অর্থনীতি

প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং: ৮.০২ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ও নিশ্চিত অর্ডার পেল বাংলাদেশ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের টেক্সটাইল ও ফ্যাশন শিল্পের অন্যতম বৃহৎ প্রদর্শনী টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস স্প্রিং/ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অংশ নিয়ে বাংলাদেশ আশাব্যঞ্জক ব্যবসায়িক সম্ভাবনা অর্জন করেছে । 

গত ২-৪ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের প্যারিসে এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পৃষ্ঠপোষকতায় প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া ১৮টি বাংলাদেশি কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ও নিশ্চিত কাজের অর্ডারের মোট মূল্য ৮.০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দাঁড়িয়েছে। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।

কাজের অর্ডার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া, ফলপ্রসূ ব্যবসায়িক বৈঠক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। 

ইপিবির পৃষ্ঠপোষকতায় অংশ নেওয়া প্রদর্শকদের বাইরে আরো ১১টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি মেলায় অংশগ্রহণ করে। তারাও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ, কার্যকর ব্যবসায়িক আলোচনা এবং পরবর্তী সহযোগিতার ভালো সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। ফলে ইউরোপীয় পোশাক সোর্সিং বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও জোরদার হয়েছে।

ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম তালহা গত ২ ফেব্রুয়ারি টেক্সওয়ার্ল্ডে ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’ উদ্বোধন করেন। তিনি বাংলাদেশি সবগুলো স্টল পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

খন্দকার এম তালহা বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি কোম্পানির সংখ্যা চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের মত প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বেশি হতে পারত।

তিনি ফ্রান্সে টেক্সওয়ার্ল্ডসহ প্রিমিয়ের ভিশন প্যারিসের মত অন্যান্য বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। বেশি অংশগ্রহণ বাংলাদেশের দৃশ্যমানতা ও সম্পৃক্ততা বাড়াবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রপ্তানিকারকরা ইউরোপের বিকাশমান প্রযুক্তি, পরিবর্তনশীল ফ্যাশন ধারা এবং কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক পণ্যের সোর্সিং সম্পর্কে জানতে পারবেন। এতে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর মত দেশীয় প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলো আরও আকর্ষণীয় করতে হবে। কম খরচের প্রস্তুত করা স্টলের পরিবর্তে বড় জায়গা ভাড়া নিয়ে পেশাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে থিম-ভিত্তিক নকশা ও সাজসজ্জা করা প্রয়োজন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীতে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য সংগঠন, বিশেষ করে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর সক্রিয় অংশগ্রহণ, পৃষ্ঠপোষকতা এবং পেশাদারভাবে দেশীয় ব্র্যান্ডিং জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস বিশ্বের ফ্যাশন টেক্সটাইল ও পোশাকের অন্যতম শীর্ষ সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। এতে বৈশ্বিক ক্রেতা, ব্র্যান্ড এবং সোর্সিং পেশাজীবীরা অংশ নেন।

স্প্রিং/ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশি প্রদর্শকদের জোরালো পারফরম্যান্স মানসম্মত উৎপাদন, কমপ্লায়েন্স, টেকসই উদ্যোগ এবং বৈচিত্র্যময় পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীদের সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ।

আগামী দিনে ফ্রান্সে প্রধান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও সোর্সিং ইভেন্টে বাংলাদেশের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথাও জানিয়েছে দূতাবাস।

টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সফলতা বিশ্বব্যাপী পোশাক ক্রেতাদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি রপ্তানি সম্প্রসারণ ও বাজার বৈচিত্র্য আনতে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বা বাণিজ্য মেলায় ধারাবাহিক অংশগ্রহণের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ঐতিহাসিক ইপিএ স্বাক্ষর

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে আজ টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,  বাংলাদেশ এই প্রথমবারের মত কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করল। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে নিজ নিজ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।  চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি ও উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে ঢাকা ও টোকিওতে অনুষ্ঠিত সাত দফা নেগোসিয়েশনের ফলই এই চুক্তি।   শেখ বশিরউদ্দীন এই চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এই ইপিএ চুক্তি কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিলই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ। এ সময় তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন পারস্পরিক সমৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে।  চুক্তিটির অধীনে বাংলাদেশ পণ্য ও সেবা উভয় বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে। তৈরি পোশাকসহ প্রায় সাত হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশী পণ্য জাপানের বাজারে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশও জাপানের জন্য তার বাজার সম্প্রসারিত করছে, ফলে এক হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্য পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে। উল্লেখ্য, পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে কাঁচামাল নিয়ে কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশী পোশাক খুব সহজেই জাপানে রপ্তানি করা যাবে।  এর পাশাপাশি, জাপানের আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং ও নার্সিংয়ের মতো প্রায় ১৬টি বিভাগে ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশী দক্ষ পেশাজীবীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের মানুষের জন্য জাপানে অধিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে।  অন্যদিকে বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি, এটি উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি ও লজিস্টিকস প্রভৃতি খাতে জাপানি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।  জাপানি উন্নত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ হলে আমাদের দেশীয় পণ্যের মান বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।  এছাড়াও, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) বিকাশ ও একটি দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে এই চুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটাবে এবং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং: ৮.০২ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ও নিশ্চিত অর্ডার পেল বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে ন্যায্যতা ও নৈতিকতার চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ

ছবি : সংগৃহীত

ডিএসইতে লেনদেন ও সূচক নিম্নমুখী

ছবি : সংগৃহীত
রপ্তানিমুখী হস্তশিল্পের প্রসারে সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে : পিকেএসএফ চেয়ারম্যান

পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেছেন, রপ্তানিমুখী হস্তশিল্পের প্রসারে সহায়তা আরও বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন, প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশি হস্তশিল্পের প্রসার ঘটাতে এ খাতে অর্থায়ন ও অন্যান্য সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি, দেশীয় বাজার সম্প্রসারণেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। জাকির আহমেদ খান আজ রাজধানীর মিরপুরে রপ্তানিমুখী হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান ‘তরঙ্গ’ পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।  এ সময় পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, উপ-মহাব্যবস্থাপক একেএম ফয়জুল হক এবং ‘তরঙ্গ’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনুর ইয়াসমিনসহ প্রতিষ্ঠান দু’টির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জাকির আহমেদ খান বলেন, “হস্তশিল্প বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত। এ খাতকে সুসংগঠিত, রপ্তানিমুখী ও টেকসই শিল্পে রূপান্তর করতে হলে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, দক্ষ জনবল সংকট, অবকাঠামোগত অপর্যাপ্ততা ও ব্র্যান্ডিং দুর্বলতার মতো সমস্যাগুলোকে কাটিয়ে উঠতে হবে। এ লক্ষ্যে বিশেষায়িত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।” ফজলুল কাদের বলেন, “হস্তশিল্প খাতে নিয়োজিত নারীদের স্থানচ্যুতি ব্যয় নেই। তারা স্ব স্থানে থেকে উচ্চমানের রপ্তানিযোগ্য পণ্য প্রস্তুত করছেন এবং ভালো উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারে সমৃদ্ধি আনছেন। বাংলাদেশ থেকে হস্তশিল্প রপ্তানির পরিমাণ শতকোটি ডলারের মাইলফলক ছোঁয়ার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে আমরা হস্তশিল্প খাতে করিগরি সহায়তা পাশাপাশি লাগসইভাবে অর্থায়ন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিচ্ছি।” পিকেএসএফের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত ‘তরঙ্গ’-এর হস্তশিল্প কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে ৩২ হাজার নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পাট, কচুরিপানা, হোগলাপাতা, তালের আঁশ, কলাগাছের আঁশ, বাঁশ, বেত, প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে প্রস্তুতকৃত পণ্যের বিক্রয়লব্ধ মোট আয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি এসব কর্মীর মজুরিতে ব্যয় হয়। ‘ন্যায্য বাণিজ্য’ ধারণার ভিত্তিতে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পণ্য বিশ্বের ৫০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬ 0
সাজিয়ে রাখা স্বর্ণালংকার। ছবি : সংগৃহীত

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

গ্রামীণফোন|ফাইল ছবি

এক বছরে ৬৭৩ কোটি টাকা মুনাফা কমেছে জিপির

ছবি: সংগৃহীত
ডিএসইতে ইতিবাচক ধারা, সূচক বেড়ে লেনদেনের পরিমাণ ৭১২ কোটি ছাড়িয়েছে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বাজারে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ডিএসইতে আজ মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৭৬টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯৪টি কোম্পানির ২৪ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৬টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭১২ কোটি ৩৪ লাখ ৮ হাজার ৪৬৪ টাকা। ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৮.৯২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,২৬৬.৬৮ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ৩.৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ২,০২১.৭১ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরীয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ১৪.৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ১,০৭০.৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে শেয়ারের দর বেড়েছে ১৮৯টির, কমেছে ১৫৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫২টি কোম্পানির শেয়ার। লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো-এশিয়াটিক ল্যাব, ইসলামী ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বিএসসি, ব্র্যাক ব্যাংক, সিমটেক্স, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সিটি ব্যাংক। দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো— শাশা ডেনিমস, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, বিডি থাই ফুড, ১ম জনতা মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফু-ওয়াং সিরামিকস, সিএপিএম আইবিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, কনফিডেন্স সিমেন্ট, সামিট পাওয়ার, বিডি থাই এবং ওয়ালটন হাই-টেক। অন্যদিকে, দর কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানি- ডিবিএইচ ১ম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, ফনিক্স ইন্স্যুরেন্স, বে-লিজিং, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, জেনারেশন নেক্সট, চাটার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং আইএফআইসি ১ম মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো।

রিজার্ভ আরও বাড়ল

এলপিজির সিলিন্ডার। ছবি : সংগৃহীত।

এলপিজির দাম আরও বাড়ল

সাজিয়ে রাখা স্বর্ণের গহনা। ছবি : সংগৃহীত

আবারও কমল স্বর্ণের দাম

0 Comments