ব্যক্তিজীবনের ভয়ংকর ঝড়, লাগাতার আইনি লড়াই আর সমাজের তীক্ষ্ণ প্রশ্নবাণ— সবকিছু পেরিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভাঙলেন বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। ২০২০ সালে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর বলিউডের আলোঝলমলে জগৎ থেকে প্রায় অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সময়টা ছিল অভিযোগ, বিতর্ক আর মানসিক লড়াইয়ের। কিন্তু সেই অন্ধকার অধ্যায়ের পর এবার আবারও নিজের জায়গা ফিরে পেতে প্রস্তুত রিয়া। বড় পর্দার চেনা ফ্রেমে নয়, বরং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের হাত ধরেই শুরু হলো তার প্রত্যাবর্তনের নতুন গল্প— যেখানে আত্মবিশ্বাস, সাহস আর টিকে থাকার লড়াইটাই হয়ে উঠছে মূল চরিত্র।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, নেটফ্লিক্সের আসন্ন ওয়েব সিরিজ ‘ফ্যামিলি বিজনেস’-এ দেখা যাবে রিয়াকে। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নেটফ্লিক্স এই সিরিজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি ট্রেলার প্রকাশ করেছে। এই সিরিজে রিয়ার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করবেন বলিউডের দুই শক্তিশালী অভিনেতা অনিল কাপুর এবং বিজয় ভার্মা। ২০২০ সালের ১৪ জুন মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ ফ্ল্যাটে সুশান্ত সিং রাজপুতের রহস্যজনক মৃত্যুর পর উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ভারত। সেই ঘটনার জেরে মাদককাণ্ডে নাম জড়িয়ে জেল খাটতে হয়েছিল রিয়াকে।
সুশান্তের মৃত্যুর আগে মুক্তি পাওয়া ‘চেহরে’ সিনেমার পর আর কোনো কাজে তাকে দেখা যায়নি। এক সময় বিনোদন জগত থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া রিয়া অবশেষে সব বাধা কাটিয়ে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছেন। রিয়ার এই প্রত্যাবর্তনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তার ভক্তরা।
টিজার প্রকাশের পর থেকেই অনুরাগীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, রিয়াকে পর্দায় ফিরে আসতে দেখে তারা আনন্দিত। তবে কারও কারও মতে, তার এই প্রত্যাবর্তন আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল।
তবে ছয় বছরের বিরতির পর ‘ফ্যামিলি বিজনেস’ দিয়ে রিয়ার এই প্রত্যাবর্তন কতটা সাফল্য পায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রযোজক মো. সরোয়ার জাহানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর কাফরুল এলাকায় প্রাক্তন স্ত্রী ও তার পরিবারের ওপর হামলা, লুটপাট এবং গুরুতর অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (২৩ মার্চ) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাফরুল থানার ওসি (তদন্ত) রুবেল মল্লিক জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে তোলা হবে। এর আগে বুধবার (১৮ মার্চ) ভুক্তভোগী রুকাইয়া তাহসিনা (৩৫) বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি মামলা করেন (সি. আর. মামলা নং ১৯৪/২৬)। মামলার এজাহারে বলা হয়, সরোয়ার জাহান তার প্রাক্তন স্বামী। তাদের একমাত্র সন্তান বর্তমানে মস্তিষ্কের ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেও শুরু থেকেই তিনি সন্তানের দায়িত্ব অস্বীকার করে আসছেন। শিশুটির জন্মের পর থেকে চিকিৎসা ব্যয় বহন তো দূরের কথা, কোনো খোঁজখবরও নেননি বলে অভিযোগ করা হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে শিশুটির ব্রেইন টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকরা ভারতের চেন্নাইয়ে ‘প্রোটন বিম থেরাপি’ নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ওই সময় বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তার পাসপোর্ট নিজের জিম্মায় নিয়ে নেওয়ায় বিদেশে চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একই বছরের ৩০ অক্টোবর সরোয়ার জাহান ভাড়াটে লোকজন নিয়ে কাফরুলে বাদীর বাসায় প্রবেশ করে তার মা ও বোনকে মারধর করেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টাও চালান। এ সময় নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া আসামির করা আরেকটি মামলায় বাদীকে ৫ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে মামলা করতে গেলে প্রভাব খাটিয়ে থানা মামলা নেয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। বাদীর অভিযোগ, পারিবারিক আদালত সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় বহনের নির্দেশ দিলেও গত বছরের আগস্ট থেকে আসামি তা বন্ধ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে মডেল রিয়া বর্মণের সঙ্গে সম্পর্ক আড়াল করতে গিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী রুকাইয়া তাহসিনা বলেন, ‘আমি চাই অভিযুক্তকে যথাযথ আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। আমার সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ঈদের আমেজ আর সিনেমা হলের রোমাঞ্চ যখন একবিন্দুতে মিলিত হয়, তখন জন্ম নেয় এক নতুন ইতিহাস। ঠিক তেমনই এক ইতিহাস সৃষ্টি করছে নির্মাতা রায়হান রাফীর নতুন মাস্টারপিস ‘প্রেশার কুকার’। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই প্রেক্ষাগৃহগুলোতে যে গণজোয়ার দেখা যাচ্ছে, তা কেবল ব্যবসা নয়, বরং বাংলা সিনেমার পুনর্জাগরণের বার্তা দিচ্ছে। রাজধানীর উত্তরা সেন্টার পয়েন্ট থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি প্রান্তের সিনেপ্লেক্সগুলোতে এখন একটাই শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—হাউসফুল! দর্শকরা বুঁদ হয়ে আছেন এক ভিন্নধর্মী সিনেমাটিক অভিজ্ঞতায়। রায়হান রাফী নিজেই এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। এ বিষয়ে সিনেমার নির্মাতা রায়হান রাফি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জয় হোক বাংলা সিনেমার। দর্শকদের মুখে মুখেই ‘প্রেশার কুকার’ ছড়িয়ে পড়ছে—এর থেকে বড় মার্কেটিং আর কী হতে পারে! হলে এমন এক্সপিরিয়েন্স আমাদের অডিয়েন্স আগে কখনো পায়নি’ ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও কানন ফিল্মসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমার প্রাণভোমরা এর গল্প। ছবির মূল আকর্ষণ চার শক্তিশালী নারী চরিত্র—শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, স্নিগ্ধা চৌধুরী ও মারিয়া শান্ত। তাদের সাথে রয়েছেন একঝাঁক কিংবদন্তি অভিনেতার উপস্থিতি। তারা হলেন, •ফজলুর রহমান বাবু , শহীদুজ্জামান সেলিম ,মিশা সওদাগর, আজিজুল হাকিমসহ আরও অনেকে। তাদের ভিন্ন ভিন্ন জীবনের গল্পকে নির্মাতা এক সুতোয় গেঁথেছেন এমন এক দক্ষতায়, যা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে। দীর্ঘ ব্যাপ্তির সিনেমা হওয়া সত্ত্বেও দর্শক এক মুহূর্তের জন্য চোখ সরাতে পারছেন না। অংকনের কণ্ঠে গাওয়া গানটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। সেই সাথে ছবির সিনেমাটোগ্রাফি এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এক আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। এদিকে সিনেমাহলগুলোতে নির্মাতা নিজেই দর্শকদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করছেন। অনেকে বলছেন, ‘তুফান’ ও ‘তাণ্ডব’-এর সাফল্যের পর রাফী নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। এই ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ বা মুখে মুখে ছড়ানো প্রশংসা ছবিটির বক্স অফিস সংগ্রহে যে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি আনবে, তা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ঢালিউড তারকা শাকিব খানের সঙ্গে অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণের আইটেম গান ‘জ্বালা জ্বালা’ নিয়ে উন্মাদনা ছড়িয়েছে। ‘প্রিন্স’ সিনেমার গানটি প্রকাশ্যে আসতেই এর প্রশংসা চলছে। নায়কের স্টাইলিশ গেট আপ এবং আবেদনময়ী লুকে নায়িকার দারুণ নাচে মজে গেছেন দর্শকেরা। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, গানটি গেয়েছেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। তার সঙ্গে এতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রীতম হাসান। ‘ইনসাফ’ ছবির ‘আকাশেতে লক্ষ তারা ২.০’ গানের পর ‘জ্বালা জ্বালা’য় জমকালো সাজে নাচের ঝড় তুললেন তাসনিয়া ফারিণ। শাকিবের সঙ্গে প্রথমবার তার রসায়ন নজর কেড়েছে ভক্তদের। নায়িকার ঝলমলে উপস্থিতি চমকে দিয়েছে অনেককে। গানটির সেট ডিজাইন, ভিজ্যুয়াল, কালার গ্রেডিংসহ সব কিছুতেই স্টাইলিশ আমেজ রয়েছে। শাকিবের ছবি মানেই প্রীতম হাসানের আইটেম গান যেন অবধারিত! গত দুই বছরে চারটি ঈদে এমনটাই ঘটেছে। এর আগে শাকিবের ‘তুফান’ সিনেমার ‘লাগে উরাধুরা’ ও ‘বরবাদ’-এর ‘চাঁদ মামা’ ও ‘তাণ্ডব’ ছবির ‘লিচুর বাগানে’ আইটেম গানগুলো তৈরি করে আলোচিত হন প্রীতম হাসান। এ তালিকায় যুক্ত হলো ‘জ্বালা জ্বালা’। তিনিই এর সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন। গানটি লিখেছেন রাসেল মাহমুদ রুশো। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শাকিব খানের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘প্রিন্স’ মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন মিলিয়ে ১৩২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ছবিটির ট্যাগলাইন ‘ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’। ছোট পর্দার নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র এটি। নব্বই দশকের পটভূমিতে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের গল্প রয়েছে এতে। ‘প্রিন্স’-এ শাকিবের আরেক নায়িকা পশ্চিমবঙ্গের জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। বাংলাদেশে এটাই তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র। তিনি ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের পিয়ান সরকার, লোকনাথ দে, মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্য এতে অভিনয় করেছেন। নেতিবাচক চরিত্রে পর্দায় এসেছেন বলিউড অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য। এছাড়া আছেন ইন্তেখাব দিনার, ডা. এজাজ, রাশেদ মামুন অপু, শরীফ সিরাজসহ অনেকে। বাংলাদেশ, ভারতের রাজস্থান ও শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে এর শুটিং হয়েছে। ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসের ব্যানারে শিরিন সুলতানা প্রযোজিত ছবিটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ‘এ’ (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রযোজ্য) সনদ পেয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ২৯ মিনিট। পরিচালকের সঙ্গে মিলে ‘প্রিন্স’-এর গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন মেজবাহ উদ্দীন সুমন ও মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন। আবহ সংগীত পরিচালনায় আরাফাত মহসীন নিধি।