ঢাকার সাভারের জামসিং জয়পাড়া এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান একটি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, পৌরসভার প্রকৌশলীদের টাকা দেওয়ার কথা বলে শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা এবং টাকা ফেরতের দাবি তুলেছেন।
সাভার পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (এলজিসিআরআরপি) আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জয়পাড়া মহল্লায় দুটি উন্নয়নকাজ চলছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয়ে ৮০০ মিটার ইউনিব্লক সড়ক এবং ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪০ টাকা ব্যয়ে ৩৫০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও এলাকার কিছু ব্যক্তি প্রচার করেন, পৌরসভার প্রকৌশলীদের অতিরিক্ত টাকা না দিলে ড্রেন নির্মাণকাজ হবে না। এজন্য জয়পাড়া মহল্লার বাইতুল মামুর কেরামাতীয়া জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
তবে প্রকল্পটি শতভাগ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এজন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনও অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই—এ তথ্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর টাকা দেওয়া ব্যক্তিরা তাদের অর্থ ফেরত দাবি করতে শুরু করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মসজিদের সেক্রেটারি খন্দকার ফরহাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ হাজি মো. শামসুদ্দিন, তার ছেলে মোহাম্মদ হাসান প্রিন্স এবং স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও মাসুমসহ কয়েকজন মিলে অর্থ সংগ্রহ করেন। তাদের দাবি, বাড়ির অবস্থান ও সামর্থ্য অনুযায়ী ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এভাবে কয়েক লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মসজিদের ইমাম নাজির আহমেদ বলেন, ‘হাজি মো. শামসুদ্দিন ও খন্দকার ফরহাদ হোসেন আমাকে মাইকিং করতে বলেছিলেন। পরে আমি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়েছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল, টাকা না দিলে বাড়ির সামনে ড্রেন হবে না। সরল বিশ্বাসে ধারদেনা করে টাকা দিয়েছি। এখন জানতে পারছি, প্রকল্পটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে হচ্ছে। আল্লাহর ঘর মসজিদের মাইক ব্যবহার করে এভাবে আমাদের সাথে প্রতারণা করা হবে তা ভাবতেও পারিনি। আমরা এর বিচার ও টাকা ফেরত চাই।’
আরেক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রাস্তাঘাট ও ড্রেনের জন্য খরচ লাগবে বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। বাড়ির সামনে দিয়ে ড্রেন নিতে হলে টাকা লাগবে—এই বলে এলাকার হাজী শামসুদ্দিনসহ অনেকেই টাকা তুলেছেন।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, গৃহবধূ মুন্নি আক্তার ২০ হাজার টাকা, আকলিমা আক্তার ৩০ হাজার টাকা, স্কুলশিক্ষিকা নাসিমা আক্তার ২৫ হাজার টাকা এবং আব্দুল আলী ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বাড়ির সামনে ড্রেন নির্মাণের কথা বলে এসব টাকা নেওয়া হয়েছে।
তারা বলছেন, তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে সরকারিভাবে রাস্তা হবে কিন্তু ড্রেন হবে না—ড্রেন করতে হলে পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। এখন জানা যাচ্ছে, প্রকল্পটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা কোথায় গেছে।
রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের তদারকির দায়িত্বে থাকা সাভার পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) তৌফিক ইমাম রূপক বলেন, ‘জয়পাড়া মহল্লার সালাউদ্দিনের বাড়ির কাছ থেকে মানিক মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ৮০০ মিটার সড়ক নির্মাণ করছে সোয়েব কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর হানিফ মিয়ার বাড়ি থেকে রাসেলের বাড়ি পর্যন্ত ৩৫০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কাজ করছে ইমরান বিল্ডার্স।’
