তুরস্ক ২০টি কান ব্লক-১০ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের শেষের দিকে এগুলো তুর্কি বিমানবাহিনীতে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (তুসাস) কর্তৃক তৈরি এই যুদ্ধবিমানটি একটি দ্বৈত ইঞ্জিনের পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট, যা ম্যাক ১. ৮ গতিবেগে ছুটতে সক্ষম। এর সর্বোচ্চ উচ্চতা ৫৫,০০০ ফুট এবং সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন ৩৪,৭৫০ কেজি।
তুরস্ক তার নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান 'কান'-এর জন্য একটি চূড়ান্ত ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার অধীনে ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০টি বিমান তুর্কি বিমানবাহিনীকে সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এই চুক্তিটি ব্লক-১০ কনফিগারেশনের ২০টি বিমানের জন্য করা হয়েছে। 'উলু সাভুনমা'র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম বিমানটি ২০২৮ সালে সরবরাহ করা হবে এবং পুরো ব্যাচটি ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। 'ব্লক-১০' হলো প্রাথমিক উৎপাদনের একটি মানদণ্ড—এটি এমন একটি প্রাথমিক কনফিগারেশন যা সাধারণত আরও উন্নত ভ্যারিয়েন্ট বা ব্লকের আগে আসে। এই পরবর্তী ব্লকগুলোতে আরও সক্ষম সিস্টেম, উন্নত অস্ত্র সংহতি এবং সফটওয়্যার আপগ্রেড যুক্ত থাকে।
তুরস্ক যখন তাদের প্রথম ধাপের উৎপাদন নিশ্চিত করছে, তখন সমান্তরালভাবে আরও উন্নত সক্ষমতাসম্পন্ন পরবর্তী ব্লকগুলোর উন্নয়ন কাজও চালিয়ে যাচ্ছে।
'কান' তৈরি করেছে তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (তুসাস)। এর মাধ্যমে তুরস্ক সেই স্বল্পসংখ্যক দেশের তালিকায় নাম লেখাল, যারা নিজস্ব শিল্পভিত্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণভাবে একটি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নকশা, উন্নয়ন এবং উৎপাদন করতে সক্ষম। এটি একটি দ্বৈত ইঞ্জিনের, নিম্ন-দৃশ্যমান মাল্টিরোল প্ল্যাটফর্ম, যা আকাশপথে আধিপত্য বিস্তার থেকে শুরু করে গভীর আক্রমণ পর্যন্ত সব ধরণের মিশনের জন্য উপযুক্ত।
বিমানটির শারীরিক কাঠামো এটিকে বৃহৎ ও শক্তিশালী ফাইটার জেটের সারিতে দাঁড় করিয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ২০.৩ মিটার, উইংসপ্যান (পাখার বিস্তার) ১৩.৪ মিটার এবং উচ্চতা ৫ মিটার।
কানের দুটি আফটারবার্নিং টার্বোফ্যান ইঞ্জিন প্রয়োজনীয় 'থ্রাস্ট-টু-ওয়েট' রেশিও প্রদান করে, যা বিমানটিকে ম্যাক ১.৮ গতিতে উড়তে এবং ৫৫,০০০ ফুট উচ্চতায় কার্যকর থাকতে সাহায্য করে।
তুসাস 'কান'-এর নকশায় কেবল গতি বা উচ্চতা নয়, বরং আরও অনেক আধুনিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত করেছে। লো অবজারভেবিলিটি বা রাডারের চোখ এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এর নকশার মূল ভিত্তি। এছাড়া আফটারবার্নার ছাড়াই সুপারসনিক গতিতে ওড়ার ক্ষমতা, উচ্চতর কৌশল প্রদর্শনের ক্ষমতা এবং বর্ধিত অপারেশনাল রেঞ্জ এর অন্যতম লক্ষ্য। এর অ্যাভিওনিক্স আর্কিটেকচারে রয়েছে সেন্সর ফিউশন, উন্নত ডেটালিংক কানেক্টিভিটি এবং প্রিসিশন-গাইডেড অস্ত্রের সমন্বয়।
২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ফলে তুরস্ককে আমেরিকার এফ-৩৫ প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি তুরস্ককে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরিতে আরও গতিশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে 'কান'-এর প্রথম প্রোটোটাইপ সফলভাবে উড্ডয়ন করে।
ইঞ্জিনের বিষয়টি এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্লক ১০ বিমানগুলোতে জেনারেল ইলেকট্রিক এফ১১০ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে (যা এফ+১৬ বিমানেও ব্যবহৃত হয়)। তবে তুরস্ক ভবিষ্যতে নিজস্ব ইঞ্জিন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে যাতে বিদেশি নির্ভরতা পুরোপুরি দূর করা যায়।
২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সরবরাহ শুরু হলে তুরস্কের পুরনো এফ-১৬ বিমানগুলো অবসরে যাওয়ার সময় একটি শক্তিশালী বিকল্প তৈরি হবে। যদিও ২০টি বিমান একটি বড় বিমানবাহিনীর তুলনায় খুব বেশি নয়, তবে এটি নতুন এই প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো—যেমন পাইলট প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী এবং গ্রাউন্ড সাপোর্ট সিস্টেম তৈরির জন্য যথেষ্ট।
