বিশ্ব

চীনের এআই উত্থানে কেন চাপে যুক্তরাষ্ট্র

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে একই সময়ে কম খরচে উন্নত সক্ষমতার চীনা এআই মডেলগুলোর বিস্তার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক এআই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চীনের এআই মডেলগুলোর ওপেনএআই বা অ্যানথ্রপিককে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সেগুলো কার্যকর, সহজলভ্য এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেই বিশ্ব এআই বাজারে প্রভাব বিস্তার সম্ভব।

 

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের এআই রফতানির দুটি কৌশল বড় সমস্যার মুখে পড়েছে। প্রথমত, উন্নত এআই মডেল রফতানিতে অনিয়মিত ও পরিবর্তনশীল নিয়ন্ত্রণনীতি। দ্বিতীয়ত, চীনের ওপেন-সোর্স এআই মডেল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা এবং নিজ দেশে উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক এআই ব্যবহারের বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়া।

 

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর চলতি সপ্তাহে প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগ সম্প্রসারণ করেছে। এর লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এআই ও চিপ সরবরাহ শৃঙ্খলভিত্তিক একটি জোট গড়ে তোলা এবং চীনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো। তবে একই সময়ে অ্যানথ্রপিকের নতুন এআই মডেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্তে প্রযুক্তি খাত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে সক্ষমতার ব্যবধান কমিয়ে আনার পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামে চীনা এআই মডেল বাজারে আসছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের কর্মকর্তা এবং সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মী এমিলি ওয়েইনস্টেইন জানান, ওপেন-সোর্স এআইয়ের ক্ষেত্রে চীন অনেকটা হুয়াওয়ের কৌশল অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, চীন শুধু এআই মডেল নয়, অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোও বিনা মূল্যে বা অনেক কম দামে সরবরাহ করতে সক্ষম।

 

তার মতে, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে চীনা এআই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে দেশগুলো চীনা অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

 

সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির (সিএনএএস) ড্যানিয়েল রেমলার বলেন, অ্যানথ্রপিককে ঘিরে নেওয়া সিদ্ধান্তের পর পুরো শিল্পখাত আরও সুসংগত নীতির অপেক্ষায় প্রায় স্থবির হয়ে আছে। তার মতে, যখন চীন সর্বোচ্চ গতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

 

এ প্রবণতা মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন মিত্র দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের এআই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। চলতি সপ্তাহে অর্থনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ জানান, প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৩৫টি দেশ ডিক্লারেশন অন এআই অপরচুনিটিতে সই করেছে।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশীদার দেশ একদিকে ওয়াশিংটনের উদ্যোগকে সমর্থন করলেও অন্যদিকে নিজেদের প্রযুক্তিগত স্বায়ত্তশাসনও জোরদার করছে। অ্যানথ্রপিককে ঘিরে সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নও ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ শুধু এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব ধরে রাখা নয়, বরং বিশ্বের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে রাজি করানো।

 

সূত্র: অ্যাক্সিওস

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনৈতিক সংকটে ইরান, ১৯ আগস্ট পেট্রোল বিক্রি শুরু

আগামী ১৯ আগস্ট ইরান জ্বালানি এক্সচেঞ্জে ২ লাখ ৪০ হাজার লিটার উন্নতমানের পেট্রোল বিক্রি করবে। ইরান সরকারের বিক্রির জন্য নির্ধারিত এই পেট্রোল বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে।       ইরনা নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নতমানের এই পেট্রোলের প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ইরানি রিয়াল। মার্কিন ডলারের হিসাবে এর মূল্য প্রতি লিটারে প্রায় ০.৪৮ ডলার।     রোববার (১৬ আগস্ট) ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ইরনা নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।     প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পেট্রোলের সর্বনিম্ন দাম হবে ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫০ রিয়াল। আর সর্বোচ্চ দাম হবে ৯ লাখ ৪১ হাজার ৮৫০ রিয়াল।     ইরান ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রথম আমদানিকৃত পেট্রোল বিক্রি করে। ওই সময় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম পড়েছিল ৬ লাখ ৫৮ হাজার রিয়াল।     অভাব-অনটনে পড়েছেন ইরানিরা   যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইরানের অর্থনীতিতে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে।     রাজধানী তেহরানের বাসিন্দা সাঈদ। তিনি বলেছেন, নিজের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে তিনি হতভম্ব। সাঈদ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তবে বর্তমানে এখান থেকে যে বেতন পান তা দিয়ে তার সংসার চলছে। এখন এরচেয়ে ভালো বেতনের একটি চাকরি খুঁজছেন তিনি।     রোববার সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে ২৬ বছর বয়সী সাঈদ বলেছেন, বর্তমানে চাকরির বাজারও বেশ খারাপ। অনেকে চাকরি খুঁজেও তা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “অনলাইন বা সরাসরি—যেখানেই হোক না কেন, চাকরির বাজারের বর্তমান হালচালের দিকে একবার তাকালেই বুঝতে পারবেন কেন আজকালকার অনেক তরুণ-তরুণী কাজের খোঁজে বের হওয়াটাকেও আর অর্থহীন মনে করে।”     সাঈদ জানিয়েছেন শিক্ষকতা, ক্যাশিয়ার ও বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা মাসে এখন ২০০ মিলিয়ন ইরানি রিয়াল বা ১০৭ ডলার পান। এমনও কিছু চাকরি আছে যেখানে মাসে ১৬৬ মিলিয়ন রিয়াল বা মাত্র ৮৮ ডলার বেতন দেওয়া হয়। বাংলাদেশি অর্থে এ বেতন ১৫ হাজার টাকারও কম।       আলজাজিরা জানিয়েছে, একজন সাধারণ কর্মী সরকারি সহায়তা ও মাসিক বেতনসহ যে অর্থ পান তা থেকে যদি মাত্র ১ কেজি ভেড়ার মাংস কেনেন তাহলে তার মাসিক আয়ের ১০ শতাংশ চলে যাবে। আর মাত্র ১০ কেজি ইরানি চাল কিনলে মোট অর্থের পাঁচ ভাগের এক ভাগ চলে যায়। যা নির্দেশ করছে বর্তমানে দেশটিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অত্যন্ত চড়া।       এরসঙ্গে বাড়িভাড়া অতিদ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, যাতায়াত খরচ এবং চিকিৎসা খরচও আগের চেয়ে অনেক বেশি।   সূত্র: ইরনা, আলজাজিরা

