প্রবাসী

পুনরায় চালু হলো অন অ্যারাইভাল ভিসা

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২০, ২০২৬

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পুনরায় চালু করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সব বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনে নির্দেশনা পাঠানো হয়। এর ফলে বিদেশি নাগরিকরা আবারও পূর্বের নিয়মে বাংলাদেশে পৌঁছার পর বিমানবন্দরেই অন অ্যারাইভাল ভিসা গ্রহণ করতে পারবেন।

 

সরকারি সূত্র জানায়, ভিসা স্থগিতাদেশ ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকার কথা ছিল; তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বাংলাদেশ দূতাবাসও নির্দেশনা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভিসা চালু হলেও আগত বিদেশিদের নথিপত্র, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য কঠোরভাবে যাচাই করতে ইমিগ্রেশন বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সন্দেহভাজন যাত্রীকে ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি উন্নত দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু রাষ্ট্রের নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে পর্যটন, ব্যবসা, বিনিয়োগ বা চাকরির উদ্দেশ্যে অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পেয়ে থাকেন। নির্বাচনের আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সুবিধা সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল।

 

সরকারি ব্যাখ্যায় জানানো হয়, নির্বাচনকালীন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিদেশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ পর্যালোচনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে নিয়ন্ত্রিত ও সতর্ক পরিবেশ বজায় রেখে অন অ্যারাইভাল ভিসা পুনরায় চালু করা সম্ভব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে শানডং, বিদেশি গণমাধ্যমের চোখে নতুন চীন

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে চীনের শানডং প্রদেশে পাঁচ দিনের সফর করেছে বিদেশি গণমাধ্যমের একটি প্রতিনিধিদল। ১০ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সফরে প্রদেশটির ছিংতাও ও তোংইং শহরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক স্থাপনা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন অংশগ্রহণকারীরা।   চায়না মিডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সিআরআই অনলাইন, ছিংতাও পৌর গণসরকারের তথ্য দপ্তর এবং তোংইং পৌর গণসরকারের তথ্য দপ্তর যৌথভাবে এ সফরের আয়োজন করে।   সফরকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা শানডংয়ের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, জনজীবনের উন্নয়ন এবং সবুজ অর্থনীতির বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বুদ্ধিমান উৎপাদন, জৈবপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, সামুদ্রিক শিল্প, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন, নগর উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ নানা বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ছিংতাওয়ে প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির সমন্বয়: ছিংতাও সফরে প্রতিনিধিরা শহরটির প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অগ্রগতি এবং শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নেন। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে কীভাবে আধুনিক পর্যটন ও নগরজীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, সেটিও প্রত্যক্ষ করেন তারা। গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন, সাংস্কৃতিক পর্যটন ও সুস্থতা শিল্পের বিকাশ নিয়েও প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। স্থানীয় খাদ্য ও চা সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক এলাকাগুলো কীভাবে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল।   হলুদ নদীকে ঘিরে তোংইংয়ের উন্নয়ন: হলুদ নদীর মোহনায় অবস্থিত তোংইং শহর সফরে নদী, স্থানীয় সংস্কৃতি, শিল্পায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার পারস্পরিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন বিদেশি সাংবাদিকরা। সফরের এ পর্বে হলুদ নদীর সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নদী ও এর আশপাশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ পরিদর্শন করেন তারা। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি থেকে আরও উদ্ভাবনী ও টেকসই উন্নয়নের দিকে শহরটির অগ্রযাত্রার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। শানডংয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিবেশ সুরক্ষাকে কীভাবে পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তোংইং সফরে তারও বিভিন্ন উদাহরণ দেখেন প্রতিনিধিরা। লবণাক্ত-ক্ষারীয় জমির কার্যকর ব্যবহার থেকে শুরু করে হলুদ নদীর ব-দ্বীপের জলাভূমি সংরক্ষণ—প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতাকে টেকসই উন্নয়নের সুযোগে রূপান্তরের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। সফরে বাংলাদেশ, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া ও পাকিস্তানের বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বন্ধুরা অংশ নেন। তাদের সরেজমিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শানডংয়ের প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও উন্নয়নের বহুমাত্রিক চিত্র উঠে আসে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে খালেদা জিয়ার জন্মদিনে বিএনপির দোয়া ও আলোচনা সভা

নিহত রাফাত।

সৌদিতে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

ছবি: সংগৃহীত

আরব আমিরাতে লটারির টিকিট কিনে লাখ দিরহাম জিতলেন দুই বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত
বৈরুতে জুয়া নিয়ে বিরোধ, ১০ বাংলাদেশি আটক; আইন মানার আহ্বান দূতাবাসের

