অর্থনীতি

রডের দাম বাড়ার পেছনে সিন্ডিকেট নেই: সিএসআরএম চেয়ারম্যান

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নির্মাণ কাজের অন্যতম প্রধান উপাদান এমএস রডের দাম কয়েক বছরে অনেকটা বাড়লেও এর পেছনে ব্যবসায়ীদের কোনো ‘সিন্ডিকেট নেই’ বলে দাবি করেছেন স্টিল উৎপাদনকারী কোম্পানি চাকদা স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস (সিএসআরএম) প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান।

 

তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, ডলারের বিপরীতে টাকার উচ্চ বিনিময় হার, জ্বালানি ও বিদ্যুতের খরচ বৃদ্ধি এ নির্মাণ সামগ্রীটির দাম বাড়ার নেপথ্যে কাজ করেছে।

 

এ পরিস্থিতিতে স্টিল উৎপানকারীদের ব্যবসা ‘খুব ভালো নেই’ বলে দাবি করেছেন এ খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ)’ উপদেষ্টা শাহজাহান।

 

উৎপাদনের তুলনায় চাহিদার স্বল্পতা, রপ্তানির সুযোগ না থাকা, দেশে ভারী শিল্পে দক্ষ জনবলের অভাবসহ স্টিল শিল্পের নানা সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’-এ কথা বলেছেন এ বনেদি ব্যবসায়ী।

 

রডের চাহিদা কম থাকায় সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই

কয়েকজন ব্যবসায়ী জোটবেঁধে বা সিন্ডিকেট করে রডের দাম বাড়িয়ে ফেলছে—জনসাধারণের এমন ধারণা ‘একদমই সঠিক’ নয় বলে মন্তব্য করেন সিএসআরএম এমডি শাহজাহান।

 

যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদনের চেয়ে বাজারে চাহিদা কম থাকায় সিন্ডিকেট করে রডের দাম বাড়ানোর সুযোগই নেই।

 

“আমাদের প্রোডাকশন অনুযায়ী ডিমান্ড কম। আল্টিমেটলি কেউ চায় না তার প্রোডাক্টটা ধরে রাখতে। কারণ আমি যদি একটা প্রোডাক্ট ধরে রাখি, তাহলে আমার খরচ বেড়ে যায়। আমাকে ব্যাংকের টাকা দিয়েই তো প্রোডাক্টটাকে মজুদ রাখতে হচ্ছে। যার ফলে আমি চাই যে এটাকে ডিসবার্স করতে। সুতরাং এখানে সিন্ডিকেশনের তো প্রশ্নই আসে না।

 

শাহজাহান বলেন, “সিন্ডিকেশনটা কখন হবে? যখন সবাই চাইবে যে, না আমি এই জায়গায় থাকব, এখান থেকে আর বের হব না। কিন্তু আমাদেরতো ডিমান্ড ওই পর্যন্ত নাই।

 

যদি ডিমান্ড আমার বেশি থাকতো প্রোডাকশনের চাইতে, তখন সিন্ডিকেশনের প্রশ্ন আসতো। এখন কিন্তু আমরা সেই জায়গায় নাই। এবং এইটা হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নাই।

 

‘ভালো নেই’ স্টিল ব্যবসায়ীরা

আন্তর্জাতিক বাজারে কাচামালের দাম বৃদ্ধি, আমাদানি খরচ বেড়ে যাওয়া, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, ডলারের বিপরীতে টাকার উচ্চ বিনিময়হার, জ্বালানি ও বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে রডের চাহিদা কম থাকা এ খাতের ব্যবসায়ীরা ‘ভালো অবস্থায়’ নেই বলে ভাষ্য স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা শাহজাহানের।

 

তিনি মনে করেন, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার এবং ব্যাংকের সুদ হার ‘হুট করে বেড়ে যাওয়ায়’ এ খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

 

শাহজাহানের কথায়, ওই সময় ডলারের দাম ছিল ৮৬ টাকা। আমরা ওই সময় কাঁচামাল আমদানিতে ইউপাস এলসি (সরবরাহকারী তাৎক্ষণিক টাকা পেলেও তা পরিশোধে আমদানিকারক সময় পেয়ে থাকে) করি। এ এলসির ক্ষেত্রে পণ্য আমদানির ছয় মাস পরে টাকা পরিশোধের সুযোগ থাকে।

 

স্থানীয় ব্যাংক ঋণের সুদ হার ১৩ শতাংশ হলেও ইউপাস এলসিতে ব্যাংকিং কস্ট কম পড়ে; তো সবাই (ব্যবসায়ীরা) মিলে ইউপাস এলসি করা। কিন্তু এ এলসিগুলোর যখন পেমেন্টের সময় হলো তখন ডলারের দাম দাঁড়াল ১২৩ টাকায়। একটু প্রফিট করতে গিয়ে বড় ধরনের লস করলাম। তো এই লসটা কিন্তু একটা বড় ধরনের ধাক্কা সব ইন্ডাস্ট্রিকেই দিয়েছে।

