একটা সময় তো মনে হচ্ছিল এ সমীকরণ আর মেলার নয়। নিউজিল্যান্ডই ছিল এগিয়ে। ১৬০ রান তাড়া করতে নেমে ১১৭ রান তুলতেই যখন ৬ উইকেট খোয়াল ইংলিশরা, তখন ক্রিকইনফো জানাচ্ছিল ম্যাচটা জেতার সম্ভাবনা নিউজিল্যান্ডের ৮৪ শতাংশ।
সেখান থেকে ইংলিশদের জিততে হলে, নিউজিল্যান্ড আর পাকিস্তানকে ঝুলিয়ে রেখে সুপার এইটের গ্রুপ ২ এর রোমাঞ্চটা শেষ দিন পর্যন্ত নিয়ে যেতে হলে একটা মিরাকলের প্রয়োজন ছিল। ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত তাই করে দেখিয়েছে। ৪ উইকেট আর ৩ বল হাতে রেখে লক্ষ্যটা টপকে গেছে।
আর তাতেই গ্রুপের লড়াই জমে উঠেছে। পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার ম্যাচটাই এখন ঠিক করে দেবে, ইংল্যান্ডের পর গ্রুপ ২ থেকে শেষ চারে যাবে নিউজিল্যান্ড নাকি পাকিস্তান।
শুক্রবার আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ১৫৯ রানে ৭ উইকেট তোলে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচটি সহজ ছিল না ইংল্যান্ডের জন্য। শুরুতেই ধাক্কা খায় তারা। ফিল সল্ট ও জস বাটলার দ্রুত আউট হন। আট বলেই দলীয় রান ছিল ২ উইকেটে ২।
নবম ওভারে ৫৮ রানে চার উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও জ্যাকব বেথেল দ্রুত ফিরে যান। এই পরিস্থিতি থেকে ইংলিশদের আশা দেখাচ্ছিলেন জেকব বেথেল আর স্যাম কারান। তবে ১০০ রানে কারান আর ১১৭ রানে বেথেল ফিরলে ইংল্যান্ড চলে যায় আরও ব্যাকফুটে।
সেখান থেকে উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদ দলকে টেনে তোলেন। তারা সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৪৪ রানের জুটি গড়েন। জ্যাকস করেন ৩২ রান। রেহান করেন ১৯ রান। তাদের জুটিতেই জয় পায় ইংল্যান্ড।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতো তাদের। শ্রীলঙ্কাকে বড় ব্যবধানে হারানো একই দল নিয়েই নামে নিউজিল্যান্ড।
ইংল্যান্ড দলে একটি পরিবর্তন আনে। জেমি ওভারটনের জায়গায় ফেরানো হয় রেহান আহমেদকে। শুরুতে সিদ্ধান্তটি ভুল মনে হচ্ছিল। ৬ দশমিক ৫ ওভারে উইকেট না হারিয়ে ৬৪ রান তোলে নিউজিল্যান্ড।
এরপর ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড। আদিল রশিদ আউট করেন টিম সাইফার্টকে। তিনি ২৫ বলে ৩৫ রান করেন। পরে উইল জ্যাকস ফেরান ফিন অ্যালেনকে। তিনি ১৯ বলে ২৯ রান করেন।
বিশ্বকাপের প্রথম বলেই উইকেট পান রেহান আহমেদ। তার শিকার হন রাচিন রবীন্দ্র। গ্লেন ফিলিপস ২৮ বলে ৩৯ রান করেন। পরে তিনি জ্যাকসের দ্বিতীয় শিকার হন। রশিদ ও রেহান দুজনেই নেন দুটি করে উইকেট।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে চায় উজবেকিস্তান। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে পরাজিত হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী পর্তুগালের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামতে প্রস্তুত দলটি। এশিয়ার উদীয়মান ফুটবল শক্তিগুলোর অন্যতম উজবেকিস্তান এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। প্রথম ম্যাচে হারলেও আব্বোসবিক ফায়জুল্লায়েভের করা গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে উজবেকিস্তানের প্রথম গোল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে, যা দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের জন্য গর্বের উপলক্ষ হয়ে আছে। এবার তাদের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেস ও রাফায়েল লেয়াওদের নিয়ে গড়া পর্তুগালের বিপক্ষে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। তবে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকলেও নিজেদের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না উজবেকিস্তানের প্রধান কোচ ফাবিও কানাভারো। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের হারানোর কিছু নেই। পর্তুগাল সবসময় বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পছন্দ করে এবং দ্রুতগতির ফুটবল খেলে। আমরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি।’ কানাভারো আরও জানান, প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার জন্য তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে নামলেও উজবেকিস্তানের লক্ষ্য থাকবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের সেরাটা তুলে ধরা। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও দৃঢ় মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন এই ইতালিয়ান কোচ। তিনি বলেন, ‘শুধু দৌড়ঝাঁপ করলেই হবে না, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খেলতে হবে। প্রতিটি মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রেখে লড়াই করতে হবে।’ গ্রুপের বর্তমান অবস্থানে উজবেকিস্তান এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। ফলে নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখতে পর্তুগালের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল পাওয়াটা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের গড়া রেকর্ড অন্য কেউ ভেঙে ফেললে কেমন লাগে? মুখে যে যতই বলুক, রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য—একটু খারাপ তো লাগারই কথা। কিন্তু রেকর্ড ভাঙা সেই মানুষটির নাম যদি হয় লিওনেল মেসি, তাহলে? তখন কেউ কেউ বলে দেন, আমার কাছে লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা। বক্তার নাম মিরোস্লাভ ক্লোসা। বিশ্বকাপ ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল—সব ধরনের খেলা মিলিয়েই এটি ভীষণ মর্যাদার এক রেকর্ড। সেটা এতদিন ক্লোসার দখলেই ছিল। ডালাসে গতকাল রাতে জার্মান কিংবদন্তির সেই রেকর্ড ভেঙে দেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করে পেছনে ফেলেন ক্লোসাকে। চারটি বিশ্বকাপে ২৪ ম্যাচে ১৬ গোল করে গত ১২ বছর ধরে রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন ক্লোসা। মেসি এবার তাঁর ক্যারিয়ারের ছয় নম্বর বিশ্বকাপে এসে ২৮ ম্যাচে ১৮ গোল করে রেকর্ডটি একার দখলে নিলেন। অস্ট্রিয়া-আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে রেকর্ডটির যৌথ ভাগীদার ছিলেন তাঁরা দুজন। ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর পেশাদার ফুটবল ছেড়ে দেওয়া ৪৮ বছর বয়সী ক্লোসা এখন জার্মান ফুটবলে দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব নুরেমবার্গের কোচ। মেসি তাঁর রেকর্ডটি ভেঙে ফেলার পর জার্মানির সংবাদমাধ্যম ‘ডয়েচে জেইতাং’কে ক্লোসা বলেছেন, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা। অভিনন্দন চ্যাম্পিয়ন!’ জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের ১৪ গোলের রেকর্ড ২০০৬ বিশ্বকাপে ভেঙে ফেলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও। এর আট বছর পর ২০১৪ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষেই রোনালদোর রেকর্ড ভেঙে ফেলেন ক্লোসা। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ন্যূনতম ১০ গোল করেছেন মাত্র ১৬ জন খেলোয়াড়। তাঁদের মধ্যে এবারের বিশ্বকাপে খেলছেন মাত্র তিনজন—আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি (১৮ গোল), ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৫ গোল) এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন (১০ গোল)। ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পের মেসির এই রেকর্ড ভেঙে ফেলার সুযোগটা অনেক বেশি। ক্লোসার ক্যারিয়ারে প্রথম বিশ্বকাপ ২০০২ সালে। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর; আর ২০০৬ সালে নিজের অভিষেক বিশ্বকাপে মেসি উদ্যাপন করেন তাঁর ১৯তম জন্মদিন। বিশ্বকাপে মোট ১৭৯৩ মিনিট মাঠে থেকে ৬৬টি শটে ১৬টি গোল পেয়েছেন ক্লোসা। মেসি বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া ম্যাচ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন মোট ২৪৮৪ মিনিট। ১১৮টি শট নিয়ে পেয়েছেন ১৮ গোল। ক্লোসার চেয়ে ৫২টি শট বেশি নিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে ক্লোসা তাঁর নেওয়া মোট শটের ২৪ শতাংশই গোলে রূপান্তর করেছেন, যেখানে মেসির হার ১৫ শতাংশ। প্রতি গোলে কত মিনিট সময় লেগেছে, সেই গড়েও মেসিকে (১৩৮ মিনিট) পেছনে ফেলেছেন ক্লোসা (১১২ মিনিট)। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—ক্লোসা জার্মানির জার্সিতে খেলেছেন নিখাদ স্ট্রাইকার হিসেবে। কিন্তু মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়লেন প্লে-মেকার হিসেবে।
আরও একবার লিওনেল মেসি ম্যাজিক। তার জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসির নৈপুণ্যে টানা দুই জয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করলো আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের ৩ মিনিটে বক্সের ভেতর ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনা স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেজ। অস্ট্রিয়ার দুই ডিফেন্ডারের চাপে বল রাখতে পারেননি। মার্তিনেজকে বক্সের ভেতর ফাউল করেছেন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার স্তেফান পশ। ভিআর দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। তবে স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। সাইড পোস্টের বাইরে দিয়ে মারেন তিনি। ৩৩ মিনিটে অস্ট্রিয়ার ডি-বক্সের ভেতর ফের্নান্দেসের উদ্দেশ্যে দেওয়া একটি পাস দারুণভাবে এগিয়ে এসে আটকে দেন শ্লাগার। কিন্তু তিনি বলটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে সরাসরি মেসির পায়ে ঠেলে দেন। তবে সেখান থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। তবে ৩৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার ক্রসে ডামি করেন থিয়াগো আলমাদা। এরপর বাঁ পায়ে অস্ট্রিয়ার জালে বল জড়ান মেসি। বিশ্বকাপে মেসির এখন ২৮ ম্যাচে গোলসংখ্যা ১৭টি। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডটি এখন একার দখলে নিলেন আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই ফুটবলার। ৬৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার একটি দুর্দান্ত আক্রমণ শেষ হয় ফের্নান্দেসের জোরালো শটের মাধ্যমে। অস্ট্রিয়ার এক ডিফেন্ডার তা ব্লক করে দেন। ৭৪ মিনিটে গঞ্জালেসের হেড পোস্টের বাইরে যায়। এরপর ম্যাচের যোগ করা সময়ে আবারও গোলের দেখা পান মেসি। এবার বিশ্বকাপে ২ ম্যাচে ৫ গোল দিলেন মেসি। এখন পর্যন্ত মেসিই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে আর্জেন্টিনা। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট দ্বিতীয় অস্ট্রিয়ার। তৃতীয় জর্ডান ও চতুর্থ আলজেরিয়া পয়েন্ট পায়নি এখনো।