তথ্যসূত্র: ডিফেন্স ব্লগ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে অভিশংসনের জন্য একটি কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্ট। দেশটিতে আলোচিত ‘ফার্মগেট কেলেঙ্কারিতে’ নাম জড়িয়েছে রামাফোসার। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবে ওই কমিটি। প্রমাণ পেলে প্রেসিডেন্ট রামাফোসা অভিশংসনের মুখোমুখি হতে পারেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ গতকাল সোমবার জানায়, তদন্তের জন্য স্পিকার একটি কমিটি গঠন করে দেবেন। গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ আদালত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন। মূলত এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির পার্লামেন্ট তদন্ত কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে। আলোচিত ‘ফার্মগেট কেলেঙ্কারি’ নিয়ে বছর চারেক আগে দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্ট একটি তদন্ত আটকে দেয়। গত শুক্রবার দেশটির সাংবিধানিক আদালত বলেছেন, তদন্ত আটকে দেওয়ার উদ্যোগ দেশের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। প্রেসিডেন্ট রামাফোসার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না, আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সুপারিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এ তদন্ত কমিটি। তার আগে কমিটির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই–বাছাই করে দেখা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টের এ কমিটি কয়েক মাস ধরে আলোচনা চালিয়ে নিতে পারে। ‘ফার্মগেট কেলেঙ্কারি’ ঘটে ২০২০ সালে। প্রেসিডেন্ট রামাফোসার মালিকানাধীন ‘ফালা ফালা’ বাগানবাড়ি থেকে ৪০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। জানা যায়, সেখানে সোফার ভেতর বিপুল পরিমাণের এই অর্থ লুকানো ছিল। ২০২২ সাল নাগাদ বিষয়টি নিয়ে তুমুল শোরগোল ওঠে। দেশটিতে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দেয়। দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট রামাফোসা। কিন্তু তিনি নিজে এত বৈদেশিক মুদ্রা কোথায় পেলেন, এ কথা আগে জানিয়েছিলেন নাকি গোপন রেখেছিলেন, কেন বিপুল এই অর্থ ব্যাংকে না রেখে আসবাবে লুকিয়ে রেখেছিলেন; নানা প্রশ্ন ওঠে। বিরোধীদের দাবি, ওই অর্থের উৎস পরিষ্কার নয়। কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতে প্রেসিডেন্ট রামাফোসা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার করেছেন। তুমুল আলোচনা–সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট রামাফোসা ‘কোনো অন্যায়ে জড়িত থাকার কথা’ অস্বীকার করেন। কিন্তু এরপরও বিপদ পিছু ছাড়ছে না। এত বছর পর এসে সেই কেলেঙ্কারির তদন্ত শুরু হচ্ছে, যা প্রেসিডেন্টের সামনে অভিশংসনের ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রেসিডেন্ট রামাফোসা গত সপ্তাহে বলেন, অভিশংসন কার্যক্রম চালু করার আদালতের রায়কে তিনি সম্মান করেন। সংকটময় এ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গতকাল সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট রামাফোসা। সরাসরি জানিয়ে দেন, পদত্যাগ করছেন না তিনি। বরং স্বাধীন প্যানেলের সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। প্রতিবেদনে রামাফোসার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার’ কথা জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) নেতা সিরিল রামাফোসা। ২০১৮ সাল থেকে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন। এএনসির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কেলেঙ্কারির বিষয়টি নতুন করে সামনে আসার পর করণীয় নিয়ে নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে এএনসি। মঙ্গলবার (আজ) এ সভা হওয়ার কথা। এখন তদন্ত কমিটি যদি রামাফোসার বিরুদ্ধে নেতিবাচক কিছু খুঁজেও পায়, তারপরও পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ভোটে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা কঠিন হতে পারে। কেননা প্রেসিডেন্টকে তাঁর পদ থেকে সরাতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দুই–তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন দরকার হবে। ২০২৪ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরও এএনসি পার্লামেন্টে এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসন ধরে রেখেছে।
ভারতে চিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে নতুন করে বিস্ফোরক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসতেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে সরাসরি নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা এখন আর স্বচ্ছতার প্রতীক নয়, বরং তা পরিণত হয়েছে এক ধরনের নিলামের ব্যবস্থায়, যেখানে টাকার বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ। সামাজিকমাধ্যমে এক বার্তায় রাহুল গান্ধী দাবি করেন, গত ১০ বছরে ভারতে অন্তত ৮৯ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এবং ৪৮টি পরীক্ষাকে পুনরায় নিতে হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রতিবারই কেন্দ্রীয় সরকার কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং প্রতিটি বিতর্কের পর প্রশাসনিক নীরবতা আরও গভীর হয়েছে। রাহুলের বক্তব্য অনুযায়ী, নিট পরীক্ষার প্রায় ৪২ ঘণ্টা আগেই প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ২২ লাখেরও বেশি ছাত্রছাত্রী সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে তাদের ভবিষ্যৎকে বাজারে তোলা হয়েছে। তার মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের পড়ুয়ারা, যাদের কাছে এই ধরনের সর্বভারতীয় পরীক্ষাই ভবিষ্যৎ গড়ার একমাত্র ভরসা। কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া না এলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হয়েছে। অন্যদিকে, রাজস্থানে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য প্রশ্নফাঁস চক্রের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাদের হাতে একটি ৪১০টি প্রশ্নের সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র এসেছে, যার মধ্যে কেমিস্ট্রি বিভাগের প্রায় ১২০টি প্রশ্ন মূল পরীক্ষার সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র পরীক্ষার প্রায় এক মাস আগেই বিভিন্ন মাধ্যমে ঘুরছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। এর সঙ্গে কোনো সংগঠিত অপরাধচক্র জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক ব্যক্তি ও কোচিং সংস্থার ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে। তবে প্রশ্নফাঁস বা কারচুপির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। সংস্থার দাবি, চলতি বছরের নিট পরীক্ষা অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আয়োজন করা হয়েছিল। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র পরিবহণে জিপিএস প্রযুক্তিসম্পন্ন যান ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিটি প্রশ্নপত্রে বিশেষ ওয়াটারমার্ক রাখা হয়েছিল, যাতে সহজেই শনাক্ত করা যায়। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সিসিটিভি নজরদারি চালানো হয়েছে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে। পাশাপাশি বসানো হয়েছিল ফাইভ-জি জ্যামার এবং পরীক্ষার্থীদের বায়োমেট্রিক যাচাইও করা হয়। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির দাবি, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার চার দিন পর প্রথম অনিয়মের তথ্য তাদের কাছে পৌঁছায়। পরে সেই তথ্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়। একসঙ্গে রাজস্থান এসওজি-র তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে তারা। তবে অভিযোগ ও সরকারি ব্যাখ্যার এই দ্বন্দ্বের মাঝখানে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পরীক্ষার্থীরা এবং তাদের পরিবার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতোমধ্যেই অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্বচ্ছ তদন্ত এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জোরালো হচ্ছে।