তিনি জানান, পুরো প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে হচ্ছে। ড্রেন নির্মাণের কথা বলে এলাকার কিছু লোকজন বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে টাকা তুলেছে—এ বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এলাকাবাসী থেকে টাকা তুলে কাজ করার কোনও সুযোগ নেই, যারা টাকা তুলেছে তারা অপরাধ করেছে।
সাভার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ আলম মিয়া বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের কাজে কোনও নাগরিক বা স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। প্রকৌশলীদের নাম ভাঙিয়ে যারা টাকা তুলেছে, তারা অপরাধ করেছে। পৌরসভা এই অনিয়মের দায় নেবে না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত খন্দকার ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি কোনও জবাব দেননি। আর হাজি মো. শামসুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে শামসুদ্দীনের ছেলে মোহাম্মদ হাসান প্রিন্স ও জসিম উদ্দিন টাকা তোলার কথা স্বীকার করে বলেন, ড্রেন করার জন্য টাকা তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, টাকা পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার অফিসে দেওয়ার পরই ড্রেনের কাজ হচ্ছে। তবে কার কাছে টাকা দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তারা কিছু বলতে পারেননি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত সরে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজাদ বলেন, ‘এলাকার মানুষ সরল-সোজা। তাদের ভুল তথ্য দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে। অনেকেই জানতেন না যে রাস্তা ও ড্রেনের কাজ সরকারি অর্থায়নে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকাবাসীর কাছ থেকে টাকা তুলে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের কথা বলে একটি প্রতারক চক্র কার্যক্রম চালিয়েছে। তারা বলেছে রাস্তা হবে আরসিসি, কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে ইউনিব্লক সড়ক। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ফেসবুকে পরিচয় থেকে সুমাইয়া তৃষ্ণার (২৬) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান সাজ্জাদ হোসেন (২৪)। এরপর গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠতা। ধীরে ধীরে আদান-প্রদান হয় ব্যক্তিগত ছবি। একপর্যায়ে এই সম্পর্কের কথা জানতে পারেন তৃষ্ণার স্বামী রোকনুজ্জামান পলাশ (২৬)। এ নিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শেষপর্যন্ত পরিকল্পনা হয় স্বামী-স্ত্রী মিলেই হত্যা করবেন প্রেমিক সাজ্জাদকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর বছিলার একটি ফাঁকা মেস বাসায় ডেকে তাকে হত্যা করা হয়। মরদেহ ৯ টুকরা করে কার্টনে ভরে ফেলা হয় দুই জেলায়। ঢাকার এক যুবককে হত্যার মামলা তদন্ত করে এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বছরের ৩ এপ্রিল নির্মমভাবে খুন হওয়া এই যুবকের নাম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান। মা-বাবার সঙ্গে সাভারের হেমায়েতপুরের বাসায় থাকতেন তিনি। স্থানীয় একটি কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) শেষ করেন। খুন হওয়ার প্রায় এক বছর আগে রাজধানীর বনানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছিলেন। বাসা থেকে আসা-যাওয়া করে চাকরি করতেন। এর মধ্যেই ফেসবুকে পরিচয় থেকে সুমাইয়া তৃষ্ণা নামের ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। সুমাইয়ার বাসা ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায়। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার স্বামী রোকনুজ্জামান পলাশও তার সঙ্গে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বর্ষের শিক্ষার্থী। বছিলা এলাকায় তার মেসে ডেকে নিয়েই সাজ্জাদকে হত্যা করা হয়। বর্তমানে দুজনই কারাগারে বন্দী। সাজ্জাদকে হত্যার মামলায় তাদের বিচার চলছে। আদালতে জমা দেওয়া পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে সুমাইয়ার সঙ্গে সাজ্জাদের প্রেম এবং পরবর্তী সময়ে সুমাইয়া ও তাঁর স্বামীর ষড়যন্ত্রে সাজ্জাদের খুন হওয়ার এই বিবরণ উঠে এসেছে। মামলাটির তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে রোকনুজ্জামান ও সুমাইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পুলিশ পরিদর্শক জামাল উদ্দীন। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে আছে। অভিযোগপত্রে ৪০ জনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ধার্য আছে। ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পরিচয় পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, সাজ্জাদের সঙ্গে সুমাইয়ার পরিচয় হয় একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। হত্যার প্রায় দুই মাস আগে থেকে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের এই সম্পর্ক শারীরিক ঘনিষ্ঠতায়ও গড়ায়। হত্যাকাণ্ডের পর রোকনুজ্জামান ও সুমাইয়া ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে রোকনুজ্জামানের বাড়ি। জীবননগর সীমান্ত হয়েই দুজন ভারতে পালানোর চেষ্টা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় মাস আগে তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গ ছবি আদান-প্রদান হয়। সুমাইয়ার জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ মার্চ মেসেঞ্জারে তার স্বামী রোকনুজ্জামান তার কাছে ব্যক্তিগত ছবি চান। ছবি দিতে গিয়ে তিনি ‘সুপ্ত’ নামের একটি আইডিতে দিয়ে দেন। ওই আইডিটি ব্যবহার করতেন সাজ্জাদ। সুমাইয়া দাবি করেন, সেখান থেকেই সুমাইয়া ও সাজ্জাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়। সাজ্জাদ সুমাইয়াকে ব্ল্যাকমেইল করেন। তবে সুমাইয়া ও সাজ্জাদের মধ্যে দুই মাসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এ সময় দুজন একাধিকবার অন্তরঙ্গ সম্পর্কেও জড়ান। বিষয়টি রোকনুজ্জামান জেনে যাওয়ায় তাদের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়। স্বামীর কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য লুকাতেই মিথ্যা বলেন সুমাইয়া। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্যই স্বামীর কথায় রাজি হন হত্যার পরিকল্পনায়। যেভাবে খুন হন সাজ্জাদ পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোকনুজ্জামান ও সুমাইয়ার মধ্যে উচ্চমাধ্যমিকে লেখাপড়ার সময় থেকেই পরিচয় ছিল। ২০২৩ সালে তারা বিয়ে করেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাদের এই বিয়ের কথা দুজনের পরিবারের কেউ জানতেন না। দুজন আলাদা থাকতেন। সুমাইয়া পরিবারের সঙ্গে মোহাম্মদপুরে আর রোকনুজ্জামান বছিলার মেসে থাকতেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ঈদের ছুটিতে কেউ মেসে নেই জানিয়ে সাজ্জাদকে ডেকে নেন সুমাইয়া। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই মেসের গোসলখানায় লুকিয়ে ছিলেন রোকনুজ্জামান। সাজ্জাদ ওই কক্ষে ঢুকতেই পেছন থেকে এসে ছুরি দিয়ে তাঁর মুখে ও পিঠে আঘাত করেন রোকনুজ্জামান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে যান সাজ্জাদ। তদন্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন বলেছেন, রোকনুজ্জামান বিভিন্ন সময় সুমাইয়াকে মুখ ঢেকে নগ্ন ছবি ও ভিডিও তৈরিতে বাধ্য করতেন। এ নিয়ে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনও ছিল। অন্যদিকে সাজ্জাদের সঙ্গে সুমাইয়ার সম্পর্ক এবং তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত ছবি আদান-প্রদানের বিষয়টি জানার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল রাতে একজন রিকশাচালককে ৫০০ টাকা দিয়ে মোবাইলের একটি সিম সংগ্রহ করেন রোকনুজ্জামান। সিমটি ওই রিকশাচালকের নামে নিবন্ধিত