য রিসিভার নিয়োগ করার কথা থাকলেও প্রশাসনিক ও আইনি দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হওয়ার কথা থাকলেও সম্পদগুলো বাস্তবে পূর্বতন মালিকদের হাতেই থেকে যাচ্ছে।
সরকার গঠনের চার মাস পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; মালয়েশিয়ার সঙ্গে চীন মিলিয়ে ছয় দিনের জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন তিনি। রোববার মালয়েশিয়া সফর দিয়ে শুরু করা প্রধানমন্ত্রীর এই বিদেশ সফর শেষ হবে ২৬ জুন। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারপ্রধানের সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, শ্রম বাজারকে ‘এক নম্বর এজেন্ডায়’ রেখে কুয়ালামপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনার কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চীনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ১৫-১৭টা দলিল স্বাক্ষরের আশা করছেন তারা। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটা অ্যাকশন প্ল্যান এবং আরেকটি প্রটোকল। শিক্ষা, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, মিডিয়া কোঅপারেশন এবং গ্রিন এনার্জি খাতে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। আগামী ২১ থেকে ২২ জুন প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের কথা তুলে ধরে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, সফরের প্রথম দিন ২১ জুন প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। তিনি বলেন, পরদিন ২২ জুন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম একান্ত বৈঠক এবং এর পরপরই উভয় দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুইদেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য দেন পররাষ্ট্র সচিব। “বিশেষত, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ এবং বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হবে,” যোগ করেন তিনি। আসাদ আলম সিয়াম বলেন, মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের আসিয়ানের ‘ডায়ালগ পার্টনার এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ-আরসেপে’ যোগদান করার আবেদন জোরালোভাবে তুলে ধরে মালয়েশিলার সমর্থন চাওয়া হবে। চীন সফরের কর্মসূচি চীন সফরের প্রথম দুইদিন ২৩ থেকে ২৪ জুন দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম-ডব্লিউইএফের সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সম্মেলন ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত। ডব্লিউইএফের সম্মেলনে সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, উদ্ভাবক এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উদ্ভাবন, ভবিষ্যতে পৃথিবীর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা এবং মতবিনিময় করেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২২ জুন দুপুরে কুয়ালালামপুর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন, সন্ধ্যায় পৌঁছাবেন। পরদিন ২৩ জুন ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সূচি থাকার কথা বলেন আসাদ আলম সিয়াম। একইসঙ্গে, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারপ্রধানের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও বলেন সচিব। তিনি বলেন, সরকারপ্রধান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে তিনি যোগ দেবেন। আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ২৪ জুন সকালে ১৭তম বার্ষিক ‘সামার দাভোসের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুরে ট্রেনে করে বেইজিংয়ের পথ ধরবেন তিনি। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সফরকালে চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ডায়াওইউতাই গেস্ট হাউজে থাকবেন তারেক রহমান। পরদিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের মিনিস্টার অফ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অব সিপিসি সেক্টর কমিটি, পানি সম্পদ মন্ত্রী, সিটকা চেয়ারম্যান এবং এক্সিম ব্যাংক চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, সফরকে ঘিরে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন এবং চীনের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন। ২৫ জুন বিকালে চীনের গ্রেট হলে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার তথ্য দেন পররাষ্ট্র সচিব। “যেখানে দুইদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল বিষয় এবং ভবিষ্যতে এসবকে আরো কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকের পর উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে,” বলেন তিনি। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এরপর প্রধানমন্ত্রী তার সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় যোগ দেবেন। পরদিন ২৬ জুন প্রধামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে স্ট্যান্ডিং কমিটি অব ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ঝাউ লি’র সঙ্গে। ওইদিন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার তথ্য দিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বৈঠক শেষে ওইদিন তিনি বিকালে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সন্ধ্যায় ঢাকায় অবতরণ করবেন। তার আগে সে দিন তিয়ানআনমেন স্কয়ারে সেখানকার যোদ্ধাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক। এই সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই সফরে দুইদেশের ‘কমপ্রিহেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপকে নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাবে বলে আশা করছে ঢাকা। “এবং দুদেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে বলে আমরা আশা করি,” যোগ করেন তিনি। মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ মোট ২৭ জন। চীন সফরের প্রতিনিধিদলে ২৮ জন থাকার তথ্য দিলেও সফরসঙ্গী অন্যদের নাম বলেননি পররাষ্ট্র সচিব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। তার আগে ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। আজ শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। পররাষ্ট্র সচিব জানান, মালয়েশিয়া সফর শেষে সেখান থেকে আগামী ২২ জুন বিকেলে রওনা দিয়ে সন্ধ্যায় ডালিয়ানে (চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর নগরী) পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৩ জুন ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও সিইওর সঙ্গে তার বৈঠক করার কথা রয়েছে এবং সামার দাভোসে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশের সরকারপ্রধান, যেমন কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ইত্যাদি দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে। বৈঠকের সময়সূচি এখনো আলোচনাধীন। পররাষ্ট্র সচিব জানান, চীন সফরের প্রথম দিন বিকেলে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন। ২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। এবারের এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। ওইদিন এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর দুপুরে তিনি ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বেইজিংয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওউথাই স্টেট গেস্ট হাউসে থাকবেন। ২৫ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের মিনিস্টার অব ইন্টারন্যাশনাল ডিপার্টমেন্ট অব সিপিসি সেন্ট্রাল কমিটি, বাণিজ্যমন্ত্রী, সিআইডিসিএর চেয়ারম্যান এবং এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য রাখবেন এবং চীনের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবেন। বিকেলে চীনের গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরো কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা হবে। বৈঠকের পর উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন। পরদিন ২৬ জুন চেয়ারম্যান অব দ্য স্ট্যান্ডিং কমিটি অব ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (স্পিকার সমমর্যাদার পদ) প্রধান ঝাও লেজি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এর ফাঁকে ২৬ জুন বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে সেখানকার বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। পররাষ্ট্র সচিব জানান, ওইদিন (২৬ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং সন্ধ্যায় ঢাকায় অবতরণ করবেন। বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৮ জন জানিয়ে সচিব জানান, মোটামুটি প্রতিটি ক্ষেত্রে সফরসঙ্গীর সংখ্যা যৌক্তিক রাখার চেষ্টা করেছি। আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এই সফর ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’, যা আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান, তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আমরা আশা করি এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আমরা আশা করি। বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ প্রশ্নে সচিব বলেন, এ ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। চীনের একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশে গড়ে তোলার কথা রয়েছে। সেটির কাজও হচ্ছে। সেখানে বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে তাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে। আমরা বলেছি, ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম হবে। সুতরাং নিশ্চয়ই আমরা চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশে চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২২-২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করবেন।