সময় যত এগোচ্ছে, জীবন ততই দ্রুত হয়ে উঠছে। কাজের চাপ, প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, অনিয়মিত খাবার ও ঘুম- সব মিলিয়ে আমাদের শরীর ও মন দুটোর ওপরই প্রভাব পড়ছে। ২০২৬ সালে সুস্থ থাকতে হলে শুধু রোগমুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক - দুদিক থেকেই সুস্থ থাকার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
অনেকে মনে করেন, সুস্থ থাকতে হলে কঠিন ডায়েট, জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দেওয়া বা ব্যয়বহুল চিকিৎসা দরকার। বাস্তবতা হলো, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সবচেয়ে কার্যকর বিষয়গুলো অনেক সময়ই খুব সহজ। নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ভালো ঘুম, নিয়মিত নড়াচড়া এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ - এই অভ্যাসগুলোই দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনে।
বর্তমান সময়ে ডিজিটাল স্ক্রিনে অতিরিক্ত সময় কাটানো, দুশ্চিন্তা ও অনিয়মিত জীবনযাপন আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাই নতুন বছরে নিজেকে সুস্থ রাখতে হলে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ও প্রমাণভিত্তিক কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা। এগুলো এমন হওয়া উচিত, যা দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নেওয়া যায়।
এই লেখায় ২০২৬ সালে সুস্থ থাকার জন্য কিছু সহজ ও কার্যকর পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে। খাবার, পানি, ঘুম, ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখানে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি চাইলে একসঙ্গে সব পরিবর্তন না করে, ধাপে ধাপে এগোতে পারেন। মনে রাখতে হবে - ছোট অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় সুস্থতার ভিত্তি তৈরি করে।
সুষম খাবার গ্রহণ করুন
সুস্থ থাকার মূল ভিত্তি হলো স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেশি করে ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য ও চর্বিমুক্ত প্রোটিন রাখার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি পানীয় ও অপ্রয়োজনীয় চিনি কমিয়ে দিন।
ভালো চর্বি, যেমন - ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা আখরোট, তিসি বীজ, চিয়া বীজ ও চর্বিযুক্ত মাছ (যেমন স্যামন) থেকে পাওয়া যায়, সেগুলো খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উপকারী। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সময়মতো পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণভাবে নারীদের প্রতিদিন প্রায় ৯ কাপ এবং পুরুষদের প্রায় ১৩ কাপ তরল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া, বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর এই চাহিদা কমবেশি হতে পারে।
ভালো ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন
ঘুম মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, মানসিক ভারসাম্য ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম প্রয়োজন। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো উচিত। ঘুমের পরিবেশ যেন শান্ত, অন্ধকার ও ঠাণ্ডা থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন
নিয়মিত ব্যায়াম শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম বা ৭৫ মিনিট ভারী ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। হাঁটা, দৌড়, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম - যা ভালো লাগে, সেটাই করুন। শক্তি, নমনীয়তা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করুন।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
আধুনিক জীবনে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, গভীর শ্বাস নেওয়ার মতো অভ্যাস কাজে আসতে পারে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন, সময়ের সঠিক ব্যবহার করুন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বা ডায়েরি লেখার মতো ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুলুন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ (যেমন ফ্লু ও টিটেনাস) রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন, নিয়মিত হাত ধুয়ে নিন এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখুন।
একই সঙ্গে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে অনলাইন ও বাস্তব জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন। নিয়মিত বিরতি নিন।
সূত্র : Fytika Healthcare Products
