নির্মাণ কাজের অন্যতম প্রধান উপাদান এমএস রডের দাম কয়েক বছরে অনেকটা বাড়লেও এর পেছনে ব্যবসায়ীদের কোনো ‘সিন্ডিকেট নেই’ বলে দাবি করেছেন স্টিল উৎপাদনকারী কোম্পানি চাকদা স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস (সিএসআরএম) প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান।
তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, ডলারের বিপরীতে টাকার উচ্চ বিনিময় হার, জ্বালানি ও বিদ্যুতের খরচ বৃদ্ধি এ নির্মাণ সামগ্রীটির দাম বাড়ার নেপথ্যে কাজ করেছে।
এ পরিস্থিতিতে স্টিল উৎপানকারীদের ব্যবসা ‘খুব ভালো নেই’ বলে দাবি করেছেন এ খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ)’ উপদেষ্টা শাহজাহান।
উৎপাদনের তুলনায় চাহিদার স্বল্পতা, রপ্তানির সুযোগ না থাকা, দেশে ভারী শিল্পে দক্ষ জনবলের অভাবসহ স্টিল শিল্পের নানা সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’-এ কথা বলেছেন এ বনেদি ব্যবসায়ী।
রডের চাহিদা কম থাকায় সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই
কয়েকজন ব্যবসায়ী জোটবেঁধে বা সিন্ডিকেট করে রডের দাম বাড়িয়ে ফেলছে—জনসাধারণের এমন ধারণা ‘একদমই সঠিক’ নয় বলে মন্তব্য করেন সিএসআরএম এমডি শাহজাহান।
যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদনের চেয়ে বাজারে চাহিদা কম থাকায় সিন্ডিকেট করে রডের দাম বাড়ানোর সুযোগই নেই।
“আমাদের প্রোডাকশন অনুযায়ী ডিমান্ড কম। আল্টিমেটলি কেউ চায় না তার প্রোডাক্টটা ধরে রাখতে। কারণ আমি যদি একটা প্রোডাক্ট ধরে রাখি, তাহলে আমার খরচ বেড়ে যায়। আমাকে ব্যাংকের টাকা দিয়েই তো প্রোডাক্টটাকে মজুদ রাখতে হচ্ছে। যার ফলে আমি চাই যে এটাকে ডিসবার্স করতে। সুতরাং এখানে সিন্ডিকেশনের তো প্রশ্নই আসে না।
শাহজাহান বলেন, “সিন্ডিকেশনটা কখন হবে? যখন সবাই চাইবে যে, না আমি এই জায়গায় থাকব, এখান থেকে আর বের হব না। কিন্তু আমাদেরতো ডিমান্ড ওই পর্যন্ত নাই।
যদি ডিমান্ড আমার বেশি থাকতো প্রোডাকশনের চাইতে, তখন সিন্ডিকেশনের প্রশ্ন আসতো। এখন কিন্তু আমরা সেই জায়গায় নাই। এবং এইটা হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নাই।
‘ভালো নেই’ স্টিল ব্যবসায়ীরা
আন্তর্জাতিক বাজারে কাচামালের দাম বৃদ্ধি, আমাদানি খরচ বেড়ে যাওয়া, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, ডলারের বিপরীতে টাকার উচ্চ বিনিময়হার, জ্বালানি ও বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে রডের চাহিদা কম থাকা এ খাতের ব্যবসায়ীরা ‘ভালো অবস্থায়’ নেই বলে ভাষ্য স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা শাহজাহানের।
তিনি মনে করেন, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার এবং ব্যাংকের সুদ হার ‘হুট করে বেড়ে যাওয়ায়’ এ খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
শাহজাহানের কথায়, ওই সময় ডলারের দাম ছিল ৮৬ টাকা। আমরা ওই সময় কাঁচামাল আমদানিতে ইউপাস এলসি (সরবরাহকারী তাৎক্ষণিক টাকা পেলেও তা পরিশোধে আমদানিকারক সময় পেয়ে থাকে) করি। এ এলসির ক্ষেত্রে পণ্য আমদানির ছয় মাস পরে টাকা পরিশোধের সুযোগ থাকে।
স্থানীয় ব্যাংক ঋণের সুদ হার ১৩ শতাংশ হলেও ইউপাস এলসিতে ব্যাংকিং কস্ট কম পড়ে; তো সবাই (ব্যবসায়ীরা) মিলে ইউপাস এলসি করা। কিন্তু এ এলসিগুলোর যখন পেমেন্টের সময় হলো তখন ডলারের দাম দাঁড়াল ১২৩ টাকায়। একটু প্রফিট করতে গিয়ে বড় ধরনের লস করলাম। তো এই লসটা কিন্তু একটা বড় ধরনের ধাক্কা সব ইন্ডাস্ট্রিকেই দিয়েছে।
সিএসআরএম এমডি বলেন, “ডলারের দাম বাড়ায় আমাদের বিনিয়োগ বেড়ে গেছে, কস্ট অব ফান্ডও বেড়ে গেছে। প্রফিট কিন্তু আমরা করতে পারছি না ওইরকম। এটা আমাদের জন্য বড় একটা ঝুঁকির বিষয়।
ডলারের আগের দামে আমরা ৮৬ টাকায় যে পরিমাণ কাঁচামাল কিনতে পারতাম, এখন ১২৩ টাকাতেও তা পাচ্ছি না। এই ক্ষেত্রে অনেক ব্যাংকের যে সাপোর্ট আরও দরকার ছিল, সেইগুলোতেও কিছু প্রবলেম আছে। তো সবকিছু মিলায়ে উই আর নট ইন গুড শেইপ।
শাহজাহান বলেন, “সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এখন ব্যাংক ইন্টারেস্ট এবং ডিমান্ডকে ক্রিয়েট করা। এখন ডিমান্ডটা অনেক কম আছে।