তুরস্ক ২০টি কান ব্লক-১০ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের শেষের দিকে এগুলো তুর্কি বিমানবাহিনীতে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (তুসাস) কর্তৃক তৈরি এই যুদ্ধবিমানটি একটি দ্বৈত ইঞ্জিনের পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট, যা ম্যাক ১. ৮ গতিবেগে ছুটতে সক্ষম। এর সর্বোচ্চ উচ্চতা ৫৫,০০০ ফুট এবং সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন ৩৪,৭৫০ কেজি। তুরস্ক তার নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান 'কান'-এর জন্য একটি চূড়ান্ত ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার অধীনে ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০টি বিমান তুর্কি বিমানবাহিনীকে সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তিটি ব্লক-১০ কনফিগারেশনের ২০টি বিমানের জন্য করা হয়েছে। 'উলু সাভুনমা'র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম বিমানটি ২০২৮ সালে সরবরাহ করা হবে এবং পুরো ব্যাচটি ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। 'ব্লক-১০' হলো প্রাথমিক উৎপাদনের একটি মানদণ্ড—এটি এমন একটি প্রাথমিক কনফিগারেশন যা সাধারণত আরও উন্নত ভ্যারিয়েন্ট বা ব্লকের আগে আসে। এই পরবর্তী ব্লকগুলোতে আরও সক্ষম সিস্টেম, উন্নত অস্ত্র সংহতি এবং সফটওয়্যার আপগ্রেড যুক্ত থাকে। তুরস্ক যখন তাদের প্রথম ধাপের উৎপাদন নিশ্চিত করছে, তখন সমান্তরালভাবে আরও উন্নত সক্ষমতাসম্পন্ন পরবর্তী ব্লকগুলোর উন্নয়ন কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। 'কান' তৈরি করেছে তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (তুসাস)। এর মাধ্যমে তুরস্ক সেই স্বল্পসংখ্যক দেশের তালিকায় নাম লেখাল, যারা নিজস্ব শিল্পভিত্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণভাবে একটি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নকশা, উন্নয়ন এবং উৎপাদন করতে সক্ষম। এটি একটি দ্বৈত ইঞ্জিনের, নিম্ন-দৃশ্যমান মাল্টিরোল প্ল্যাটফর্ম, যা আকাশপথে আধিপত্য বিস্তার থেকে শুরু করে গভীর আক্রমণ পর্যন্ত সব ধরণের মিশনের জন্য উপযুক্ত। বিমানটির শারীরিক কাঠামো এটিকে বৃহৎ ও শক্তিশালী ফাইটার জেটের সারিতে দাঁড় করিয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ২০.৩ মিটার, উইংসপ্যান (পাখার বিস্তার) ১৩.৪ মিটার এবং উচ্চতা ৫ মিটার। কানের দুটি আফটারবার্নিং টার্বোফ্যান ইঞ্জিন প্রয়োজনীয় 'থ্রাস্ট-টু-ওয়েট' রেশিও প্রদান করে, যা বিমানটিকে ম্যাক ১.৮ গতিতে উড়তে এবং ৫৫,০০০ ফুট উচ্চতায় কার্যকর থাকতে সাহায্য করে। তুসাস 'কান'-এর নকশায় কেবল গতি বা উচ্চতা নয়, বরং আরও অনেক আধুনিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত করেছে। লো অবজারভেবিলিটি বা রাডারের চোখ এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এর নকশার মূল ভিত্তি। এছাড়া আফটারবার্নার ছাড়াই সুপারসনিক গতিতে ওড়ার ক্ষমতা, উচ্চতর কৌশল প্রদর্শনের ক্ষমতা এবং বর্ধিত অপারেশনাল রেঞ্জ এর অন্যতম লক্ষ্য। এর অ্যাভিওনিক্স আর্কিটেকচারে রয়েছে সেন্সর ফিউশন, উন্নত ডেটালিংক কানেক্টিভিটি এবং প্রিসিশন-গাইডেড অস্ত্রের সমন্বয়। ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ফলে তুরস্ককে আমেরিকার এফ-৩৫ প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি তুরস্ককে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরিতে আরও গতিশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে 'কান'-এর প্রথম প্রোটোটাইপ সফলভাবে উড্ডয়ন করে। ইঞ্জিনের বিষয়টি এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্লক ১০ বিমানগুলোতে জেনারেল ইলেকট্রিক এফ১১০ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে (যা এফ+১৬ বিমানেও ব্যবহৃত হয়)। তবে তুরস্ক ভবিষ্যতে নিজস্ব ইঞ্জিন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে যাতে বিদেশি নির্ভরতা পুরোপুরি দূর করা যায়। ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সরবরাহ শুরু হলে তুরস্কের পুরনো এফ-১৬ বিমানগুলো অবসরে যাওয়ার সময় একটি শক্তিশালী বিকল্প তৈরি হবে। যদিও ২০টি বিমান একটি বড় বিমানবাহিনীর তুলনায় খুব বেশি নয়, তবে এটি নতুন এই প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো—যেমন পাইলট প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী এবং গ্রাউন্ড সাপোর্ট সিস্টেম তৈরির জন্য যথেষ্ট। তথ্যসূত্র: ডিফেন্স ব্লগ