বিনোদন

ফাঁস হলো আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার বিস্ফোরক তথ্য

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ০১, ২০২৬ 0
ফাঁস হলো আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার বিস্ফোরক তথ্য । ছবি : সংগৃহীত
ফাঁস হলো আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার বিস্ফোরক তথ্য । ছবি : সংগৃহীত

ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আকস্মিক আত্মহত্যার ঘটনায় বিনোদন জগতে শোক ও রহস্যের ছায়া নেমে এসেছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুসরাত জাহান ত্রিশার ফাঁস করা দীর্ঘ মেসেঞ্জার চ্যাট এবং সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট থেকে বেরিয়ে এসেছে এক অবহেলিত স্ত্রীর আর্তনাদ। যেখানে সরাসরি অভিযোগ উঠেছে আলভীর সঙ্গে এক সহ-অভিনেত্রীর (তিথি) পরকীয়া এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের চরম অবহেলার।

মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মানসিক দূরত্ব জনসমক্ষে আসে। গত শুক্রবার রাত ৩টা ১৩ মিনিটে আলভী তাঁর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, “ভুল করলে মাফ মিলে, কিন্তু মুক্তি মেলে না”। স্বামীর সেই পোস্টের নিচেই পাল্টা মন্তব্যে ইকরা লেখেন, “অভিনন্দন! ভুল স্বীকার করতে পারলা! আমিন। আমার আমিকে মুক্তি করে দিলাম, আবার কাঁদছো কেন?”। এর কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে ইকরা নিজের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে লেখেন, “কেউ একজন একজনের পুরো জীবন ধ্বংস করে দিয়ে নিজের একটি দিন নষ্ট হওয়ার জন্য কাঁদছে; কান্নার চেয়ে এই পরিহাসের আওয়াজ অনেক বেশি তীক্ষ্ণ”।

 

নুসরাত জাহান ত্রিশার শেয়ার করা ইকরার ব্যক্তিগত চ্যাটে দেখা যায়, আলভীর সঙ্গে অভিনেত্রী ‘তিথি’র সম্পর্ক নিয়ে ইকরা নিদারুণ যন্ত্রণায় ছিলেন। ইকরা লিখেছিলেন, “যাকে আমি পনেরো বছর ধরে আগলে রেখেছি, তার জীবনে আজ বাইরে থেকে আসা একটি মেয়ে (তিথি) এতটা আপন হয়ে উঠেছে?”। ইকরার অভিযোগ ছিল, আলভী ওই মেয়েটিকে এতটাই প্রশ্রয় দিতেন যে সে অনেক কিছু করার সাহস পেত। এমনকি আলভী যখন শুটিংয়ের জন্য পুবাইলে থাকতেন, তখন ছেলের সঙ্গে অডিও কলে কথা বলার পাশাপাশি ওই মেয়ের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ইকরা আরও জানান, আলভী তাকে আড়াল করে লুকিয়ে লুকিয়ে ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতেন।

 

ফাঁস হওয়া চ্যাটে ইকরার মাতৃত্বকালীন হাহাকারও ফুটে উঠেছে। তিনি লিখেছিলেন, সন্তানের প্রতি মায়া থাকলে তিথি আলভীর জীবনে এতটা অগ্রাধিকার পেত না। শুধুমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি আলভীর পাশে থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর নিজের কোনো সত্যিকারের চাওয়া পূরণ হচ্ছিল না। ইকরা আরও জানিয়েছিলেন, ফেসবুকে আলভীকে নিয়ে গর্ব করে পোস্ট দিলেও দিনশেষে মানুষ যখন তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে হাসাহাসি করত, তখন তাঁর খুব লজ্জা লাগত। এমনকি মেসেঞ্জারে ইকরার নাম ‘জালিমা’ লিখে রাখা হয়েছিল, যা ইকরার মতে ওই মেয়ের আপত্তির কারণেই করা হয়েছিল।

 

২০১০ সালে ভালোবেসে পালিয়ে ঘর বাঁধা এই দম্পতির সংসারে ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। চ্যাটে ইকরা লিখেছিলেন, “আমি ওর জীবনে বাধা—এটাও মনে হয়। সবাইকে বলে বিয়ে না করতে, সে সুখী না কারণ ভালোবাসার মানুষকে কোনোদিন পাবে না আমার জন্য”। নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা ইকরা আরও লিখেছিলেন যে, আলভী তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে না—এর কোনো নিশ্চয়তা তিনি পাচ্ছিলেন না। ইকরার বন্ধু ত্রিশার দাবি, ইকরা মোটেও আত্মহত্যার মতো মেয়ে ছিলেন না, বরং ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁকে তিলে তিলে ‘ট্রিগার’ করা হয়েছে এবং এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

