সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী কমিটির বৈঠকের ফাঁকে কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
এসব বৈঠকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জেদ্দায় পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার; সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ আলখারিজি; তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া; ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন ড. খলিলুর রহমান। উল্লেখ্য, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
তারা ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গত বছর নিজের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন ইসহাক দার।
তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকা সফর করার অপেক্ষায় রয়েছেন। নতুন সরকারের অধীনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ-তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন উভয়পক্ষ। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হন।
রোহিঙ্গাদের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর। উভয়পক্ষই এই সংকট দ্রুত সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে আমন্ত্রণপত্র দেন ড. রহমান।
সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকেও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
তিনি উল্লেখ করেন যে, সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ড. খলিলুর বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও একমত হন উভয়পক্ষ।
পাশাপাশি ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে গৃহীত সংস্কার উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন চান সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলখারিজি।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন ড. খলিলুর।
বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরব-ইসলামিক ব্লক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে বলেও আশ্বাস দেন।
গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে বৈঠকে ড. রহমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ করে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা লড়ার জন্য গাম্বিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আগামী এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যৌথভাবে একটি ইভেন্ট আয়োজনের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
এছাড়া, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আফ্রিকার দেশগুলোর সমর্থনের আশ্বাস দেন এনজি।
বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল প্রায় ১৮ ঘণ্টার মালয়েশিয়ার সফর শেষে তিনি চীন সফরে গেছেন। মালয়েশিয়া সরকারকে এক বার্তায় তিনি এই কৃতজ্ঞতা জানান। মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বার্তা প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বার্তায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “আমার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী ড. ওয়ান আজিজা বিনতি ওয়ান ইসমাইলকে তাদের অবিশ্বাস্য উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। মালয়েশিয়া সরকার এবং তার বন্ধুভাবাপন্ন জনগণের যে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে অভিভূত। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আমার আলোচনা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।” তিনি উল্লেখ করেন, “আমার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময় থেকে বহু দশক পুরনো এই সম্পর্ক রয়েছে। মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনি সুলতান ইস্কান্দারকে তার বৈঠকে সময় দেওয়ার জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।” প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্য দেয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের জন্য আমরা গর্বিত, যা আমাদের দুই দেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং সমাজের সর্বস্তরের মধ্যে একসূত্রে আবদ্ধ করেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের পর মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের বহুমুখী অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ব্যাপারে আমি উন্মুখ।”
সাড়ে ছয় বছর পর প্রশাসনে আবার শুরু হয়েছে ভারপ্রাপ্ত সচিব পদায়ন। এর মধ্য দিয়ে পদোন্নতি ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এড়ানো যাবে এবং জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন রোধ সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অসন্তোষ পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে সচিব হিসেবে পদোন্নতিপ্রত্যাশী অনেকে মনে করেন, এ উদ্যোগ অবমাননাকর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও ভারপ্রাপ্ত সচিবের প্রচলন ছিল। বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ সব সরকারের আমলেই শুরুতে ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হতো। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর সে সময় প্রভাবশালী কিছু আমলা এ ব্যবস্থাকে অবমাননাকর বলে সমালোচনা করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে এরপর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ভারপ্রাপ্ত সচিব পদায়নের বিধান বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। তবে কোনো সচিব অনুপস্থিত থাকলে সচিবের রুটিন দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা। গত ২৫ মে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয় মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাকে। এর পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জানতে চাইলে মামুনুর রশীদ ভূঞা সমকালকে বলেন, ‘আগে ভারপ্রাপ্ত সচিবের পর সচিব করা হতো। মাঝখানে অনেক দিন সেই আদেশ হয়নি। সেই নিয়ম বহাল ছিল, কিন্তু চর্চা ছিল না। আমি হয়তো সেই ব্যক্তি, যাকে দিয়ে আবার ভারপ্রাপ্ত সচিবের পদায়ন শুরু হলো।’ জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সচিব পদে সরাসরি পদোন্নতির পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করা গেলে প্রশাসনে বিতর্ক কমবে এবং যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে সরকার আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, ভারপ্রাপ্ত সচিব করা কোনো নতুন বিষয় নয়। অতীতেও বিভিন্ন সরকারের আমলে এটি হয়েছে। সাধারণত একজন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতির আগে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা সচিব পদমর্যাদার পূর্ণ আর্থিক সুবিধা পান না। পূর্ণাঙ্গ সচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পরই সচিব গ্রেডের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা লাভ করেন। যে কারণে ফিরছে এ ব্যবস্থা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একবার কাউকে পূর্ণাঙ্গ সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিলে পরে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে কিছু সময় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তাঁর কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক নেতৃত্ব, সততা এবং বিভিন্ন অভিযোগ বা মামলার বিষয় যাচাই করা সম্ভব হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নানা কারণে ১৫ জুন পর্যন্ত ৯ জন সচিব জনপ্রশাসনে সংযুক্ত আছেন। সচিব পদে পদোন্নতির পরও সরকার তাদের কোথাও কাজে লাগাতে পারছে না। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে গত ২৫ মার্চ সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে পদায়ন করা হয়। মাত্র দুই মাস পর তাঁকে আবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, সচিব পদে সরাসরি পদোন্নতির চেয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিব ব্যবস্থা প্রশাসনের জন্য বেশি কার্যকর। কারণ, এতে পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ক কমে। আগে অনেক ক্ষেত্রেই ছয় মাস থেকে এক বছর ভারপ্রাপ্ত সচিব রাখা হতো। কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসএসবির সুপারিশ এবং সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনও প্রয়োজন হয়। এ ব্যবস্থাকে ‘অবমাননাকর’ মনে করেন যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সচিব পদোন্নতিপ্রত্যাশী একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ভারপ্রাপ্ত সচিব পদায়নে কর্মকর্তারা অসন্তুষ্ট হন। কারণ, একজন অতিরিক্ত সচিব কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আসেন। এর পর সরাসরি সচিব পদে পদোন্নতি আশা করেন। কিন্তু তাকে ভারপ্রাপ্ত সচিব করা মানে নতুন করে পরীক্ষার মধ্যে ফেলা। শেষমেশ সচিব পদে পদোন্নতি হবে কিনা, তারও ঠিক নেই। তা ছাড়া ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করলেও বেতন-ভাতা বাড়ে না। তিনি অতিরিক্ত সচিবের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। সব মিলিয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পদায়নের এ ব্যবস্থা ‘অবমাননাকর’। ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে অবসরের নজির জনপ্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত সচিব হওয়া মানেই পরবর্তী সময়ে সচিব হওয়া নয়। অতীতে এমন একাধিক নজির রয়েছে। বদরুল আলম তরফদার ২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেও পরে সচিব হিসেবে পদোন্নতি পাননি। মোহাম্মাদ গোলাম কুদ্দুস পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব হন ২০১০ সালের ২০ অক্টোবর। এর পর ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অবসরে যান। আরও কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করে অবসরে গেছেন।
রাজশাহী মহানগরীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের হামলায় রেজাউল করিম (৬০) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুল করিম (২৭) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তরের (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী। সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর মেহেরচণ্ডি কড়ইতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রেজাউল করিম পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস প্রামাণিকের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানান, সোমবার সকাল থেকেই মা-বাবা ও ছেলে রাকিবুলের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা চলছিল। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির জেরে ছেলে রাকিবুল চরম উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং ঘরে থাকা একটি ভারী মুগুর দিয়ে তার বাবা রেজাউল করিমের মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত রাকিবুল করিম দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।