অন্যান্য

পানি পান করছেন ঠিকভাবে? জানুন ৪টি মারাত্মক ভুল

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২২, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি, পানি ছাড়া জীবন কল্পনা করা যায় না। চিকিৎসক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ— সবাই বলেন প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, শুধু পানি খেলেই হলো না, কীভাবে পানি খাচ্ছেন সেটাও স্বাস্থ্যের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

প্রতিদিন পানি পান করেও অনেকেই শরীরের নানা সমস্যায় ভোগেন, আর এর কারণ হয়ে দাঁড়ায় কিছু সাধারণ ভুল। দ্রুত পানি গিলে ফেলা থেকে শুরু করে খাবারের সঙ্গে পানি খাওয়া কিংবা প্লাস্টিকের বোতলে পানি সংরক্ষণ— এসব ছোট ছোট অভ্যাসই ধীরে ধীরে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো সতর্ক না হলে এসব ভুল থেকে তৈরি হতে পারে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি।

বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ রায়ান ফার্নান্দো বলেছেন, স্বাস্থ্য সর্বোচ্চ ভালো অবস্থানে রাখতে ও শক্তি সঞ্চারে পানি পানের ভুলগুলো করা যাবে না।

চলুন, পানি পানে যে ৪টি ভুল করলে বিপদ হতে পারে 

দ্রুত পানি পান

অনেকেই তৃষ্ণা মেটাতে হুড়োহুড়ি করে পানি খেয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীরের জন্য এক ধরনের ছোট্ট শক পাওয়ার মতো। পানি গিলে ফেলার আগে অন্তত কয়েক সেকেন্ড মুখে ধরে রাখা ভালো। এতে পানি শরীরের সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

খুব গরম বা ঠান্ডা পানি পান

গরমকালে ঠান্ডা পানি আর শীতে গরম পানি পান— এমন অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এটি শরীরের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। শরীরকে প্রথমে সেই পানিকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনতে হয়, যা প্রক্রিয়ায় দ্বিগুণ পরিশ্রম বাড়ায়। তাই সবসময় স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করাই উত্তম।

খাবারের সময় পানি পান

খাবার খাওয়ার মাঝখানে পানি পান করলে খাবার হজমে সমস্যা হয়। এতে খাবার ভেঙে ফেলতে শরীরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয় এবং অম্বল, অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই খাবার খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে বা পরে পানি পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

প্লাস্টিকের বোতলে পানি রাখা

অনেকেই প্লাস্টিকের বোতলে পানি রাখেন এবং সরাসরি সেখান থেকেই পান করেন। চিকিৎসকদের মতে, এ অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে রোদে বা তাপে রাখা প্লাস্টিকের বোতল থেকে বিপিএ ও ফ্যাথলেটসের মতো রাসায়নিক বের হয়ে পানির সঙ্গে মিশে যায়। এসব রাসায়নিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, প্রজনন সমস্যা তৈরি করে এবং কোষের ক্ষতি করে। এ ছাড়া মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশ্রিত পানি প্রদাহ সৃষ্টি করে দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ভারতের আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ বিকাশ চাওলা বলেন, বরফ ঠান্ডা পানি হজমের ক্ষমতা কমায় এবং পাকস্থলিতে নানা সমস্যা সৃষ্টি করে। তার দাবি, হালকা গরম পানি শরীরের জন্য বেশি উপকারী। এটি ত্বক পরিষ্কার রাখে ও ব্রণ-জিট কমাতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে নয়ডা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের প্রফেসর ড. এস এ রেহমান বলেন, প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানি পান করলে শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রবেশ করে, যা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে। তাই প্রতিদিন কতটা পানি খাচ্ছেন, তার পাশাপাশি কীভাবে পানি খাচ্ছেন সেটাও নজর রাখা জরুরি।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ঠান্ডা আবহাওয়ায় মানুষ কেন বেশি ঘুমায়? যা বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান

শীত পড়লেই অনেকের সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হয়, আর দিনভর এক ধরনের অদ্ভুত ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাব লেগেই থাকে। অন্য ঋতুতে যেখানে ‘ঘুম ঠিকমতো হয়নি’ এই অনুভূতিটা তেমন জোরালো হয় না, সেখানে ঠান্ডা আবহাওয়ায় বিষয়টি যেন আরও বেশি চোখে পড়ে। আপনার যদি এমনটা মনে হয়, তাহলে আপনি একা নন। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ শীত মৌসুমে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের ঘুমের চাহিদাও বদলে যায়। শীতকালে কেন ঘুম বাড়ে? মানুষের শরীরে একটি প্রাকৃতিক ‘বডি ক্লক’ বা জৈবঘড়ি রয়েছে, যা সূর্যের আলোকে ভিত্তি করে ঘুম ও জাগরণের সময় নির্ধারণ করে। বাইরে সূর্যের আলো থাকলে আমরা বেশি সক্রিয় থাকি, আর সূর্য ডুবে গেলে শরীরে ক্লান্তি ও ঝিমুনি ভর করে। এদিকে, শীতকালে সূর্যের আলো কমে যাওয়ার ফলে শরীরে মেলাটোনিন নামের একটি হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোনটি ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৌসুমে ঠান্ডা পড়লে মেলাটোনিন তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত শুরু হয়। ফলে আগেভাগেই ঘুম ঘুম ভাব আসে। শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মানের ওপরও আলো বড় প্রভাব ফেলে। শীতকালে দীর্ঘ সময় অন্ধকার থাকায় শরীর সারা বছরের ঘুমের ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শীতকালে গভীর ঘুমের সময় প্রায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই গভীর ঘুম মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময় স্মৃতিশক্তি উন্নত হয়, মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ে, মেজাজ ভালো থাকে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। এ ছাড়া গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বেড়ে যায় এবং তখনই মানুষ স্বপ্ন দেখে। এই প্রক্রিয়াগুলোই শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ঋতু অনুযায়ী ঘুমের অভ্যাস বদলানো জরুরি গবেষকরা বলছেন, ফলাফল থেকে প্রথমবারের মতো স্পষ্ট হয়েছে, ঘুমের অভ্যাস ঋতুভেদে বদলানো দরকার। অর্থাৎ শীতকালে তুলনামূলকভাবে একটু আগেই ঘুমাতে যাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। যদিও দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে সারা বছর মানুষের ঘুমের সময় মোটামুটি একই থাকে, তবু বাস্তবতা হলো—শীতকালে মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ধীর হয়ে যায় এবং তখন শরীর বেশি ঘুমের দাবি জানায়। শেষ কথা শীতকালে বেশি ঘুম পাওয়া অলসতা বা দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক জৈব প্রতিক্রিয়া। তবে দৈনন্দিন জীবনে এই পরিবর্তন যদি অতিরিক্ত মনে হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়। সূত্র : জিও নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ঘি নাকি মাখন, কোনটি বেশি উপকারী জেনে নিন

ছবি : সংগৃহীত

শরীরের সবচেয়ে নোংরা অংশ কোনটি, জানলে অবাক হবেন

ছবি : সংগৃহীত

কিডনি ভালো না থাকলে শরীর যেভাবে সিগন্যাল দেয়

ছবি : সংগৃহীত
চোখ ভালো আছে তো? যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

চোখ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোট কোনো সমস্যাও যদি অবহেলা করা হয়, তাহলে তা বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। অনেক সময় দৃষ্টিশক্তি হঠাৎ কমে যায়, আবার কখনো ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়ে। এসব পরিবর্তন আগে থেকে বুঝতে পারলে এবং সময়মতো ব্যবস্থা নিলে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব। চোখের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার ধরন দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। যেমন— সেন্ট্রাল ভিশন লস: চোখের মাঝখানের অংশে স্পষ্টভাবে দেখতে অসুবিধা পেরিফেরাল ভিশন লস: চারপাশের দিক বা কোণের দৃষ্টি কমে যাওয়া সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীনতা: পুরোপুরি দেখতে না পারা নাইট ব্লাইন্ডনেস: কম আলো বা অন্ধকারে দেখতে সমস্যা ঝাপসা দৃষ্টি: কুয়াশার মতো বা অস্পষ্টভাবে দেখা, শুধু ছায়া বা আকার বোঝা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ মাইগ্রেন মাইগ্রেনের রোগীদের একটি বড় অংশের চোখে ভিজ্যুয়াল সমস্যা দেখা যায়। জিগজ্যাগ আলো, ঝিলিমিলি দেখা, টানেলের মতো দৃষ্টি বা এক পাশের দৃষ্টি হঠাৎ কমে যেতে পারে। সাধারণত এই সমস্যা ১০ থেকে ৩০ মিনিট স্থায়ী হয়। কেরাটাইটিস চোখের কর্নিয়ায় প্রদাহ হলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। চোখে ব্যথা ও লালভাবও থাকতে পারে। সঠিক চিকিৎসায় এটি সেরে যায়। কনজাঙ্কটিভাইটিস বা পিঙ্ক আই চোখ লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালা ও ঝাপসা দেখার পাশাপাশি সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে সংক্রমণ হলে চিকিৎসা দরকার হয়। চোখের ক্লান্তি দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টিভির দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে চাপ পড়ে। এতে দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ২০ মিনিট পরপর কিছুক্ষণ দূরে তাকানো উপকারী। চোখে আঘাত চোখে আঘাত লাগলে দৃষ্টিশক্তি সাময়িক বা স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে। এমন হলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন ৫০ বছরের পর অনেকের চোখের মাঝখানের দৃষ্টি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে। গ্লুকোমা চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে চারপাশের দৃষ্টি কমে যায়। শুরুতে তেমন লক্ষণ না থাকায় নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা জরুরি। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ডায়াবেটিসের কারণে চোখের রেটিনার রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি থাকে। নিয়মিত পরীক্ষা করলে আগেভাগে ধরা সম্ভব। কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে দেরি করা উচিত নয়। নিচের লক্ষণগুলোর যে কোনোটি দেখা গেলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন— তীব্র মাথাব্যথা কথা বলতে অসুবিধা মুখ বেঁকে যাওয়া শরীরের এক পাশে দুর্বলতা চোখে তীব্র ব্যথা কীভাবে চোখের যত্ন নেবেন চোখকে বিশ্রাম দিন: স্ক্রিন ব্যবহার করার সময় নিয়মিত বিরতি নিন সুরক্ষামূলক চশমা ব্যবহার করুন: খেলাধুলা বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে চোখ ঢেকে রাখুন সানগ্লাস পরুন: রোদে বের হলে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখ রক্ষা করুন স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন: ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করুন: সমস্যা না থাকলেও চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যান পুষ্টিকর খাবার খান ও ধূমপান এড়িয়ে চলুন: এতে চোখ সুস্থ থাকে চোখের সামান্য পরিবর্তনকেও অবহেলা করা ঠিক নয়। সব ধরনের দৃষ্টিশক্তি হারানো প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সচেতনতা, সঠিক অভ্যাস এবং সময়মতো চিকিৎসা চোখ ভালো রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। নিয়মিত যত্ন নিলে দীর্ঘদিন সুস্থ দৃষ্টি বজায় রাখা সম্ভব। সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
এম হাফিজ উদ্দিন খান। ছবি : সংগৃহীত

