বিশ্ব

মার্কিন হুমকির জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি তেহরানের

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন হুমকির জবাবে সামরিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। শুক্রবার ইরান বলেছে, ওয়াশিংটন নতুন কোনো হুমকি দিলে তার জবাব হবে ‘বিধ্বংসী’। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।

 

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেন, স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার সক্ষমতা নিয়ে ইরানের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। নতুন কোনো হুমকি এলে ‘কঠোর, শাস্তিমূলক ও বিধ্বংসী’ জবাব দেওয়া হবে।

 

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের বাণিজ্য বা সহায়তা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আগামী সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলা।

 

তবে নিষেধাজ্ঞার হুমকির মধ্যেই ইরানের অর্থনৈতিক দুর্বলতার কথাও স্বীকার করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়; মানুষের খাবার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অর্থের প্রবাহ ও জাতীয় উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।

 

এদিকে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়লে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

ইরানের তেল রপ্তানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। তাই বেইজিংয়ের ওপরও চাপ বাড়াতে পারে ওয়াশিংটন। তবে চীনের দূতাবাস জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কোনো সমস্যার সমাধান করে না। কূটনীতির মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে।

 

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগেও দুবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্ববাজারে বাণিজ্য হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো।

 

হরমুজে জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ মিত্রদেশগুলোর প্রতিরক্ষা প্রধানদের সঙ্গে ভিডিও বৈঠকও করেছেন। 

 

ন্যাটো জানিয়েছে, এটি জোটের কোনো সামরিক অভিযান নয়; তবে হরমুজে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলা, নিন্দা জানাল ১২ দেশ

সিরিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে ১২টি দেশ। দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।  শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, আলজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, লেবানন, মালয়েশিয়া, মৌরিতানিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, কাতার, সৌদি আরব ও সোমালিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানান। তারা হামলাটিকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তারা। গত মঙ্গলবার উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমান। হামলায় ঘাঁটির রানওয়ে ও সামরিক সরঞ্জাম রাখার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, সিরিয়া ওই ঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইসরায়েলের আশঙ্কা ছিল, সেখানে তুর্কি সেনা উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। তবে তুরস্ক ইসরায়েলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি জানিয়েছে, হামলার সময় আবু আল-দুহুর ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সেনা ছিল না। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বলেছেন, ঘাঁটিটিতে তুরস্কের কোনো স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল না। সেখানে তুর্কি সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও ছিল না বলে জানান তিনি। তার দাবি, যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সংস্কার করে সিরিয়ার বিমানবাহিনীর ব্যবহারের উপযোগী করাই ছিল সেখানে চলমান কাজের উদ্দেশ্য। ইসরায়েলি বিমান হামলার সময় ঘাঁটিটি প্রায় খালিই ছিল বলেও জানান তিনি। এদিকে সিরিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ও তুরস্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক ইসরায়েলের এই অভিযানকে ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এ ধরনের অভিযান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তেমন কোনো ভূমিকা রাখে না।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২২, ২০২৬
বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো বৈধ নয়: বেলজিয়াম

ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া

দক্ষিণ লেবাননে আবারও ইসরায়েলি বিমান হামলা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ছে ইরাক

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন হুমকির জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন হুমকির জবাবে সামরিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। শুক্রবার ইরান বলেছে, ওয়াশিংটন নতুন কোনো হুমকি দিলে তার জবাব হবে ‘বিধ্বংসী’। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।   ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেন, স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার সক্ষমতা নিয়ে ইরানের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। নতুন কোনো হুমকি এলে ‘কঠোর, শাস্তিমূলক ও বিধ্বংসী’ জবাব দেওয়া হবে।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের বাণিজ্য বা সহায়তা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আগামী সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলা।   তবে নিষেধাজ্ঞার হুমকির মধ্যেই ইরানের অর্থনৈতিক দুর্বলতার কথাও স্বীকার করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়; মানুষের খাবার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অর্থের প্রবাহ ও জাতীয় উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।   এদিকে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়লে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ইরানের তেল রপ্তানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। তাই বেইজিংয়ের ওপরও চাপ বাড়াতে পারে ওয়াশিংটন। তবে চীনের দূতাবাস জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কোনো সমস্যার সমাধান করে না। কূটনীতির মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে।   এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগেও দুবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্ববাজারে বাণিজ্য হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো।   হরমুজে জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ মিত্রদেশগুলোর প্রতিরক্ষা প্রধানদের সঙ্গে ভিডিও বৈঠকও করেছেন।    ন্যাটো জানিয়েছে, এটি জোটের কোনো সামরিক অভিযান নয়; তবে হরমুজে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইটের বদলে পাটকেল : দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের একাংশ গুঁড়িয়ে দিল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি-কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ২১ হাজারের বেশি পাকিস্তানি বহিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত

জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে পাঁচ নারীসহ ৮ প্রার্থী

  নজিরবিহীন বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা, যুদ্ধ ও ভয়াবহ বাজেট সংকটে থাকা জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে নেমেছেন পাঁচ নারী ও তিন পুরুষ। তবে বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো এ বিষয়ে বিভক্ত থাকায় কে এগিয়ে আছেন, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রার্থীদের সমর্থন যাচাইয়ে প্রথম অনানুষ্ঠানিক ভোটে কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান এগিয়ে ছিলেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ প্রার্থীদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিয়ে তা সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের জন্য পাঠাবে। তবে প্রয়োজনীয় নয়টি ভোটের পাশাপাশি পাঁচ স্থায়ী সদস্যের (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া) ভেটো এড়ানোই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।   রেবেকা গ্রিনস্প্যান (কোস্টারিকা): আঙ্কটাডের প্রধান ও কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ চুক্তিতে মধ্যস্থতা করে তিনি প্রশংসিত হন। ৭০ বছর বয়সী এই প্রার্থী ইহুদি পরিবারের সন্তান, যাদের স্বজনরা হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন।   মিশেল বাচেলেত (চিলি): ৭৪ বছর বয়সী চিলির এই সাবেক প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ছিলেন। উইঘুর নির্যাতন নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ায় চীনের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। গর্ভপাতের অধিকার সমর্থন করায় যুক্তরাষ্ট্র তার সমালোচনা করেছে এবং নিজ দেশ চিলিও সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। তবে মেক্সিকো ও ব্রাজিল তাকে সমর্থন দিচ্ছে।   মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা (ইকুয়েডর): সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি ৬১ বছর বয়সী এসপিনোসা সংস্থাটির ব্যাপক সংস্কার এবং সংঘাত এড়াতে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা তাকে সমর্থন করলেও নিজ দেশ ইকুয়েডর সমর্থন দেয়নি।   রাফায়েল গ্রসি (আর্জেন্টিনা): ৬৫ বছর বয়সী এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ইউক্রেনের জাপোরিজ্জিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র ইস্যুতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   ক্যারোলিন রড্রিগেস-বির্কেট (গায়ানা): ৫২ বছর বয়সী গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমানে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সংস্থাটির হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন।   ইভোনে এ-বাকি (ইকুয়েডর): ৭৫ বছর বয়সী এই কূটনীতিক ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। লেবানিজ বংশোদ্ভূত এ-বাকিকে টোঙ্গা মনোনীত করেছে এবং কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে তার ভালো প্রভাব রয়েছে।   ম্যাকি সাল (সেনেগাল): ৬৪ বছর বয়সী সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট একমাত্র প্রার্থী যিনি ল্যাটিন আমেরিকার নন। আফ্রিকান ইউনিয়ন ও নিজ দেশের সমর্থন পেলেও তার বিরুদ্ধে নিজ দেশে সহিংস বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ রয়েছে।   ওলার ওতুন্নু (উগান্ডা): ৭৫ বছর বয়সী ওতুন্নু কফি আনানের অধীনে শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। তিনি উগান্ডার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধী দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২১, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতির বিবৃতি প্রকাশ করে প্রত্যাহার করলো ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন

ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে ২২ ভারতীয়সহ দুই জাহাজ ছিনতাই

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক ক্যাপিটলে বোমা হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করল এফবিআই

0 Comments