ছিল। রোকনুজ্জামানের নির্দেশনায় ওই নম্বর থেকেই সাজ্জাদকে ফোন করে পরদিন সকালে বছিলার ফাঁকা মেসে আসতে বলেন সুমাইয়া। রোকনুজ্জামান ওই মেসে থাকতেন। পরদিন সকালে সাজ্জাদ বছিলার একটি ১০ তলা ভবনের সপ্তম তলার ওই মেসে যান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রোকনুজ্জামান বলেন, সাজ্জাদের মৃত্যুর পর কক্ষের মেঝে রক্তে ভেসে যায়। তারা প্রথমে মরদেহ সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় মরদেহ টুকরা করার সিদ্ধান্ত নেন। তদন্তে উঠে এসেছে, মরদেহের খণ্ডগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য চালের বস্তা, চটের ব্যাগ, বড় কার্টন ও স্কচটেপ কেনা হয়। পরে খণ্ডিত মরদেহ তিনটি কার্টনে ভরা হয়। স্কচটেপ দিয়ে কার্টনগুলো ভালোভাবে মুড়িয়ে দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে করা হয়েছিল, যাতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ না থাকে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, হত্যার পর লাশ গুম করতে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করেন রোকনুজ্জামান ও সুমাইয়া। তিনটি কার্টনে মরদেহের খণ্ডিত অংশ নিয়ে তারা বছিলা থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ার দিকে রওনা হন রাতে। সেখানে রাতের খাওয়া শেষে ফেরার পথে কার্টনগুলো নির্জন স্থানে ফেলে দেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, একটি কার্টন নিয়ে যাওয়া হয় মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতু (উত্তর) থানার মেদিনীমণ্ডল এলাকায়। সেখানে একটি নর্দমায় সেটি ফেলে দেওয়া হয়। অন্য দুটি কার্টন নিয়ে যাওয়া হয় কেরানীগঞ্জে। শুভাঢ্যা ইউনিয়নের পাওয়ার হাউস থেকে মালঞ্চ হাসপাতাল সড়কের পাশে একটি নির্জন নিচু জমিতে কার্টন দুটি ফেলে রেখে চলে যান তারা। পরদিন ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে ফেলে যাওয়া একটি কার্টন থেকে কুকুর একটি পোঁটলা টেনে বের করে ছিঁড়ে ফেলে। তখনই বেরিয়ে আসে সাজ্জাদের মরদেহের খণ্ডিত অংশ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে। প্রায় একই সময়ে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতু (উত্তর) থানাধীন এলাকা থেকেও অন্য কার্টনটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের পাশাপাশি হাড়, দাঁত ও নখের নমুনা সংগ্রহ করে পিবিআই। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়, উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশগুলো সাজ্জাদের। এদিকে সাজ্জাদের খোঁজ না পেয়ে ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল রাতেই সাভার মডেল থানায় একটি জিডি করেন তার বাবা মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। যেভাবে খুনি শনাক্ত সাজ্জাদের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর অনেকটা নিজ উদ্যোগে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে পিবিআই। মুঠোফোনের কলের তথ্য, অবস্থান এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল একেবারেই ‘ক্লুলেস’। শুরুতে প্রযুক্তির মাধ্যমে মুঠোফোনে কথা বলার নম্বরগুলো যাচাই করা হয়। এর সূত্র ধরে গ্রেফতার হয় ওই রিকশাচালককে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে সিম কিনে নেন অন্য একজন। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার পরে রোকনুজ্জামানের তথ্য পাওয়া যায। ওই সূত্র ধরে আসামি সুমাইয়াকেও শনাক্ত করা হয়। নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে সুমাইয়া তার ব্যবহৃত সিম ফেনীতে গ্রামের বাড়িতে রেখে দেন। এরপর তিনি গাবতলী হয়ে জীবননগরের উদ্দেশে রওনা হন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। এমনকি যে বাসে সুমাইয়া যাচ্ছিলেন, ওই বাসেই যাত্রীবেশে একজন পুলিশ সদস্যও ওঠেন। জীবননগরে বাস থেকে নামার পর ৮ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে সুমাইয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে রোকনুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। সুমাইয়ার আইনজীবী মোজ্জাম্মেল হোসেন বলেন, এই মুহূর্তে বিশেষ কিছু বলার নেই। মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে বোঝা যাবে। তার দাবি, অভিযোগপত্রের সঙ্গে আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির অমিল রয়েছে। ছেলের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, সাজ্জাদ তার একমাত্র ছেলে ছিল। ঘটনার দিন সকাল আটটার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন, ছেলে বাসায় নেই। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সেটিও বন্ধ পান। পরে বাসার ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানতে পারেন, সকাল পৌনে ছয়টার দিকে সাজ্জাদ বাসা থেকে বের হয়ে গেছেন। সারা দিন ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে থানায় জিডি করেন ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে খুব ভালো ছিল। ছেলের কোনো শত্রু ছিল না। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীকে ঘিরে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি। টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। র্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও টহল। শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান ও পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর একটি টহল শুরু হয়। রাতেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ টহল অব্যাহত থাকে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসব এলাকায় তৎপর রয়েছেন। এদিকে শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের তিনটি গেটই বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাঁচ প্লাটুন বিজিবির পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে আট প্লাটুন আর্মড পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
মাস খানেক আগে ঢাকায় ডিমের দামে যে চড়া ভাব শুরু হয়, সেটা আরো খানিকটা চড়েছে; আর গেল সপ্তাহের মতো ১০০ টাকার আশপাশে আছে অধিকাংশ সবজির কেজি। কাঁচা বাজারে স্বস্তি কিছুটা যা ফিরেছে, সেটা কাঁচা মরিচে; ৪০০ টাকা থেকে কমতে কমতে কেজি নেমেছে ২০০ টাকায়। রাজধানীর রায়ের বাজার কৃষি মার্কেট, মোহাম্মদপুরের টাউন হল ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ১০ টাকা বেড়ে শুক্রবার এসব বাজারে প্রতি ডজন বিক্রি হয় ১৫৫-১৬০ টাকায়। ঢাকার বাজারে ডিমের দাম চড়তে শুরু করে গেল মাসের শুরুর দিকে। গেল ১০ জুলাই ফার্মের প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩০ টাকা। এর এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১২০ টাকা। ১৩০ থেকে পরের সপ্তাহে ১৪০ টাকায় ওঠে প্রতি ডজন ডিমের দাম। এরপর বেড়ে হয় দেড়শ টাকা, যা এখন ঠেকেছে ১৬০ টাকায়। খামারিদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের হাত থেকে খুচরা ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাতে প্রতি ডজন ডিমের দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে যাচ্ছে। মানিকগঞ্জের খামারি শাহীন মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “লাল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। আর সাদাটা ৯ টাকা ৫০ পয়সা।” তার হিসাবে, খামারি পর্যায়ে এক ডজন লাল ডিমের দাম পড়ছে ১২৬ টাকা। বৃহস্পতিবার আগাঁরগাওয়ে বিএনপি বাজারে ডিমের পাইকারি ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তেঁজাগাও আড়তে ডিমের দাম বেশি। “একশ লাল ডিম কিনতে ১১৫০ টাকায় দিতে হয়; ডজন পড়ছে ১৩৮ টাকা। আমরা খুচরা বিক্রি করছি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়।” টাউন হলের ডিম বিক্রেতা আহমদ মিয়া বলেন, তারা এখন ফার্ম থেকে ১০০টি ডিম ১ হাজার ২২০ টাকায় কিনছেন। আর্থাৎ, এই খুচরা ব্যবসায়ীর প্রতি ডজনে কেনা পড়েছে ১৪৬ টাকা ৪০ পয়সা। চাহিদা বাড়ায় ডিমের