চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম ঘিরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলার আজ (১৬ ফেব্রুয়ারি) তৃতীয় দিন। এ উপলক্ষে মেলায় লাখো সনাতনী পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে।
সোমবার ভোর থেকে দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীরা দল বেঁধে আসতে শুরু করে চন্দ্রনাথ ধামে। এতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সীতাকুণ্ডের মন্দির সড়ক থেকে চন্দ্রনাথ ধাম মন্দিরসহ পুরো কলেজ রোড এলাকা।
জাগতিক পাপ মোচন ও পুণ্য সঞ্চয়ের আশায় মেলায় আসা পুণ্যার্থীরা ব্যাসকুণ্ডে স্নান করেন। তারপর পায়ে হেঁটে যাত্রা করেন সমতল ভূমি থেকে এক হাজার ২০০ ফুট ওপরে অবস্থিত চন্দ্রনাথ ধাম মন্দিরের দিকে।
আয়োজকরা জানান, সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চন্দ্রনাথ ধাম একটি তীর্থস্থান। আনুমানিক ৫০০ বছর আগে ফাল্গুন মাসের শিবচতুর্দশী তিথিতে (শিবরাত্রি) চন্দ্রনাথ ধাম ঘিরে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলা।
তখন থেকে এ মেলা ঘিরে দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ ফুট ওপরের পথ হেঁটে ধামে পৌঁছান। কলিযুগের মহাতীর্থখ্যাত ধাম দর্শনের পাশাপাশি শিবরাত্রিতে দেবাদিদেব মহাদেবের পূজা-অর্চনা করা হয়।
সীতাকুণ্ড তীর্থধামের পণ্ডিত রাজীব ভরদ্বাজ জানান, তিন দিনব্যাপী এবারের শিবচতুর্দশী মেলায় রবিবার বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে শিবচতুর্দশী তিথি আরম্ভ হয়। তা সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিট পর্যন্ত থাকবে।
পুণ্যার্থীরা এই তিথিতে চন্দ্রনাথ ধামে এসে মঠ-মন্দির দর্শনসহ দেবাধিদেব মহাদেবের আরাধনা করবেন।
সীতাকুণ্ড রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার নিজাম উদ্দিন জানান, শিবচতুর্দশী মেলায় তীর্থযাত্রী আনা নেওয়ার সুবিধার্থে গত শুক্রবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ে ছয়টি এক্সপ্রেস ট্রেন সীতাকুণ্ড স্টেশনে দুই মিনিট করে থামবে।
মেলায় আসা পুণার্থী যাতায়াতে সীতাকুণ্ড স্টেশনে দাঁড়ানো ট্রেনগুলো হলো চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী ঢাকা মেইল, চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস, ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বিজয় এক্সপ্রেস, চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা মেঘনা এক্সপ্রেস এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস।
চন্দ্রনাথ ধাম দর্শনে সপরিবার রংপুর থেকে আসা পুণ্যার্থী মন্টু মণ্ডল জানান, তারা রিজার্ভ বাস নিয়ে শিবচতুর্দশী মেলা পরিক্রমা করতে রবিবার বিকেলে সীতাকুণ্ডে পৌঁছান। তাঁদের সঙ্গে আসা অন্য তীর্থযাত্রীরা মঠ-মন্দিরে উঠলেও তিনি উঠেছেন আত্মীয়ের বাসায়।
সোমবার ভোরে ব্যাসকুণ্ডে স্রান সেরে সবাইকে নিয়ে উঠেছেন চন্দ্রনাথ মন্দিরে। সেখানে দেবাদিদেবের পূজার্চনার পর আবার নিচে নেমে এসেছেন। এদিন সন্ধ্যায় শিবচতুর্দশী তিথি শেষ হওয়ার পর তাঁরা ব্যাসকুণ্ডে পিতৃপুরুষের জন্য তর্পণ ও পিণ্ডদান করবেন। এরপর পুনরায় বাড়ি ফিরে যাবেন তাঁরা।
কক্সবাজার চকরিয়া থেকে আসা আরেক পুর্ণার্থী রতন শীল বলেন, রবিবার বিকেলে শিবচতুর্দশী তিথি শুরুর পর ব্যাসকুণ্ডে স্নান সেরে তাঁরা স্বপরিবারে চন্দ্রনাথ মন্দির দর্শনে ওঠেন। সেখানে তাঁরা দেবাদিদেব মহাদেবের চরণে অর্ঘ্য প্রদানের পাশাপাশি মঙ্গল কামনায় শিবের মাথায় জল ঢালেন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম বলেন, শিবচতুর্দশী মেলা ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো হয়েছে উপজেলার প্রত্যেক মঠ, মন্দিরসহ পুরো এলাকা। মেলায় আসা সনাতনী পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাঁচ শতাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশের ১৫টি মোবাইল টিম।
মেলা কমিটির কার্যকরী সভাপতি সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ফখরুল ইসলাম বলেন, তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ছয়টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। চিকিৎসকদের একটি দল এবং আনসারের পাশাপাশি পুলিশের প্রায় ৫০০ সদস্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় নতুন চার ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ আলোচনা শুধু বগুড়ায় নয়- পুরো দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সম্প্রতি শিবগঞ্জ উপজেলায় পাঁচটি ও মোকামতলা উপজেলায় আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। প্রজ্ঞাপনে জানা গেছে- শিবগঞ্জ উপজেলায় গঠিত নতুন ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয়েছে- ‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’। আর নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় গঠিত নতুন তিনটি ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয়েছে- ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’, ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ এবং ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’। এদিকে প্রজ্ঞাপন জারির পর বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার পৈতৃক বাড়ি ‘মীরবাড়ীর’ নামে শিবগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করেছেন। এছাড়া তার দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামানুসারে মোকামতলা উপজেলায় ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’ ও ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ করা হয়েছে। আবার অনেকে অভিযোগ করেছেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের মেয়েকে পরিবারে স্বর্ণ বলে ডাকা হয়। তাই মেয়ের নামানুসারে মোকামতলায় ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন ভেঙে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন করা হয়েছে। এলাকায় খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, গত ৩ জুন শিবগঞ্জ উপজেলার এক সভায় বিএনপির এক নেতা ইউনিয়নগুলোর নামকরণের বিষয়ে প্রস্তাব করলে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে নামগুলো লিখিত প্রস্তাব আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসক ১১ জুন ‘মীরবাড়ি ইউনিয়ন’ এবং ১৪ জুন ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’, ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’ নামে গেজেট জারি করেন। তবে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় নতুন চারটি ইউনিয়ন গঠনে গণশুনানি টিমের