২০২৬ বিশ্বকাপকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও স্বচ্ছ করতে ড্র পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনল ফিফা। নতুন নিয়মে এবারের টুর্নামেন্টে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা চার দল— স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড— নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থাকলে নকআউটের আগে একে অন্যের মুখোমুখি হবে না। ফলে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবং লামিন ইয়ামালের স্পেন চাইলে কেবলই দেখা হতে পারে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে।
ফিফা মঙ্গলবার জানায়, এবারের ড্র হবে ‘টেনিস-স্টাইল ব্র্যাকেট’ পদ্ধতিতে, যেখানে নকআউটের সম্ভাব্য পথ আগে থেকেই নির্ধারিত থাকবে। এতে টুর্নামেন্টের চার সেরা দলকে রাখা হবে আলাদা চার সেকশনে। তারা গ্রুপে প্রথম হলে সেমিফাইনালের আগে একে অন্যের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ নেই।
৫ ডিসেম্বর ড্র, নতুন ফরম্যাটে ১২ গ্রুপ
ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারে আগামী ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র। ৪৮ দলকে ভাগ করা হবে ১২টি গ্রুপে, প্রতিটিতে থাকবে চারটি করে দল। পরদিন প্রকাশ হবে ম্যাচের ভেন্যু এবং সময়সূচি।
তিন আয়োজক দেশ— যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা— থাকছে পট–১-এ, বিশ্বের শীর্ষ নয় দলের সঙ্গে। ফলে গ্রুপের শীর্ষ বাছাই হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করবে তারা।
পট–১ এ রয়েছে: স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, জার্মানি এবং তিন আয়োজক দল।
ড্রতে কনফেডারেশন নীতি বহাল, তবে ব্যতিক্রম ইউরোপ
পূর্বের মতোই একই মহাদেশের দুটি দল একই গ্রুপে পড়বে না। তবে ইউরোপের ১৬টি দল থাকায় চারটি গ্রুপে দুটি করে ইউরোপিয়ান দল দেখা যাবে।
আয়োজক দেশগুলোর সূচি আগেই স্পষ্ট
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার ম্যাচপথও দিচ্ছে স্পষ্ট ধারণা—
যুক্তরাষ্ট্র ১২ জুন ইনগেলউডে পট–৩-এর দলের বিরুদ্ধে খেলবে প্রথম ম্যাচ।
মেক্সিকো ১১ জুন আজটেকায় পট–৩-এর দলের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে।
কানাডা ১২ জুন টরন্টোতে পট–৪-এর দলের বিরুদ্ধে শুরু করবে তাদের অভিযান।
পট–২ ও পট–৩-এ থাকছে ক্রোয়েশিয়া, মরক্কো, উরুগুয়ে, সুইজারল্যান্ড, জাপান, তিউনিশিয়া, আইভরি কোস্টের মতো শক্তিশালী দল। পট–৪-এ জায়গা পেয়েছে জর্ডান, কেপ ভার্দে, ঘানা, হাইতি, নিউজিল্যান্ডসহ প্লে–অফ বিজয়ীরা।
দলগুলোর ‘পথ’ এবার অনেকটাই আগে থেকেই বোঝা যাবে
ড্র-য়ের পরই স্পষ্ট হয়ে যাবে, কোন দল কোন নকআউট পথে এগোতে পারে এবং কারা কার মুখোমুখি হতে পারে সেমিফাইনাল বা ফাইনালের আগে। আর এই ফরম্যাটের কারণেই স্পেন-আর্জেন্টিনা বা ফ্রান্স-ইংল্যান্ডের মতো সম্ভাব্য জটিল ম্যাচআপগুলো রাখা হয়েছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ শেষ পর্যায়ের জন্য।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরের ফাইনাল চলছে। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ইনিংস ওপেন করতে নেমে দলকে উড়ন্ত সূচনা উপহার দিয়েছেনে দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম। ৭ ওভারের খেলা শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৩ রান। ২০ বলে ৩৪ আর ২২ বলে ১৯ রানে অপরাজিত আছেন তানজিদ হাসান তামিম ও পাকিস্তানি ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান। চট্টগ্রাম এ নিয়ে তৃতীয় এবং টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলছে। গত আসরে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে হেরে যায় তারা। এর আগে ২০১৩ সালের ফাইনালে ঢাকার বিপক্ষে হেরে যায় চট্টগ্রাম। তৃতীয়বার ফাইনালে উঠে আজ প্রথম শিরোপার স্বাদ পেতে চায় শেখ মেহেদি হাসানের নেতৃত্বাধীন দলটি। অন্যদিকে রাজশাহী বিপিএলের সপ্তম আসরে খুলনাকে হারিয়ে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেয়েছিল। আজ ১২তম আসরে বিপিএলের দ্বিতীয় শিরোপা জিততে চায় নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি।