ডিমান্ডটাকে যদি ক্রিয়েট না করা যায় বা ওভারঅল গভর্মেন্টের যে ওয়ার্কগুলো আছে, সেগুলো যদি সচল না করা যায়; এটা একটা বড় ধরনের ঝুঁকি আমাদের জন্য হবে।
‘দেশে চাহিদা কম, রপ্তানির সুযোগও নেই’
রড উৎপাদনের তুলনায় দেশের বাজারে চাহিদা কম যেমন, তেমনই উচ্চ উৎপাদন ব্যয়ের কারণে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হচ্ছে না বলে ভাষ্য সিএসআরএম এমডি শাহজাহানের।
তিনি বলছিলেন, রড রপ্তানি আমাদের জন্য একটু সমস্যাই। কারণ আমরা তো র ম্যাটেরিয়ালসটাকে ইমপোর্ট করে নিয়ে আসি। এবং আমাদের বিদ্যুতের দাম বেশি, গ্যাসের দাম বেশি হচ্ছে; ঠিকভাবে আমরা এই বিদ্যুৎ-গ্যাসের সাপ্লাই পাচ্ছি না, যার ফলে আমাদের কস্ট বেড়ে যাচ্ছে।
ব্যাংকিং চার্জ আমাদের বেশি। সবকিছু মিলিয়ে সবদিকে আমাদের কস্টিংয়ের সূচকটা বেশি। তো আমরা যে দেশের বাইরে বিক্রি করতে চাচ্ছি, তারা আসলে কম্পিটিটিভ প্রাইস হলেই নেবে। রপ্তানির জন্য সেই জায়গাটা আমাদের তৈরি হয়নি।
শাহজাহান বলেন, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার কারণে এই মুহূর্তে সেই সম্ভাবনাটা কম। হয়তোবা অদূর ভবিষ্যতে হতে পারে; সরকার যদি স্টিল ব্যবসায়ীদের কিছু ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে হয়তো রড রপ্তানি সম্ভব হবে।
দক্ষ জনবলের অভাব
দক্ষ জনবলের অভাব স্টিল শিল্পখাতকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী শাহজাহান।
তিনি বলেন, ভারী শিল্পের দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে কম। আসলে আমরা আমাদের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী পাচ্ছি না। অনেক সময় দেখা যায় কী... যারা বুয়েট থেকে পাশ করে বা অন্যান্য প্রকৌশল থেকে পাশ করে, সবাই না এরা তো ইঞ্জিনিয়ার তাই না? এরা সবাই ডেস্কওয়ার্ক করতে চায়। ফিল্ডওয়ার্ক করতে চায় না।
সিএসআরএম এমডি বলেন, “আপনি একজন ইঞ্জিনিয়ার তো, ডেস্ক ওয়ার্কের তো আপনার বেশি কিছু থাকবে না; আপনার ফিল্ডওয়ার্কেই বেশি কিছু থাকে। আমাদের দেশে এই জিনিসটা... মানে এই ছেলেদের মধ্যে যারা পড়াশোনা করে বের হয়, সবাই চায়—‘আমি একটা ভালো অফিসে বসব, যেখানে এসি থাকবে, একটা ডেস্ক থাকবে, আমি ডেস্কে বসে বসে কাজ করব’। ফলে এই সেক্টরটাতে ডেভেলপমেন্টটা কম হচ্ছে।
আর যারা বুয়েট থেকে পাস-টাস করে, এরা কিন্তু বাইরে চলে যায়। দেশে থাকতে চায় না আল্টিমেটলি। তবে দেশে থেকেও স্টিলখাতে কাজ করে অনেক দূরে যাওয়ার সুযোগ তাদেরও আছে।
‘দিতে হবে সেরাটা, ঠিক রাখতে হবে কথা-কাজ’
কথা-কাজে মিল রেখে সেরা দামে সেরা পণ্য সরবরাহই স্টিল ব্যবসায় সিএসআরএমকে সাফল্য এনে দিয়েছে বলে মনে করেন কোম্পানির এমডি শাহজাহান।
তিনি বলেন, “আমরা শুধু বেস্ট অব কোয়ালিটিতে থাকতে চাই না। আমরা বেস্টটা— সব জায়গায় থাকতে চাই। এইজন্য আমরা কমিটেড ফর বেটার স্টিল। আমাদের থিংকিং বেস্ট, বেস্ট ফর দ্য প্রাইস, বেস্ট ফর দ্য সাপ্লাই ইন টাইম, বেস্ট ফর দ্য কমিটমেন্ট।
“আপনি বেস্ট প্রোডাক্ট করলেন, আপনার প্রাইসটা এমন জায়গায় যে কাস্টমার অ্যাফোর্ড করতে পারল না। আই থিংক দিস ইজ নট বেস্ট। আপনি কাউকে কমিট করলেন যে, ‘আমি আপনাকে এত টন রড দেব, একটা প্রাইসে’। প্রাইসটা মার্কেটে প্রায় ফ্লেক্সিবল হয়। প্রাইস বেড়ে গেল, আপনি রডটা দিলেন না। দিস ইজ নট বেস্ট। বাট উই আর ডুইং অল। আমরা যদি কাউকে কমিটমেন্ট দেই, ইনশাল্লাহ আমরা সেই কমিটমেন্ট ফুলফিল করি।
এমনও হয়েছে সাডেনলি প্রাইস বেড়ে গিয়েছে দশ হাজার টাকা পার টনে। অনেক সময় র ম্যাটেরিয়ালসের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা আমাদের কমিটমেন্ট রক্ষা করেছি; যা আমাদের স্টিল খাতে সেরা করে তুলেছে।
শাহজাহান বলেন, সঠিক সময়ে গ্রাহকের দ্বারে পণ্য পৌঁছে দিতে সিএসআরএম পরিবহন সেবাও দিয়ে থাকে। কথা-কাজে মিল রেখে সেরা পণ্য সরবরাহে করে স্টিল ব্যবসায় সুদীর্ঘ পথচলা সিএসআরএমের রডকে যমুনা সেতু থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে, আগারগাঁওয়ের সরকারি অফিস থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফ্লাইওভারে পৌঁছে দিয়েছে।
শৈশব কাটানো নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চাকদা এলাকার নাম অনুসারে চাকদা স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস প্রাইভেট লিমিটেড বা সিএসআরএমের নামকরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন শহাজাহান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবারও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোর ৩টা ১০ মিনিট থেকে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে মোট এলএনজি সরবরাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬২ এমএমএসসিএফডি। বৃহস্পতিবার অনলাইন গণমাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউনে’ প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এলএনজি সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের পরিমাণ আরও বাড়বে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারে। এতে সারাদেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগুন লাগার পর টার্মিনালটি প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকায় দেশে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও, ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বাসাবাড়ির গ্রাহকরা। রাজধানীসহ দেশের অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস ছিল না বা চাপ ছিল খুবই কম। ফলে অনেক পরিবার রান্না করতে পারেনি। কেউ ইলেকট্রিক চুলা বা রাইস কুকার ব্যবহার করেছেন, আবার অনেকে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হয়েছেন। গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানাতেও। গ্যাসের স্বল্পতায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানায়। একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে চালকদের। অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সিএনজি খাতে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বুদ্ধ করা এবং রাজস্ব আহরণের গতি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ১৮ আগস্ট রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনকে সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে এনবিআর। স্থান নির্বাচন, সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, অতিথি আপ্যায়ন, অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করে রবিবার অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক তদারকির জন্য ৩১ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান। এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, রাজস্ব আহরণে গতি আনা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরো উৎসাহিত করাই এ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে। সম্মেলনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অতিথির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। আমন্ত্রিতদের মধ্যে থাকবেন অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অর্থনীতি, রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা। এর আগে কর ও কাস্টমস ক্যাডারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে এনবিআরের কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ভ্যাট, শুল্ক ও আয়কর বিষয়ে পৃথক সেমিনার, তথ্য বুথ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরতে রেভিনিউ মিউজিয়াম প্রদর্শনের ব্যবস্থা ছিল। এনবিআরের কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, দ্বিতীয় রাজস্ব সম্মেলন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিন দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম শুক্রবার সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন দর কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। অলঙ্কার বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার কেনাবেচা বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়মাবলী বহাল থাকবে। এর আগে, সবশেষ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বর্ণের দাম বাড়ানোর হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।