 

সিএসআরএম এমডি বলেন, “ডলারের দাম বাড়ায় আমাদের বিনিয়োগ বেড়ে গেছে, কস্ট অব ফান্ডও বেড়ে গেছে। প্রফিট কিন্তু আমরা করতে পারছি না ওইরকম। এটা আমাদের জন্য বড় একটা ঝুঁকির বিষয়।

 

ডলারের আগের দামে আমরা ৮৬ টাকায় যে পরিমাণ কাঁচামাল কিনতে পারতাম, এখন ১২৩ টাকাতেও তা পাচ্ছি না। এই ক্ষেত্রে অনেক ব্যাংকের যে সাপোর্ট আরও দরকার ছিল, সেইগুলোতেও কিছু প্রবলেম আছে। তো সবকিছু মিলায়ে উই আর নট ইন গুড শেইপ।

 

শাহজাহান বলেন, “সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এখন ব্যাংক ইন্টারেস্ট এবং ডিমান্ডকে ক্রিয়েট করা। এখন ডিমান্ডটা অনেক কম আছে।

 

ডিমান্ডটাকে যদি ক্রিয়েট না করা যায় বা ওভারঅল গভর্মেন্টের যে ওয়ার্কগুলো আছে, সেগুলো যদি সচল না করা যায়; এটা একটা বড় ধরনের ঝুঁকি আমাদের জন্য হবে।

 

‘দেশে চাহিদা কম, রপ্তানির সুযোগও নেই’

রড উৎপাদনের তুলনায় দেশের বাজারে চাহিদা কম যেমন, তেমনই উচ্চ উৎপাদন ব্যয়ের কারণে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হচ্ছে না বলে ভাষ্য সিএসআরএম এমডি শাহজাহানের।

 

তিনি বলছিলেন, রড রপ্তানি আমাদের জন্য একটু সমস্যাই। কারণ আমরা তো র ম্যাটেরিয়ালসটাকে ইমপোর্ট করে নিয়ে আসি। এবং আমাদের বিদ্যুতের দাম বেশি, গ্যাসের দাম বেশি হচ্ছে; ঠিকভাবে আমরা এই বিদ্যুৎ-গ্যাসের সাপ্লাই পাচ্ছি না, যার ফলে আমাদের কস্ট বেড়ে যাচ্ছে।

 

ব্যাংকিং চার্জ আমাদের বেশি। সবকিছু মিলিয়ে সবদিকে আমাদের কস্টিংয়ের সূচকটা বেশি। তো আমরা যে দেশের বাইরে বিক্রি করতে চাচ্ছি, তারা আসলে কম্পিটিটিভ প্রাইস হলেই নেবে। রপ্তানির জন্য সেই জায়গাটা আমাদের তৈরি হয়নি।

 

শাহজাহান বলেন, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার কারণে এই মুহূর্তে সেই সম্ভাবনাটা কম। হয়তোবা অদূর ভবিষ্যতে হতে পারে; সরকার যদি স্টিল ব্যবসায়ীদের কিছু ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে হয়তো রড রপ্তানি সম্ভব হবে।

 

দক্ষ জনবলের অভাব

দক্ষ জনবলের অভাব স্টিল শিল্পখাতকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী শাহজাহান।

 

তিনি বলেন, ভারী শিল্পের দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে কম। আসলে আমরা আমাদের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী পাচ্ছি না। অনেক সময় দেখা যায় কী... যারা বুয়েট থেকে পাশ করে বা অন্যান্য প্রকৌশল থেকে পাশ করে, সবাই না এরা তো ইঞ্জিনিয়ার তাই না? এরা সবাই ডেস্কওয়ার্ক করতে চায়। ফিল্ডওয়ার্ক করতে চায় না।

 

সিএসআরএম এমডি বলেন, “আপনি একজন ইঞ্জিনিয়ার তো, ডেস্ক ওয়ার্কের তো আপনার বেশি কিছু থাকবে না; আপনার ফিল্ডওয়ার্কেই বেশি কিছু থাকে। আমাদের দেশে এই জিনিসটা... মানে এই ছেলেদের মধ্যে যারা পড়াশোনা করে বের হয়, সবাই চায়—‘আমি একটা ভালো অফিসে বসব, যেখানে এসি থাকবে, একটা ডেস্ক থাকবে, আমি ডেস্কে বসে বসে কাজ করব’। ফলে এই সেক্টরটাতে ডেভেলপমেন্টটা কম হচ্ছে।

 

আর যারা বুয়েট থেকে পাস-টাস করে, এরা কিন্তু বাইরে চলে যায়। দেশে থাকতে চায় না আল্টিমেটলি। তবে দেশে থেকেও স্টিলখাতে কাজ করে অনেক দূরে যাওয়ার সুযোগ তাদেরও আছে।

 

