জাতীয়

নতুন করে প্রশ্ন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায়

Unknown নভেম্বর ০৮, ২০২৫ 0

বিতর্ক, দুর্ঘটনা আর সমালোচনার পিছু যেন কিছুতেই ছাড়ছে না হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে। দেশের প্রধান এই প্রবেশদ্বার এখন বারবার অনিয়ম, চুরি ও দুর্নীতির ঘটনায় আলোচিত হচ্ছে। একের পর এক ঘটনার ধাক্কায় বিমানবন্দরের গৌরবময় ঐতিহ্য মলিন হয়ে পড়ছে, প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।

 

সর্বশেষ কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সিলগালা করা স্ট্রংরুমের তালা ভাঙার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মোবাইল চুরির ঘটনায় জড়িত পাওয়া গেছে দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্যকে। তার পোশাকের ভেতর লুকানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় পুরোনো মডেলের ১৫টি বাটন মোবাইল ফোন। ঘটনার পর দ্রুত তাকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার ও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

 

এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকে বলছেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যই যখন চুরির সঙ্গে জড়িত, তখন সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত—তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর লাগেজসহ হাজারো চুরির ঘটনা ঘটে এই বিমানবন্দরে। বহুদিন ধরেই এখানে সক্রিয় রয়েছে একটি সুসংগঠিত লাগেজ চোর সিন্ডিকেট, যার সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু সদস্যের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও রয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে তিনটি লাগেজ চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। গত ছয় মাসেই এমন অভিযোগ এসেছে ৫৪০টির মতো।

 

সম্প্রতি ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের পরও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়, যখন দেখা যায় সিলগালা অবস্থায় থাকা স্ট্রংরুমের তালা ভাঙা হয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য আমদানি করা আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল। অনেকের আশঙ্কা, সেই অস্ত্রের কিছু অংশ নিখোঁজ হতে পারে। ঠিক সেই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটে আনসার সদস্যের মোবাইল চুরির ঘটনা।

এর আগেও লাগেজ চুরির ঘটনায় একাধিকবার বিমানবন্দরের কর্মীরা ধরা পড়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে এক যাত্রীর লাগেজ থেকে ৬ হাজার ৮০০ ইউরো চুরির ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাঁচ কর্মী গ্রেপ্তার হন। এরও আগে বছরের শুরুতে সৌদি ফেরত যাত্রী কাজী মোশতাক আহম্মেদের লাগেজ হারানোর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দিতে হয় বিমান কর্তৃপক্ষকে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ভুক্তভোগী।

 

তাছাড়া, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে আরও কয়েকজন প্রবাসী যাত্রীর লাগেজ হারানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে সিসিটিভি বিশ্লেষণ করে লাগেজ উদ্ধার সম্ভব হলেও বেশিরভাগ ঘটনারই কোনো সুরাহা হয়নি।

একজন সিভিল এভিয়েশন কর্মকর্তা জানান, বাইরে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকলেও ভেতরে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দায়িত্বহীনতা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাইরে কড়াকড়ি দেখালেও ভেতরের নিরাপত্তা কাঠামোতে দুর্বলতা এতটাই প্রকট যে চক্রগুলো সহজেই সক্রিয় থাকতে পারছে।

 

অন্যদিকে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই চোর ধরা পড়েছে—এটা ব্যক্তিগত অসাধুতা, পুরো বাহিনীকে দায়ী করা যাবে না।

তবে এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক অনিয়মের ঘটনার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তারা বলছেন, তদন্ত কমিটির নামে দায় এড়ানোর প্রবণতা চলছে, অথচ এভাবে চলতে থাকলে বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ও যাত্রীদের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