প্রধান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, তারা এলাকাগুলোতে নিরপেক্ষভাবে গণশুনানি করেছেন। শুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা কে কোন দল করেন তা বিবেচনা করা হয়নি। এছাড়া ইউনিয়নের নামকরণের ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রভাব ছিল না। প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি মীরবাড়ীর নামে ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, ওই এলাকায় মীরবাড়ী নামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এর নামানুসারে ‘মীরবাড়ী’ ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। গণশুনানিতে কে এসব নামকরণের প্রস্তাব করেছেন? সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য কেউ দিতে রাজি হননি। শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমান বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর ছেলে ও বাড়ির নামে ইউনিয়ন পরিষদ করায় এলাকার মানুষ খুশিই হয়েছেন। ছেলের বা বাড়ির নামে ইউনিয়নের নাম করায় দোষের কিছু নয়, বরং ভালো হয়েছে।’ শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহাবুব আলম মানিক জানান, ওই চার ইউনিয়নের নামকরণের প্রস্তাব তিনিসহ আরও অনেকে করেছেন। সেখানে কারো নামের সঙ্গে করা হয়নি; এলাকার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এসব নামকরণের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ডিও লেটার পাওয়ার পর শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করে চারটি নতুন ইউনিয়নে গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউনিয়নগুলোর নামকরণের আগে এলাকাবাসীর মতামত গ্রহণের জন্য গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি বিধিমোতাবেক গণশুনানি করে। সেখানে মোকামতলা উপজেলায় দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে দুটি ইউনিয়ন করা হয়েছে। এ কারণে দেউলী নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া সৈয়দপুর ইউনিয়ন পার্শ্ববর্তী সোনাতলা ও গাবতলী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় এ ইউনিয়ন ভেঙে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’ নামকরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুনানি অনুসারে নিয়ম মেনে ‘‘মীরবাড়ী’ ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দাবি করেন, চারটি ইউনিয়ন নামকরণের ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রীর কোনো প্রভাব বা নির্দেশনা ছিল না। বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, নতুন ইউনিয়নের নামকরণের প্রস্তাব এসেছে উপজেলা প্রশাসন থেকে। প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি ও মোকামতলা উপজেলায় নতুন তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা তার বংশের নামানুসারে নতুন ইউনিয়নের নামকরণের প্রস্তাব উপজেলা প্রশাসন থেকে এলে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কোনো কিছু করার নেই। তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের নামকরণের ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রীর প্রভাব ছিল কিনা তা জানা নেই। তবে উপজেলার চিঠির আলোকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেছেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নতুন ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে জনগণের গণশুনানি ও মতামতের ভিত্তিতে উপজেলা এবং জেলা প্রশাসন যথাযথ আইন মেনে শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি ও মোকামতলা উপজেলায় তিনটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ করেছে। তিনি বলেন, তার দুই ছেলের নাম মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। কেউ কেউ তার ছেলেদের নামের সঙ্গে নতুন ইউনিয়নের নামকরণের সামঞ্জস্য খোঁজার চেষ্টা করছেন। এটা মোটও সঠিক নয় এবং বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। এ ব্যাপারে তার কোনো ভূমিকা ছিল না। আর তিনি এসব প্রশ্নের উত্তর সংসদে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
আইসিটি বিভাগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আরএডিপি-তে অর্ন্তভূক্ত প্রকল্প সমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আরএডিপিতে অর্ন্তভূক্ত প্রকল্প সমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) এটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের চলমান কার্যক্রম, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় প্রকল্প পরিচালকরা প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি উপস্থাপন করেন। মন্ত্রী বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এর সভাপতিত্বে সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজ এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুর করেছে উত্তেজিত জনতা। এ সময় পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নন্দিনী একই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী রঞ্জিত চন্দ্রের ছেলে বিধান চন্দ্রকে (২৩) আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার দুপুর থেকে নন্দিনী নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা দিনভর খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাননি। অভিযোগ রয়েছে, রাতে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে খোঁজ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। মঙ্গলবার সকালে শিশুটির বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নরম মাটি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। পরে সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে কয়েকটি বসতঘর ও ঘরের মালামাল পুড়ে যায়। এ সময় বাড়ির সদস্যরা ভেতরে আটকা পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) গাড়িসহ পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয় সাংবাদিকদেরও ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। পরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে আটকে থাকা লোকজনকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের অভিযোগ গ্রহণ না করার দায়ে আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে ক্লোজড করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে এবং অবরুদ্ধ লোকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে বিধান চন্দ্রকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।