খেলাধুলা

ফাইনালের রাজা হ্যান্সি ফ্লিক

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
হ্যান্সি ফ্লিক। ছবি : সংগৃহীত
হ্যান্সি ফ্লিক। ছবি : সংগৃহীত

ফাইনাল মানেই জয়—এই সমীকরণটা যেন হ্যান্সি ফ্লিকের জন্য লিখেই রাখা। ক্লাব ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত যে সাতটি ফাইনালে কোচ হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, প্রতিটিতেই জয়ের হাসি হেসেছেন এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড। হ্যান্সি ফ্লিক এবার দাঁড়িয়ে আছেন নিজের অষ্টম ফাইনালের দোরগোড়ায়—আর পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে তার পক্ষেই কথা বলছে।

 

২০১৯ সালের নভেম্বরে বায়ার্ন মিউনিখের কোচ হিসেবে পেশাদার ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু করেন ফ্লিক। ফাইনালের সঙ্গে তার ‘প্রেমকাহিনি’ শুরু হয় ২০২০ সালের ৪ জুলাই, কোভিড–বিধ্বস্ত ফুটবল ক্যালেন্ডারের মাঝেই। সেবার জার্মান কাপের ফাইনালে বায়ার্ন ৪–২ গোলে জিতে তুলে নেয় শিরোপা। মাত্র এক মাস পরই আসে ইউরোপের সবচেয়ে বড় মুকুট—চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।

 

২০২০ সালের সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ম্যাচে লিসবনে কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সাকে ৮–২ গোলে বিধ্বস্ত করে বায়ার্ন। পরে ফাইনালে পিএসজিকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে ট্রফি জেতেন ফ্লিক। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সেভিয়াকে হারিয়ে জেতেন ইউয়েফা সুপার কাপ, এক সপ্তাহ পর বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে জার্মান সুপার কাপ—২০২০ শেষ হওয়ার আগেই চারটি ফাইনাল, চারটি শিরোপা।

 

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে বায়ার্ন অধ্যায় শেষ করেন ফ্লিক। এরপর সময় বদলেছে, দল বদলেছে—কিন্তু ফাইনালের ফল বদলায়নি।

 

২০২৪ সালের গ্রীষ্মে বার্সার দায়িত্ব নেওয়ার পরও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তিনি। বার্সেলোনার কোচ হিসেবে তাঁর প্রথম ফাইনালই ছিল স্প্যানিশ সুপার কাপ—প্রতিপক্ষ আবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ম্যাচে ৫–২ গোলের দুর্দান্ত জয়ে ট্রফি ঘরে তোলে কাতালানরা।

 

এরপর ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল কোপা দেল রে ফাইনাল—আবারও প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ, আবারও নাটকীয় জয়। অতিরিক্ত সময়ে ৩–২ ব্যবধানে জিতে ফ্লিক নিজের সপ্তম ফাইনালেও অপরাজিত থাকেন।

 

এবার অবশ্য একটি নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। প্রথমবারের মতো একই প্রতিযোগিতার ফাইনালে দ্বিতীয়বার কোচিং করাতে যাচ্ছেন ফ্লিক। রোববার সৌদি আরবে সুপার কাপের ফাইনালে আবার মুখোমুখি রিয়াল–বার্সা। প্রশ্ন একটাই—ফাইনালের রাজা কি নিজের অষ্টম মুকুটও মাথায় তুলবেন?

 

পরিসংখ্যান, ইতিহাস আর মানসিক দৃঢ়তা—সবই বলছে, ফ্লিকের বিপক্ষে ফাইনালে দাঁড়ানো মানে পাহাড় ডিঙানোর চেষ্টা করা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
আর্কটিক ঠান্ডায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ধরাশায়ী ম্যানসিটি