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৮, ২০২৬
পবিত্র কাবা শরিফ।

হজযাত্রীদের নিরাপত্তায় নতুন আবাসন নীতি অনুমোদন দিল সৌদি আরব

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। ছবি : আইআরএনএ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আইআরজিসির গোপন আলোচনার খবর অস্বীকার করল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের ৬ মাস: রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের ইতিবাচক চেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

  দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মহড়ার ব্যয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশ না নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি এ নির্দেশ দিয়েছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।    রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ১০ দিনের এই সামরিক মহড়া পুরোপুরি বাতিল করার মতো সময় আর নেই। তবে তিনি পেন্টাগনকে মহড়ার পরিসর ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে’ দিতে বলেছেন।   ট্রাম্পের দাবি, এসব মহড়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার প্রতি এগুলো অপ্রয়োজনীয় ও বৈরী বার্তা পাঠায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   বার্ষিক উলচি ফ্রিডম শিল্ড নামে এই যৌথ সামরিক মহড়া ১৭ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত হওয়ার কথা। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   মহড়ায় ড্রোন মোকাবিলা, জিপিএস সংকেত বাধাগ্রস্ত করার পরিস্থিতি এবং সাইবার হামলা মোকাবিলার মতো প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   তবে ট্রাম্পের নির্দেশের পরও সোমবার নির্ধারিত সময়েই মহড়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ। ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নতুন নয়। প্রথম মেয়াদেও তিনি এসব মহড়াকে ‘উসকানিমূলক’ ও ব্যয়বহুল বলে সমালোচনা করেছিলেন।   এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনার খরচ ভাগাভাগি এবং তাদের আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়েও সিউলের সঙ্গে ট্রাম্পের মতবিরোধ ছিল।   উত্তর কোরিয়া নিয়মিতই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার বিরোধিতা করে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এসব মহড়া উত্তর কোরিয়ায় হামলার প্রস্তুতি।   এদিকে মহড়ার আগে চলতি মাসে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। গত বুধবার দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এর ছয় দিন আগে, ৬ আগস্টও একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল পিয়ংইয়ং।   বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ট্রাম্পের বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে।   ট্রাম্প ও কিমের সম্পর্ক অতীতে উত্তেজনা ও ঘনিষ্ঠতার মধ্যে বারবার ওঠানামা করেছে। দুই নেতার মধ্যে তিনটি শীর্ষ বৈঠক হলেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।   এদিকে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে।   সূত্র: রয়টার্স

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৭, ২০২৬

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প

চার মুসলিম দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতার বৈঠক

স্পেনের সেউতায় বাংলাদেশিসহ আটকা পড়েছেন ৮ হাজার অভিবাসী

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের মেয়াদে অধিকাংশ মার্কিনির আর্থিক অবস্থার অবনতি, বলছে নতুন জরিপ

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়কালে দেশটির অধিকাংশ নাগরিকের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সহায়তায় লন্ডনভিত্তিক অরাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা ফোকালডাটা এই জরিপটি পরিচালনা করে।     জরিপের ফল বলছে, ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার জানিয়েছেন যে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ নির্দলীয় ভোটার এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ রিপাবলিকান সমর্থক রয়েছেন। এছাড়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন মার্কিন অর্থনীতি বর্তমানে ভুল পথে এগোচ্ছে, আর মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন এটি সঠিক পথে রয়েছে।       মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মসংস্থান পরিচালনার ক্ষেত্রে ভোটাররা রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতি বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপে ৬৪ শতাংশ ভোটার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের কাজের প্রতি ৫৫ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ জানিয়েছেন এবং তার নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও তার জনপ্রিয়তা আট শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।       আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন—এমন প্রশ্নে ৪৪ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৯ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। জরিপের বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার শক্ত অবস্থানে রয়েছে, তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন তাদের জন্য কঠিন হতে পারে।       মূল্যস্ফীতি ও প্রকৃত মজুরি হ্রাসের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মধ্যে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই ট্রাম্পের কাজের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি জানান, সরকার ওষুধের দাম কমানো, দেশে চাকরি ফিরিয়ে আনা এবং কর কমানোর মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কাজ করছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।       গত ৭ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১,৯১৩ জন ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে এই অনলাইন জরিপটি পরিচালিত হয়।   সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৬, ২০২৬
পবিত্র কাবা শরিফ।

মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসাধারীদের জন্য ওমরাহের নতুন নির্দেশনা জারি সৌদির

ফাইল ছবি

১৫ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের নতুন ভিসা নীতি কার্যকর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন

আমাদের চেহারা বন্ধুত্বপূর্ণ না হলেও সম্পর্ক দারুণ: কিমকে নিয়ে ট্রাম্প

0 Comments