জাতীয়

র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন এলিট ফোর্স ‘এসআরবি’ গঠনের উদ্যোগ

মারিয়া রহমান জুন ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আলোচিত-সমালোচিত এলিট ফোর্স র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করতে যাচ্ছে সরকার। র‌্যাবের পরিবর্তে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে র‌্যাব বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করে নতুন আইনের একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


খসড়া আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, “দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে সুসংহতকরণ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান অধ্যাদেশ ১৯৭৯’-এর অধীন গঠিত ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান’ (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে বাংলাদেশ পুলিশের সহায়ক একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠন, উহার নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা, শৃঙ্খলা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে আইন করা সমীচীন।”


খসড়া আইনটি এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘প্রস্তুতি’ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যে খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়েছে এতে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে মৌলিক কোনো পরিবর্তন করা হবে না। শিগগির খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর এটা ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। ভেটিংয়ের পর সেটা ফের মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। নীতিগত অনুমোদনের পর তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। বিল পাস হলেই তা পরিণত হবে আইনে।


এর আগে গত মাসে র‍্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাব বিলুপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামীদিনে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।’


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগে র‌্যাবকে জবাবদিহির আওতায় আনার কোনো উপায় ছিল না। সে জন্য র‌্যাব নানা বিতর্কের জন্ম দেয়। এবার বিশেষায়িত এই বাহিনীকে জবাবদিহি ও গণমুখী করার চিন্তা করছে সরকার। সে জন্য সুনির্দিষ্ট আইন তৈরি করা হচ্ছে। আইনে জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে এই বিশেষায়িত বাহিনী জনগণের সেবায় কাজ করতে পারে। আর কোনো বিতর্কের জন্ম না দেয়।


খসড়া আইনে বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন কোনো বিধিমালা জারি না হওয়া পর্যন্ত ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান’ অধ্যাদেশ ১৯৭৯-এর ধারা ১৪ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে জারিকৃত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা) বিধিমালা, ২০০৫ এবং এতৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধিমালা বহাল থাকবে। ওই অধ্যাদেশের অধীন র‌্যাব-এর সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, দায়, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত সম্পত্তিতে যাবতীয় অধিকার ও স্বার্থ, সকল হিসাব বহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র এবং এতৎসংক্রান্ত সকল দলিল এই আইনের অধীন গঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এর নিকট তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং ন্যস্ত হবে। উক্ত আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান, কোনো চুক্তি, আইনগত দলিল বা চাকরির শর্তে যা কিছুই থাকুক না কেন, র‌্যাব এর সকল কর্মকর্তা ও আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী এই আইনের অধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এর সদস্য হবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তারা যে শর্তাধীনে চাকুরিতে নিয়োজিত ছিলেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এর চাকুরিতে নিয়োজিত থাকবেন। উক্ত আইনের অধীন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সকল দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে, বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি যথাক্রমে এই আইনের অধীন এসআরবি-এর দায় ও দায়িত্ব এবং এর দ্বারা, এর পক্ষে বা সাথে সম্পাদিত চুক্তি বলে গণ্য হবে। উক্ত আইনের অধীন প্রণীত সকল বিধি, প্রবিধান বা আদেশ যা উক্ত আইন রহিত হওয়ার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত কার্যকর ছিল তা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধান বা আদেশ দ্বারা রহিত বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, যতদূর পর্যন্ত এই আইনের বিধানাবলির পরিপন্থি না হয় ততদূর পর্যন্ত, কার্যকর থাকবে।


নতুন এই বাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে—দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা; গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ; বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার; মাদকদ্রব্য উদ্ধার; সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন; অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা; সরকার বা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত তদন্ত বা দায়িত্ব। এ ছাড়া প্রবেশ, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকেছে নতুন এই বাহিনীর। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, অবৈধ কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন বা আশ্রয়স্থল কিংবা সন্দেহজনক স্থান; কাউকে সন্ত্রাসী কার্য বা আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত সন্দেহ মৰ্মে; বা অবৈধ অস্ত্ৰ বা সন্ত্রাসী কর্মে ব্যবহৃত উপাদান লুকোনো স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশির ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী কোন অপরাধ; সরকার, বা মহা-পুলিশ পরিদর্শকের নির্দেশমতে, বাহিনী কোনো অপরাধস্থল বা অপরাধীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে কার্যকর যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।