নরওয়ের বরফ–ঢাকা রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটির অভিযান চরম বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। নরওয়ের ক্লাব বডো/গ্লিমটের কাছে ৩–১ গোলে হেরে শুধু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচই হারায়নি পেপ গার্দিওলার দল, একই সঙ্গে লাল কার্ডের কারণে শেষ গ্রুপ ম্যাচে রদ্রিকেও হারাতে হচ্ছে। ফলে গালাতাসারায়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি এখন সিটির জন্য কার্যত বাঁচা–মরার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।   ম্যাচের শুরু থেকেই সিটির রক্ষণভাগ ছিল নড়বড়ে ও অগোছালো। তৃতীয় মিনিটেই দ্রুত কাউন্টার–অ্যাটাকে গোল হজমের শঙ্কায় পড়ে তারা। বলের দখলে আধিপত্য থাকলেও হাই ডিফেন্সিভ লাইন ও রক্ষণভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে বারবার বিপদে পড়ে সিটি। ২২ মিনিটে সেই দুর্বলতার মূল্য দেয় তারা। রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে ডান দিক থেকে ক্রস দেন ওলে দিদরিক ব্লমবার্গ। সেই বল হেড করে জালে পাঠান কাসপার হগ। মাত্র দুই মিনিট পর আবারও আঘাত হানে বডো/গ্লিমট। ব্লমবার্গের পাস থেকে হগ দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে ২–০ করেন। বিরতির আগে আর্লিং হলান্ড দুটি নিশ্চিত সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। নিজ দেশে ফিরে যেন অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা যায় সিটির তারকা ফরোয়ার্ডকে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে জেনস পেটার হাউগে একক নৈপুণ্যে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ কার্লিং শটে গোল করে স্কোরলাইন ৩–০ করেন। দুই মিনিট পর রায়ান চেরকি একটি গোল শোধ দিলে সিটির ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগে। তবে সেই আশা স্থায়ী হয়নি। ৬২ মিনিটে মাত্র ৫৪ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন রদ্রি। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর সিটির আর ম্যাচে ফেরার কোনো পথ খোলা ছিল না।   এই হারের ফলে শেষ গ্রুপ ম্যাচে গালাতাসারায়ের বিপক্ষে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প নেই ম্যানচেস্টার সিটির সামনে। হার বা ড্র হলে শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে তাদের খেলতে হবে প্লে-অফ। অন্যদিকে বডো/গ্লিমট এই জয়ে ইউরোপীয় মঞ্চে নিজেদের রূপকথাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহীকে হারিয়ে বিপিএলের ফাইনালে চট্টগ্রাম

ছবি: সংগৃহীত

আইসিসি এখনও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেনি

রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।

জাবির বরখাস্ত হওয়া নিয়ে যা বললেন এমবাপ্পে

একই গ্রুপে ভারত-পাকিস্তান, বাংলাদেশের সঙ্গে কারা?

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১৩ তারিখ থেকে মাঠে গড়াবে নারীদের এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্ট। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে এই টুর্নামেন্ট চলবে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আজ সোমবার এই টুর্নামেন্টের সূচি ঘোষণা করেছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। আট দলের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ আছে ‘বি’ গ্রুপে। যেখানে তাদের গ্রুপের অন্য প্রতিপক্ষ হলো শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ড। প্রায় প্রতিবারের মতো এবারও একই গ্রুপে পড়েছে ভারত এবং পাকিস্তান। ‘এ’ গ্রুপে এই দুই দলের সঙ্গী যথাক্রমে নেপাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। গ্রুপপর্বে প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। অর্থাৎ প্রতি দলের ম্যাচ হবে ৩টি করে। বাংলাদেশ খেলতে নামবে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসর দিয়ে মিশন শুরু হবে তাদের। দ্বিতীয় ম্যাচে ১৬ই ফেব্রুয়ারিতে খেলতে নামবে স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে। এছাড়া মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি ১৮ ফেব্রুয়ারি। এই প্রতিযোগিতায় বেশির ভাগই ‘এ’ দল পাঠায়। যেমনটা হয়েছিল ছেলেদের রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্টে। নারীদের ক্ষেত্রেও বিসিবি ‘এ’ দল পাঠাবে। গ্রুপপর্ব শেষে দুই গ্রুপের ২টি করে মোট ৪টি দল সেমিফাইনালে উঠবে। ২০ ফেব্রুয়ারি দুটি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপরা। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপরা। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২২ ফেব্রুয়ারি।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

নেপালকে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি স্থগিত করল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

বিসিবির সিদ্ধান্তে এগিয়ে এলো বিপিএল ফাইনালের সময়সূচি

ছবি: সংগৃহীত
‘নাটকীয়’ ফাইনালে মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন সেই সেনেগাল

নাটকীয় বললে আপনার চোখে ভেসে উঠতে পারে মাঠের ‘খেলায়’ উত্থান পতনের গল্প। তবে আফ্রিকান নেশন্স কাপে আক্ষরিক অর্থেই একগাদা নাটক হয়ে গেছে। নাটকীয় ও বিশৃঙ্খল ঘটনার পর আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জিতেছে সেনেগাল। রবিবার ফাইনালে তারা স্বাগতিক মরক্কোকে ১-০ গোলে হারায়। ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় অতিরিক্ত সময়ে। এই ট্রফি সাদিও মানের দলের জেতারই কথা ছিল না। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়। পেনাল্টির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরে মানের অনুরোধে তারা আবার মাঠে ফেরেন। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে মরক্কো পেনাল্টি পায়। ভিএআর দেখে কঙ্গোর রেফারি জ্যঁ-জ্যাক এনডালা এই সিদ্ধান্ত দেন। কর্নার ঠেকাতে গিয়ে সেনেগালের ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফ ব্রাহিম দিয়াজকে টান দেন বলে রায় আসে। এই সময় মাঠে দীর্ঘ ১৪ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পেনাল্টি নিতে এসে মরক্কোর তারকা ব্রাহিম দিয়াজ প্যানেনকা শট নেন। তার দুর্বল শট সহজেই ধরে ফেলেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি। এই সুযোগ নষ্টে হতাশ হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নেন সাদিও মানে। তিনি বল দেন ইদ্রিসা গানা গেইকে। সেখান থেকে পাপে গেইকে পাস দেন তিনি। ভিয়ারিয়াল মিডফিল্ডার পাপে গেই মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিকে পেছনে ফেলে দারুণ শটে গোল করেন। বল জালে জড়িয়ে যায় গোলরক্ষক ইয়াশিন বুনোর হাত ছুঁয়ে। গোলের পর স্তব্ধ হয়ে যায় প্রিন্স মৌলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়াম। ৬৬ হাজারের বেশি দর্শক হতাশায় ডুবে যান। ব্রাহিম দিয়াজকে পরে বদলি করে নামানো হয়। মরক্কো সমতায় ফেরার চেষ্টা করেছিল। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় ভাগে নাইয়েফ আগুয়ের্দের হেড ক্রসবারে লাগে। তবে শেষ পর্যন্ত আর গোল আসেনি। এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয় যোগ করা মিনিটে সেনেগালের একটি গোল বাতিল হয়। কর্নার থেকে আবদুলায়ে সেকের হেড পোস্টে লাগে। ফিরতি বলে ইসমাইলা সার গোল করেন। রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন। এই সিদ্ধান্তেও ক্ষুব্ধ ছিল সেনেগাল দল। শেষ দিকে সেনেগাল ২-০ করতে পারত। শেরিফ এনদিয়ায়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। তবুও তারা জয় ধরে রাখে। এটি সেনেগালের দ্বিতীয় আফ্রিকা কাপ শিরোপা। গত তিন আসরের মধ্যে দুইবার তারা চ্যাম্পিয়ন হলো। ২০২২ সালে তারা মিসরকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতেছিল। এই জয়ের মাধ্যমে সেনেগাল যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন বিশ্বকাপের দিকে তাকাতে পারে। তারা আশা করবে সাদিও মানে আবারও আফ্রিকা কাপে খেলবেন। মানে আগেই জানিয়েছিলেন, এই ফাইনালই হতে পারে তার শেষ আফ্রিকা কাপ ম্যাচ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

১১ ম্যাচ জেতা বার্সাকে মাটিতে নামিয়ে আনল সোসিয়েদাদ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে? যা জানা গেল

উইকেট নেওয়ার পর সাইফউদ্দিনের উচ্ছ্বাস। ছবি : মীর ফরিদ, মিরপুর থেকে

সান্ত্বনার জয়ে বিপিএল শেষ ঢাকার

0 Comments