ঘটনার সময় জাহের আলভী ‘দেখা হলো নেপালে’ শিরোনামের একটি নাটকের শুটিংয়ের জন্য নেপালে অবস্থান করছিলেন। ইকরার মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার পর শোবিজ অঙ্গনের তারকারা শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। বর্তমানে পুলিশ বাসার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিনোদন

আরও দেখুন
ফাঁস হলো আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার বিস্ফোরক তথ্য । ছবি : সংগৃহীত
ফাঁস হলো আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার বিস্ফোরক তথ্য

ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আকস্মিক আত্মহত্যার ঘটনায় বিনোদন জগতে শোক ও রহস্যের ছায়া নেমে এসেছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুসরাত জাহান ত্রিশার ফাঁস করা দীর্ঘ মেসেঞ্জার চ্যাট এবং সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট থেকে বেরিয়ে এসেছে এক অবহেলিত স্ত্রীর আর্তনাদ। যেখানে সরাসরি অভিযোগ উঠেছে আলভীর সঙ্গে এক সহ-অভিনেত্রীর (তিথি) পরকীয়া এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের চরম অবহেলার। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মানসিক দূরত্ব জনসমক্ষে আসে। গত শুক্রবার রাত ৩টা ১৩ মিনিটে আলভী তাঁর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, “ভুল করলে মাফ মিলে, কিন্তু মুক্তি মেলে না”। স্বামীর সেই পোস্টের নিচেই পাল্টা মন্তব্যে ইকরা লেখেন, “অভিনন্দন! ভুল স্বীকার করতে পারলা! আমিন। আমার আমিকে মুক্তি করে দিলাম, আবার কাঁদছো কেন?”। এর কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে ইকরা নিজের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে লেখেন, “কেউ একজন একজনের পুরো জীবন ধ্বংস করে দিয়ে নিজের একটি দিন নষ্ট হওয়ার জন্য কাঁদছে; কান্নার চেয়ে এই পরিহাসের আওয়াজ অনেক বেশি তীক্ষ্ণ”।   নুসরাত জাহান ত্রিশার শেয়ার করা ইকরার ব্যক্তিগত চ্যাটে দেখা যায়, আলভীর সঙ্গে অভিনেত্রী ‘তিথি’র সম্পর্ক নিয়ে ইকরা নিদারুণ যন্ত্রণায় ছিলেন। ইকরা লিখেছিলেন, “যাকে আমি পনেরো বছর ধরে আগলে রেখেছি, তার জীবনে আজ বাইরে থেকে আসা একটি মেয়ে (তিথি) এতটা আপন হয়ে উঠেছে?”। ইকরার অভিযোগ ছিল, আলভী ওই মেয়েটিকে এতটাই প্রশ্রয় দিতেন যে সে অনেক কিছু করার সাহস পেত। এমনকি আলভী যখন শুটিংয়ের জন্য পুবাইলে থাকতেন, তখন ছেলের সঙ্গে অডিও কলে কথা বলার পাশাপাশি ওই মেয়ের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ইকরা আরও জানান, আলভী তাকে আড়াল করে লুকিয়ে লুকিয়ে ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতেন।   ফাঁস হওয়া চ্যাটে ইকরার মাতৃত্বকালীন হাহাকারও ফুটে উঠেছে। তিনি লিখেছিলেন, সন্তানের প্রতি মায়া থাকলে তিথি আলভীর জীবনে এতটা অগ্রাধিকার পেত না। শুধুমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি আলভীর পাশে থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর নিজের কোনো সত্যিকারের চাওয়া পূরণ হচ্ছিল না। ইকরা আরও জানিয়েছিলেন, ফেসবুকে আলভীকে নিয়ে গর্ব করে পোস্ট দিলেও দিনশেষে মানুষ যখন তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে হাসাহাসি করত, তখন তাঁর খুব লজ্জা লাগত। এমনকি মেসেঞ্জারে ইকরার নাম ‘জালিমা’ লিখে রাখা হয়েছিল, যা ইকরার মতে ওই মেয়ের আপত্তির কারণেই করা হয়েছিল।   ২০১০ সালে ভালোবেসে পালিয়ে ঘর বাঁধা এই দম্পতির সংসারে ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। চ্যাটে ইকরা লিখেছিলেন, “আমি ওর জীবনে বাধা—এটাও মনে হয়। সবাইকে বলে বিয়ে না করতে, সে সুখী না কারণ ভালোবাসার মানুষকে কোনোদিন পাবে না আমার জন্য”। নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা ইকরা আরও লিখেছিলেন যে, আলভী তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে না—এর কোনো নিশ্চয়তা তিনি পাচ্ছিলেন না। ইকরার বন্ধু ত্রিশার দাবি, ইকরা মোটেও আত্মহত্যার মতো মেয়ে ছিলেন না, বরং ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁকে তিলে তিলে ‘ট্রিগার’ করা হয়েছে এবং এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার সময় জাহের আলভী ‘দেখা হলো নেপালে’ শিরোনামের একটি নাটকের শুটিংয়ের জন্য নেপালে অবস্থান করছিলেন। ইকরার মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার পর শোবিজ অঙ্গনের তারকারা শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। বর্তমানে পুলিশ বাসার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ০১, ২০২৬ 0
আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যা নিয়ে যা বললেন পুলিশ । ছবি : সংগৃহীত

আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যা নিয়ে যা বলছে পুলিশ

আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যা, শুটিং ফেলে ঢাকা ফিরছেন অভিনেতা। ছবি : সংগৃহীত

আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যা, শুটিং ফেলে ঢাকা ফিরছেন অভিনেতা

অভিনেতা জাহের আলভীর সঙ্গে স্ত্রী ইকরা। ছবি : সংগৃহীত

অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

২ বছরের পরিশ্রম শেষে বলিউডে আরিফিন শুভ। ছবি : সংগৃহীত
২ বছরের পরিশ্রম শেষে বলিউডে আরিফিন শুভ

দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বলিউডে অভিষেক হতে যাচ্ছে ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক আরিফিন শুভর। আগামী ১৯ মার্চ মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত রাজনৈতিক থ্রিলার সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’। তবে এই যাত্রার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ দুই বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং এক রোমাঞ্চকর অডিশন প্রক্রিয়া।   অনেকে ধারণা করেছিলেন কলকাতার মাধ্যমে শুভর বলিউড যাত্রা হচ্ছে, কিন্তু বিষয়টি ছিল ভিন্ন। সম্প্রতি কলকাতার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সিরিজের প্রচারণা অনুষ্ঠানে শুভ জানান, তিন বছর আগে যখন তিনি নেপালে ছিলেন, তখন প্রখ্যাত কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়ার একটি মেসেজ থেকে এই যাত্রার শুরু হয়। মুকেশ ছাবড়াই তাকে অডিশনের প্রস্তাব দেন। হলিউড বা বলিউডের বড় প্রজেক্টে সুযোগ পাওয়া যে কতটা কঠিন, শুভর অভিজ্ঞতা তারই প্রমাণ। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তাকে বিভিন্নভাবে অডিশন দিতে হয়েছে। শুভ বলেন, “দুই বছর ধরে চিত্রনাট্য পাঠানো হতো। মুম্বাইয়ে ডেকেছিল, গিয়েছিলাম। ওই সময়ে একই চরিত্রের জন্য তারা আরও অনেকের অডিশন নিয়েছেন। একটা দৃশ্য অন্যকে দিয়ে করানোর পর সেই দৃশ্যই হয়তো আমাকেও পাঠানো হয়েছে।” অডিও এবং ভিডিও পাঠিয়ে বারবার নিজেকে প্রমাণ করার পর অবশেষে ‘জিমি রয়’ চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত হন তিনি। সনি লিভ-এ মুক্তি পেতে যাওয়া এই সিরিজে আরিফিন শুভকে দেখা যাবে ‘জিমি রয়’ নামক কেন্দ্রীয় চরিত্রে। সিরিজে তিনি বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি—এই চার ভাষায় অভিনয় করেছেন। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন ‘গুলাব গ্যাং’ ও ‘জুবিলি’ খ্যাত পরিচালক সৌমিক সেন। এই প্রজেক্টটি দাঁড় করাতে পরিচালকের সময় লেগেছে প্রায় সাত বছর। পরিচালক জানান, সিরিজের প্রতিটি এপিসোডে থাকবে অন্তত একটি গান ও একটি খুনের রহস্য। সিরিজে শুভর বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার সৌরসেনী মিত্র। এছাড়াও রয়েছেন শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, শতফ ফিগার, অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর এবং অমিত সাহার মতো পরিচিত মুখেরা। বিশেষ দিক হলো, সনি লিভের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো সিরিজ হিন্দি ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায়ও মুক্তি পাচ্ছে। আসন্ন ঈদে আরিফিন শুভর এই বলিউড অভিষেক দেশি দর্শকদের জন্য একটি বড় চমক হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
থালাপতি বিজয় ও তার স্ত্রী সঙ্গীতা সোরনালিঙ্গম | ছবি : সংগৃহীত

