আন্তর্জাতিক

নেপাল-তিব্বতে পাহাড়ি ঢলে প্রাণহানি ৬৩৩, নিখোঁজ আড়াই হাজার

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নেপালের উত্তরাঞ্চলের রসুয়া জেলা ও সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বতের গিরং এলাকায় ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের ঘটনায় প্রাণহানি বেড়ে ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজের সংখ্যাও বেড়ে প্রায় আড়াই হাজারে পৌঁছেছে।

 

কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে নেপালে ৬২৬ জন এবং তিব্বতে সাতজন রয়েছেন।

 

নিখোঁজদের মধ্যে রসুয়ায় ১ হাজার ৯২৪ জন এবং গিরংয়ে ৫৫৮ জন রয়েছেন। বানের পানিতে ভেসে যাওয়া কিংবা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে তারা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি ও তিব্বতি নাগরিকদের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৩৫টি দেশের প্রায় ৮০০ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

 

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোতিকোশি নদী ও এর শাখা লেহন্দে নদীর ওপর তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক বাধাজনিত হ্রদ ভেঙে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নেপালের সীমান্তবর্তী রসুয়া এবং তিব্বতের গিরং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির সঙ্গে আসা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে যায়।

 

এদিকে শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে নতুন একটি প্রাকৃতিক বাধাজনিত হ্রদের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেকোনো সময় সেটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে ভোতিকোশি নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় শুক্রবার তিব্বত ও নেপালে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে নেপালে আবার উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তিন দিন অপেক্ষা করার পর তিব্বতে উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু করা হবে।

 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
নেপাল-তিব্বতে পাহাড়ি ঢলে প্রাণহানি ৬৩৩, নিখোঁজ আড়াই হাজার

নেপালের উত্তরাঞ্চলের রসুয়া জেলা ও সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বতের গিরং এলাকায় ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের ঘটনায় প্রাণহানি বেড়ে ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজের সংখ্যাও বেড়ে প্রায় আড়াই হাজারে পৌঁছেছে।   কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে নেপালে ৬২৬ জন এবং তিব্বতে সাতজন রয়েছেন।   নিখোঁজদের মধ্যে রসুয়ায় ১ হাজার ৯২৪ জন এবং গিরংয়ে ৫৫৮ জন রয়েছেন। বানের পানিতে ভেসে যাওয়া কিংবা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে তারা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে।   নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি ও তিব্বতি নাগরিকদের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৩৫টি দেশের প্রায় ৮০০ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।   গত বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোতিকোশি নদী ও এর শাখা লেহন্দে নদীর ওপর তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক বাধাজনিত হ্রদ ভেঙে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নেপালের সীমান্তবর্তী রসুয়া এবং তিব্বতের গিরং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির সঙ্গে আসা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে যায়।   এদিকে শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে নতুন একটি প্রাকৃতিক বাধাজনিত হ্রদের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেকোনো সময় সেটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে ভোতিকোশি নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় শুক্রবার তিব্বত ও নেপালে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে নেপালে আবার উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তিন দিন অপেক্ষা করার পর তিব্বতে উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু করা হবে।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধে মাসে ৩৬ হাজার সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া

রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ‘সব ঘটনার ওপর নজর রাখছি’: জয়সওয়াল

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের ছয় মাস, কে কতটা জিতল

ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯

নেপালের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে।   দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন অন্তত ১৯২৪ জন। তাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক।   আন্তর্জাতিক রেড ক্রস (আইএফআরসি) জানিয়েছে, হিমালয়ের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।   বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছাকাছি রাসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক ও শক্তিশালী বন্যা দেখা দেয়।   পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নদীর তীরবর্তী জনপদ তছনছ করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। পরে সেই পানির স্রোত ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে।   বন্যার প্রবল স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও স্থাপনা ভেসে যায়। নদীর স্রোতে মরদেহ ও মানবদেহের বিভিন্ন অংশ মূল বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বহু দূরে ভাটির বিভিন্ন জেলায় পৌঁছায়।   এখন রাসুয়া ছাড়াও নুয়াকোট, ধাদিং, গোরখা, তানাহুন, চিতওয়ান ও নাওয়ালপরাসিতে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ২২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে।   যাদের জীবিত উদ্ধার করা গেছে, তাদের মধ্যে ৭৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন; তাদের মধ্যে রাসুয়ায় ৪৩, নুয়াকোটে ২৭ এবং ধাদিংয়ে তিনজন।   নিরাপত্তা ও সরকারি দায়িত্বে থাকা ১০৫ জনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫, পুলিশের ২৮, কাস্টমস কার্যালয়ের ১৫, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ এবং অভিবাসন কার্যালয়ের চারজন রয়েছেন।   তবে নিখোঁজের তালিকা এখনো চূড়ান্ত নয়। তালিকায় থাকা কেউ নিরাপদে অন্য কোথাও পৌঁছেছেন কি না, তা যাচাই করছে কর্তৃপক্ষ।   নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। মোট ১৪ হাজার ৮২৯ জন নিরাপত্তাকর্মীকে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৬ হাজার ৬৯৮, পুলিশের ৪ হাজার ৪৭৩ এবং সশস্ত্র পুলিশের ৩ হাজার ৬৫৮ জন।   হেলিকপ্টারে করে ৩ হাজার ৭৪২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে; এ কাজে সেনাবাহিনী ও বেসরকারি অপারেটররা মিলে ৭৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।   তবে উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি এখন বড় সংকট হয়ে উঠেছে উদ্ধার হওয়া মরদেহ সংরক্ষণ ও শনাক্ত করা।   চিতওয়ানে দুই শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হলেও জেলার হাসপাতালগুলোর মর্গে একসঙ্গে রাখা সম্ভব ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ। এ কারণে ভারতপুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের একটি অব্যবহৃত ভবনকে অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্রে রূপান্তর করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখা সম্ভব হবে।   নবলপরাসী পূর্ব জেলাতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জায়গা না থাকায় সেখান থেকে মরদেহ পোখারা, বুটওয়াল, ভৈরহাওয়া ও পালপায় পাঠানো হয়েছে।   কাওয়াসোটির একটি কমিউনিটি ফরেস্ট হলও অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পোখারায় তানাহুন, গোরখা, নাওয়ালপরাসি ইস্ট ও ধাদিং থেকে ৯৩টি মরদেহ নেওয়া হয়েছে।   কাসকি জেলার হাসপাতালগুলোর সম্মিলিত মর্গের ধারণক্ষমতা ৮৮টি হওয়ায় সেখানেও ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে।   মরদেহ শনাক্ত করতে পুলিশ ছবি তুলছে, আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করছে, ময়নাতদন্ত করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডিএনএ নমুনা নিচ্ছে। ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য কাঠমান্ডুর নেপাল একাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় ফরেনসিক বিজ্ঞান গবেষণাগারে পাঠানো হচ্ছে।   যেসব মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হবে না, সেগুলোর জন্যও কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি মরদেহকে একটি নম্বর দেওয়া হবে এবং দাফনের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পরে ডিএনএ বা অন্য কোনো প্রমাণের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হলে মরদেহের অবস্থান শনাক্ত করা যায়।   নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ভাটির এলাকাগুলোতে, বিশেষ করে চিতওয়ানে ছুটে যাচ্ছেন। কেউ কেউ নিখোঁজ স্বজনের ছবি হাতে নিয়ে অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্রের কাছে অপেক্ষা করছেন।   এদিকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ভূমিধসে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে চীনের তিব্বত অংশে ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে একটি বড় হ্রদ তৈরি হয়েছে।   শুক্রবার সেই বাঁধ উপচে পড়ার খবরে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।   সরকার রাসুয়া ও নুয়াকোটকে তাৎক্ষণিক ১ কোটি নেপালি রুপি করে এবং ধাদিংকে ৫০ লাখ রুপি নগদ সহায়তা দিয়েছে। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ৩০টি ট্রাক ও চারটি বিমান কার্গো চালানও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।   এ ছাড়া মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী ও সব মন্ত্রীর এক মাসের বেতন ও পারিশ্রমিক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্যাকেজ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   ভারত অতিরিক্ত মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে। তৃতীয় সামরিক উড়োজাহাজে আরও ১২ টন ত্রাণসামগ্রী নেপালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে; এর আগে দুটি চালানে ৪৭ টনের বেশি ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটি ৫ লাখ ডলার সহায়তা ঘোষণা করেছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় একজন পরামর্শক পাঠানোর কথা জানিয়েছে।   তবে বন্যা শুরুর দুই দিন পরও পুরো পরিস্থিতির চিত্র স্পষ্ট হয়নি। একদিকে জীবিতদের সন্ধান ও নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে, অন্যদিকে ক্রমশ বাড়তে থাকা মরদেহের ব্যবস্থাপনা, শনাক্তকরণ এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তর বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।   ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে। ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় নতুন করে পানির প্রবাহ বাড়ে কি না, সেটিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি বাড়ছেই, মৃতের সংখ্যা ৫৪৭

ছবি: সংগৃহীত

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নতুন হ্রদ, ফের বন্যার শঙ্কায় চীনে উদ্ধারকাজ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয়, মৃতের সংখ্যা ৪৭২

ছবি: সংগৃহীত
ইতালিতে বাড়ছে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ, আক্রান্ত ৪৩২; মৃত্যু ১৭

ইতালিতে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪৩২ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৭ জন।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইতালির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪৩২টি নিশ্চিত সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যাদের স্নায়ুতন্ত্রে জটিলতা (নিউরোইনভেসিভ) দেখা দিয়েছে, তাদের মধ্যে মৃত্যুহার ৭ দশমিক ২ শতাংশ। তবে গত বছরের একই সময়ে এই মৃত্যুহার ছিল ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ।   গত বছরের পুরো আক্রান্তের সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেছে পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ ইতোমধ্যে গত বছরের পুরো সময়ের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে ইতালিতে মোট ৪৩০ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যেই বেশি। বছর শেষ হতে এখনো কয়েক মাস বাকি থাকায় সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   যেভাবে ছড়ায় ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস মূলত মানুষ, ঘোড়া ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত পাখিকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে ভাইরাসটি অন্য প্রাণী ও মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। প্রায় ১৯ শতাংশ আক্রান্তের ক্ষেত্রে জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথাসহ ফ্লুর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে প্রায় ১ শতাংশ আক্রান্তের ক্ষেত্রে ভাইরাসটি স্নায়ুতন্ত্রে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে এনসেফালাইটিস বা মেনিনজাইটিসের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ইতালিতে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় মশাবাহিত রোগটির বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি ৪৬৯, নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার

ছবি: সংগৃহীত

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয়, প্রাণহানি ৩৩২

ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, নিহত বেড়ে ৯৫

0 Comments