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির জেনারেল সিকিউরিটি। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র না থাকার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার পর লেবাননে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।   দূতাবাস ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বুধবার ভোরে বৈরুতের জাল আল-ব্লাত এলাকার একটি ভাড়া বাসায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন বাংলাদেশির মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উচ্চস্বরে ঝগড়া শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চিৎকার-চেঁচামেচিতে বিরক্ত হয়ে স্থানীয় প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন।   পরে পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে ১০ বাংলাদেশিকে আটক করে। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বিষয়টি জানতে সেখানে গেলে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের কারও কাছেই লেবাননে বৈধভাবে বসবাসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই।   জুয়া ও অন্যান্য অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের পাশাপাশি অবৈধভাবে বসবাসের বিষয়টি সামনে আসায় তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   দূতাবাসের সতর্কবার্তা: ঘটনাটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) ও দূতালয়প্রধান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন প্রবাসীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কয়েকজনের অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বিদেশে থাকা পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগেও বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সতর্ক করা হলেও কিছু ব্যক্তি এসব নির্দেশনা অমান্য করে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। প্রবাসীদের জুয়া ও মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি অসামাজিক কর্মকাণ্ড, উচ্চস্বরে ঝগড়াঝাঁটি, জাল ভিসা ও প্রতারণার মতো কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাগতিক দেশের আইন ও বিধিবিধান কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।   অবৈধ প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ: তবে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের সহযোগিতার কথাও জানানো হয়েছে। দূতালয়প্রধান বলেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অবৈধ প্রবাসীদের শনাক্ত করতে তল্লাশি জোরদার করলেও বর্তমানে তাঁদের বৈধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যেসব বাংলাদেশি কাজের জন্য কফিল বা নিয়োগকর্তা পেয়েছেন, কিন্তু পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বৈধ হতে পারছেন না, তাঁদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে দূতাবাস। এমনকি কারও কাছে শুধু পাসপোর্টের ফটোকপি থাকলেও নতুন পাসপোর্ট পেতে দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক প্রবাসী এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদেশে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি দেশের প্রতিনিধি। তাই নিজেদের মধ্যে বিরোধ এড়িয়ে যেকোনো সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে গভীর রাতে উচ্চস্বরে কথা বলা, চিৎকার-চেঁচামেচি ও ঝগড়াঝাঁটি থেকে বিরত থাকার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৬, ২০২৬

দুই বছর চেষ্টার পর বাংলাদেশি প্রবাসী লটারিতে জিতলেন ১ লাখ দিরহাম

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে বাংলাদেশি চালকের মৃত্যু, ভারতীয় চালক আটক

ছবি: সংগৃহীত

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে মালয়েশিয়ায় বিএনপির আলোচনা ও দোয়া

ছবি: সংগৃহীত
কেমব্রিজে গোয়াইনঘাট ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সামার ট্রিপ

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত গোয়াইনঘাটবাসীদের সংগঠন গোয়াইনঘাট ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে সম্প্রতি এক আনন্দঘন সামার ট্রিপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।   সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক বন্ধনের আবহে আয়োজিত এই ভ্রমণে সংগঠনের সদস্যরা কেমব্রিজের ঐতিহাসিক সেন্ট্রাল মসজিদ, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজ এবং শহরের আশপাশের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেন।   সামার ট্রিপে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত গোয়াইনঘাটের আলীরগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া হেলাল ও গোলাম আজম মাশুক অংশ নেন। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানানো হয়।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ইউকের সভাপতি গোলাম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক সুফী সুহেল আহমদ, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমদ, মাওলানা নাজিম উদ্দিন, ট্রেজারার এফ এ কিবরিয়া, মাওলানা আব্দুল মান্নান, মুক্তার আহমেদ, নূর আহমদ, সালেহ আহমদ, রফিক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম, হাফিজ মারুফ আহমদ, ফয়েজ আহমদ, আমিরুল ইসলাম, রঞ্জন বিশ্বাস, ইহান আরিফ, হাসান আহমেদ, তাসলিম ফাতিমা, আমিন আহমেদ ও তামিম আহমেদসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।   ভ্রমণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বসবাসরত গোয়াইনঘাটবাসীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে।   তারা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা গোয়াইনঘাটবাসীর মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মানুষের কল্যাণে গোয়াইনঘাট ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ইউকের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্যারিসের ‘জুলাই ডায়লগে’ ঐক্য ও সংস্কারের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

মদিনায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল বাংলাদেশি প্রবাসীর

ছবি: সংগৃহীত

ওমানের ভিসার নামে প্রতারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনে সতর্ক থাকার আহ্বান

0 Comments