বিশ্ব

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো বৈধ নয়: বেলজিয়াম

মারিয়া রহমান আগস্ট ২২, ২০২৬
বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো।
বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে বেলজিয়াম। দেশটি ইসরায়েলের ই-১ বসতি প্রকল্পে নির্মাণকাজের জন্য দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে।  ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে। 


বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো বলেছেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। একই সঙ্গে এটি ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।


তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘সরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ।’


ই-১ প্রকল্প বন্ধ ও বসতি সম্প্রসারণ থামানোর আহ্বান জানিয়ে ১১টি দেশ যৌথ বিবৃতিও দিয়েছে। বেলজিয়ামের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও সুইডেন ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে।


দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, ই-১ এলাকায় বসতি নির্মাণ করা হলে পশ্চিম তীর কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়বে। এতে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক সংযোগও বাধাগ্রস্ত হবে।


গত ১৮ আগস্ট ইসরায়েল ই-১ এলাকায় ১ হাজার ২৩৪টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। পুরো প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৪০১টি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ই-১ অঞ্চলটি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মাঝখানে অবস্থিত। ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের কারণে ফিলিস্তিনিদের উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিম তীরের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করে আসছে আন্তর্জাতিক মহল।


ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ইর আমিম, বিমকম ও পিস নাও এবং ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা প্রকল্পের বিরুদ্ধে জরুরি আবেদন করেছেন। আইনি চ্যালেঞ্জ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণের দরপত্র স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।


পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে আমরা পাকিস্তানের পাশে থাকবো: বিজেপি নেতা মদন

যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ভারত পাকিস্তানের পাশে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের রাজস্থান রাজ্য বিজেপির সভাপতি মদন রাঠোর। প্রতিবেশী দেশ হওয়ার যুক্তি দেখিয়ে বৃহস্পতিবার এক জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।    জনসভায় মদন রাঠোর বলেন, ‘আমাদের সবার বিষয়টি বোঝা দরকার। দেখুন, ভারতের প্রসঙ্গে আমি বলছি, আজ যদি আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে আমরা পাকিস্তানের পাশে থাকব। কারণ, দেশটি আমাদের প্রতিবেশী’।   তিনি আরও বলেন, কিন্তু যখন আমাদের নিজেদের মধ্যকার কোনও বিষয় আসে, তখন আমরা আমাদের ভারতের পাশে দাঁড়াই। ঠিক তো? এটাই আমাদের বোঝা দরকার।   মদন রাঠোরের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের নেতারা ও অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। পাকিস্তানের বিষয়ে তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র শামা মুহাম্মদ তার বক্তব্যকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, রাজস্থান বিজেপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলটি কী ব্যবস্থা নেবে।   শামা মুহাম্মদ বলেন, আমাদের সেনা ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে এমন সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতি বিজেপির ভালোবাসা আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। রাজস্থান বিজেপির সভাপতি মদন রাঠোর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হলে তিনি পাকিস্তানের পাশে থাকবেন।     তিনি আরও বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহও কি পাকিস্তানের পাশে আছেন? যদি না থাকেন, তাহলে এই দেশবিরোধী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের জানান’।   কংগ্রেসের জাতীয় সমন্বয়ক সন্দীপ গুপ্তও মদন রাঠোরের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, এই বক্তব্য পাকিস্তানের প্রতি বিজেপির অনুরাগ প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানকে তিনি ‘সন্ত্রাসী দেশ’ বলে উল্লেখ করেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সন্দীপ গুপ্ত লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে আমরা পাকিস্তানের পাশে থাকব- বলেছেন রাজস্থান বিজেপির সভাপতি মদন রাঠোর। আবারও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতি বিজেপির ভালোবাসা প্রকাশ্যে এসেছে। বিজেপি পাকিস্তানকে ভালোবাসে!’   আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাঠোরের বক্তব্য ছড়িয়ে দেন। দলটির দিল্লি ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত যুব শাখার রাজ্য সভাপতি রমেশ মাতিয়ালা এবং এএপি নেতা বিনয় মহাবল মিশ্র কোনও মন্তব্য ছাড়াই তার বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করেন। এএপির উত্তর প্রদেশের সহসভাপতি রাম গুপ্ত অভিযোগ করেন, রাঠোরের মন্তব্য বিজেপি ও পাকিস্তানের মধ্যে অভিন্ন আদর্শিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সামনে এনেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, এখনও কি কারও কোনও সন্দেহ আছে? সত্য হলো, বিজেপি ও পাকিস্তানের ডিএনএ একই। রাজস্থান বিজেপির সভাপতি মদন রাঠোরই বলছেন, ‘আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হলে আমরা পাকিস্তানের পাশে থাকবো’।   এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আরও অনেক ব্যবহারকারীও রাজস্থান বিজেপি সভাপতির বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে ভারত পাকিস্তানের পাশে থাকবে তার এই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেছেন তারা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ফেলতে পারেন ট্রাম্প

