স্বাস্থ্য

মাথার পেছনে ব্যথা কেন হয়? জেনে নিন সম্ভাব্য কারণ

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মাথাব্যথা আমাদের জীবনের এক অতি সাধারণ সমস্যা। তবে ব্যথার স্থান এবং ধরন অনেক সময় গুরুতর কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে মাথার পেছনের অংশে ব্যথা হলে আমরা অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়ি। এই ব্যথা কেন হয় এবং এটি কীসের সংকেত হতে পারে, তা নিয়ে আজকের আলোচনা।

 

ব্যথার নেপথ্যে সাধারণ কিছু কারণ

মাথার পেছনের অংশে ব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ হলো টেনশন হেডেক বা দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথা। প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাথমিক মাথাব্যথাই এই ধরনের হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে মাথার পেছনের অংশে এক ধরনের চাপ বা আঁটসাঁট অনুভূতি হয়, যা অনেক সময় ঘাড় এবং চোখের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা অবসাদ এর অন্যতম প্রধান কারণ।

এছাড়া মাইগ্রেনও মাথার পেছনের ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। যদিও মাইগ্রেন সাধারণত মাথার একপাশে হয়, তবে অনেক সময় এটি পুরো মাথায় বা পেছনের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ‘অক্সিপিটাল মাইগ্রেন’ এর ক্ষেত্রে মাথার খুলির নিচ থেকে শুরু করে তালু পর্যন্ত জ্বালাপোড়া বা বৈদ্যুতিক শকের মতো অনুভূতি হতে পারে।

জীবনযাত্রার প্রভাব ও সংকেত

আমাদের প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসও মাথার পেছনের ব্যথার কারণ হতে পারে:

  • বসার ভঙ্গি: দীর্ঘক্ষণ কুঁজো হয়ে বসে কাজ করলে কাঁধ এবং ঘাড়ের পেশিতে টান পড়ে। এর ফলে পেশিতে ছোট ছোট গিঁটের মতো সৃষ্টি হয় যা মস্তিষ্কে ব্যথার সংকেত পাঠায়।
  • পানিশূন্যতা: শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব হলে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। গরম আবহাওয়ায় এটি আরও বেশি দেখা দেয়।
  • শারীরিক পরিশ্রম: অতিরিক্ত ব্যায়াম বা কঠোর পরিশ্রমের পর রক্তনালী প্রসারিত হওয়ার কারণে মাথায় স্পন্দন বা দপদপানির মতো ব্যথা হতে পারে।

গুরুতর কিছু ইঙ্গিত

মাথার পেছনের ব্যথা সব সময় সাধারণ নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া বা স্নায়ুর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে হঠাৎ করে তীব্র ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা অনুভূত হয়। এছাড়া ঘাড়ের হাড়ের সমস্যা বা স্পাইনাল আর্থ্রাইটিস থেকেও সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথা হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের টিউমার বা রক্তচাপের অস্বাভাবিক পরিবর্তনও পেছনের ব্যথার কারণ হতে পারে।

ঘরোয়া প্রতিকার ও সমাধান

ব্যথা কমাতে কিছু সহজ উপায় মেনে চলা যেতে পারে:

  • তাপ বা ঠান্ডা থেরাপি: পেশির টান কমাতে গরম সেঁক এবং প্রদাহ কমাতে বরফ বা ঠান্ডা সেঁক বেশ কার্যকর।
  • লাইফস্টাইল পরিবর্তন: নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, প্রচুর পানি পান এবং সুষম খাবার গ্রহণ মাইগ্রেন ও টেনশন হেডেক কমাতে সাহায্য করে।
  • ম্যাসাজ: ঘাড় ও কাঁধের পেশি শিথিল করতে হালকা ম্যাসাজ বেশ ফলদায়ক হতে পারে।
  • ওষুধ: সাধারণ ব্যথায় আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসিটামিনোফেন জাতীয় ওটিসি ঔষধ সেবন করা যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে হওয়া ভালো।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

মাথাব্যথা যদি নিচের লক্ষণগুলোর সাথে দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে:

  • যদি এটি আপনার জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা হয়।
  • মাথাব্যথার সাথে যদি উচ্চ জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
  • শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা দৃষ্টিশক্তি ঘোলা হয়ে গেলে।
  • মাথায় আঘাত পাওয়ার পর ব্যথা শুরু হলে।

