‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে আজ (শুক্রবার) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিন বাহিনীর প্রধানগণ।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বাসসকে জানান, আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
সাক্ষাতের আগে অধ্যাপক ইউনূস ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন ছাত্রনেতারা। তারা শেখ হাসিনার পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ছাত্রনেতা-নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে অল্প আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ২৫৩ আসনের মধ্যে তারা মাত্র ৩০টি আসন পেয়েছে। বিপরীতে জামায়াত পেয়েছে ১৭৯টি আসন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বণ্টন ভবিষ্যতে ছাত্রনেতাদের প্রভাব সীমিত করবে। কারণ ভোটারদের প্রায় ৪০ শতাংশ ১৮-৩৭ বছরের মধ্যে। শেখ হাসিনার পতনের পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার দাবি তুলেছিলেন ছাত্রনেতারা। তাদের লক্ষ্য ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও স্বচ্ছ শাসন। তাদের আন্দোলন দেশজুড়ে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের আশা তৈরি করেছিল। ও পি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, তরুণ নেতাদের আরও বড় ভূমিকা থাকা উচিত। আশা করি তারা গুরুত্ব হারাবে না। তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে এই জোট ছাত্রনেতাদের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, এটি একটি ‘মরিয়া সিদ্ধান্ত।’ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হয় এনসিপি। এখনো তাদের শক্ত ভিত্তি নেই। আন্দোলনের সময় তারা দৃশ্যমান থাকলেও এখন তাদের সাংগঠনিক ঘাটতি স্পষ্ট। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আহমেদ বলেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট আশ্চর্যজনক। কয়েকজন ছাত্রনেতা এরইমধ্যে দল ছেড়েছেন। এনসিপির কয়েকজন নেতা স্বীকার করেছেন, আসন-সংক্রান্ত দর কষাকষি এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। জামায়াত বিএনপির তুলনায় বেশি আসনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কয়েকজন নেতার কাছে এটি উপেক্ষা করা কঠিন ছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন দলকে আরও শক্তিশালী করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দিয়েছে। জামায়াতের উত্থান চমকপ্রদ। তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পাশে থাকার কারণে বিতর্কিত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে এক দশক ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছেন আদালত। বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জোট জামায়াতকে রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করতে পারে। তবে ছাত্রদের উদার সংস্কারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। লন্ডনভিত্তিক বিশ্লেষক প্রিয়জিৎ দেবসরকার বলেন, যুব ভোটাররা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপ্লব ছাত্ররাই সংঘটিত করেছিল। কিন্তু এখন আন্দোলন প্রান্তিক হয়ে যাচ্ছে। তার মতে, জোট জিতলেও সংসদে এনসিপির কম আসন নীতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে না। সম্প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা বেড়েছে। এটি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। প্রশাসন ঘটনাগুলো গুরুত্ব কমানোর চেষ্টা করছে। কামাল আহমেদ বলেন, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়নি। তারা প্রায়শই নিপীড়নের শিকার হয়েছে। নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। কামাল আহমেদ আরও বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সহিংসতা রোধ করা। আওয়ামী লীগ ভোটে হুমকি তৈরি করতে পারে। এটি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা কঠিন করে তুলবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অবস্থায় নির্বাচন সমাজে বিভাজন বাড়াবে। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র হবে নাকি ইসলামপন্থী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। কামাল আহমেদ বলেন, দেশ শুধু স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সংকট কাটাতে পারবে। সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
পতিত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি পর্যালোচনায় গঠিত জাতীয় কমিটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। মঙ্গলবার জমা দেওয়া এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা ও কিছু আমলা নিজেদের স্বার্থে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বিশেষ আইনের আওতায় এনে অস্বাভাবিক সুবিধা দিয়েছে। এর ফলে একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। প্রতিবেদনে বিতর্কিত আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে দেশবিরোধী আখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন চুক্তির বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। তবে রহস্যজনক কারণে সরকার এখনো প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেনি এবং সহসা প্রকাশ নাও করতে পারে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে নীতিনির্ধারক মহল থেকে। মঙ্গলবার দুপুরে রেল ভবনে পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়ক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিবেদনটি জমা দেন। পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিচারপতি মইনুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি এখন সরকারের কাছে, তারা পরে এ বিষয়ে জানাবে। কমিটির আরেক সদস্য সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, কমিটির দায়িত্ব শেষ হয়েছে, চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা জানান, প্রতিবেদনটি পড়ে ও বিশ্লেষণ করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কখন এটি প্রকাশ করা হবে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে দেখে নেওয়া হবে, এরপর সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে গত ২ নভেম্বর জাতীয় কমিটি বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি নিয়ে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেয়। তখন জানানো হয়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। বিশেষ আইনের অপব্যবহার করে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে পিডিবিকে বাধ্য করা হয়েছে। কমিটি আদানি, বিশেষ আইনে অনুমোদিত প্রায় ৫০টি আইপিপি, ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে গুরুতর দুর্নীতির তথ্য পায়। সূত্র জানায়, আদানির চুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বেশি পর্যালোচনা করেছে জাতীয় কমিটি। কমিটির মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী চুক্তি নজিরবিহীন। আদানির সঙ্গে পিডিবির সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে (পিপিএ) গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। কোনো আইন ও বিধি না মেনে ভারতের ঝাড়খণ্ডে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চুক্তিতে এমন কঠোর শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা অন্য কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে নেই। বিদ্যুৎ না নিলেও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ, ৩৫ শতাংশ উৎপাদনের বিল দেওয়া এবং বিল বকেয়া থাকলে ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দেওয়ার শর্ত রয়েছে। আদানির বিদ্যুৎ কেনা বন্ধ করা হবে কি না—এ বিষয়ে জাতীয় কমিটি স্পষ্ট সুপারিশ দিতে পারেনি। একাংশের মতে, এটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হওয়ায় বাতিল করা কঠিন। অন্য অংশের মতে, সমঝোতার পথ খোঁজা প্রয়োজন। এদিকে আদানির বিকল্প হিসেবে অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব কি না, তা যাচাই করতে বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে অনেকটাই ভারতনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আটকা পড়েছে। আদানি ও অন্যান্য ভারতীয় কোম্পানি থেকে মোট ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। হঠাৎ করে এই সরবরাহ বন্ধ হলে বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত ভূরাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে জড়িত। এদিকে জাতীয় কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনও সরকার প্রকাশ করেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য বলেন, দ্রুত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জনগণের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েও সন্দেহ তৈরি হবে।
উপ-আঞ্চলিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি রাজশাহীর আয়োজনে বিভাগের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে ৫৪তম শীতকালীন ক্রিকেট, ভলিবল, বাস্কেটবল, হকি, ব্যাডমিন্টন, টেবিলটেনিস, সাইক্লিং ও অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় নগরীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে মশাল প্রজ্বলন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, এই প্রতিযোগিতায় বিভাগের আটটি জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত সহস্রাধিক শিক্ষার্থীরা তাদের ক্রীড়া প্রতিভা ও দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তি, শারীরিক সক্ষমতা এবং নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শীতকালীন ক্রীড়া আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সুস্থ শরীর ও মন গঠনের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে পারে। ক্রিকেট, ভলিবল, বাস্কেটবল, হকি, ব্যাডমিন্টন ও টেবিলটেনিসের মতো দলীয় ও ব্যক্তিগত খেলাগুলো দলগত সহযোগিতা ও কৌশলগত চিন্তাশক্তি বাড়ায়। অন্যদিকে সাইক্লিং ও অ্যাথলেটিক্স শিক্ষার্থীদের সহনশীলতা, গতি এবং লক্ষ্যনিষ্ঠতা উন্নত করে, যা ভবিষ্যৎ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাঠে জয়-পরাজয় থাকবেই—এটাই প্রতিযোগিতার সৌন্দর্য। সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নিজেদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বাড়ানো। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক মোহা. আবদুর রশিদ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ক্রীড়াচর্চাকে আরও গতিশীল করে তোলে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ সৃষ্টি করে। আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতায় ক্রিকেট, ভলিবল, বাস্কেটবল ও হকিতে দলীয় ইভেন্টের পাশাপাশি ব্যাডমিন্টন ও টেবিলটেনিসে একক ও দ্বৈত ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। সাইক্লিং ও অ্যাথলেটিক্সে বিভিন্ন দূরত্ব ও ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা চলবে এবং শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকরা মনে করছেন, রাজশাহীতে শুরু হওয়া ৫৪তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিক্ষাঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং ক্রীড়াবান্ধব সমাজ গঠনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।