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। আইসিসির বেধে দেয়া ২৪ ঘন্টার সময়ের মধ্যে ক্রিকেটারদের সাথে বৈঠকের পর ভারতে সফর না করার ব্যাপারে অটল বাংলাদেশ সরকার। ভেন্যু পরিবর্তনের মাধ্যমে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে বলে আশা যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের। দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু পরিবর্তন না হলে পাকিস্তানেরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত। এমনটাই দাবি দেশটির সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফের। বর্তমান ক্রিকেট ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর এটিই সেরা সময় বলে মনে করেন তিনি। এদিকে পাকিস্তানের প্ররোচণায় বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সদস্য মদন লাল। মূলত, নিরাপত্তা শঙ্কায় লাল-সবুজদের বিশ্বকাপে অংশ না নেয়ার অনড় অবস্থানে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ভারত-পাকিস্তানের স্নায়ুযুদ্ধ। আইসিসিকে এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানায় পিসিবি। সংকটের সুরাহা না হলে এবারের আসর পাকিস্তানের বয়কট করা উচিত বলে মনে করেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। দাবি করেন বর্তমান ক্রিকেট ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর এটিই সেরা সময়। তিনি বলেন, 'পাকিস্তান যদি এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বয়কট করে, তবে এই বিশ্বকাপ বড় বিপদে পড়বে। আমি এটা আগেও বলেছি, বাংলাদেশ যখন একবার কোনো কিছু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা সেটা করেই ছাড়ে। তারা প্রমাণ করে দিয়েছে যে বাংলাদেশের জন্য ভারত নিরাপদ দেশ নয়; আইসিসি, বিজেপি বা বিসিসিআই যা-ই বলুক না কেন।' তবে পাল্টা খবর উঠে এসেছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে। ইন্ডিয়া টুডে'কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির বিশ্বকাপজয়ী সদস্য মদন লাল মনে করেন পাকিস্তানের প্ররোচণায় নিজেদের অবস্থান থেকে সরছে না বাংলাদেশ। তার দাবি বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতকে চাপে ফেললেও মূল ক্ষতি হবে বাংলাদেশের। মদন লাল বলেন, 'বাংলাদেশ তাদের সবকিছু হারাবে, ভারতের কিছুই যাবে আসবে না। পাকিস্তানের উস্কানিতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুম্বাই বা কলকাতার মতো নিরাপদ জায়গায় খেলতে না আসাটা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।' এদিকে, ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। বিসিবি ও ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্পনসরদের একটি বড় অংশ চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে গণমাধ্যমটি। তবে সব হিসাব-নিকাশ মাথায় রেখেই আইসিসি'র দিকে সুবিচারের দৃষ্টি বাংলাদেশের।
৩রা জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি। ২০ দিনের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর আজ বাংলাদেশ তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল আইসিসিকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলবে না লিটন-মোস্তাফিজরা। ফলে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। বাংলাদেশ কী বিশ্বকাপে খেলতে পারবে নাকী তাদের জায়গায় কপাল খুলবে স্কটল্যান্ডের? এই গল্পের সমাপ্তির আগে একনজরে দেখে নিতে পারেন বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানের ইস্যুকে কেন্দ্র করে গোটা ক্রিকেট দুনিয়ায় কীভাবে, কেমন উত্তাপ ছড়িয়েছে গত ২০ দিন। ৩ জানুয়ারি ২০২৬ গোটা ক্রিকেট দুনিয়াকে অবাক করেই গত ৩রা জানুয়ারি বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে বাদ দেয়। এ ঘটনা রীতিমতো ঝড় তুলে। এমন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়? জবাবে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের অনুরোধ করেন। ৪ জানুয়ারি ২০২৬ মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার একদিন পর ৪ঠা জানুয়ারি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ। এরপর আসিফ নজরুল