প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ই-পাসপোর্ট ফি পুনর্নির্ধারণ করেছে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। মার্কিন ডলারের বিপরীতে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বিনিময় হারের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে এই নতুন ফি কার্যকর হবে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ক্যাটাগরি অনুযায়ী ই-পাসপোর্টের নতুন ফি তালিকা
বিগত ৬ মাসের গড় বিনিময় হার এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিলের ১০ শতাংশ সারচার্জসহ সংশোধিত ফি নিচে তুলে ধরা হলো।
সাধারণ শ্রমিক ও শিক্ষার্থী ক্যাটাগরি:
৪৮ পাতা (৫ বছর মেয়াদি): ১৬৪ রিঙ্গিতের পরিবর্তে এখন দিতে হবে ১৪০ রিঙ্গিত।
৪৮ পাতা (১০ বছর মেয়াদি): ২৭৩ রিঙ্গিতের পরিবর্তে এখন দিতে হবে ২৩৩ রিঙ্গিত।
৬৪ পাতা (৫ বছর মেয়াদি): ৮১৭ রিঙ্গিতের পরিবর্তে এখন দিতে হবে ৬৯৫ রিঙ্গিত।
৬৪ পাতা (১০ বছর মেয়াদি): ৯৫৩ রিঙ্গিতের পরিবর্তে এখন দিতে হবে ৮১০ রিঙ্গিত।
অন্যান্য ভিসা ক্যাটাগরি (পেশাজীবী ও অন্যান্য):
৪৮ পাতা (৫ বছর মেয়াদি): ৫৪৫ রিঙ্গিতের পরিবর্তে এখন দিতে হবে ৪৬৫ রিঙ্গিত।
৪৮ পাতা (১০ বছর মেয়াদি): ৬৮১ রিঙ্গিতের পরিবর্তে এখন দিতে হবে ৫৮০ রিঙ্গিত।
৬৪ পাতা (৫ বছর মেয়াদি): ৮১৭ রিঙ্গিতের পরিবর্তে এখন দিতে হবে ৬৯৫ রিঙ্গিত।
৬৪ পাতা (১০ বছর মেয়াদি): ৯৫৩ রিঙ্গিতের পরিবর্তে এখন দিতে হবে ৮১০ রিঙ্গিত।
ইএসকেএল সার্ভিস চার্জ
আবেদন ফরম পূরণ, ডকুমেন্ট প্রস্তুতকরণ, ইন্টারভিউ, বায়ো-এনরোলমেন্ট, স্ক্যানিং এবং পাসপোর্ট ডেলিভারির অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেবার জন্য সাধারণ শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের ৩২ রিঙ্গিত এবং অন্যান্য আবেদনকারীদের ৬০ রিঙ্গিত প্রদান করতে হবে।
হাইকমিশন জানিয়েছে, ডলারের বিপরীতে রিঙ্গিতের মান কমে যাওয়ায় সরকারি ফি এবং কল্যাণ তহবিলের সারচার্জ সমন্বয় করতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রবাসীদের নির্ধারিত তারিখের পর থেকে নতুন হারে ফি পরিশোধ করে সেবা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইতালিতে কাজ না পেয়ে এবং চরম আর্থিক সংকটের কারণে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশের তথ্যমতে, গত শুক্রবার ইতালির কাতানিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে জিন্নাত খান খোকন (৪০) নামে ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জিন্নাত খান খোকন বাগেরহাট সদর উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে। তিনি পরিবারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় গত বছর প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দালালের মাধ্যমে ইউরোপে পাড়ি জমান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে তিনি বুলগেরিয়ায় পৌঁছান এবং পরে অবৈধ পথে ইতালিতে প্রবেশ করেন। তবে সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বৈধ কাজ বা স্থায়ী আয় না থাকায় তিনি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েন। পাশাপাশি দেশে থাকা ঋণদাতাদের চাপও তার মানসিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে তোলে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম জানান, পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় তারা জমি বিক্রি ও ঋণ নিয়ে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় স্বামী-সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তারা সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন। এদিকে রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহত প্রবাসীর বিএমইটি কার্ড থাকায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ব্যয় বহন করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। দূতাবাস আরও জানায়, ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর ছাড়পত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, কল্যাণ ও সেবাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা ও গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। রোববার (২১ জুন) রাজধানী মালেতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসীদের সমস্যা-সম্ভাবনা, শ্রমিক অধিকার, কর্মসংস্থান এবং কনস্যুলার সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত এবং সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এ ধরনের মতবিনিময় সভা ও গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। দূতাবাসের কনস্যুলার সহকারী মো. ইবাদ উল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মোতাছেম বিল্লাহ এবং তৃতীয় সচিব সৈয়দ হামজাদ আলী। সভায় হাইকমিশনার প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের অভিযোগ, মতামত ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, সাধারণ প্রবাসী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং হাইকমিশনের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন প্রবাসীদের সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করবে এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানে সহায়ক হবে।
মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিদায়ী কাউন্সিলর (শ্রম) মো. সোহেল পারভেজ বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে পদায়িত হয়েছেন। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তিতে মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন। কর্মজীবনে পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বাক্ষর রাখা এই কর্মকর্তা ২০২০ সালে প্রথম সচিব হিসেবে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের দায়িত্বও পালন করেন। মালদ্বীপে দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের শ্রমসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান, বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং সংকটাপন্ন নাগরিকদের সহায়তায় তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের নতুন দায়িত্বে সোহেল পারভেজ দেশের সামুদ্রিক পরিবহন খাতের উন্নয়ন, কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরও কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।