মাথার পেছনের ব্যথা অবহেলা না করে এর কারণ বুঝে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সুস্থ থাকা সম্ভব। সচেতনতাই হতে পারে আপনার সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
প্রতিদিনের ত্বকের যত্নে মধুর ফেস প্যাক

দুধ-মধুর ফেসপ্যাক যা ত্বকের ময়েশ্চারাইজার থেকে শুরু করে পিএইচ ব্যালেন্স বজায় রাখার জন্য দারুণ কার্যকর। দুধ ও মধুর এন্টিএজিং  ফর্মুলা বয়সের ছাপ কমায়। কথিত আছে, মিসরের রানি ক্লিওপেট্রা নিজের ত্বককে তরুণ, উজ্জ্বল এবং পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত দুধ দিয়ে গোসল করতেন। রইল দুধ ও মধুর তৈরি ফেসপ্যাকের কয়েকটি উপকারিতা।   ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার টক দুধে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিড, যা আলফা-হাইড্রক্সি অ্যাসিড হিসেবে পরিচিত। এটি চমৎকার প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। আর মধুতে থাকা ইমোলিয়েন্ট এবং হিউমেক্ট্যান্ট ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ভীষণ কার্যকরী। যা আপনার ত্বককে রাখবে নরম-কোমল। এ কারণেই ত্বকের যত্নে প্রস্তুতকৃত পণ্যে দুধ ও মধুর ব্যবহার করা হয়।   দুধ ত্বককে রাখে দৃঢ় এবং মসৃণ এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১২ শতাংশ ট্রপিক্যাল ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের সূক্ষ্ম রেখা এবং বলিরেখা কমিয়ে দেয়। ফলে ত্বক দেখায় তরুণ। এটি ত্বককে দৃঢ় এবং মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও দুধে হালকা এক্সফোলিয়েটিংয়ের প্রভাব বিদ্যমান। যা মুখে প্রয়োগে একই ফল দেয়।   মধু ত্বকের পিএইচ বজায় রাখে ত্বকের ব্রেকআউট এবং ফুসকুড়ি প্রতিরোধের পাশাপাশি ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের পিএইচ ভারসাম্যহীনতা ত্বকের প্রাকৃতিক গ্রোথে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। মধু ত্বকের পিএইচ মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।   জেনে নিন উপকারিতা মধুতে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং মিথাইলগ্লাইক্সাল উপাদান, যা ত্বকের ক্ষতগুলোকে কার্যকরভাবে নিরাময়ে সাহায্য করে। এটি ত্বকের পোড়া দাগ, ক্ষত এবং অন্যান্য সমস্যা যেমন- সোরিয়াসিস, খুশকি, ফুসকুড়ি, সেবোরিয়া এবং টিনিয়া নিরাময়ের জন্যও উপযুক্ত। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্রণের ক্ষতগুলোতে মধু প্রয়োগ করলে দ্রুত নিরাময় হতে পারে। মধু ত্বকের পোড়, জেদি ব্রণের দাগ এবং অরিয়াস ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে দারুণ কাজ করে।   দুধ ও মধুর কয়েকটি ফেসপ্যাক ১। কাঁচা দুধ, লেবুর রস এবং মধুর প্যাক। এই প্যাকটি অন্তত ১৫ মিনিট মুখে ও ঘাড়ে লাগাতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ও ঘাড় ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে এক দিন ব্যবহারই যথেষ্ট।   ২। মধু, হলুদ বাটা এবং দুধ নিয়ে ভালো করে মেশান। মিশ্রণটি ২০ মিনিট রেখে, ঘষে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহারে ত্বক নরম হবে, সঙ্গে মধু ও হলুদের গুণে ত্বক উজ্জ্বল হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ক্যানোলা তেল কি ত্বকের জন্য উপকারী? জানুন বিশেষজ্ঞের মত