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিচার নিশ্চিত করতে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ‘গণহত্যাকারীদের’ ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনো সুসম্পর্ক হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এক গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের’ দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বর্ডারের থেকে শুনি শেখ হাসিনা আসতে চায়। আওয়ামী লীগের নেতারা সাক্ষাৎকার দিচ্ছে, তারা বাংলাদেশে আসতে চায়। এই বিষয়ে তো কেউ দ্বিমত করছে না, আমরাও চাই আপনারা আসেন। শহীদ পরিবারের মায়েরা প্রতিদিন আল্লাহর কাছে দোয়া করেন যে, তাদের সন্তানের হত্যার যারা দায়ী তাদের যেন বিচার নিশ্চিত হয়। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে সেই বিচার নিশ্চিত হওয়ার জন্য, সেই বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সম্ভাব্য ভারত সফর’ প্রসঙ্গে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘ইদানীং শুনছি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত যাবেন। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জুলাই গণভুত্থানে গণহত্যার জন্য দায়ী যারা এখনো ভারতের আশ্রয়ে আছে, সাক্ষাৎকার-ব্রিফিং করে যাচ্ছে। ওসমান হাদির খুনিরা যারা ভারতের হাতে বন্দি অবস্থায় আছে। তাদেরকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী যদি ভারতের মাটিতে পা রাখেন এইটা এই দেশের জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি হবে। তাদেরকে আগে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনেন তাদের ফাঁসির রায় কার্যকর করেন, বিচার নিশ্চিত করেন। তারপরে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক হতে পারে। ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে কোনো সুসম্পর্ক হতে পারে না।’ ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আজকে এক নিউজে দেখছিলাম, গরু মহিষ চড়াইতে হলেও ছাত্রদলকে চাঁদা দিতে হয়। ছয় মাস হয় নাই। কিন্তু ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপির চাঁদাবাজির মাধ্যমে ৫০ লাখ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়ে গেছে। চাঁদাবাজি করে তাদের ফ্যামিলি চলতেছে। তাদের পেট চলতেছে। সাধারণ মানুষ জাহান্নামে যাক।’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘দেড় বছর ধরে আমাদের প্রতিদিন শুনতে হয়েছে, নির্বাচন হলে নাকি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আরও শুনতে হয়েছে, যাদের পেটে ভাত নেই তারা সংস্কারের কী বুঝবে? তো তারা নাকি ক্ষমতায় এলে আমাদের পেটে ভাত থাকবে। তারপরে মানুষজন ভালোভাবে থাকবে। ফ্যামিলি কার্ড, এই কার্ড ওই কার্ড, নানা কার্ড পাওয়া যাবে। তো তারা ক্ষমতায় এলো আজকে পাঁচ মাস শেষ ছয় মাস হতে চলল, এখন সংস্কার তো নেই গ্যাস-বিদ্যুৎও নেই, পেটে ভাতও নেই।
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীতার কথা ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একটু পর মির্জা ফখরুলের পক্ষে নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল। মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। বিশেষ করে দলের দুই প্রধান নেতা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরোটা সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুসারে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এরপর প্রার্থীতা যাচাই–বাছাই করা হবে। ১৮ আগষ্ট প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগষ্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণ হবে।
হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু বা গুম প্রতিরোধে জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা (এনপিএম) ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গীকার। মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণও রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য। জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাসহ মানবাধিকারবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন, সনদ ও চুক্তি পরিপালনে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এতে আরও বলা হয়, মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণের জন্য একটি কার্যকর ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন ও এর মেয়াদ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। একজন চেয়ারপার্সন ও চারজন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠিত হবে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকবেন। কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে বাছাই কমিটির সুপারিশে নৃ-গোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাছাই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নাগরিক প্রতিনিধি এবং নৃ-গোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। খসড়া আইনে কমিশনের কার্যপরিধি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলা হয়েছে। কার্যকর তদন্তের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলাকালে কোনো ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতে কমিশন প্রয়োজনীয় অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিতে পারবে। জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল (ওপক্যাট) অনুযায়ী হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু বা গুম প্রতিরোধে জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা (এনপিএম) ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের এই বিধানের মাধ্যমে হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন বা অন্য ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন আইনের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও কার্যকর, স্বাধীন ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানবাধিকার সংরক্ষণে এর ভূমিকা সুস্পষ্ট করা হবে।