অন্যান্য

নির্বাচনে জোটের নতুন সমীকরণ

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৪, ২০২৫

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন নতুন জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট দীর্ঘদিন সমমনাদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিল। একসময় জামায়াতে ইসলামীও বিএনপির জোটসঙ্গী ও সমমনা রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী জোট গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

নতুন রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। দল গঠনের পর থেকেই জল্পনা ছিল, এনসিপি আগামী নির্বাচনে কোন পথে যাবে। শেষ পর্যন্ত আমার বাংলাদেশ পার্টি, এনসিপিসহ কয়েকটি দল নিয়ে জোট গঠন করা হচ্ছে। একই সময়ে বাম রাজনৈতিক দলগুলোও বৃহত্তর জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় আছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও বামদলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ে অংশ নিতে চায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে এভাবেই রাজনৈতিক জোটের নতুন হিসাবনিকাশ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিচার ও সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতির পর প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মূল ব্যস্ততা নির্বাচনি জোট নিয়ে। কোনো কোনো রাজনৈতিক দলকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করলে বিজয় নিশ্চিত হবে এই হিসাব নিয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলো কাজ করছে।

নির্বাচন সামনে রেখে জোটের সমীকরণ চূড়ান্ত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির সঙ্গে থাকা দলগুলো নিয়ে বৃহৎ জোট গঠন করতে চাইছে বিএনপি। ইতোমধ্যেই বিএনপি ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তবে সমমনা দলগুলোর জন্য কিছু আসন খালি রাখা হয়েছে। সমমনাদের কোন আসনে প্রার্থী করা হবে, তা এখন আলোচনার বিষয়। বিএনপির সঙ্গে থাকা দলগুলো হলো গণতন্ত্র মঞ্চ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ১২ দলীয় জোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, এলডিপি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও গণফোরাম।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনের জন্য বিএনপি বৃহৎ জোট গঠনের চিন্তা করছে। যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিল, তাদের নিয়ে একটি বৃহৎ জোটের দিকে এগোচ্ছে দলটি। তিনি বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি লড়াই পার করার লক্ষ্য রয়েছে।

একই সময়ে একসময় বিএনপির সঙ্গে জোটভুক্ত এবং পরবর্তীতে সমমনা রাজনৈতিক দল হিসেবে রাজপথে থাকা জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে কিছু দলের পক্ষে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। আটটি রাজনৈতিক দল এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে, যা জামায়াত জোট না বলে নির্বাচনি সমঝোতা হিসেবে উল্লেখ করছে। এতে জামায়াতের সঙ্গে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট এবং নেজামে ইসলাম পার্টি। নির্বাচন ঘিরে ভবিষ্যতে আরও কিছু দল যুক্ত হতে পারে। এই সমঝোতায় প্রতিটি দলের পক্ষে একজন প্রার্থী থাকবে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দল অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করবে না, বরং নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতায় থাকবে।

নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি কোন জোটে যাবে, তা নিয়েই চলছে নানা সমীকরণ। এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, তারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবে না। বিএনপি ও জামায়াত দুটো দলকেই তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বৃহত্তর স্বার্থে এবং উদার গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাসী যেসব দল আছে, তাদের সঙ্গে যুগপৎ যাত্রা হতে পারে।

এনসিপির জোট প্রসঙ্গে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন জোট ঘোষণা করা হবে। জুলাই গণ অভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য জোট ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ নভেম্বর।

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও মিডিয়া সদস্যসচিব খান মুহাম্মদ মোরসালিন বলেন, ‘আমরা কোনো জোট করছি না, তবে আদর্শগত মিল থাকলে যুগপৎ যাত্রা সম্ভব।

বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, এবারের নির্বাচনে দল ও মার্কার পাশাপাশি সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে যোগ্য প্রার্থী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। মুক্তিকামী গণতন্ত্রকে সামনে রেখে লড়াই চালানো হবে। সেই লড়াইতে উপযুক্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা থাকা দলগুলোর সঙ্গে আমাদের ঐক্য জরুরি।

বামপন্থি দলগুলোর বৃহত্তর জোট চলতি মাসেই আত্মপ্রকাশ করতে পারে। যুক্তফ্রন্টের আদলে বাম ঘরানার কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলিত হয়ে নতুন জোট গঠন করছে। ২৯ নভেম্বর এই জোট আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে। ‘একসঙ্গে আন্দোলন এবং নির্বাচন’ লক্ষ্য নিয়ে এই জোট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ভোটের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

গত বছরের জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বামপন্থি দলগুলো জোট গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ছয়টি বামদল নিয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট এবং বাংলাদেশ জাসদ বৃহত্তর জোট গঠনের মূল উদ্যোক্তা। বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দলগুলো হলো বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশ বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী)।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মাঠে নামছে জামায়াত

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করবে। শনিবার (০৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমিরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বৈঠকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।   শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুসারে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে রোববার (০৯ আগস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধীদলের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি ১১ দলীয় ঐক্যের ওই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।   এ ছাড়া দেশের বিরাজমান সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ইস্যু ও ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ৪০৪ শিক্ষকের তৎপরতা, ব্যবস্থা চেয়ে দাবি

ছবি: সংগৃহীত

তনু হত্যা মামলা: সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান আবারও গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ান টাইগার মশা দমনে ৬ লাখ পুরুষ মশা ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
গুলশানে আ.লীগ নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক, গ্রেপ্তার ৬

রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকের সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (০৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ প্লাজার একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তাররা হলেন— মেহেদী মাসুদ চৌধুরী (৫৫), এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ (৩৩), নান্নু মিয়া (৩৮), আমিনুর রহমান (৪২), সজল আহমেদ (২৯) ও ইব্রাহিম হোসেন (৩৩)।   গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, পুলিশ প্লাজার পঞ্চম তলার একটি রেস্তোরাঁয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী গোপন বৈঠক করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বৈঠক শেষে তাদের রাজধানীতে মিছিলের পরিকল্পনা ছিল। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২৪৯

ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রীদের ১০ লাখ, এমপিদের ৫ লাখ বেতন চান নুর

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
ইবি ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠীদের ব্যক্তিগত ছবি পাঠানোর অভিযোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া তার যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তুবাউল জান্নাত ঐশী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি যশোর জেলায়। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও রুমমেটদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলে অবস্থানরত অনুমতি ছাড়া কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত ছবি তুলে আবিদ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রেমিকের কাছে পাঠাতেন। সম্প্রতি ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে কয়েকটি ছবি ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠান আবিদ। এরপর হলটিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী হলের ভেতরে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। তারা অভিযোগের সমর্থনে কিছু স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করেছেন বলে দাবি করেন। ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তুবাউল জান্নাত ঐশী বলেন, যা যা রটানো হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত করে বলা হচ্ছে। এ বিষয়ে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অভিযোগ পেলে বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করা হবে। তদন্তে কারা জড়িত তা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ে পলাতক আ. লীগ নেতাদের ৫৩ সম্পত্তির সন্ধান

ছবি: সংগৃহীত

৫ বৈশিষ্ট্যের মানুষ দীর্ঘদিন বাঁচতে পারেন, বলছে গবেষণা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের শীর্ষ ১১ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ

0 Comments