জানান, বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরানোর অনুরোধ জানায় আইসিসিকে। ৫ জানুয়ারি ২০২৬ শুধু কথায় নয়? এবার কথার প্রতিফলন দেখা গেল বাস্তবেও। মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়। ৬ জানুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের এমন ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে পড়ে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া। আইসিসির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক হয় বিসিবির। ক্রিকইনফোর খবরে বলা হয়, বৈঠকে আইসিসি বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরানো সম্ভব নয়। উত্তাপ আরও বেড়ে যায়। ৭ জানুয়ারি ২০২৬ বিসিবি জানায়, আইসিসি আলটিমেটাম দেয়নি। ক্রীড়া উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, দেশের মর্যাদার প্রশ্নে আপস করে ভারতে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা তখন বাংলাদেশের ক্রিকেট ছাপিয়ে হয়ে যায় দেশের মর্যাদা রক্ষার হাতিয়ার। ৮ জানুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আইসিসিকে দ্বিতীয় দফায় ইমেইল করে বিসিবি। ৩ তারিখ থেকে ৮ তারিখ টানা ছয়দিন নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে রীতিমতো উত্তাল হয়ে পড়ে ক্রিকেটাঙ্গন। ১২ জানুয়ারি ২০২৬ কয়েকদিন বিরতি দিয়ে ১২ জানুয়ারি ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, আইসিসির নিরাপত্তা দল ভারতে মোস্তাফিজসহ বাংলাদেশ দলের জন্য তিনটি বড় ঝুঁকির কথা বলেছে। উপদেষ্টা আবারও ভারতে না যাওয়ার অনড় অবস্থানের কথা বলেন। ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তার একদিন পর ১৩ জানুয়ারি বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে অন্য কোনো দেশে আয়োজনের জন্য আইসিসিকে আবার অনুরোধ করা হয়েছে। ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার ঢাকায় আইসিসির প্রতিনিধি আসার কথা জানানো হয়। ঢাকায় এসে বিসিবি কর্তাদের পাশাপাশি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বৈঠক করার ঘোষণা আসে আইসিসির প্রতিনিধি দলের। ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ঘোষণা অনুযায়ী ১৭ জানুয়ারি শনিবার ঢাকায় আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বিসিবি আবারও বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। গণমাধ্যমগুলো জানায়, ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদলের অনুরোধও করেছে বাংলাদেশ। ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো জানায়, বাংলাদেশের দাবি পূরণ না হলে বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে পিসিবি। ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ না খেললে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে নেওয়ার খবর আসে এবং এটাও শোনা যায়, আইসিসি বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ক্রীড়া উপদেষ্টা আবারও সাফ জানিয়ে দেন, কোনো ‘অযৌক্তিক চাপে’ পড়ে বাংলাদেশ ভারতে খেলতে যাবে না। বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে আইসিসিকে চিঠি পিসিবির। ২১ জানুয়ারি ২০২৬ আইসিসি বোর্ড সভায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ভোটাভোটিতে বাংলাদেশ কেবলমাত্র পাকিস্তানকে তাদের পাশে পায়। অন্য সকলেই বাংলাদেশের বিকল্প দল চায়। সেইসঙ্গে আইসিসির পক্ষ থেকে বিসিবিকে ভারতে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে এক দিন সময় বেধে দেওয়া হয়। ২২ জানুয়ারি ২০২৬ আইসিসির বেধে দেওয়া ২৪ঘণ্টা আলটিমেটামের উত্তর দিতে আজ ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিসিবি কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে আজ বৃহস্পতিবার আবারও নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় বাংলাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান আসিফ নজরুল। এখন অপেক্ষা আইসিসির চূড়ান্ত ঘোষণার। স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ উপহার দিবে নাকি ‘মিরাকল’ কিছু দেখবে বাংলাদেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী।