স্বাস্থ্য

মানুষ প্রতিদিন গড়ে কত কদম হাঁটে? জানাচ্ছে গবেষণা

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আজকাল কবজিতে ফিটনেস ট্র্যাকার বা স্মার্টওয়াচ পরা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সুস্থ থাকার তাগিদে অনেকেই এখন প্রতিদিনের হাঁটার হিসাব রাখেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে আসলে কত কদম হাঁটেন? গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত পদক্ষেপ গণনা করেন, তারা অন্যদের তুলনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২,৫০০ কদম বেশি হাঁটেন।

 

বয়স ও লিঙ্গভেদে হাঁটার তারতম্য

মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাঁটার পরিমাণ কমতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে—

  • ১৮ বছরের নিচে: শিশুরা সাধারণত প্রতিদিন ১০,০০০ থেকে ১৬,০০০ কদম হাঁটে।
  • প্রাপ্তবয়স্ক (১৮+): একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ গড়ে ৪,০০০ থেকে ১৮,০০০ কদম পর্যন্ত হাঁটতে পারেন।
  • লিঙ্গভেদ: শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত পুরুষরা সাধারণত নারীদের তুলনায় বেশি হাঁটেন।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা প্রতিদিন গড়ে ৫,৩৪০ কদম এবং নারীরা ৪,৯১২ কদম হাঁটেন।

 

পেশা যখন হাঁটার নিয়ন্ত্রক

 

আপনার প্রতিদিনের হাঁটার পরিমাণ অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কী কাজ করেন তার ওপর। একটি অস্ট্রেলীয় গবেষণায় ১০টি ভিন্ন পেশার মানুষের হাঁটার গড় হিসাব পাওয়া গেছে—

  • ওয়েটার: প্রতিদিন গড়ে ২২,৭৭৮ কদম
  • নার্স: ১৬,৩৯০ কদম
  • খুচরা বিক্রেতা: ১৪,৬৬০ কদম
  • শিক্ষক: ১২,৫৬৪ কদম
  • অফিস কর্মী: ৭,৫৭০ কদম
  • কল সেন্টার কর্মী: ৬,৬১৮ কদম

বিশ্বজুড়ে হাঁটার চিত্র

বিভিন্ন দেশের মানুষের হাঁটার গড়েও রয়েছে বড় পার্থক্য। ২০১৭ সালের একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে—

  • হংকং: তালিকায় শীর্ষে, এখানকার মানুষ গড়ে ৬,৮৮০ কদম হাঁটেন।
  • চীন: ৬,১৮৯ কদম
  • যুক্তরাজ্য: ৫,৪৪৪ কদম
  • ভারত: ৪,২৯৭ কদম
  • ইন্দোনেশিয়া: তালিকার নিচের দিকে, মাত্র ৩,৫১৩ কদম।

জলবায়ু, রাস্তার হাঁটার উপযোগিতা এবং আয়ের ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যার পরিবর্তন হতে পারে।

সুস্থ থাকতে লক্ষ্য কত হওয়া উচিত?

সাধারণত প্রতিদিন ১০,০০০ কদম হাঁটার লক্ষ্য নির্ধারণ করাকে আদর্শ মানা হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং বিষণ্নতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

আমেরিকান স্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি (CDC)-র মতে, সুস্থ থাকতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা প্রয়োজন, যা দিনে গড়ে ২,০০০ কদমের মতো দ্রুত হাঁটার সমান। তবে সারাদিনের অন্যান্য কাজ মিলিয়ে ১০,০০০ কদমের লক্ষ্য পূরণ করা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো।

প্রতিদিন হাঁটার পরিমাণ বাড়ানোর কিছু সহজ উপায়

  • ১. লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
  • ২. কেনাকাটা বা কাজের প্রয়োজনে গাড়ি একটু দূরে পার্ক করে বাকি পথ হাঁটুন।
  • ৩. বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে হাঁটুন।
  • ৪. ঘরের কাজ নিজে করার চেষ্টা করুন।
  • ৫. কাজের বিরতিতে ছোট ছোট হাঁটাহাঁটি করুন।

প্রতিদিনের এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন উপহার দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
খুলনায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ, ধারণক্ষমতার চার গুণ রোগী

উপকূলীয় শিল্পনগরী খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শয্যা খালি না থাকায় মেঝেতেই সেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে রোগীদের।  খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নানা উদ্যোগ, ওষুধ ছিটানো ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও বাস্তবে কমছে না এডিস মশার উপদ্রব। সংক্রমণের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাসা-বাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে কেসিসি ও স্বাস্থ্য বিভাগ। শহরের ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে তৎপর রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো।   সোমবার (৩১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২২৩ জন এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ৬০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। জেলাভিত্তিক হিসেবে খুলনা জেলাতেই সর্বোচ্চ ১৪৬ জন (সরকারি ৮৭ ও বেসরকারি ৫৯) নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫৫ জন।   অন্যান্য জেলার মধ্যে যশোরে ৩২, নড়াইলে ১২, ঝিনাইদহে ৮, সাতক্ষীরায় ৭ (মেডিকেল কলেজসহ ১৩), বাগেরহাটে ৫, মাগুরায় ৫, মেহেরপুরে ৪ এবং কুষ্টিয়ায় ৩ জন রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে চুয়াডাঙ্গায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি হননি।   ডেঙ্গুর হটস্পট খুলনা, হাসপাতালে ভর্তি ধারণক্ষমতার চার গুণ বেশি রোগী উপকূলীয় শিল্পনগরী খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শয্যা খালি না থাকায় মেঝেতেই সেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে রোগীদের।    বিজ্ঞাপন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নানা উদ্যোগ, ওষুধ ছিটানো ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও বাস্তবে কমছে না এডিস মশার উপদ্রব। সংক্রমণের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাসা-বাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে কেসিসি ও স্বাস্থ্য বিভাগ। শহরের ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে তৎপর রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো।   সোমবার (৩১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২২৩ জন এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ৬০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। জেলাভিত্তিক হিসেবে খুলনা জেলাতেই সর্বোচ্চ ১৪৬ জন (সরকারি ৮৭ ও বেসরকারি ৫৯) নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫৫ জন।   অন্যান্য জেলার মধ্যে যশোরে ৩২, নড়াইলে ১২, ঝিনাইদহে ৮, সাতক্ষীরায় ৭ (মেডিকেল কলেজসহ ১৩), বাগেরহাটে ৫, মাগুরায় ৫, মেহেরপুরে ৪ এবং কুষ্টিয়ায় ৩ জন রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে চুয়াডাঙ্গায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি হননি।   খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৪৮ জনে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৯৫৪ জন এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৯৫৪ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৭৬০ জন রোগী চিকিৎসাধীন।   বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে খুলনায়ই ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বাগেরহাটের একজন মারা গেছে। চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত গেল ৭ মাসে ৮ জনের মৃত্যু হয়। আর শুধু আগস্ট মাসেই মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। গেল ৮ মাসে আগস্টেই ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে।   সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের। বিভাগের সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন এই বিশেষায়িত হাসপাতালে। এখানে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার ৩৮৯ জন ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে চাপ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে ডেঙ্গু রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। রোগীর চাপ এতটাই বেশি, নির্ধারিত ডেঙ্গু ওয়ার্ড ছাড়িয়ে বারান্দা, মেঝে ও করিডোরে বেড পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পেডিয়াট্রিক (শিশু) ওয়ার্ডে শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। চিকিৎসক ও নার্সরা দিনরাত সেবা দিলেও বেড ও জনবল সংকটে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুধু সরকারি হাসপাতালই নয়, শয্যা মিলছে না বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও।   খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম্যানেজার মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে দিন দিন ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীদের জন্য হাসপাতালে ডেডিকেটেড ১৫টি বেড থাকলেও প্রায় চারগুণ ভর্তি রোগী রয়েছে। বর্তমানে ৫২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। সংকটকালীন বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে তাদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।   খুলনার আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ম্যানেজার মো. হোসেন আলী বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চাপ অনেক বেশি। বর্তমানে হাসপাতালে সিঙ্গেল বেড দেওয়ার অবস্থা নেই। বর্তমানে ৬০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. হিমেল ঘোষ বলেন, প্রতি বছর জুলাইয়ের পর থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ে। বর্ষা এবং বর্ষার শেষে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার করে। ফলে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। আগে এডিস মশা শুধু দিনে কামড়াতো। বর্তমানে রাত-দিন সমানভাবে কামড়াচ্ছে। নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।   খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. শওকত আলী বলেন, ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ। পানি জমে থাকা স্থানে মশা জন্ম নেয়। এখন দেখা যাচ্ছে এডিস মশা শুধু স্বচ্ছ পানিতেই নয়, ময়লাযুক্ত পানিতেও বংশ বিস্তার করছে। হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ ও মেডিকেল টিম গঠন করেছি। স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা এবং প্রতিরোধে যে ধরনের কাজ করা যায়, সবই করছি।   খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আইসোলেশন ইউনিট বা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে এবং প্রতিটি ওয়ার্ড বা ইউনিটে অন্তত ৫টি করে শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নরমাল স্যালাইন, খাওয়ার স্যালাইন, প্যারাসিটামলসহ প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, কোনো সংকট নেই। ভর্তি রোগীদের জন্য মশারিরও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে Dengue NS1 এবং Anti Dengue IgM কিট পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে মহানগরে ডেঙ্গু হটস্পট (রেড, অরেঞ্জ ও ইয়েলো জোন) চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ওয়ার্ড নং ১৭, ২২ ও ৩০-এ অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিশেষ সচেতনতা ও চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বস্তি ও ডেঙ্গু প্রবণ এলাকায় উঠান বৈঠক ও বিশেষ সেশনের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন সাব-সেন্টার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।   ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা নগরীর এই সংকট মুহূর্তে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে মাঠে দেখা যাচ্ছে। খুলনার বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে দ্রুত খুলনাকে ‘মহামারি এলাকা’ ঘোষণার দাবি জানায় মহানগর বিএনপি। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ড্যাব, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো, ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া, রক্তদান কর্মসূচিসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ ম্যাচিং, ডায়াগনস্টিক সাপোর্ট, রক্ত সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছেন দলটির নেতারা। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনের পাশাপাশি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় রোগীদের চিকিৎসার কাজও বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এজন্য আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসক পরামর্শ, অবস্থা বুঝে ওষুধ সরবরাহ ও সার্বক্ষণিক আপডেট রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহানগরের প্রতিটি আক্রান্ত থানা এলাকায় কমপক্ষে একটি ৫০ শয্যার কেন্দ্রীয় সেবাকেন্দ্র এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব অনুযায়ী বড় ওয়ার্ডে ২০ শয্যা ও ছোট দুটি ওয়ার্ড মিলে সমমানের সেবাকেন্দ্র প্রস্তুতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সেন্টারে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, রক্তের গ্রুপ ম্যাচিং সুবিধাসহ ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে হটলাইন নম্বর টাঙানো থাকবে এবং স্বেচ্ছাসেবী দল সার্বক্ষণিক কাজ করবে।   উদ্যোগগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে খুলনা মহানগর বিএনপি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একটি শক্তিশালী পরিচালনা ও তদারকি পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল পর্ষদের চিকিৎসাসেবা সমন্বয়ে কাজ করছেন ডা. রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা সমন্বয়ের দায়িত্বে মাসুদ পারভেজ বাবু। সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপিকে।   অন্যদিকে সোমবার আড়ংঘাটা থানা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধনকালে খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক উদ্যোগ। জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পথ। তিনি বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। টিকাসহ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিশেধক ও পরিসেবার পরিধি বাড়াতে হবে। খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুরসহ জনবহুল এলাকাগুলো ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়গুলো বন্ধ থাকায় এডিস মশার বিস্তার রোধে জমে থাকা পানি অপসারণসহ পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ওয়ার্ড পর্যায়ে সমাজকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে, নগরবাসীর পাশে দাঁড়াতে হবে। দুঃস্থ ও অসহায় রোগাক্রান্তদের পানীয় ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহেও যথাসম্ভব সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে বিত্তবানদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে।   কেসিসির রেড, ইয়েলো ও অরেঞ্জ জোন ভাগ ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পুরো নগরীতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে। সংক্রমণ ও লার্ভার ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে কেসিসি নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডকে তিনটি জোনে ভাগ করেছে। এরমধ্যে ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন। রেড জোন থেকে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জন এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।   নগর স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, রেডজোন হিসেবে ঘোষিত ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ১৭, ১৮, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০। অতিসংক্রামক ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ১, ১৯, ২৬ ও ৩০ ওয়ার্ড। মৃদু আক্রান্ত ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ২, ১০, ১২।   সিটি করপোরেশন তিনটি ওয়ার্ডে সেবা কেন্দ্রে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে।  রোগীদের ব্যয় কমাতে মঙ্গলবার থেকে কেসিসির তত্ত্বাবধানে ১৭, ২২ ও ৩০ নং ওয়ার্ডে ফ্রি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে নাপা ট্যাবলেট ও স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে।   কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শামিউল ইসলাম জানিয়েছেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় নাপা ট্যাবলেট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ ছাড়া মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে কেসিসির সচিব, প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৩টি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকালে লার্ভা ধ্বংসে ‘অ্যাবেট’ স্প্রে এবং বিকেলে ফগিং মেশিন দিয়ে এডিস মশা মারার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং করা হচ্ছে।   এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি রোধে কঠোর অবস্থানে গেছে সিটি কর্পোরেশন। কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পরিচালনায় নগরীর বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ড্রেন ও প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালিত হচ্ছে। পরিদর্শনে কোথাও জমা পানি বা এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলেই তাৎক্ষণিক জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।   খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলামু মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে তিন মাস পূর্ব থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যও সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছি। কিন্তু ডেঙ্গু সংক্রমণ হ্রাসে আশানুরূপ ফল আসছে না।   কেসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিক মাঠে নামানো হয়েছে। তবে শুধু কেসিসির ওষুধ ছিটানো দিয়ে এই দুর্যোগ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। নাগরিকদের নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। টব, এসি বা ছাদে যেন জমা পানি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রেখে লার্ভামুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে নগরবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে হলে শুধু সড়ক ও ড্রেন নয়, প্রত্যেকের বাড়ি-ঘরে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ঝোপঝাড় ও বদ্ধ পানি অপসারণ করতে হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পোড়া খাবার খেলে কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ছবি: সংগৃহীত