এ ব্যাপারে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ  বলেন, ‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো যখন থেকে র‌্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন থেকে আমিও র‌্যাবের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর র‌্যাবের বিরুদ্ধে সবাই কথা বলতে থাকে। তিনি আরও বলেন, আমার কথা হচ্ছে, র‌্যাব বিলুপ্ত নয়, সরকার নাম পরিবর্তন করতে পারে। কারণ, এই বাহিনীতে অনেক দক্ষ লোক তৈরি হয়েছে। অনেক ভালো কাজও করেছে। সে কারণে যারা এই বাহিনীর ভেতরে থেকে অপরাধ করে, তাদের বিচার হোক। সে জন্য চাই, যে নামেই বাহিনী হোক না কেন, এই বাহিনীর সদস্যদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যেন নিশ্চিত করা হয়। এই বাহিনী দিয়ে আর যেন কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে।’


মূলত র‌্যাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে গঠিত বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ইউনিট। বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে পরিচালিত এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল তাদের কার্যক্রম শুরু করে। দ্য আর্মড পুলিশ অর্ডিন্যান্স ১৯৭৯ (সংশোধনী ২০০৪) অনুসারে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদস্যদের নিয়ে র‍্যাব গঠিত হয়। র‍্যাবের সদর দপ্তর ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত।


র‌্যাব গঠনের পর থেকেই এর কর্মকাণ্ড সমালোচনার মুখে পড়তে থাকে। এটি গঠনের পর র‍্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ ঢাকায় পিচ্চি হান্নানসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ‘চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা’ একের পর এক নিহত হয়। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসে র‍্যাব। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাবের ভূমিকা সবাইকে অবাক করে দেয়। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর হোসেনের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে র‍্যাব-১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদসহ ১১ জন র‍্যাব সদস্য এ খুনের ঘটনাগুলোয় জড়িয়েছিলেন। গুম-খুনের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সংস্থাটি। দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে এ সমালোচনা চলতে থাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানায়।


গত দুই দশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনায়। আর এসব গুম ও ক্রসফায়ারের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে র‌্যাব। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই র‍্যাব বিলুপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।


বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ ও গুরুতর আহতসহ অনেক বিক্ষোভকারীর সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন দেয় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান দল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কে সামনে রেখে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে র‍্যাবের বলপ্রয়োগ ও গ্রেপ্তারের কথা উঠে আসে। ওএইচসিএইচআর ওই প্রতিবেদনে র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে।


এমন বাস্তবতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। গত বছরের ৫ জানুয়ারি গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দেওয়া এক হিসাবে উঠে এসেছে, মোট গুমের ঘটনার প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গেই র‍্যাব জড়িত ছিল। একক বাহিনী হিসেবে এটা সর্বোচ্চ, তা ছাড়া সারা দেশে গুম কমিশন যে ৪০ গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে, তার মধ্যে ২২ থেকে ২৩টি ছিল র‍্যাবের। পুলিশের বিশেষ শাখার নথিতে সাত বছরে (২০১৫-২১ সাল) ১ হাজার ৭টি ক্রসফায়ারের ঘটনায় ১ হাজার ২৯৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। নথিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব ঘটনার ৬৫১টিতে পুলিশ ও ২৯৩টিতে র‍্যাবের নাম এসেছে। আরও ১০টি ঘটনায় যৌথভাবে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর নাম এসেছে।


ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিল। ওই সংবাদ সম্মেলনে দলের তৎকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ‘র‍্যাব আন্তর্জাতিকভাবেই এমনভাবে নিন্দিত হয়েছে...আর দেশে তো র‍্যাব মানেই একটা দানব তৈরি করা হয়েছে। তারা যত ধরনের খুন-গুম, যত এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং (বিচারবহির্ভূত হত্যা), অধিকাংশই এই র‍্যাব বাহিনীর মাধ্যমে হয়েছে। সে জন্য আমরা এটিকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছি।’ সংস্থাটি বিলুপ্ত করা হলে জনগণের কাছে একটা ভালো বার্তা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সংস্কার না করে বিলুপ্তির পক্ষেও তখন কথা বলেছিলেন তিনি। এবার সরকার সেটাই করতে যাচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অতিরিক্ত ঋণ নির্ভর বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য না: জিএম কাদের

দায়িত্ব গ্রহণের ১১৪ দিন পর ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাব করে বিএনপি সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যা আগের অর্থ বছর থেকে ১৯ শতাংশ বড়।   বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া দিতে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় পার্টি (জাপা)। সোমবার (১৫ জুন) ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।   এসময় দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের জানান, দেশের মানুষ স্বস্তিতে নেই, অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। এসব কারণে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে শঙ্কা দেখছেন তিনি।   জাপা চেয়ারম্যান বলেন, দেশের সামাজিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অবস্থা, ইরান যুদ্ধ বিশ্বে মন্দা তৈরি করেছে। এসব কারণে সাধারণ মানুষের কর দেয়ার মতো অবস্থা নেই, বলেও উল্লেখ করেন জিএম কাদের।   তিনি বলেন, দেশি-বিদেশী ঋণ নিয়ে বাজেটের ঘাটতি পূরণ করতে হবে। অতিরিক্ত ঋণ নির্ভর বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য না বলেও মন্তব্য করেন প্রবীণ এ রাজনৈতিক।   অর্থনীতি চাঙা করার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীল দরকার বলেও মত দিয়েছেন জিএম কাদের। তার মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি দরকার বিনিয়োগ। আর দেশ একটি সংকটকাল অতিক্রম করছে। তাই জাতীয় ঐক্য ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটকে গণতান্ত্রিক, মানবিক আর অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা সম্ভব নয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রতারণা মামলায় তৌহিদ আফ্রিদি ফের গ্রেপ্তার

ঢাকা বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন ১৬ ডিসেম্বর: বিমান প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে জাহেদ উর রহমান ইস্যুতে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফাইল ছবি
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা জারি

ভারতের ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)। সোমবার (১৫ জুন) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইভ্যাক জানায়, এখন থেকে পরবর্তী কার্যদিবসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লটগুলো ঠিক তার পূর্ববর্তী কার্যদিবসে অনলাইনে প্রকাশ করা হবে। নতুন এই নির্দেশনায় আবেদন আপলোড করার সময়সীমা নির্ধারণ করার পাশাপাশি মেডিকেল ভিসার ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়মাবলি যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা প্রত্যাশীদের দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা  মধ্যে তাদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যেসব আবেদনকারী নির্দিষ্ট সময়ে সফলভাবে ওয়েবফাইল আপলোড করবেন, তাদের জন্য বিকেল ৫টা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের স্লট উন্মুক্ত হবে। আইভ্যাক স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আপলোড করা ওয়েবফাইলটি অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের আসল পিডিএফ (PDF) কপি হতে হবে।আবেদনপত্রটি কোনোভাবেই ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া চলবে না। এছাড়া কোনো ধরনের পরিবর্তিত, এডিট করা বা বিকৃত ফাইল আপলোড করলে তা সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। চিকিৎসা ভিসার (Medical Visa) ক্ষেত্রে আইভ্যাক বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। এখন থেকে মেডিকেল ভিসা পাওয়া আবেদনকারীদের অবশ্যই সেই নির্দিষ্ট হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে হবে, যার নাম ভিসা আবেদনে উল্লেখ ছিল এবং যার ভিত্তিতে ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। কোনো বিশেষ কারণে হাসপাতাল পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের পূর্ব অনুমতি নিতে হবে। এফআরআরও-এর অনুমোদন ছাড়া হাসপাতাল পরিবর্তন করাকে ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর ভবিষ্যতে ভারতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

