ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) উপজেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আমি আমার নেতাকর্মীদের বলেছি, যাতে কেউ প্রতিশোধপরায়ণ না হয়। কারণ নির্বাচনে পক্ষ-বিপক্ষ থাকবেই। তবে আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, যারা আমাদের সাথে রয়েছেন তারা তো নিরাপদে থাকবেই, যারা আমাদের সাথে নেই তারাও নিরাপদে থাকবেন।
শুক্রবার রাতে নির্বাচনে বিজয় লাভের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে দেখা করতে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
নয়নের ভাষায়, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই প্রথমবার তিনি মহান জাতীয় সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এই সুযোগকে মহান আল্লাহ তায়ালার একটি নেয়ামত উল্লেখ করে তিনি বলেন, চরফ্যাশন ও মনপুরাবাসী তার ওপর আস্থা রেখে ভোট দিয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
চরফ্যাশনের প্রধান সমস্যা হিসেবে নদী ভাঙন, বেকারত্ব এবং চিকিৎসার সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং ভোলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।
নয়ন আরও বলেন, চরফ্যাশন ও মনপুরার বেশিরভাগ মানুষের জীবনমান অত্যন্ত নিম্নমানের। তাদের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করবেন তিনি। সংসদে গিয়ে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচন পরবর্তী সংঘাত সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পরে চরফ্যাশন-মনপুরার মানুষদের দেখাশোনার দায়িত্ব এখন আমার। আমি এখন সকল মানুষের প্রতিনিধি। কে কোন দল করল, এভাবে ভাগ করতে চাই না। আমরা চরফ্যাশন-মনপুরার উন্নয়নের স্বার্থে সকলকে একসাথে নিয়ে কাজ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা ভোলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব। এজন্য আমরা ভোলার চারটি আসনে নির্বাচিত চার এমপি একসাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করব।
এর আগে, নুরুল ইসলাম নয়ন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। এ সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্মৃতিশক্তি একটু একটু করে কমতে থাকে, এটা খুবই স্বাভাবিক। আপনি কোথায় গাড়ি পার্ক করেছিলেন বা আপনার প্রথম স্কুলের শিক্ষকের নাম কী ছিল—এসব কথা ৫০ বছর বয়সের তুলনায় ৮০ বছর বয়সে মনে করাটাও বেশ কঠিন। কিন্তু সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা এই নিয়মের একেবারে বাইরে! ৮০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়স হলেও তাঁদের স্মৃতিশক্তি এমন তীক্ষ্ণ থাকে যে, কয়েক দশক কম বয়সী তরুণদের স্মৃতিও তাঁদের কাছে হার মানে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এই অসাধারণ মানুষদের বলা হয় সুপারএজার। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ইউনিভার্সিটির নিউরোসায়েন্টিস্ট এমিলি রোগালস্কি এই সুপারএজারদের নিয়েই একটি যুগান্তকারী গবেষণা চালাচ্ছেন। তাঁর মূল লক্ষ্য, এই মানুষগুলোর মস্তিষ্ক ঠিক কীভাবে এত বছর পরও এতটা সতেজ থাকে, তা খুঁজে বের করা। এমিলি ও তাঁর দল ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন, সুপারএজারদের মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স এবং হিপোক্যাম্পাস সাধারণ মানুষদের চেয়ে আকারে বড়। কিন্তু শুধু আকারই কি সব? নাকি এর পেছনে আরও কোনো গভীর রহস্য আছে? এমিলির ভাষায়, ‘সুপারএজার হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যাঁর বয়স ৮০-এর কোঠা পেরিয়েছে, কিন্তু তাঁর স্মৃতিশক্তি অন্তত ৫০ বা ৬০ বছর বয়সীদের সমান।’ তবে শুধু স্মৃতিশক্তি ভালো হলেই হবে না, তাঁদের মনোযোগ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও অন্তত তাঁদের বয়সের গড় মানুষের মতো হতে হবে। আপনি নিশ্চয়ই এমন কাউকে চেনেন, যাঁর বয়স হয়তো ৯০, কিন্তু কথা বললে মনে হয় তাঁর বয়স বড়জোর ৫০! এঁরাই হলেন সম্ভাব্য সুপারএজার। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ সবচেয়ে বেশি যে অভিযোগটি করে, তা হলো স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা ভুলে যাওয়া। এই ভুলে যাওয়াটাই হলো আলঝেইমার রোগের প্রধান লক্ষণ। এমিলি বলেন, ‘আলঝেইমার গবেষণার দুটি দিক আছে। একটি হলো, মস্তিষ্কে কী সমস্যা হচ্ছে তা খুঁজে বের করা এবং তা ঠিক করার চেষ্টা করা। অন্যটি হলো, এমন মানুষদের খুঁজে বের করা, যাঁরা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি না হারিয়ে বরং তা আরও শাণিত করছেন।’ কীভাবে খুঁজে পাওয়া যায় এই সুপারএজারদের সুপারএজারদের খুঁজে বের করাটা বেশ মজার। এমিলি ও তাঁর দল বিভিন্ন অবসরপ্রাপ্তদের কমিউনিটিতে গিয়ে সুস্থভাবে বয়স বাড়ার ওপর লেকচার দেন। সেখান থেকেই মূলত এই মানুষগুলোর খোঁজ মেলে। আবার অনেক সময় একজন সুপারএজার আরেকজন সুপারএজারকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করেন। শুরুতে শুধু শিকাগো শহরে এই গবেষণা চললেও, এখন তা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পাঁচটি ভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন অঞ্চল, বর্ণ ও গোষ্ঠীর সুপারএজারদের ওপর গবেষণা করা সম্ভব হচ্ছে। কীভাবে বোঝা যায় কেউ সুপারএজার সুপারএজারদের বাছাই করার প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ। প্রথমে তাঁদের বেশ কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক পরীক্ষা, জরিপ এবং ক্লিনিক্যাল সাক্ষাৎকার দিতে হয়। এরপর তাঁদের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান করা হয় এবং জিনগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে রক্ত নেওয়া হয়। মজার ব্যাপার হলো, অনেক সুপারএজারই জানতেন না যে তাঁদের স্মৃতিশক্তি এতটা অসাধারণ! যখন তাঁরা এটা জানতে পারেন, তখন তাঁদের গর্ব আর দেখে কে! এমিলি জানান, এই মানুষগুলো গবেষণার সঙ্গে সারা জীবনের জন্যই যুক্ত হয়ে যান। প্রতি দুই বছর অন্তর তাঁরা ফলোআপের জন্য আসেন এবং প্রতি ছয় মাস পরপর ফোনে তাঁদের খোঁজখবর নেওয়া হয়। এমনকি মৃত্যুর পর গবেষণার জন্য তাঁরা নিজেদের মস্তিষ্ক দান করারও সম্মতি দিয়ে রাখেন। মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে কী পাওয়া যায় মৃত্যুর পর সুপারএজারদের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দারুণ কিছু তথ্য পেয়েছেন। সাধারণত আলঝেইমার রোগের জন্য দায়ী মনে করা হয় টাউ নামে একধরনের প্রোটিনকে, যা মস্তিষ্কে জট পাকিয়ে যায়। সুপারএজারদের মস্তিষ্কে এই টাউ প্রোটিনের পরিমাণ অনেক কম থাকে। তবে সবচেয়ে বড় চমকটা অন্য জায়গায়! এমন অনেক সুপারএজার আছেন, যাঁদের মস্তিষ্কে আলঝেইমার রোগের প্রচুর জীবাণু বাসা বেঁধেছে। সাধারণ কোনো মানুষের মস্তিষ্কের এই অবস্থা দেখলে চিকিৎসকেরা বলতেন, তাঁর স্মৃতিশক্তি ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এই সুপারএজারদের স্মৃতিশক্তির কোনো ক্ষতিই হয়নি! তাঁরা আলঝেইমার জীবাণু বয়ে নিয়েও দিব্যি সুস্থ জীবন যাপন করেছেন। এর পেছনের রহস্যটা কী তাহলে কি এঁদের জিনগত কোনো বিশেষত্ব আছে? এমিলির মতে, সুপারএজাররা জেনেটিক্যালি সাধারণ মানুষের চেয়ে খুব একটা আলাদা নন। তাহলে রহস্যটা কোথায়? বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সুপারএজারদের মস্তিষ্কে ভন ইকোনোমো নামে একধরনের বিশেষ নিউরন বা স্নায়ুকোষের ছড়াছড়ি থাকে। মস্তিষ্কের অ্যান্টেরিয়র সিঙ্গুলেট অংশে সাধারণ মানুষের তুলনায় সুপারএজারদের নিউরন চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি থাকে! মস্তিষ্কের এই অংশটি মানুষের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনোযোগ ছাড়া স্মৃতি তৈরি হওয়া অসম্ভব। জীবনযাপনের স্টাইল: ডায়েট নাকি অন্য কিছু আপনি হয়তো ভাবছেন, সুপারএজাররা নিশ্চয়ই ঘড়ি ধরে স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং প্রচুর ব্যায়াম করেন। কিন্তু না! এমিলির গবেষণায় দেখা গেছে, সুপারএজারদের খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে কোনো মিল নেই। অনেকেই বলেছেন, তাঁরা ছোটবেলায় প্রচুর বাইরের খাবার খেয়েছেন। ব্যায়ামের ক্ষেত্রেও কেউ হয়তো হুইলচেয়ারে বসে হালকা হাত-পা স্ট্রেচ করেন, আবার কেউ হয়তো শত শত মাইল সাইকেল চালান। তাহলে আসল জাদুমন্ত্রটা কী? এমিলি বলেন, ‘সুপারএজারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে মিলটি আমরা দেখেছি, তা হলো তাঁরা সামাজিকভাবে প্রচণ্ড সক্রিয়।’ বয়স যখন ১০০ পার হয়ে যায়, তখন সমবয়সী বন্ধু বলতে আর কেউ বেঁচে থাকে না। তাই একাকীত্ব কাটানোর জন্য সুপারএজাররা নিজেদের চেয়ে অনেক কম বয়সী মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। কেউ হয়তো স্কুলে গিয়ে বাচ্চাদের সঙ্গে ভলান্টিয়ারিং করেন, আবার কেউ নিজের নাতি-নাতনিদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সময় কাটান। সুপারএজারদের আরেকটি বড় গুণ হলো, তাঁদের মানসিক দৃঢ়তা। এঁদের জীবন যে খুব মসৃণ ছিল, তা নয়। কেউ হয়তো হলোকাস্ট বা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা পার করে এসেছেন, কেউ হয়তো খুব অল্প বয়সেই নিজের সন্তান হারিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা সব সময়ই বলে এসেছেন, ‘জীবন আমাকে যতই কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলুক না কেন, আমি ঠিকই ঘুরে দাঁড়াব।’ সামাজিক মেলামেশা মস্তিষ্কের জন্য এত ভালো কেন আমাদের মস্তিষ্ক সব সময় নতুন ও চ্যালেঞ্জিং কিছু করতে ভালোবাসে। আমরা যেমন ভারোত্তোলন করে মাংসপেশি মজবুত করি, তেমনি মস্তিষ্কের জন্যও এক্সারসাইজ দরকার। অপরিচিত বা নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলা বা আড্ডা দেওয়াটা মস্তিষ্কের জন্য দারুণ এক্সারসাইজ। এমিলির একজন সুপারএজারের কথা খুব মনে পড়ে। তিনি নিজের নাতি-নাতনিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য তাদের যুগে ঢুকে গিয়েছিলেন। তিনি এমিলিকে বলেছিলেন, ‘ওরা তো আর ফ্রাঙ্ক সিনাত্রাকে চেনে না, তাই ওদের সঙ্গে কথা বলার জন্য আমাকে জানতে হয় টেইলর সুইফট বা চান্স দ্য র্যাপার শহরে কনসার্ট করতে আসছে কি না!’ এই প্রজন্মের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাই তাঁদের মস্তিষ্ককে সচল রাখে। আমাদের জন্য কী পরামর্শ আমরা অনেক সময়ই ভাবি, আমাদের জিন ভালো না হলে হয়তো আমরা বেশি দিন সুস্থভাবে বাঁচতে পারব না। কিন্তু এমিলির মতে, জিনই সব নয়। আমাদের জীবনযাপনের স্টাইল একে অনেকটাই বদলে দিতে পারে। আপনি যদি বৃদ্ধ বয়সেও সুপারএজারদের মতো তরতাজা মগজ পেতে চান, তবে এমিলির এই ছোট্ট পরামর্শটি মনে রাখতে পারেন: ‘আপনি হয়তো অফিস থেকে একা হেঁটে ফিরছেন। আপনার মনে হলো, কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনবেন নাকি কোনো পুরোনো বন্ধুকে ফোন করবেন? আমি বলব, বন্ধুকেই ফোন করুন!’ হ্যাঁ, সামাজিক যোগাযোগ এবং হাসি-আড্ডাই হতে পারে আপনার মস্তিষ্কের আসল তারুণ্যের চাবিকাঠি! সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট
রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের নবঘোষিত কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি ঘোষিত ছাত্রদলের আংশিক কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় সড়কের পাশে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা। পরে নবগঠিত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ঘটনাস্থলে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ঘোষিত আংশিক কমিটিতে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। তাদের দাবি, কমিটিতে টিকটকার, চাঁদাবাজ ও মাদকসেবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা এ কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলেন, নবগঠিত কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্তরের ভর্তি কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থায় ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনও ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে, তবে তা কেন্দ্রীয়ভাবে একক কোনও ব্যবস্থায় নয়। ক্যাচমেন্ট এরিয়া বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ফলে সব জায়গায় একই ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে না। তিনি আরও জানান, আগে যেভাবে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হতো, নতুন ব্যবস্থাতেও সেভাবেই ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয় করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা সেভাবে যাচ্ছি না। আগে যেমন ভর্তি পরীক্ষা ছিল, তেমনই ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয়ে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।” ভর্তি পরীক্ষার ধরন ও কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে কাজ চলছে এবং সময়মতো পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা জানানো হবে। প্রসঙ্গত, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্তরে লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন ব্যবস্থায় এলাকার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি মূল্যায়নেরও সুযোগ রাখা হচ্ছে।