‘সঠিকভাবে দাঁত প্রতিস্থাপন, সুন্দর হাসি সুস্থ জীবন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব প্রস্থোডন্টিস্ট দিবস উদযাপিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ প্রস্থোডন্টিক সোসাইটির উদ্যোগে বিশ্ব প্রস্থোডন্টিস্ট দিবস–২০২৬ উদযাপন এবং নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ডেন্টাল চিকিৎসার বিশেষায়িত শাখা প্রস্থোডন্টিকস-এর দুই শতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয় এবং শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা ওড়ানো হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ডা. মো. আলমগীর কবীর স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বিশ্ব প্রস্থোডন্টিস্ট দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। সংগঠনের কার্যপরিধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোকপাত করেন বাংলাদেশ প্রস্থোডন্টিক সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. মাসুদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ প্রস্থোডন্টিক সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এটিএম সাইফুল ইসলাম।
বাংলাদেশ প্রস্থোডন্টিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবু তৈয়ব মো. আহসান উল্লাহ’র সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আতিক মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল অনুষদের ডিন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ডেন্টাল সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) ডা. কামরুল হাসান।
বক্তারা নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটির বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রস্থোডন্টিকস শাখার উন্নয়ন এবং ডেন্টাল চিকিৎসার অন্যান্য বিশেষায়িত শাখার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে মুখ ও দাঁতের আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফেল ড্র-এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মুখ ও দাঁতের চিকিৎসার উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজন দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, উত্তর বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে ভোটের পুরনো হিসাব-নিকাশও বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০–দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ইতিহাসে যে ইকুয়েশন ৫০–৫৫ বছর ধরে চলে আসছিল, সেই প্রতিটি ইকুয়েশন এবারের নির্বাচনে ভেঙে গেছে। রাস্তায় বের হলেই দেখা যাচ্ছে—বাজারের সবজিওয়ালা, রিকশাওয়ালা, শিক্ষক-ছাত্রসহ সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বললে রাজনৈতিক পরিবর্তন স্পষ্ট বোঝা যায়। তাই আগের গতানুগতিক হিসাব-নিকাশ এবার জনগণের ভোটের মাধ্যমে বদলে যাবে।” তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের আগামী রাজনৈতিক গতিপথ। বিগত ১৭ বছরে জনগণ যেসব অপশাসন, গুম-খুন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দেখেছে, আগামী দিন তা পুনরাবৃত্তি হবে কি হবে না—এবং ক্ষমতায় আসার জন্য যে দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, সেটির কার্যক্রমও প্রভাব ফেলবে। আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একপক্ষের দিকে হেলেছে। ভোটে অনিয়ম হলে জুলাইয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও তিনি দেন। তিনি বলেন, আগের বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনারদের কার্যক্রম আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, ভবিষ্যতে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি যাতে না ঘটে আমরা তা চাই। তিনি উল্লেখ করেন, ১০–দলীয় ঐক্য শুধুমাত্র আসন ভাগাভাগির জন্য নয়, বরং নীতিনির্ধারণ ও সংস্কারের জন্যও গড়ে উঠেছে। বিজয়ী হলে ঐক্যশীলরা আরও বেশি নির্বাচন কমিশন সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসনের ভোটারদের জামায়াত ও ১০–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকারের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঢাকা-১০ আসনের জনগণ পরিবর্তন চায়। কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী বা খুনির পুনরাবৃত্তি তারা চায় না। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য নুর নবী মানিক। অনুষ্ঠান চলাকালে ইসলামি সংগীত পরিবেশিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছোট ভাই ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মরহুম কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৪টায় গুলশান কার্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান জানান, সকাল ৯:৩০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করা হবে এবং কোরআন তেলাওয়াত করা হবে। এ সময় বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত মেধা তালিকায় ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে মূল মেধা তালিকায় ৯ হাজার ৪৯৮ জন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তালিকায় ২৮ জন এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের ২ জন স্থান পেয়েছে। স্থাপত্য বিভাগে মূল মেধা তালিকায় ৩০৩ জন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তালিকায় ১ জন স্থান পেয়েছে। মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত সকল প্রার্থীকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে (যঃঃঢ়ং://ধফসরংংরড়হপঁবঃ.ধপ.নফ) গিয়ে অনলাইন চয়েস ফর্মের প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভাগের পছন্দক্রম প্রদান করতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের জন্য ১১টি পছন্দসহ একটি পছন্দক্রম পূরণ করতে হবে। তবে, স্থাপত্য বিভাগের ভর্তিচ্ছুদের জন্য কোনো পছন্দক্রম পূরণের প্রয়োজন নেই। মেধা তালিকায় স্থান প্রাপ্তদের মধ্য থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের মূল মেধাক্রমের প্রথম ১ হাজার ২৫০ জন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মেধাক্রমের প্রথম ১০ জন এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের ১ জনকে ডাকা হয়েছে। আবার স্থাপত্য বিভাগের মূল মেধা তালিকার প্রথম ১০ জন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেধাক্রমের ১ জনকে ডাকা হয়েছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ে ভর্তির জন্য ডাকা হয়েছে। এদিন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে সশরীরে নিরীক্ষা কমিটির কাছে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা প্রদান সাপেক্ষে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে। নিরীক্ষা কমিটি দ্বারা প্রার্থীদের সনদপত্র যাচাইয়ের পর ওই দিনই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। পরের দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় প্রাপ্ত বিভাগ দেখে ভর্তির জন্য নির্ধারিত ১৮ হাজার ৫০০ টাকা সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখায় বিকেল ৩টার মধ্যে জমা প্রদান করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। তবে, কোনো প্রার্থী স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে একই দিন ভর্তির জন্য নির্ধারিত ফি কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে ব্যাংকে জমা দিতে পারবে। প্রথম পর্যায়ে ভর্তির পর ভর্তিকৃত প্রার্থীর বিভাগ ও মোট শূন্য আসন সংখ্যা এবং পরবর্তী দফায় ভর্তির জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা ১ মার্চ ভর্তির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ওরিয়েন্টেশনের দিন পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘সব প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার রেজাল্টও দ্রুততম সময়ে দেওয়া হয়েছে।’ উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি চুয়েটের স্নাতক প্রথম বর্ষে (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় পুরকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, যন্ত্রকৌশল এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদসমূহের মোট ১২টি বিভাগে সংরক্ষিত ১১টিসহ মোট ৯৩১টি আসনের বিপরীতে মোট ১২ হাজার ৯৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।