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন মারা গেছেন

সেমিনারে বক্তব্য দেন রাবি উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকিব।

সবার জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব : রাবি উপাচার্য

ছবি : সংগৃহীত

সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার

ছবি : সংগৃহীত
প্রতীক বরাদ্দ আজ, কাল থেকে মাঠে নামছেন প্রার্থীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আজ বুধবার চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্ব। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা মাঠে নেমে শুরু করবেন সরাসরি নির্বাচনী প্রচার, যা ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত চলবে।   গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিকতা। যারা ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা সরে গেছেন। এখন মাঠে রয়েছেন কেবল চূড়ান্ত প্রার্থীরা। প্রতীক পাওয়ার পরপরই প্রার্থীরা মাইকিং, পথসভা, উঠান বৈঠক ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠবেন। শীতের আবহে দেশজুড়ে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে বসতঘর—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রে এখন ভোট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনের বল পুরোপুরি মাঠে গড়াল। কে হাসবেন শেষ হাসি আর কার গলায় উঠবে জয়ের মালা—তা জানতে এখন অপেক্ষা শুধু ভোটের দিনের। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ে ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৩ হাজার ৪২২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে জমা পড়ে ২ হাজার ৮৫টি মনোনয়নপত্র। যাচাই-বাছাই শেষে ৭২৬ জনের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে ৬৩৯ জন আপিল করলে শুনানি শেষে ৪৩১ জনের প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয়। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে সারা দেশে ২৯৮টি আসনে চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নতুন তপশিল ঘোষণার কারণে ওই দুই আসনের কয়েকজন প্রার্থী এ তালিকার বাইরে থাকবেন। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জনে। বিভিন্ন দলের ১২ জন প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন। কিছু আসনে জোটগত সমঝোতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত একাধিক আসনে জোটের একাধিক প্রার্থী রয়ে গেছেন। নারায়ণগঞ্জে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। রাজশাহীর ছয়টি আসনে তিনজন, নোয়াখালীর ছয়টি আসনে পাঁচজন, নরসিংদীতে একাধিক আসনে কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। নরসিংদীর একটি আসনে দলীয় কর্মীদের বাধার মুখে জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি বলেও জানা গেছে। নওগাঁর ছয়টি আসনে চারজন, দিনাজপুরের ছয়টি আসনে পাঁচজন, শরীয়তপুরের তিনটি আসনে দুজন, ঝালকাঠির দুইটি আসনে চারজন এবং মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। বিভিন্ন জেলায় জোটগত সিদ্ধান্ত, দলীয় সমঝোতা ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।   প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে এখন শুরু হচ্ছে ভোটের মূল লড়াই। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা তুলে ধরবেন নিজেদের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি। কে কতটা সফল হবেন—তা নির্ধারণ করবে ব্যালটের রায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২১, ২০২৬ 0
১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে এক জনসভায় খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির অপ্রত্যাশিত জয় ও বাংলাদেশের রাজনীতির মোড়বদল

ছবি : সংগৃহীত

মাদ্রাসায় সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া ছুটি বেড়ে ৭০ দিন

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-১৫ আসনে সহিংসতা এড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জামায়াত আমিরের আহ্বান

0 Comments