মারিয়া রহমান জুন ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন এলিট ফোর্স ‘এসআরবি’ গঠনের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ

ছবি : সংগৃহীত

গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, ১ আগস্ট থেকে কার্যকর

ছবি: সংগৃহীত
ভোটাধিকার হারানোর শঙ্কায় বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানার মালিকরা

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে শত শত পোশাক কারখানার মালিক সংগঠনটির নির্বাচনে ভোটাধিকার হারাতে পারেন। সংগঠনের সংঘবিধিতে নতুন একটি ধারা সংযোজনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিজিএমইএর ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।   ব্যবসায়ী নেতাদের একটি অংশের শঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শুধু অনেক সদস্যের ভোটাধিকারই সীমিত হবে না, বরং বন্ধ ও আংশিক বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে এটি বিজিএমইএ’র ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও নির্বাচনি সমীকরণেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   জানা গেছে, আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠেয় বিজিএমইএ’র বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) সংগঠনের সংঘবিধিতে নতুন ধারা ৫(গ) সংযোজনের একটি বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।   প্রস্তাবিত ধারায় বলা হয়েছে, যে সদস্য বর্তমানে রপ্তানি কার্যক্রমে নিয়োজিত নন, অথবা বিজিএমইএ থেকে একচেটিয়াভাবে ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) সেবা গ্রহণ করেন না, তিনি বিজিএমইএ’র পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে ভোটার তালিকাভুক্ত হতে, কিংবা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।   সদস্যের সর্বশেষ অর্থবছরের রেকর্ড, বিশেষ করে রফতানি আয়ের প্রমাণ হিসেবে প্রোসিডস রিয়েলাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি), এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে। এর অর্থ হলো, যেসব সদস্যের কারখানা বর্তমানে উৎপাদন বা রফতানি কার্যক্রমে নেই, কিংবা যেসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কারণে বন্ধ রয়েছে, তাদের একটি বড় অংশ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন।   বিজিএমইএ’র অনেক সদস্য রয়েছেন, যাদের কারখানা বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সংকট, ব্যাংক ঋণের জটিলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক মন্দা কিংবা প্রশাসনিক নানা চাপের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে— কিন্তু তারা এখনো সংগঠনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন এবং নির্বাচনে ভোটাধিকার ভোগ করেন।   ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা কারণে অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা হারিয়েছেন। তাদের একটি বড় অংশ এখনো কারখানা পুনরায় চালুর চেষ্টা করছেন। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এই উদ্যোক্তারা বিজিএমইএর নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।   বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সরকারের সাম্প্রতিক শিল্প পুনরুদ্ধার কর্মসূচির সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নিয়ে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বন্ধ ও রুগ্ন শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছেন।   এই তহবিলের আওতায় বন্ধ কলকারখানা ও সেবা খাত পুনরুজ্জীবনের জন্য একাই ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ রাখা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।   নীতিনির্ধারকদের মতে, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় সচল হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।   কিন্তু বিজিএমইএ’র প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হলে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ কারখানার মালিকরা সংগঠনের নির্বাচনি প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়বেন। ফলে অনেক উদ্যোক্তার মধ্যে নিরুৎসাহ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   সব মিলিয়ে বিজিএমইএর প্রস্তাবিত এই সংশোধনী এখন পোশাক খাতের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু ভোটাধিকার সংক্রান্ত একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিল্প পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থান, ব্যবসায়ী রাজনীতি এবং সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্ন।   আগামী ২০ জুনের বিশেষ সাধারণ সভায় সদস্যরা প্রস্তাবটির পক্ষে-বিপক্ষে কী অবস্থান নেন, সেটির ওপর নির্ভর করবে বিজিএমইএর নির্বাচনি কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্যের ভবিষ্যৎ রূপ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ শুরু

ছবি: সংগৃহীত

আদ্-দ্বীন থেকে রেফারকৃত রোগীদের জরুরি চিকিৎসার নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

ছবি: সংগৃহীত

দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন কর্মসূচি

0 Comments