জাতীয়

রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া সার্ক কার্যকর হবে না : প্রধান উপদেষ্টা

Unknown জানুয়ারী ০১, ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে রাজনৈতিক সদিচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, সদস্য দেশগুলোর আন্তরিকতা ও দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) কখনোই কার্যকর ও ফলপ্রসূ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে না।
এক বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে সার্ক কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। অথচ এই অঞ্চলে বিপুল জনসংখ্যা, মানবসম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সহযোগিতার ঘাটতির কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আঞ্চলিক নেতারা যদি সংকীর্ণ রাজনৈতিক হিসাবের বাইরে গিয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তবে সার্ক দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।


তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য সংকট, অভিবাসন ও দারিদ্র্য বিমোচনের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো একক কোনো দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এসব সমস্যার টেকসই সমাধানে যৌথ নীতি, অভিন্ন কর্মপরিকল্পনা ও নিয়মিত সংলাপ জরুরি, যা সার্কের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা হ্রাস এবং ডিজিটাল সংযোগ বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ নিলে সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও যুব বিনিময় কর্মসূচি জোরদারের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্ক গভীর করার আহ্বান জানান তিনি।


বক্তব্যের শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সার্ককে অচলাবস্থা থেকে বের করে আনতে এখনই সময়োপযোগী ও সাহসী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। সদস্য দেশগুলোর দৃঢ় সদিচ্ছা ও সম্মিলিত উদ্যোগই পারে সার্ককে আবারও দক্ষিণ এশিয়ার সহযোগিতার কার্যকর ও অর্থবহ মঞ্চে পরিণত করতে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ফাইল ছবি
রূপপুরে পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ

দীর্ঘ প্রতিক্ষা আর নানান প্রতিকূলকতা পেরিয়ে অবশেষে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিলেছে। এর ফলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরও কাছাকাছি পৌছে গেল বাংলাদেশ।   বৃহস্পতিবার এ অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’।   বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযুক্ত করার আগে আরও দুটি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।   প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনের সেফটি ভালভের (পিওআরভি/পিওএসভি) জটিলতার কারণে অনুমোদনটি আটকে ছিল। রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে নানান কৌশলে সেই সমস্যার সমাধান করেছে এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় এটি উত্তীর্ণ হয়। এর ফলে আগামী ডিসেম্বরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   সূত্র জানায়, রূপপুরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। সেই ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি শুরুর অনুমতি দিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। এখন রিঅ্যাক্টরে একটি স্থিতিশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হবে। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টর একটি স্থির অবস্থা থেকে সক্রিয় অপারেশনাল পারমাণবিক স্থাপনায় রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির পাশে সরকার : মাহ্দী আমিন

সংগৃহীত ছবি

প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সংগৃহীত ছবি

ঢাকার গণপরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

গবেষণার ফলাফলকে ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তর করতে হবে : পাট প্রতিমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে পাটভিত্তিক নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যেই সোনালী ব্যাগ প্রকল্পের অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।   আজ ঢাকার ডেমরায় লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসে সোনালী ব্যাগ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি হস্তান্তর ও ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান।   মো. শরীফুল আলম বলেন, গবেষণার ফলাফল শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগযোগ্য প্রযুক্তি ও পণ্যে রূপান্তর করতে হবে।   তিনি বলেন, সোনালী ব্যাগ প্রকল্পে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জিত হলেও উৎপাদনব্যয় বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর মূল্যবান যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। এসব সম্পদ নষ্ট হতে না দিয়ে দেশের স্বার্থে গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, প্রায় ২০ কোটি টাকার এ প্রকল্পের যন্ত্রপাতিসহ প্রায় ৫৩টি আইটেম হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ শুধু যন্ত্রপাতি হস্তান্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, দেশের ও জনগণের স্বার্থে গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া হচ্ছে।   তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু সিদ্ধান্তের অভাবে মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।   বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের উদ্দেশে শরীফুল আলম বলেন, এসব যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে পাটের সেলুলোজ, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় কাজে লাগাতে হবে।   গবেষণার সুযোগ অন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং বেসরকারি খাতের গবেষকদের জন্যও উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ উদ্যোগের সুফল যাতে সকলকে গ্রহণ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা অতীব জরুরি।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশি-বিদেশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে বন্ধ মিলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু মিল চালু হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিলও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।   পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মূল্য সংযোজিত পণ্য উদ্ভাবন ও রপ্তানি বাড়াতে গবেষণা প্রয়োজন।   পাশাপাশি পাটবীজে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, বিএডিসি ও কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।   পাটপাতা ও পাটকাঠির ব্যবহার বাড়িয়েও নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   অনুষ্ঠানে বিজেএমসি, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।   প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ও মালামাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহীদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন।   সমঝোতা স্মারকে বিজেএমসির পক্ষে চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের পক্ষে সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এ কে এম মহিউদ্দিন স্বাক্ষর করেন।   পাটের সেলুলোজ থেকে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল ‘সোনালী ব্যাগ’ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে বিজেএমসির অধীনে গবেষণাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে পণ্যের গুণগতমান উন্নয়নে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে অধিকতর গবেষণা পরিচালিত হয়।   উৎপাদন ব্যয়, ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যের পরিবেশগত প্রভাব এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনায় মূল প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়।   গবেষণায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জিত হলেও উৎপাদন ব্যয় বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আনা সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পটি বাণিজ্যিক সফলতা অর্জন করতে পারেনি।   অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সালাম পিন্টু, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।   এছাড়া বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৮, ২০২৬

গ্যারান্টি ক্লজসহ নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চায় বাংলাদেশ: এ্যানি

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে : প্রতিমন্ত্রী টুকু

এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি শুধু উড়োজাহাজ কেনায় সীমাবদ্ধ নয় : ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত

সংগৃহীত ছবি
দেশে কেমিক্যাল শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে : পানিসম্পদমন্ত্রী

বাংলাদেশে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ গড়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, বাংলাদেশে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি টিকিয়ে রাখতে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।   বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) ‘বুটেক্স-আইটিইটি ডাই-কেম এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।   পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি। বহির্দেশের মতো টেক্সটাইল খাতে বাংলাদেশে ডিমান্ড তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ গড়ার বৃহৎ সুযোগ রয়েছে।   তিনি বলেন, বাংলাদেশে টেক্সটাইল খাতে পানির অপচয় না করা এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। পানি যে একটা সম্পদ, এটার পরিমিত ব্যবহার করতে হবে।   মন্ত্রী বলেন, টেক্সটাইল শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ খাতের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি পেশাজীবীদের দেশ-বিদেশে চাহিদা রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৮, ২০২৬

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

ট্রাকচালক হোসেন হত্যা: হাসিনাসহ ৩৪ জনের অভিযোগ গঠন পিছিয়েছে

আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই পানি সমস্যার সমাধান করতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন

0 Comments