দাম চড়েছে বলে মনে করেন তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আমানত উল্লাহ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “উৎপাদন ঠিক ছিল। চাহিদা বাড়ছিল। বর্ষায় শাক-সবজি মার খাইছিল। এজন্যই ডিমের দামটা একটু বেশি ছিল। আর বাড়বে না; কমবে।” খামারি থেকে খুচরা বাজারে আসতে প্রতি ডজনে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “এটা বেশি না। তিন চার ধাপ পার হয়ে বাজারে আসে। ৫ থেকে ১০ টাকা তো লাভ করতে হবে।” ডিমের দাম বাড়লেও তার সুফল না পাওয়ার অভিযোগ খামারিদের। শাহীন মিয়া বলেন, “আমাদের কোনো লাভ নেই। সাভার ও তেজগাঁওয়ের ব্যবসায়ীরা ডিমের দাম ঠিক করে। “তারা মেসেজের মাধ্যমে কয়েক দিন কমায়। আমাদের কাছ থেকে কিনে জমা করে। পরে তারাই ডিমের দাম বাড়িয়ে বাজারে বিক্রি করে। এদিকে আমাদের খরচ ওঠে না। তারা কিছুই করে না; উৎপাদন করে না; খাবার-ওষুধ কিনে না। সব খরচ খামারিদের। কিন্তু লাভটা যায় সিন্ডিকেটের পকেটে।” চলতি মাসে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। ভারত থেকে আমাদানি বাড়ায় কমতে শুরু করে। গত সপ্তাহে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ছিল ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা। মধ্যে। তবে শুক্রবার আরো কমে নেমেছে ২০০ টাকায়। সাদেক খান কৃষি মার্কেটে পাইকারিতে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছিল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। এ বাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. ছালাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশের বাইরে থেকে মরিচ আসায় দুই সপ্তাহ ধরে দাম কমছে। সামনে আরো কমতে পারে। “তবে ভারত থেকে আসা মরিচের চেয়ে দেশি মরিচের দাম একটু বেশি। কারণ ভারতের মরিচ আকারে ছোট; ময়লাও আছে।” সরবরাহ ঘাটতির কথা শোনা না গেলেও সবজির বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। দাম আছে গেল সপ্তাহের মতোই; বেশির ভাগ সবজির কেজি ৮০ টাকার উপরে। এদিন বাজারে লম্বা আকৃতির বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছিল ১২০ টাকা। গোল বড় বেগুনের কেজি আরো বেশি ১৫০-১৬০ টাকা। বরবটি ও করলা কেজি ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এছাড়া শসার কেজি ৮০ টাকা; ঢেঁড়স ও পটল ৫০ থেকে ৬০ এবং ৩০ থেকে ৪০ টাকা ছিল পেঁপের কেজি। একেকটি চাল কুমড়া বিক্রি হচ্ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। মিষ্টি কুমড়ার কেজি ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সাদেক খান কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আড়তে সবজি বেড়েছে। দাম তুলনামূলক কম থাকার কথা। কিন্তু এখনো আড়তে দাম বেশি। বেশির ভাগের কেজিই ৮০ টাকার উপরে।” দামে একটু স্বাস্তি পেতে সাপ্তাহিক বাজার করতে শুক্রবার সকালে কারওয়ান বাজারে আসেন মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ার বাসিন্দা সাইফুল হক জেলিড। তিনি বলেন, “কয়েক সপ্তাহ ধরে শাক-সবজির দাম বেশি ছিল; মুরগির দামও বেশি। এজন্যই ডিম একটু বেশি কেনা হয়। “কিন্তু ডিমেরও দাম বেড়ে গেছে। ৪০ টাকার ডিম এখন ৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে।” দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দাম স্থির রয়েছে। খুচরায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। এদিন কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে এক পাল্লার (পাঁচ কেজি) দাম ছিল ১৩০ টাকা। গত শুক্রবার খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছিল ২০০ টাকায়। গলির দোকান থেকে কিনতে আরো ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি গুনতে হয়েছে। এই সপ্তাহেও একই দামেই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে কারওয়ান বাজারে কেজিতে ১০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া আগের মতোই সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।