রাজধানীর মিরপুরের সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজারে আগতদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার এজাহারে ৯ জনের নাম ও অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার রাতে শাহ আলী থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন, মামলার ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. আরমান দেওয়ান (২৯) ও এজাহারনামীয় ৫ নম্বর আসামি মো. আজম (২৬)।
মামলার এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা হলেন, মো. আলী আকবর (৪৮), মো. বাপ্পা (৩৫), মো. বাবু (৪৫), মো. কাউসার (২৬), আজম (৪০), শেখ মো. রাসেল (৩৮), কাজী জহির (৫২), মো. মিজান (৩৮) ও কাজী পনির (৫০)।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার। তিনি জানান, শাহ আলী মাজারে আগতদের ওপর হামলার ঘটনায় এক নারীর মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে বৃহস্পতিবার মাদক সেবনের অভিযোগে মাজারে আসা কিছু ব্যক্তিকে মারধর করে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে শাহ আলী থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন মোসাম্মৎ রেসমি বেগম (৪০)।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১৪ মে রাত ১২টার দিকে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা নিয়ে মাজারে প্রবেশ করে জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অনেকেই আহত হন এবং মাজারের বিভিন্ন ধর্মীয় উপকরণ ভাঙচুর করা হয়। পরে বাধা দিতে গেলে মামলার বাদীও হামলার শিকার হন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নরসিংদীর রায়পুরায় পুলিশকে ইট দিয়ে আঘাত করে সেলিম মিয়া (৪৫) নামে হত্যা মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ জুলাই) বিকালে রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে। আসামি সেলিম মিয়া রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামের মৃত তায়েব উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, হত্যা, বাড়ি পোড়ানো, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারিসহ নানা অভিযোগে সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। বিকালে শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পুলিশ সেলিম মিয়াকে নিয়ে থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পুলিশের গাড়িটি সায়দাবাদ ফেরিঘাটে পৌঁছালে লোকজন জড়ো হয়ে একজন পুলিশ সদস্যকে ইট দিয়ে আঘাত করে আসামি সেলিমকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন নুসরাত জাহান নিপা জানান, বিকেলে আব্দুল আলিম নামে একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। তিনি আসামী ধরতে গিয়ে আহত হন। আসামি তাকে ইট দিয়ে ডান হাতের সোল্ডার জয়েন্টের একটু নিচে আঘাত করে আহত করে। এক্স-রে করা হয়েছে, পরে বিস্তারিত জানা যাবে। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, সেলিমের বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ তিনটি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ সায়দাবাদ এলাকায় গেলে স্থানী লোকজন জড়ো হয়। স্থানীয় লোকজনের ভিড়ের মধ্যে আসামি সেলিম মিয়া পালিয়ে যায়। এ সময় কোন পুলিশ আহতের ঘটনা ঘটেনি।
গাজীপুর নগরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের অভিযোগে ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (ইউনিট-২) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বুধবার (১ জুলাই) সকালে শ্রমিকরা কারখানায় গিয়ে বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য ইসলাম গার্মেন্টস (ইউনিট-২) কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে প্রধান ফটকে নোটিশ টানিয়ে দেয়। রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ২৮ জুন বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা কারখানায় বেআইনি ধর্মঘট করে কাজ বন্ধ করে দেন এবং কারখানায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে কারখানা ত্যাগ করে চলে যান। পরদিন ২৯ জুন সকাল পৌনে ৮টার দিকে শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে হাজিরা নিশ্চিত করেন এবং কাজে যোগদান না করে কারখানার প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। কর্তৃপক্ষ তাদের কাজে যোগদানের জন্য অনুরোধ করলে কাজে যোগদান না করে কারখানা ত্যাগ করে চলে যান। একইভাবে ৩০ জুন সকাল পৌনে ৮টার দিকে শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে হাজিরা নিশ্চিত করেন এবং কাজ না করে বসে থাকেন। কর্তৃপক্ষ বারবার কাজ করার জন্য শ্রমিকদের অনরোধ করলেও তারা কাজে যোগদান না করে দুপুরের খাবারের বিরতিতে চলে যান। এরপর কারখানায় প্রবেশ করে কর্তৃপক্ষের অনুরোধে কাজ শুরু করলেও কিছু সময় পর আবার কাজ বন্ধ করে দেন। শ্রমিকদের এ ধরনের আচরণ অবৈধ ধর্মঘটের শামিল। এ অবস্থায় কারখানা কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বুধবার (১ জুলাই) থেকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩ (১) ধারা মোতাবেক অনির্দিষ্টকালের জন্য ইসলাম গার্মেন্টস (ইউনিট-২) বন্ধ ঘোষণা করেছে। পরবর্তীতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে কারখানা খোলার তারিখ নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে।’ তবে শ্রমিকদের অভিযোগ ভিন্ন। তারা জানান, ২৭ জুন তাদের সহকর্মী শ্রমিক রুবিনা বেগম (৪৫) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহকর্মীরা তাকে কারখানার অভ্যন্তরে মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কোনাবাড়ী ক্লিনিকে পাঠান। ওই ক্লিনিকে রুবিনার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। ২৮ জুন সকালে শ্রমিকরা কারখানায় গিয়ে তাদের সহকর্মীর মৃত্যুর খবর জানতে পেরে কাজ বন্ধ করে দেন। শ্রমিকদের দাবি, কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে রুবিনার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিচার দাবি করেন তারা। নিহত রুবিনা বেগম সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামের মৃত সুমার আলী সরকারের মেয়ে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে থেকে ইসলাম গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এসব বিষয়ে জানতে কারখানা উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তানভীরের মোবাইল নম্বরে দুপুর দেড়টার দিকে কল দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি মিটিংয়ে আছি, পরে যোগাযোগ করেন।’ এরপর একাধিকবার কল দিলেও আর রিসিভ করেননি। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘শ্রমিকদের ভাষ্যমতে তাদের নারী সহকর্মী অসুস্থতাবোধ করেছিল, তাকে আরেকটু আগে ছুটি দিয়ে অর্থাৎ যথাসময়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতো না। আমরাও তদন্ত করতেছি। এ ঘটনায় কারও কোনও অবহেলা ছিল কিনা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ওই শ্রমিককে হাসপাতালে নিতে দেরি করা হয়েছে কিনা, তাও তদন্ত করছি। তবে চিকিৎসকরা বলেছেন ওই শ্রমিক আগে থেকেই অসুস্থ ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘কারখানা কর্তৃপক্ষ মনে করছে শ্রমিকরা এটাকে ইস্যু করে কোনও একটা পক্ষকে নিয়ে ভাঙচুর কিংবা অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, সেজন্য হয়তো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত কারখানার পরিবেশ শান্ত আছে।’
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়া একই বিদ্যালয়ের চার স্কুলছাত্রীকে সিলেট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সিলেটের একটি বাস কাউন্টারে গোয়াইনঘাটগামী বাসের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ চার শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে পুলিশ দিন-রাত অভিযান চালায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করার পর বুধবার দুপুরে সিলেটের একটি বাস কাউন্টার থেকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় তারা গোয়াইনঘাট যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসের অপেক্ষায় ছিল। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চার ছাত্রী প্রথমে ঢাকায় গিয়েছিল। পরে তারা সিলেটে পৌঁছায়। পুলিশের ধারণা, একটি মানবপাচারকারী চক্র নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিল। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হবে। এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চার ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে বালিয়াডাঙ্গী থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডির ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে এবং উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের মানিক চন্দ্রের মেয়ে খুশি (দশম শ্রেণি), বাঙ্কু দেবনাথের মেয়ে মল্লিকা (দশম শ্রেণি), রমেশ দেবনাথের মেয়ে ঋতু দেবনাথ (দশম শ্রেণি) এবং আকালু দেবনাথের মেয়ে সুজুতি রানী দেবনাথ (অষ্টম শ্রেণি)। তারা সবাই সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চার ছাত্রী প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বলে একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে প্রাইভেট শিক্ষক ও বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেদিন তারা সেখানে উপস্থিতই হয়নি। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। স্বজনদের দাবি, চার শিক্ষার্থীর কারো সঙ্গে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না। তারা নিয়মিত বিদ্যালয় ও প্রাইভেটে যাতায়াত করত। তাই তাদের হঠাৎ একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ চার শিক্ষার্থীকে সিলেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের নিরাপদে ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মানবপাচারকারী কোনো চক্র এর সঙ্গে জড়িত কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।