দেশের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লাখো মানুষের গন্তব্য। কিন্তু লাগেজ চোর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, দুর্বল প্রশাসনিক তদারকি ও অসাধু ব্যক্তিদের কার্যকলাপ এখন পুরো ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষ সত্যিই এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারে কি না—নাকি আগের মতোই নতুন কোনো ‘তদন্ত কমিটি’ গঠনের মধ্যেই থেমে যাবে সবকিছু।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৩ মে’র ট্রেনের টিকিট বিক্রি আজ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৩ মে’র ট্রেনের টিকিট বুধবার (১৩ মে) বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অবৈধ টিকিট বিক্রি রোধে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।   বুধবার (১৩) সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আর দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।   ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, ঈদের আগে পাঁচ দিনের ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম বিক্রি করা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের ২৪ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৪ মে, ২৫ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৫ মে, ২৬ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৬ মে এবং ২৭ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৭ মে।   রেলওয়ের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, একজন যাত্রী ঈদ অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। ঈদ অগ্রিম যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না।   যাত্রীদের অনুরোধে যাত্রার দিন মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে।   এদিকে, ঈদের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের টিকিট বিক্রি করা হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৩, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংগৃহীত ছবি

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় পেনশন স্কিমে ৩২ মাসে যুক্ত ৩.৭৭ লাখ মানুষ, জমা ২৫৫ কোটি টাকা

ছবি : সংগৃহীত

শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর সম্ভাব্য তারিখ জানালেন বিমানমন্ত্রী

ফাইল ছবি
ইউরোপীয় বাজারে ধাক্কা, শঙ্কায় গার্মেন্টস শিল্প

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ফের অস্বস্তি নেমে এসেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানিসংকটের কারণে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ২.৮২ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এই খাত এখন বহুমুখী সংকটে।   রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে তিন হাজার ১৭২ কোটি ডলার। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতে রপ্তানি কমেছে ৩.৬৮ শতাংশ এবং ওভেন খাতে কমেছে ১.৮৩ শতাংশ। বিশেষ করে প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানি ৪.৩৮ শতাংশ কমে যাওয়ায় পুরো খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় অর্ধেক ইইউভুক্ত দেশগুলোতে যায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এই অঞ্চলে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৫৫৪ কোটি ডলারের পোশাকপণ্য। কিন্তু ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ধীরগতি, মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের কারণে পোশাকের চাহিদা কমে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের অনেক দেশে এখনো জীবনযাত্রার ব্যয় উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। খাদ্য, জ্বালানি ও বাসাভাড়ার বাড়তি চাপের কারণে সাধারণ মানুষ পোশাকসহ অপ্রয়োজনীয় পণ্যে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর দেশের ওপর। এদিকে শুধু ইউরোপ নয়, অপ্রচলিত বা নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারেও রপ্তানি কমেছে। গত ১০ মাসে এসব বাজারে রপ্তানি আয় ৫.৮৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫১৬ কোটি ডলারে। যদিও অপ্রচলিত বাজারগুলো বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ১৬ শতাংশের ভোক্তা, তবু সেখানে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি আসেনি। তবে কিছুটা ইতিবাচক দিকও রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের বাজারে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়ে ৬২৯ কোটি ডলার, কানাডায় ১০৯ কোটি ডলার এবং যুক্তরাজ্যে ৩৬৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি ইউরোপীয় বাজারের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে পোশাকশিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি। গত কয়েক বছরে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং ব্যাংকঋণের সুদহার বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডলার সংকটের কারণে আমদানিনির্ভর কাঁচামাল কিনতেও অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। সুতা, কাপড়, রাসায়নিক ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ায় অনেক কারখানার উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতারা আগের তুলনায় বেশি দাম দিতে রাজি নন। বরং তাঁরা কম মূল্যে পণ্য কিনতে চাচ্ছেন। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও রপ্তানিকারকরা পণ্যের দাম বাড়াতে পারছেন না। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান লাভের পরিবর্তে টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোর ওপর এর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে। একই সঙ্গে জ্বালানির সংকট পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলেছে। শিল্পাঞ্চলগুলোয় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারছে না। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। শিল্প মালিকরা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া জ্বালানিসংকটের কারণে উৎপাদন পরিকল্পনা বারবার পরিবর্তন করতে হওয়ায় দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতাও কমে যাচ্ছে। পোশাকশিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা দ্রুত বিকল্প উৎসর দিকে ঝুঁকে পড়ে। বর্তমানে ভিয়েতনাম, ভারত, চীন, তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত প্রতিযোগী হিসেবে উঠে এসেছে। এসব দেশের অনেক কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা থাকায় তারা কম খরচে দ্রুত উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে। নিট পোশাক খাতের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে ইহসান শামীম বলেন, ‘ইউরোপে অর্থনৈতিক ধীরগতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের কারণে পোশাকের চাহিদা কমে গেছে। এর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতাও বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনায় সহজীকরণ নিশ্চিত করা এবং ভ্যাট ও কাস্টমস খাতে দুর্নীতি কমিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’ সব মিলিয়ে বলা চলে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির সংকট এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা খাতটিকে বড় চাপে ফেলেছে। তবে সময়োপযোগী নীতি সহায়তা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বাজার বৈচিত্র্যের মাধ্যমে এই খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৩, ২০২৬ 0