‘দিতে হবে সেরাটা, ঠিক রাখতে হবে কথা-কাজ’

কথা-কাজে মিল রেখে সেরা দামে সেরা পণ্য সরবরাহই স্টিল ব্যবসায় সিএসআরএমকে সাফল্য এনে দিয়েছে বলে মনে করেন কোম্পানির এমডি শাহজাহান।

 

তিনি বলেন, “আমরা শুধু বেস্ট অব কোয়ালিটিতে থাকতে চাই না। আমরা বেস্টটা— সব জায়গায় থাকতে চাই। এইজন্য আমরা কমিটেড ফর বেটার স্টিল। আমাদের থিংকিং বেস্ট, বেস্ট ফর দ্য প্রাইস, বেস্ট ফর দ্য সাপ্লাই ইন টাইম, বেস্ট ফর দ্য কমিটমেন্ট।

 

“আপনি বেস্ট প্রোডাক্ট করলেন, আপনার প্রাইসটা এমন জায়গায় যে কাস্টমার অ্যাফোর্ড করতে পারল না। আই থিংক দিস ইজ নট বেস্ট। আপনি কাউকে কমিট করলেন যে, ‘আমি আপনাকে এত টন রড দেব, একটা প্রাইসে’। প্রাইসটা মার্কেটে প্রায় ফ্লেক্সিবল হয়। প্রাইস বেড়ে গেল, আপনি রডটা দিলেন না। দিস ইজ নট বেস্ট। বাট উই আর ডুইং অল। আমরা যদি কাউকে কমিটমেন্ট দেই, ইনশাল্লাহ আমরা সেই কমিটমেন্ট ফুলফিল করি।

 

এমনও হয়েছে সাডেনলি প্রাইস বেড়ে গিয়েছে দশ হাজার টাকা পার টনে। অনেক সময় র ম্যাটেরিয়ালসের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা আমাদের কমিটমেন্ট রক্ষা করেছি; যা আমাদের স্টিল খাতে সেরা করে তুলেছে।

 

শাহজাহান বলেন, সঠিক সময়ে গ্রাহকের দ্বারে পণ্য পৌঁছে দিতে সিএসআরএম পরিবহন সেবাও দিয়ে থাকে। কথা-কাজে মিল রেখে সেরা পণ্য সরবরাহে করে স্টিল ব্যবসায় সুদীর্ঘ পথচলা সিএসআরএমের রডকে যমুনা সেতু থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে, আগারগাঁওয়ের সরকারি অফিস থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফ্লাইওভারে পৌঁছে দিয়েছে।

 

শৈশব কাটানো নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চাকদা এলাকার নাম অনুসারে চাকদা স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস প্রাইভেট লিমিটেড বা সিএসআরএমের নামকরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন শহাজাহান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
দেশের বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বৃদ্ধি করে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, সবশেষ গত ১৩ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৬ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

নাম বদলে কালো টাকা হচ্ছে ‘মূলধনি আয়’

ছবি: সংগৃহীত

বাজেট উদ্যোগকে স্বাগত, তবে উদ্বেগ প্রকাশ করে একগুচ্ছ দাবি বিএবির

ছবি: সংগৃহীত

রডের দাম বাড়ার পেছনে সিন্ডিকেট নেই: সিএসআরএম চেয়ারম্যান

ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকের পুরো পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকটির কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে রোববার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর আওতায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা ও তদারকি কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।   ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী তিনি পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ব্যাংকটির পরিচালনাগত সিদ্ধান্ত তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকটির সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সামগ্রিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে আস্থা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থা ও পর্ষদ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে ব্যাংক খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরাসরি তদারকির মাধ্যমে ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক ও অধিকতর স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।   তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৪, ২০২৬

৬ হাজার ৮৮০ কোটি কীভাবে ২২ হাজার কোটি টাকা হলো

বৈশ্বিক সংকটেও কনটেইনার-কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ডের পথে চট্টগ্রাম বন্দর

ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে জরুরি বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
বেসরকারি চাকরিজীবীদের অবসরে পেনশন অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি

  l বেসরকারি খাতের কর্মীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় থাকা বেসরকারি কর্মীরা অবসরের সময় জমাকৃত মোট অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে পাবেন।   বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।   বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এর অংশ হিসেবে অবসরের সময় অংশগ্রহণকারীরা তাদের সঞ্চিত মোট অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন। এ উদ্যোগের ফলে বেসরকারি খাতের কর্মীদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে এবং সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাবে।   নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই ব্যয় ছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।   বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।  প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা) চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের গতি সচল রাখতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ (এডিপি) মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাজেটের সুফল তিন খাতে সুষম বণ্টন করা হয়েছে: সড়কমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকা বিশেষ ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি : সংগৃহীত

বিদেশে থেকেও আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ, বাজেটে নতুন ব্যবস্থা

0 Comments