বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই ভিন্ন ধারার দল ব্রাজিল ও জাপান। ইতিহাস বলছে, মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাতের স্মৃতি সুখকর নয় সেলেসাওদের জন্য। কারণ, শেষ দেখায় অবিশ্বাস্য কামব্যাকে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়েছিল সামুরাই ব্লু। সেই হতাশার স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে কোচ কার্লো আনচেলোত্তির দলকে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৯ জুন) রাত ১১টায় হিউস্টনে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে ওঠা ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ জাপান। শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ের মুখোমুখি হবে।
ব্রাজিল ও জাপানের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। রিও ডি জেনেরিওতে অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচে বিসমার্কের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ব্রাজিল। এরপর গত প্রায় চার দশকে দুই দল মোট ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ১১টিতে জয় পেয়েছে ব্রাজিল, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং মাত্র একবার জয় পেয়েছে জাপান।
জাপানের সেই একমাত্র জয়টিই এসেছে দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাতে। গত বছরের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বিরতিতে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর দল। দ্বিতীয়ার্ধে তাকুমি মিনামিনো, কেইতো নাকামুরা ও আয়াসে উয়েদার গোল ব্রাজিলকে হতবাক করে দেয়। ব্রাজিলের হয়ে সেদিন গোল করেছিলেন পাওলো হেনরিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।
এই জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের বিপক্ষে টানা ছয় ম্যাচের পরাজয়ের ধারাও ভাঙে জাপান। এর আগে ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপে দুই দল শেষবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলের সহজ জয় পেয়েছিল স্বাগতিক ব্রাজিল, পরে তারাই টুর্নামেন্টের শিরোপাও জেতে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অবশ্য মাত্র একবারই দেখা হয়েছে দুই দেশের। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কেইজি তামাদার গোলে পিছিয়ে পড়েও রোনালদোর জোড়া গোল, জুনিনহো ও গিলবার্তোর গোলের সুবাদে ৪-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ব্রাজিল।
ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের সাফল্য তেমন নেই। তবে দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসে সম্পর্ক বেশ গভীর। ১৯৯৩ সালে জে-লিগ চালুর পর জিকো, দুঙ্গা, বিসমার্ক, সিজার সাম্পাইওসহ অনেক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি খেলোয়াড় ও কোচ জাপানের ফুটবলের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গত কয়েক বছরে জার্মানি, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে সামুরাই ব্লু।
ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও জাপানের বিপক্ষে উজ্জ্বল ব্রাজিলের তারকারা। এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সর্বোচ্চ নয়টি গোল করেছেন নেইমার। ২০১৪ সালের এক প্রীতি ম্যাচেই তিনি করেছিলেন চার গোল, যা জাপানের বিপক্ষে কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়।
মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস, বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা এবং সামগ্রিক পরিসংখ্যান ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। তবে শেষ দেখায় জাপানের নাটকীয় জয় প্রমাণ করে দিয়েছে, সামুরাই ব্লুকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই হিউস্টনের লড়াইয়ে অতীতের রেকর্ড নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত কারা জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্বে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ব্রাজিল বনাম জাপান মহারণের আগে নেইমার এবং ব্রাজিল দল নিয়ে মন্তব্য করে আলোচনায় এখন জাপানি তরুণ স্ট্রাইকার কেন্তো শিওগাই। অতীতে জাপানের বিপক্ষে নেইমারের করা গোলগুলোর রেকর্ড নিয়ে যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি বলেন, ‘নেইমার আর আগের সেই অবস্থানে নেই। আমার মনে হয় এখন আমরা বেশ ভালো অবস্থানে আছি।’ দলের অনুশীলন সেশন শেষে জাপানি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই মন্তব্য করেন কেন্তো। কেন্তো শিওগাই ইউরোপীয় ফুটবলে পাড়ি জমানোর আগে দেশটির কেইও ইউনিভার্সিটি এবং ইয়োকোহামা এফ মারিনোস ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে আছেন জার্মানির ক্লাব ভলসবুর্গে। মাঠের গতি, তীব্রতা এবং ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তন করার ক্ষমতার কারণে তিনি দ্রুত ফুটবল বিশ্বে পরিচিতি অর্জন করেছেন। বিশেষ করে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে ইমপ্যাক্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে দারুণ পারদর্শী হওয়ায় জাপান জাতীয় দলের আক্রমণভাগের অন্যতম বিকল্প হয়ে উঠেছেন কেন্তো। সাংবাদিকরা যখন তাকে জিজ্ঞেস করেন যে ব্রাজিল জাতীয় দলের কথা শুনলেই প্রথমে তার মাথায় কার ছবি ভেসে ওঠে, শিওগাই তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দেন- ‘নেইমার।’ তবে এর পরপরই ব্রাজিলের বর্তমান ফর্ম নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘অতীতে ব্রাজিল অনেক শক্তিশালী ছিল, কিন্তু এখন? আমার চোখে এখন ফ্রান্স খুব শক্তিশালী। আর্জেন্টিনাও তাই। সত্যি বলতে, ইদানীং ব্রাজিলকে নিয়ে তেমন একটা আলোচনা শুনি না।’ তার এই বক্তব্যটি ব্রাজিলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বেশ ভাইরাল হয়েছে। তবে কিছু কিছু পোস্টে মূল বক্তব্যটিকে কিছুটা বাড়িয়েও উপস্থাপন করা হচ্ছে দাবি জাপানি সংবাদমাধ্যমগুলোর। আসলে শিওগাই সরাসরি বলেননি যে ব্রাজিল এখন দুর্বল দল। তিনি বরং ব্রাজিল দলের মান ও শক্তির কথা স্বীকার করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে এই স্তরের একটি দলকে হারাতে পারলে তা জাপানের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল এখনও শক্তিশালী দল। আমরা যদি জিততে পারি, তবে আমাদের দলের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে।’ জাপানি এই তরুণ তাদের রক্ষণভাগের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে রুখে দেওয়ার মতো ফুটবলার জাপানের রয়েছে। অতীতে ব্রাজিলের হয়ে জাপানের বিরুদ্ধে নেইমারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং প্রচুর গোল করার রেকর্ডের প্রেক্ষিতেই মূলত তাকে প্রশ্নটি করা হয়েছিল। যার জবাবে শিওগাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘ওটা তো আগের নেইমার ছিল, তাই না? আমার মনে হয় এখন আমরা তাকে সামলে নেওয়ার জন্য তৈরি।’ জাপানের বিপক্ষে নেইমারের ফর্ম অবিশ্বাস্য। ৫ ম্যাচ খেলে করেছেন ৯ গোল। আরও একবার সাবেক বার্সেলোনা তারকার সামনে ‘প্রিয়’ প্রতিপক্ষ জাপান। হাঁটুর ইনজুরির কারণে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম দুটি ম্যাচ খেলতে পারেননি ব্রাজিলের সময়ের সবচেয়ে বড় এই তারকা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অবশ্য বদলি হিসেবে তাকে মাঠে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আাগামীকাল হয়ত শুরুর একাদশেই দেখা যাবে নেইমারকে।
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি উদ্ধারকাজ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের জন্য ২লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছেন ব্রাজিলের ফুটবল তারকা নেইমার। ভেনেজুয়েলার সংবাদমাধ্যম 'এল সুমারিও ডট কম'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থ জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানের জন্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য, সুপেয় পানি, চিকিৎসা সামগ্রী ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা প্রদানে ব্যবহার করা হবে। 'এল সুমারিও ডট কম'-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী নেইমার বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অনুদান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য শক্তি ও স্বস্তি বয়ে আনবে। সিএনএন-এর তথ্যমতে, ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বুধবার দেশটিতে আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ১,৪৩০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ৩,২৩৮ জন আহত হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি হারিয়ে ৩,১৪২টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন, যদিও উদ্ধারকাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় ফুরিয়ে আসছে এবং ভারী যন্ত্রপাতির অভাব ও ক্রমাগত আফটারশক (মূল ভূমিকম্প-পরবর্তী কম্পন) উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এদিকে, ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, তাদের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার সুস্থতার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা জাপানের বিপক্ষে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের 'রাউন্ড অফ ৩২'-এর ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। রবিবার (২৮ জুন) স্থানীয় সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আনচেলত্তি বলেন, গত এক সপ্তাহে নেইমারের শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেস উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী নেইমার, যিনি ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলতে পারেননি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ ব্যবধানের সহজ জয়ে ম্যাচের শেষ পর্যায়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অবিশ্বাস্য সাফল্য পেয়েছে আয়ারল্যান্ড। দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে ১ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো ভারতকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে আইরিশরা। বেলফাস্টে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করে আয়ারল্যান্ড ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানেই থেমে যায় ভারত। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। প্রথম দুই বলে ওয়াইড ও নো-বলের সুবাদে ৯ রান এলেও পরের তিন বলে মাত্র ৩ রান দেন হ্যারি টেক্টর। শেষ বলে ৮ রানের সমীকরণে হারশিত রানা ছক্কা হাঁকালেও জয় আর ধরা দেয়নি ভারতের। আয়ারল্যান্ডের হয়ে হ্যারি টেক্টর ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। বেন কালিচ ২৩ বলে ৩৭ রান যোগ করেন। এছাড়া জর্জ ডকরেল ১৯, রস অ্যাডায়ার ১৬ এবং লরকান টাকার ১৫ রান করেন। ১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। দুই ওপেনার রানের খাতা না খুলেই ফিরে যান। এরপর ইশান কিশান ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারও দ্রুত বিদায় নিলে চাপে পড়ে সফরকারীরা। মাঝের দিকে তিলক ভার্মা লড়াই চালিয়ে ৫৫ রান করেন। শেষ দিকে হারশিত রানা ১০ বলে ২১ এবং শিবম দুবে ২০ রান করলেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেননি। বল হাতে আয়ারল্যান্ডের জাই মন্ড্রা ও ম্যাট হোলার্ড তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া হ্যারি টেক্টর ও ম্যাথিউ হ্যাম্প্রেস একটি করে উইকেট নিয়ে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে ভারতকে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই করার কীর্তি গড়ল আয়ারল্যান্ড।