ছবি: সংগৃহীত

মাথা-ঘাড়ে ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে যে ৩ লক্ষণ

ছবি: সংগৃহীত

সকালে উঠে এই ৫ ভুল করলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ছবি: সংগৃহীত
হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে মোট ১ হাজার ১৩৭ শিশু।  রোববার (২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৮ জনে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৬ শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৫ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ১ হাজার ২২ শিশু। এ সময়ে নতুন করে ৯৪৬ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৮৬ শিশু।   এদিকে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৩ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ হাজার ২৯৫ জন। তাদের মধ্যে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৬২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮ হাজার ২৮৩ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০২, ২০২৬
ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা। ছবি: সংগৃহীত

জুলাইয়ে ডেঙ্গুতে সাত মাসের সর্বোচ্চ মৃত্যু

সংগৃহীত ছবি

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা ব্যবহারের উপকারিতা জেনে নিন

ডিম | ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন কতটি ডিম খেলে শরীরের জন্য ভালো?

ছবি: সংগৃহীত
যে সময় মধু খেলে মিলতে পারে সর্বোচ্চ উপকার

মধু কেবল একটি সুস্বাদু খাবারই নয়, এটি অসংখ্য ঔষধি গুণে ভরপুর একটি ‘সুপারফুড’। পুষ্টিবিদ এবং ডায়েটিশিয়ানদের মতে, দিনের যে কোনো সময়ে মধু খাওয়া গেলেও নির্দিষ্ট কিছু সময়ে এটি গ্রহণ করলে শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যায়।   নিচে মধু খাওয়ার সেরা সময় এবং এর উপকারিতাগুলো তুলে ধরা হলো: ১. সকালে খালি পেটে সকালে এক গ্লাস হালকা গরম পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য বিস্ময়কর কাজ করতে পারে। সকালবেলা মধু খাওয়ার ফলে শরীর দিনভর সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকে।   উপকারিতা: এটি দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে, হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। এ ছাড়া এটি ত্বক ভালো রাখতে এবং বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থেকে শরীরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।   ২. বিকেলে শক্তির উৎস হিসেবে দিনের অর্ধেক সময় পার হওয়ার পর যখন শরীর ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়ে, তখন এক চামচ মধু আপনাকে নতুন করে চনমনে করে তুলতে পারে। এই সময়ে ক্যাফেইন বা চিনিযুক্ত নাশতার বদলে মধু খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।   উপকারিতা: মধু একটি প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরে কার্বোহাইড্রেটের জোগান দেয় এবং দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।   ৩. রাতে ঘুমানোর আগে বিশেষজ্ঞরা রাতের বেলা ঘুমানোর আগে মধু খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এক গ্লাস গরম দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে তা শরীরের পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে।   উপকারিতা: এটি গভীর ও প্রশান্তিদায়ক ঘুমে সাহায্য করে এবং লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়। এ ছাড়া রাতের বেলা মধু খেলে তা অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালাপোড়া কমাতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।   ৪. অসুস্থ অবস্থায় বা সর্দি-কাশিতে সর্দি-কাশি বা গলা ব্যথায় মধু একটি অব্যর্থ ঘরোয়া টোটকা হিসেবে কাজ করে। এটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।   উপকারিতা: মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রাকৃতিক উপায়ে কফ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি শরীরের মেটাবলিক ফাংশন উন্নত করে।   ৫. ব্যায়ামের আগে বা পরে যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত করেন, তাদের জন্য মধু একটি আদর্শ পানীয়। এটি এনার্জি ড্রিংকের চমৎকার বিকল্প হিসেবে কাজ করে।   উপকারিতা: এটি শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি দেয় এবং ব্যায়ামের পর পেশির ক্লান্তি দূর করে দ্রুত রিকভারিতে সাহায্য করে। এটি খুব সহজে হজম হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।   শেষকথা মধু যে সময়েই খাওয়া হোক না কেন, এর পরিমিত ব্যবহার শরীরের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তবে সর্বোচ্চ উপকার পেতে আপনার দৈনন্দিন রুটিনে উপরোক্ত সময়গুলোয় মধু অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
মেথি ভেজানো পানি | ছবি : সংগৃহীত

মেথির পানিতে উপকারের পাশাপাশি ঝুঁকি, যাদের জন্য বিপজ্জনক

ছবি: সংগৃহীত

প্লাস্টিক বোতলের পানি কি ডেকে আনছে ক্যানসারের ঝুঁকি?

ছবি: সংগৃহীত

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অভিযোগ, ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসটিআই

0 Comments