‘নো ম্যানস ল্যান্ড ফোর্ট’, রূপকথার চেয়েও নাটকীয় যার ইতিহাস

পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে শিক্ষকসহ ১৭ জন নিহত

ছবি: সংগৃহীত
মোদি ‘বর্বরতার’ সব সীমা ছাড়িয়েছেন, ক্ষোভ ধ্রুব রাঠির

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। উত্তরাখন্ডের তরুণী অঙ্কিতা ভাণ্ডারির হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত তাঁর মা বাবাকে পুলিশ আটক করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।   বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে ধ্রুব রাঠি লেখেন, নরেন্দ্র মোদি ‘বর্বরতার’ সব সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। পোস্টের সঙ্গে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের একটি ভিডিওও যুক্ত করেন তিনি।   পোস্টে অঙ্কিতা ভাণ্ডারির মা বাবার প্রসঙ্গ তুলে ধ্রুব রাঠি অভিযোগ করেন, যে ব্যবস্থার কারণে অঙ্কিতাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে, সেই ব্যবস্থার মধ্যেই এখন তাঁর মা বাবাকেও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না।   ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উত্তরাখন্ডের একটি রিসোর্টে কাজ করার সময় ১৯ বছর বয়সী অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। চার দিন পর স্থানীয় একটি খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রিসোর্টের মালিক পুলকিত আর্য এবং তাঁর দুই কর্মী সৌরভ ভাস্কর ও অঙ্কিত গুপ্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।   ঘটনাটি ঘিরে অভিযোগ ওঠে, রিসোর্টে আসা এক প্রভাবশালী অতিথিকে বিশেষ সুবিধা দিতে অঙ্কিতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এ নিয়ে ‘ভিআইপি’ বিতর্ক তৈরি হয়। অঙ্কিতার পরিবার কথিত ওই অতিথির পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।   ২০২৫ সালের ৩০ মে আদালত পুলকিত আর্যসহ তিন আসামিকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে কথিত ভিআইপির পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আলোচনায় রয়ে গেছে।   মেয়ের হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ করার সময় অঙ্কিতার মা বাবাকে গত রাতে আটক করে পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরই নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেন ধ্রুব রাঠি।

মোঃ নাহিদ হোসেন অক্টোবর ১৫, ২০২৬

মক্কায় মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি কমেছে

ইরানে ‘সব বোমার মা’ ব্যবহারের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

২০২৩ থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক ২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশু

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী ২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে। বর্তমানে তাদের মধ্যে ৩৫০ জন কঠোর পরিস্থিতিতে বন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি।   বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি জানায়, ফিলিস্তিনি শিশুদের ভয় দেখানো ও আটকের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। পরে তাদের ওপর নির্যাতন, অনাহারে রাখা এবং চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।   প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগ গঠন বা মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ ছাড়াই শিশুদের আটক রাখছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের আটক শিশুদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে এবং পরিবার ও শিক্ষাজীবনের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।   যেসব শিশুকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে, তাদের মুক্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি নির্যাতন, অনাহারে রাখা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তদন্ত এবং এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তারা।   সূত্র: আলজাজিরা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৫, ২০২৬

অনলাইনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ইরানি শিক্ষার্থীর মৃত্যুদণ্ড

হুতি হামলায় বিপাকে সৌদি আরবে যাওয়া ওমরাহযাত্রীরা

ইরানে স্টারলিংক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

0 Comments