মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে জর্ডানে ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একইসঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ইরানি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি এবং সেখানে থাকা একটি মার্কিন মেরিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরুর পর দেওয়া প্রথম বার্তায় তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে ‘ভুলে যাওয়ার নয় এমন শিক্ষা’ রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানি ড্রোন হামলার মুখে কুয়েত ও বাহরাইন নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বাহরাইনও জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশপথে আসা ইরানি ড্রোন শনাক্ত করে সফলভাবে ধ্বংস করেছে।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ১ সেপ্টেম্বর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছিল-এমন অভিযোগের পর এসব হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আসালুয়েহ, জিরোফট, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক ও লাভানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হয়েছে সিরিকে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে একটি বাড়িতে হামলা হয়। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও তার ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতি সমান আচরণ করা হচ্ছে— এর প্রমাণ দিতে মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটাকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নির্বাচনী আদালত। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। সোমবার দেওয়া আদালতের এ নির্দেশ এসেছে লুলার নির্বাচনী প্রচারশিবিরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে। তাদের অভিযোগ, আগামী রোববারের দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী বলসোনারোর প্রচারণাকে সুবিধা দিতে মেটা তাদের অনলাইন কনটেন্টের প্রচার সীমিত করছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা অবশ্য নির্বাচনে কোনো পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এর আগে জানিয়েছিল, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে লুলার নির্বাচনী প্রচারের কিছু বিজ্ঞাপন ভুলবশত নিষ্ক্রয় করা হয়েছিল। এ ধরনের ত্রুটি শুধু ব্রাজিলেই ঘটেনি বলেও দাবি করেছিল তারা। লুলার প্রচারশিবির হোয়াটসঅ্যাপের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও অসংগত আচরণের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, লুলাসংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কনটেন্টের প্রচার সীমিত করা হলেও বলসোনারোর প্রচারসংশ্লিষ্ট কনটেন্টে একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টের (সর্বোচ্চ নির্বাচনী আদালত) এক বিচারক নির্দেশ দিয়েছিলেন, দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই প্রার্থীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োগ করতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে প্রতিদিন এক লাখ ডলার জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছিল। তবে সোমবারের নতুন আদেশে আদালত জানায়, আগের নির্দেশ মেনে চলার যথেষ্ট প্রমাণ মেটা দিতে পারেনি। এ কারণে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে প্রতিদিন দুই লাখ ডলার করা হয়েছে বলে এএফপির দেখা আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। আদালতের আদেশে বলা হয়, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতে নির্দেশ অমান্য করার ঘটনা অব্যাহত থাকা প্রমাণ করে, আগের জরিমানার পরিমাণ যথেষ্ট ছিল না।’ লুলার রাজনৈতিক দল জানিয়েছে, সোমবারও তারা নতুন করে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ পেয়েছে। এর আগে দলটি এ বিষয়ে আমেরিকান রাষ্ট্রগুলোর সংস্থা (ওএএস) ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছিল। দলটির যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক এদেন ভালাদারেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করি, মেটা ফ্লাভিও বলসোনারোর নির্বাচনী প্রচারকে সুবিধা দেওয়া বন্ধ করবে।’ তিনি জানান, এ বিষয়ে নির্বাচনী আদালতে নতুন করে অভিযোগ দাখিল করা হবে। এদিকে মেটার সাও পাওলো কার্যালয়ের বাইরে লুলার বেশ কয়েকজন সমর্থক বিক্ষোভ করেছেন। তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ছিল। তারা ‘মেটা, ব্রাজিল ছাড়ো’ বলে স্লোগান দেন। ভিডিও অ্যানিমেটর ৪৭ বছর বয়সী লিলিয়ান ডোরিং এএফপিকে বলেন, ‘সম্প্রতি মেটা পরিচালিত প্ল্যাটফর্মগুলোতে যা দেখি, তার প্রায় কিছুই আর বিশ্বাস করতে পারি না।’ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস কারাগারে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো চলতি মাসের শুরুতে প্রথম দফার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। এ কারণে রোববারের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে তাকেই এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শনিবার ফ্লাভিওর নির্বাচনী প্রচারশিবির অভিযোগ করেছে, মেটার ‘অনুমোদনে’ লুলার পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ‘নেতিবাচক প্রচারণা অভিযান’ চালানো হচ্ছে। জনমত জরিপগুলোতে ৪৫ বছর বয়সী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো ও ৮০ বছর বয়সী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলার মধ্যে প্রায় সমানে-সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) তেহরানে দুদেশের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে তারা জানান, আঞ্চলিক নানা সমস্যা ও যুদ্ধ দূর করতে কোনো আক্রমণ নয়, বরং আলোচনার পথই সবচেয়ে সেরা সমাধান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুদেশের মধ্যে ২০ বছর মেয়াদী ‘সর্বাত্মক কৌশলগত চুক্তি’ বাস্তবায়নের পর থেকে তাদের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক অনেক দূর এগিয়েছে। কাস্পিয়ান সাগর, পারস্য উপসাগর এবং ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশই একই ধরণের চিন্তা করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের মূল পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে বলে দুই দেশই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বৈঠকে ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা দ্রুত বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রভাব মোকাবিলার জন্য ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক জোটগুলোতে রাশিয়াকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। সংগঠিত যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া সংকটে ইরানের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়া। সের্গেই লাভরভ জানান, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানি জনগণের জন্য মানবিক ও খাদ্য সহায়তা পাঠানো অব্যাহত থাকবে। একইসাথে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্ব গ্যাস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে আমন্ত্রণ জানান লাভরভ। সূত্র: তাসনিম নিউজ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নতুন হুমকি আবারও ইরানে নতুন সামরিক হামলার ভয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও এক অনিশ্চিত সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প রোববার (১৮ অক্টোবর) সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান তার নীতি পরিবর্তন না করলে ওয়াশিংটন ‘খুব শীঘ্রই কাজটি শেষ করে দিতে পারে।’ অন্যদিকে, নেতানিয়াহু জানিয়েছেন যে মার্কিন সমর্থন ছাড়াও ইসরাইল একাই ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত এবং তেহরানের সরকারের পতন ঘটানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ইরান এই হুমকির জবাবে আরও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক কমান্ডাররা নতুন দফায় যুদ্ধের প্রস্তুতি রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক পরিকল্পনার খবর, আঞ্চলিক অবকাঠামোতে ইরানের হামলার হুমকি এবং মার্কিন স্বার্থে ইরানি হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল নিরাপত্তার সতর্কবার্তা সামনে আসার পর এই দুই পক্ষের কথার লড়াই আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। তবে আরেকটি যুদ্ধ কিন্তু অবশ্যম্ভাবী নয়। ট্রাম্প এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন নতুন কোনো হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে, যার ফলে সমাধানের কূটনৈতিক পথ এখনও খোলা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন হামলা কি সত্যি সামনেই হতে যাচ্ছে? ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি নতুন সামরিক অভিযানের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিলেও ওয়াশিংটন বা ইসরাইলের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন হামলার ঘোষণা দেয়নি। চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ৩ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না এবং তেহরানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলেও জানান। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা করেছেন, কারণ ইসরাইলের আশঙ্কা ইরান আবারও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করছে। এছাড়া পেন্টাগন ও মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা ইরানের পারমাণবিক ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে আক্রমণের জন্য শক্তিশালী বোমাবর্ষণের একাধিক বিকল্প প্রস্তুত করে রেখেছেন। তবে সামরিক প্রস্তুতি থাকা মানেই হামলার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া নয়। অনেক সময় আলোচনার টেবিলে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতেও এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়াই কি ইসরাইল একাই হামলা চালাতে পারে? নেতানিয়াহু সরাসরি এমন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। নতুন জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা উপস্থাপন করতে গিয়ে রোববার তিনি বলেন, আমি যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছি তা মার্কিন অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে না। তিনি স্পষ্ট জানান যে ইসরাইল একাই পদক্ষেপ নিতে পারে এবং ইরান আগে আক্রমণ করার আগেই ইসরাইল আগেভাগে হামলা চালানো প্রয়োজন মনে করতে পারে। নেতানিয়াহু ইরানের মুখোমুখি হওয়াকে তার জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির সরকারের পতনের আহ্বান জানান। ইসরাইল পূর্বেও ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণের সক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে বিশেষ করে অত্যন্ত সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী হামলা চালিয়ে যেতে যে ধরণের বড় সামরিক সক্ষমতা দরকার, তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই ভালোভাবে রয়েছে। এছাড়া ইসরাইল একা হামলা চালালেও ইরান যদি ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আক্রমণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। ইরান কি এবার আরও শক্তিশালী পাল্টা হামলা চালাতে পারবে? ইরানের সামরিক কমান্ডাররা দাবি করছেন তারা যেকোনো নতুন লড়াইয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি সতর্ক করে বলেছেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো নতুন সামরিক ভুল সিদ্ধান্ত পূর্বের চেয়েও বেশি ভয়াবহ জবাব ডেকে আনবে। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের নেতারা দাবি করেছেন যে বিগত মাসের হামলা সত্ত্বেও ইরান নতুন অস্ত্র তৈরি করেছে এবং অস্ত্রের মজুত আরও বাড়িয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র, সমন্বিত ড্রোন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের লক্ষ্যবস্তুতেও আক্রমণ করার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। যদিও এই সামরিক সক্ষমতার বেশ কিছু বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়নি। তা সত্ত্বেও ব্যাপক ক্ষতির পরেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার বড় ক্ষমতা রয়ে গেছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অচল করে দেওয়ার ক্ষমতাও ইরানের জন্য এক বড় অস্ত্র। পুরো মধ্যপ্রাচ্য কেন আজ আরও বড় ঝুঁকির মুখে? উপসাগরীয় অঞ্চল, ইসরাইল, ইরাক, লেবানন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন যৌথ দূতাবাসগুলো সোমবার তাদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে যে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খুব দ্রুত খারাপ হতে পারে। রিয়াদে হুথি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৮ জন নিহত হওয়ার পর সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। এই সতর্কবার্তায় বলা হয়, হুমকি কেবল তাৎক্ষণিক এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে, সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। মার্কিন নাগরিকদের ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ ও ভ্রমণ বিঘ্নিত হওয়ার জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তারা কেবল সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতেও হামলা চালাবেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজাই সতর্ক করেছেন যে যুদ্ধ হলে সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল, ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র এবং অন্যান্য ডিজিটাল পরিকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ ধরনের হামলা ব্যাঙ্কিং, তথ্যপ্রযুক্তি সার্ভিস অচল করার পাশাপাশি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত করে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে। নতুন কোনো সংঘাতের সূচনা কিসে হতে পারে—এবং কূটনীতি কি তা থামাতে পারবে? ইসরাইলের আগাম আক্রমণ, মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আঘাত অথবা আঞ্চলিক পরিকাঠামোর ওপর বড় ধরনের কোনো আক্রমণ নতুন যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের মূল পথ ‘হরমুজ প্রণাললি’ এখনও এক বড় উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে কূটনৈতিক সম্ভাবনার পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়নি। ইরান পূর্বে প্রস্তাব করেছিল যে তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে তারা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন এখনও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টানতে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক সূচি এই পরিস্থিতিতে বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে ভোটগ্রহণ এবং ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আপাতত কোনো পক্ষই তাদের নিজস্ব দাবিদাওয়া থেকে পিছিয়ে আসতে রাজি বলে মনে হচ্ছে না। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো—যুদ্ধ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া হুমকিগুলোই দুর্ঘটনাবশত সরাসরি এক যুদ্ধের সূচনা ঘটিয়ে দিতে পারে। সূত্র: গালফ নিউজ