দিনে কতটুকু পানি পান করবেন নারী-পুরুষ? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রথম রোবোটিক সার্জারি সম্পন্ন, উন্নত চিকিৎসায় নতুন মাইলফলক

ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত, মৃত্যু ৩

দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৭ জন, যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আক্রান্ত। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৩৯ জন। এ ছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৯৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৬৮৩ জনে। এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ৭৯৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২ হাজার ১৮৮ জন।   গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৪৫৯ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৪৩ জন, বরিশালে ১২৩, চট্টগ্রামে ১১৬, ময়মনসিংহে ৮১ এবং রাজশাহীতে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩০, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

ক্যানসার থেকে দূরে থাকতে চান? এখন থেকেই মেনে চলুন এই ৫ টিপস

ঘুমানোর আগে বই পড়ছেন এক তরুণী | ছবি: সংগৃহীত

টানা ৭ দিন ঘুমানোর আগে বই পড়লে শরীরে কী হয়? জেনে নিন

ছবি: সংগৃহীত

হামের উপসর্গে নতুন করে ৩ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
চল্লিশ পেরিয়েও তারুণ্য ধরে রাখতে মেনে চলুন এসব অভ্যাস

ত্বকের যত্ন নিতে বেশি টাকা পয়সা খরচ করার দরকার নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক স্কিন কেয়ার রুটিন এবং খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনলে ত্বক এমনিতেই ভালো থাকে। বয়স ৩৫-৪০ পেরুলেই শরীরে বয়সের ছাপ প্রকট হতে থাকে। এমন হলে সবাই নামিদামি প্রসাধনী ব্যবহারের প্রতিযোগিতায় নামেন। কিন্তু এসব প্রসাধনী ব্যবহার ছাড়াও ঘরোয়ার পদ্ধতিতে রুপ চর্চা এবং খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব।   জেনে নেওয়া যাক তারুণ্য ধরে রাখার কিছু টিপস ১. সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের মূল রহস্য। ধুলোবালি ত্বকের ক্ষতি করে। তাই বাইরে থেকে এসে অবশ্যই ত্বক ভালেভাবে পরিষ্কার করতে হবে।   ২. সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তাই রোদে গেলে অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।   ৩. আমেরিকান অ্যকাডেমি অফ ডোর্মাটোলজির তথ্যানুযায়ী, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বক আরও রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে ওঠে। তাই আমাদের উচিত ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।   ৪. ত্বক ভালো রাখতে সুস্থ জীবনযাপন করা উচিত। অস্বাস্থ্যকর জাঙ্কফুড এবং প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলতে হবে। বেশি বেশি শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে হবে।   ৫. স্কিনকেয়ার রুটিনে রেটিনল,নায়াসিনামাইড,আলফা হাইড্রক্সি, ভিটামিন সি যুক্ত প্রোডাক্ট রাখতে হবে।   ৬. প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন চালানো বন্ধ করতে হবে।   ৭. বেশি বেশি পানি পান করতে হবে।   ৮. শরীরচর্চা সৌন্দর্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিদিন সকালে অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।   একদিনে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ৩ মাসের একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং সেই মোতাবেক কাজ করুন। মনে রাখবেন, সৌন্দর্য আপনার দৈনন্দিন জীবনের কার্যকলাপের ফল।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অ্যাপেনডিসাইটিস কেন বিপজ্জনক, জানুন লক্ষণ ও চিকিৎসা

ছবি: সংগৃহীত

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনে ইডিসিএলকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি

ছবি: সংগৃহীত

টেস্টোস্টেরন: শরীরের নীরব শক্তি ও প্রাণশক্তির অদৃশ্য চালিকাশক্তি

0 Comments