সারাদেশ

পাটের কৃত্রিম সংকটে জুটমিলের চরম দুরাবস্থা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

আর্থিক সংকট, অপরিশোধিত বকেয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে খুলনা অঞ্চলের পাটকলে কাঁচা পাটের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রায় অচল পর্যায়ে রয়েছে পাটকলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম। কৃত্রিম সংকটে কাঁচা পাটের দামও গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

 

মিল মালিকদের মতে, গত বছরের জুলাই-আগস্টে মণপ্রতি কাঁচা পাটের দাম ছিল ২,২০০–২,৪০০ টাকা। সেপ্টেম্বরে দাম বেড়ে ৪,০০০–৪,৫০০ টাকা হয়। চলতি বছরের শুরুতেই দাম ৫,০০০ টাকার উপর পৌঁছেছে। অভিযোগ রয়েছে, মজুতদারদের বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। খুলনার চুকনগর, তেরখাদা, তালা, সাতক্ষীরার কলারোয়া, পারুলিয়া ও আশপাশের বাজারে পাটের সরবরাহ অনেক কমে গেছে।

 

এছাড়া আর্থিক সংকটের কারণে পাটকল মালিকরা চাহিদা অনুযায়ী কাঁচা পাট কিনতে পারছেন না। মিলগুলোতে পাট সরবরাহকারীদের বিপুল বকেয়া থাকায় সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে। গুদামে কাঁচা পাট না থাকায় খুলনার বেসরকারি এফ আর জুট, সাগর জুট মিল, জুট টেক্সটাইল, জয় জুট, হাবিব অ্যাগ্রো জুট, আইয়ান জুট, ওহাব জুট, ফারুক জুটসহ ২৪টির মতো পাটকল বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

কাঁচা পাট বিক্রেতা ইলিয়াস উদ্দিন ফকির জানান, এই বছর অতিবৃষ্টির কারণে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জে পাট উৎপাদন কম হয়েছে। মজুতদাররা মজুত রেখে সংকট তৈরি করে কাঁচা পাটের দাম বৃদ্ধি করেছেন।

 

পাট রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজেএএর সাবেক চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ আকন্দ বলেন, দাম দ্বিগুণ হওয়ায় পাটকল মালিকদের বাজার থেকে কাঁচা পাট কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক বলেন, মজুতদাররা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কারসাজির কারণে মূল্য আরও বাড়তে পারে এবং এতে মিল মালিকরা বিপাকে পড়েছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দীপা দাস। ছবি : সংগৃহীত
স্বামীকে আটকে রেখে আত্মহত্যা করলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে স্বামীকে অন্য রুমে আটকে রেখে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।   সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের ঘোনাপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটেছে। পরে স্বামী ও স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে গেছেন। আত্মহত্যা করা ওই শিক্ষার্থীর নাম দীপা দাস। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জের ধরে দীপার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে দীপা তার স্বামীকে একটি রুমে আটকে রেখে পাশের রুমে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরবর্তীতে তার স্বামী বাড়ির দারোয়ান ও আশপাশের লোকজন ডেকে ঘরের দরজা ভেঙে পাশের রুমে স্ত্রীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা বলেন, দীপার আত্মহত্যার বিষয়টি আমরা গতকাল বিকেলে জানতে পারি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আমরা বাংলা বিভাগের শিক্ষকেরা সদর হাসপাতালে গিয়ে দিপার মরদেহ মর্গে পড়ে থাকতে দেখি। আজ বিকেলে আমরা গিয়েছিলাম। জানতে পেরেছি ময়নাতদন্ত শেষে পরিবার তার মরদেহ নিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে গতকাল বিকেলে সে বাসার এক রুমে স্বামী ও তার সন্তানকে আটকে রেখে অন্যরুমে গিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানতে পেরেছি। দীপার সহপাঠী রিফাত ইসলাম বলেন, ‘দীপা দাস ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। আমিও জানতে পেরেছি যে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদের কারণেই সে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় আমরা এবং বাংলা বিভাগ পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তিনি আত্মহত্যা করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ঈদযাত্রায় গাবতলীতে যাত্রী সংকট, ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : আইজিপি

বাকেরগঞ্জে গোনা সেতু উদ্বোধন করলেন শেখ রবিউল আলম।

ঈদে ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি যেতে পারবে মানুষ: সড়কমন্ত্রী

ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড়।ছবি : সংগৃহীত
ঈদের আগে পুড়ল ৭ পরিবারের স্বপ্ন

মাদারীপুরের শিবচরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। ঈদের আগমুহূর্তে আয়ের একমাত্র উৎস হারিয়ে দুশ্চিন্তা ও হতাশায় পড়েছেন তারা। সোমবার (১৬ মার্চ) রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে উপজেলার বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নের সোতারপাড় বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে এবং একের পর এক দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েল বা বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তাপ এতটাই তীব্র ছিল যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা নেভানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে সামনে রেখে দোকানে নতুন করে মালামাল তোলা হয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। উপজেল নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ঘটনাটি আমরা শুনেছি। ঈদের পূর্ব মুহূর্তে এরকম ঘটনা খুবই দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্তরা যদি আমাদের কাছে আসে আমরা যতটুক পারি তাদের আর্থিক সহায়তা করার চেষ্টা করব।

মারিয়া রহমান মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি

লালমনিরহাটে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল একই পরিবারের তিনজনের

ছবি : সংগৃহীত

বসিলা ঘাটে লঞ্চ চলাচল শুরু

ছবি: সংগৃহীত

ঈদেও চালু থাকবে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম

ছবি : সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫ জনের

কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) জেলার সদর ও কটিয়াদী উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে যায়। এ সময় রাস্তার পাশে গরুকে ঘাস খাওয়ানোর সময় কৃষক ইমন মিয়া ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন।   নিহত ইমন মিয়া (২৬) কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের চাড়িপাড়া এলাকার খালেক মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।   দুপুর ২টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ মোড়ে একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে দুই কিশোর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক স্কুলছাত্র ইরফানকে (১৬) মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর কিশোর নৌশাদকে (২০) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তারও মৃত্যু হয়।   নিহত ইরফান শহরের হারুয়া এলাকার ফোরকান মিয়ার ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।   এছাড়া দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়কে একটি বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অজ্ঞাত এক নারী নিহত হন।   বিকেলে সদর উপজেলার সাদুল্লাহর চর এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক কিশোর নিহত হয়। তবে নিহত নারী ও কিশোরের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া এবং কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খুরশেদ আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ঈদের ছুটিতে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে সোনাহাট স্থলবন্দর

ছবি: সংগৃহীত

অল্প সময়েই ৪ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি নুরুদ্দিন অপুর

ছবি: সংগৃহীত

দেশে আর দখলবাজদের জায়গা হবে না—প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ

0 Comments