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদকের সঙ্গে জড়িত, না হলে দেশে এত মাদক আসে কীভাবে: নাসীরুদ্দীন

সংগৃহীত ছবি

পেনশন স্কিমে নিবন্ধিত হলেন ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অটিজমে আক্রান্তদের পূর্ণ মর্যাদায় বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি
সংসদে বেসরকারি সদস্যদের ৯ বিল পাস

জাতীয় সংসদে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে নেই- এমন সংসদ সদস্যদের বেসরকারি সদস্য বলা হয়। তাদের উত্থাপিত বিলগুলো বেসরকারি বিল হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ থেকে দ্বাদশ সংসদ পর্যন্ত বেসরকারি সদস্যদের আনা মোট নয়টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছিল বিরোধী দলের সদস্যের উত্থাপিত, আর বাকি আটটি বিল এসেছে ক্ষমতাসীন দল বা জোটের সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে। মঙ্গলবার (১২ মে) জাতীয় সংসদের ‘বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব’ সম্পর্কিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সূত্র জানায়, অতীতের ১২টি সংসদের মধ্যে প্রথম, ষষ্ঠ ও দ্বাদশ সংসদে বেসরকারি সদস্যরা কোনো বিল উত্থাপন করেননি। এর মধ্যে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১২ দিন। প্রথম সংসদের মেয়াদ ছিল ২ বছর ৭ মাস এবং দ্বাদশ সংসদের মেয়াদ ছিল ৬ মাস ৮ দিন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ এবং শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। প্রথম দিনের বৈঠকেই ‘বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব’ সম্পর্কিত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহানকে। তার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বেসরকারি সদস্যদের বিলের খসড়া প্রস্তুতে সংসদ সদস্যদের সহায়তা দিতে সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং ইউনিটকে আরও সক্রিয় হওয়ার সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মো. শাহজাহান ছাড়াও বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, তাহসিনা রুশদীর, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, শাহজাহান চৌধুরী এবং নূরুল ইসলাম। সংসদ অধিবেশন চলাকালে বৃহস্পতিবার সাধারণত বেসরকারি সদস্যদের কার্যদিবস হিসেবে প্রাধান্য পায়, যা ‘বেসরকারি দিবস’ নামে পরিচিত। তবে স্পিকার চাইলে দিনটি সরকারি কার্যদিবস হিসেবেও নির্ধারণ করতে পারেন।

মারিয়া রহমান মে ১২, ২০২৬ 0
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত

বিগত সরকার বিদ্যুৎ খাতে দেশীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে : জ্বালানি মন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

ভিসা আবেদনের ব্যাংক স্টেটমেন্টে কিউআর কোড যুক্ত করার নির্দেশ

সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ-পুশইন রোধে বিজিবি সর্বদা জাগ্রত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments