সারাদেশ

মেহেরপুর সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

মারিয়া রহমান জুন ১৯, ২০২৬
সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়।
সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়।

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা সীমান্ত দিয়ে চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বলে দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি বলে জানানো হয়েছে।


শুক্রবার ভোরে উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকার ১১৬ নম্বর প্রধান সীমান্ত পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ভোরের দিকে সীমান্তের ওপারে চারজন ব্যক্তিকে দেখা যায়। পরে বিজিবি কঠোর অবস্থান নিলে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। একপর্যায়ে ধাওয়া দিলে তারা ভারতের কাঁটাতারের কাছাকাছি ফিরে যায়। পরে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।


স্থানীয়দের ধারণা, ওই চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন। তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে কয়েকটি কাপড়-চোপড় পড়ে থাকতে দেখা যায়।


বিজিবি ও স্থানীয়রা বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালালেও তাদের আর পাওয়া যায়নি। পরে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়।


চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, বুড়িপোতা সীমান্ত দিয়ে চারজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। তিনি আরও বলেন, যেখানেই পুশইনের চেষ্টা করা হবে, সেখানেই তা প্রতিহত করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়।
মেহেরপুর সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা সীমান্ত দিয়ে চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বলে দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি বলে জানানো হয়েছে। শুক্রবার ভোরে উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকার ১১৬ নম্বর প্রধান সীমান্ত পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ভোরের দিকে সীমান্তের ওপারে চারজন ব্যক্তিকে দেখা যায়। পরে বিজিবি কঠোর অবস্থান নিলে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। একপর্যায়ে ধাওয়া দিলে তারা ভারতের কাঁটাতারের কাছাকাছি ফিরে যায়। পরে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, ওই চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন। তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে কয়েকটি কাপড়-চোপড় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিজিবি ও স্থানীয়রা বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালালেও তাদের আর পাওয়া যায়নি। পরে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়। চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, বুড়িপোতা সীমান্ত দিয়ে চারজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। তিনি আরও বলেন, যেখানেই পুশইনের চেষ্টা করা হবে, সেখানেই তা প্রতিহত করা হবে।

মারিয়া রহমান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গ্র্যান্ড সুলতানসহ ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম জানালো বাজুস

ছবি : সংগৃহীত

দেড় মাস বয়সী সন্তানকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করলেন বাবা

ছবি: সংগৃহীত
অর্থের কারণে সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যাহত করা যাবে না: আমানউল্লাহ আমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেছেন, অর্থ বা আর্থিক প্রভাবের কারণে কোনোভাবেই সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যাহত করা যাবে না। তিনি বলেন, সমাজে সবার জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব, এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকা উচিত নয়।   তিনি এই মন্তব্য করেন একটি আলোচনা সভা বা দলীয় কর্মসূচিতে (সূত্র অনুযায়ী) বক্তব্য দেওয়ার সময়। আমানউল্লাহ আমান বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে সমাজে অসন্তোষ বাড়ে এবং মানুষের আস্থা কমে যায়। তাই বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখা জরুরি।   তিনি আরও বলেন, সমাজে দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষেরা অনেক সময় অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রকে এ বিষয়ে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।   বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।   শেষে তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
নজরুল ইসলাম। ফাইল ছবি।

চাঁদাবাজির মামলায় নেত্রকোনার জামায়াত নেতা কারাগারে

ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহে চালু হলো অত্যাধুনিক কসাইখানা

ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ার নতুন ৪ ইউনিয়নের নামকরণের পেছনের গল্প

প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রামে বাসের ধাক্কায় নিহত গরু ব্যবসায়ী

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ উপজেলার বাগিচারহাট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবুল (৫৯) নামে এক গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা চারটি গরুর মধ্যে দুটি মারা গেছে। মঙ্গলবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   জানা যায়, বাগিচারহাট এলাকা থেকে চারটি গরু নিয়ে সাতকানিয়ার কেরানীরহাট যাচ্ছিলেন বাবুল। রাতের বেলায় মহাসড়ক দিয়ে গরুগুলো নিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কক্সবাজারমুখী দ্রুতগতির একটি ঈগল পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে ও গরুগুলোকে ধাক্কা দেয়।   এতে গুরুতর আহত হন বাবুল। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান। ঘটনাস্থলেই দুটি গরুর মৃত্যু হয়। বাকি দুটি গরু আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।   দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনায় এক গরু ব্যবসায়ী মারা গেছেন। আমরা দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসটি শনাক্ত করেছি। বাসের চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই ধসে পড়ল সভামঞ্চের প্যান্ডেল

ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ কুষ্টিয়া হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মিলল নানা অনিয়ম

ছবি: সংগৃহীত

আইসিটি বিভাগের আরএডিপি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা

0 Comments