থালাপতির ২৫ বছরের দাম্পত্যে ফাটল, তামিল চলচ্চিত্রাঙ্গনে তোলপাড়

নীলাঞ্জনা নীলা ও নিলয় আলমগীর । ছবি - সংগৃহীত

দেশে এসেই নীলাঞ্জনার সঙ্গে ব্যস্ত নিলয়

খেজুর

খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা কেন উপকারী

রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা।
স্বামী-স্ত্রী হিসেবে প্রথম প্রকাশ্যে বিজয়-রাশমিকা

উদয়পুরে রাজকীয় বিয়ের পর স্বামী–স্ত্রী হিসেবে প্রথমবার প্রকাশ্যে এলেন দক্ষিণী তারকা জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। বুধবার হায়দরাবাদের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে উদয়পুর বিমানবন্দর–এ ক্যামেরাবন্দী হন নবদম্পতি। এই মুহূর্ত ঘিরে ভক্ত ও পাপারাজ্জিদের মধ্যে দেখা যায় বাড়তি উচ্ছ্বাস। বিমানবন্দরে হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে ক্যামেরার সামনে আসেন বিজয়–রাশমিকা। এরপর পাপারাজ্জিদের উদ্দেশে হাতজোড় করে শুভেচ্ছা জানান এবং উড়ন্ত চুমু ছুড়ে দেন তাঁরা।  রাশমিকার মুখে ছিল স্পষ্ট নববধূর আভা, আর বিজয়ের মুখজুড়ে শান্ত হাসি। সব মিলিয়ে যেন পর্দার ‘শ্রীভল্লী’ ও বাস্তব জীবনের ‘সামি’র নতুন জীবনের সূচনা। স্বামী–স্ত্রী হিসেবে প্রথম প্রকাশ্যে আসার দিনে দুজনেই বেছে নেন পরিমিত ও মার্জিত পোশাক। বিজয় পরেছিলেন স্যাটিন সাদা কুর্তা–পাজামা, সঙ্গে সাদা জুতা ও কালো সানগ্লাস। অন্যদিকে লাল রঙের সোনালি কারুকাজ করা হাই–কলার অনারকলি স্যুটে নজর কাড়েন রাশমিকা। স্বামীর পাশে হাঁটতে হাঁটতে আবারও ভক্তদের মন জয় করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অসংখ্য ভক্ত। একজন লিখেছেন, ‘দুজনকে একসঙ্গে দারুণ লাগছে, কারও নজর না লাগুক।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘এই জুটি সত্যিই অসাধারণ।’ অনেকের কাছেই মনে হচ্ছে, বিজয়–রাশমিকার সুখ যেন পুরো ইন্টারনেটজুড়ে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে বিয়ের ছবি শেয়ার করে আবেগঘন বার্তা দেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা। তিনি লেখেন, ‘একদিন ওকে খুব মনে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল, ও পাশে থাকলে দিনটা আরও সুন্দর হতো। বুঝলাম, ও-ই আমার ঘর, আমার শান্তি। তাই আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকেই বানালাম আমার স্ত্রী।’ পোস্টের শেষে তিনি যোগ করেন—২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যা তাদের নতুন জীবনের শুরুর দিন। উদয়পুরে বিয়ের পর এবার হায়দরাবাদ–এ অনুষ্ঠিত হবে জমকালো রিসেপশন। তার আগেই স্বামী–স্ত্রী হিসেবে বিজয় ও রাশমিকার এই প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি ভক্তদের মনে তৈরি করল নতুন উচ্ছ্বাস ও আবেগ। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে উপকারী যেসব খাবার

স্ক্রিম ৭ সিনেমার পোস্টার । ছবি - সংগৃহীত

দেশের প্রেক্ষাগৃহে আজ মুক্তি পেয়েছে ‘স্ক্রিম ৭’

ছবি- সংগৃহীত

আইয়ুব বাচ্চুর একুশে পদক গ্রহণ করে স্ত্রীর আবেগী বার্তা

0 Comments