জাতীয়

মালয়েশিয়া সফর দিয়েই শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ সফর মালয়েশিয়া দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এক নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

ওই সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম সরকারি বিদেশ সফর। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সফরে তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। এ ছাড়া আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈঠকেও বসবেন সরকারপ্রধান। এদিকে আরেক নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখান থেকে সরকারি সফরে ভারত কিংবা চীনে যেতে পারেন। তবে তিনি আগে ভারত না চীনে যাবেন তা নির্ধারণ হয়নি। এরই মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে চীন চাইছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৩ থেকে ২৬ জুন দেশটিতে সরকারি সফরে যান।

 

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে বিএনপি সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে প্রবাসী কল্যাণ, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ককে প্রাধান্য দেবে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), রপ্তানি, হালাল ফুড সার্টিফিকেশন, শ্রম বাজারসহ অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা হবে।

 

যা থাকতে পারে মালয়েশিয়া সফরের এজেন্ডায়: মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শুরুর দিকে যে কয়টি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, মালয়েশিয়া তার অন্যতম। বর্তমানে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। প্রায় ৯ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী সেখানে কাজ করেন, যারা নির্মাণ, কলকারখানা, সেবা খাতসহ নানা কাজে নিয়োজিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, দুই সরকারপ্রধানের বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শোষণমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অনেক সমস্যা রয়েছে। নিয়োগকারী এজেন্সির অতিরিক্ত ফি, চুক্তিভঙ্গ, নির্যাতন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। নতুন সরকার এসব সমস্যা সমাধানে আলোচনা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশ আম রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানকার বড় বাংলাদেশি কমিউনিটির কারণে বাংলাদেশের ম্যাঙ্গো রপ্তানিকারকরা মালয়েশিয়াকে সম্ভাব্য নতুন বাজার হিসেবে দেখছেন। এ ছাড়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন তারা। হালাল ফুড সার্টিফিকেশন শিক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সহযোগিতার বিষয়টিও বৈঠকে উঠতে পারে।

 

এ নিয়ে সরকারের এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমিকের মধ্যে শীর্ষস্থানে (প্রায় ৩৭ শতাংশ)। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। মালয়েশিয়া বাংলাদেশে পাম অয়েল, পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি করে এবং বাংলাদেশ থেকে পোশাক, চামড়া ও ওষুধ আমদানি করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এফটিএ সই হলে উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়লে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে সহজে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হতে পারবে।

 

মালয়েশিয়া থেকে ভারত অথবা চীন সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর শেষ করে ভারতে কিংবা চীনে সরকারি সফরে যেতে পারেন। যদি তিনি মালয়েশিয়া থেকে দ্বিতীয় কোনো দেশে সফরে যান তাহলে এটি তার প্রথম ভিভিআইপি বিদেশ সফরের দ্বিতীয় অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক স্থগিত করে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার নানা পদক্ষেপ দৃশ্যমান ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়েও ভারতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিবর্তন করে তা সামরিক অঞ্চলে রূপান্তর করা হয় এবং সেখানে তুরস্ক ও চীনকে গোলাবারুদ, ড্রোন উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দেশকে বিনিয়োগের জন্য স্থান বরাদ্দ করার পর এভাবে তা পরিবর্তন করা হলে দুদেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ নিয়ে শঙ্কায় থাকেন।

 

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হয়। ভারতও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে জনকেন্দ্রিক ও সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত হয়। এরই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যান, যদিও বাংলাদেশ সরকার এটিকে শুভেচ্ছা সফর হিসেবে উল্লেখ করেছিল। সেই সফরে উপস্থিত থাকা সরকারের এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, সেই সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা হয়। এদিকে চীনও চাইছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে সফরের উদ্দেশে যান। তবে তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরের পর আগে ভারতে নাকি চীনে যাবেন—তা এখনো নির্ধারণ হয়নি।

 

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, তারেক রহমান যদি চীনে যান, তাহলে তিস্তা নদী প্রকল্প, এনার্জি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে উদ্যোগী। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দর, বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অসংখ্য প্রকল্প চীনের সহায়তায় বাস্তবায়িত হয়েছে। নতুন সরকার এ সম্পর্ককে আরও গভীর ও লাভজনক করতে চায় তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি), অবকাঠামো, বাণিজ্য-বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ চীনের কাছে তিস্তা প্রকল্পে সহায়তা চেয়েছে। নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীন সফরে গেলে দেশটির পক্ষ থেকে এ নিয়ে আলোচনা হয় এবং এতে বিনিয়োগ করতে দেশটির এক্সিম ব্যাংক আগ্রহ প্রকাশ করে। এ নিয়ে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের এক কূটনৈতিক কালবেলাকে বলেন, ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে চীন। দুই দেশের দীর্ঘ বন্ধুত্বে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কখনোই হস্তক্ষেপ করেনি চীন। বাংলাদেশও ওয়ান চায়না পলিসিকে সমর্থন জানিয়ে এসেছে। দুই দেশের মধ্য যে সম্মান ও পারস্পরিক বন্ধন, তা আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী চীন।

 

বিএনপি সরকারের বৈদেশিক নীতি; প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ: বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। নতুন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের ভিত্তিতে একটি বাস্তববাদী, অর্থনৈতিককেন্দ্রিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করতে চায়। এ নীতির মূল লক্ষ্য জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতি, প্রবাসী কল্যাণ, বিশ্বেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক; ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক বজায় রাখা এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকার আশা করছে, ভারসাম্যপূর্ণ নীতির মাধ্যমে ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। তবে বাংলাদেশ ভারত ও চীনের মধ্যে ভূ-কৌশলগত অবস্থান সম্পর্ককে জটিল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও চাপ সামলাতে হবে। এ ছাড়া চীনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সুদের হার ও শর্তাবলি নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, অতীতে অনেক প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নতুন সরকারকে এসব এড়িয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আস্থা পাবে না। বিএনপি সরকারকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করতে হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ হজ প্যাকেজ ঘোষণা দেন | ছবি: সংগৃহীত
বিমান ভাড়া কমিয়ে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা

বিমান ভাড়া কমিয়ে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। গত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে এবার বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।     মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ এ ঘোষণা দেন।     তিনি জানান, এবার (২০২৭) সরকারি মাধ্যমে দুটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-‌২-এর খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।     অন্যদিকে ‘বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ’ নামে একটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।     ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এবার হজ ফ্লাইটের বিমানভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।     মন্ত্রী আরও জানান, তালিকাভুক্ত যোগ্য হজ এজেন্সিগুলোকে নিবন্ধন শুরুর আগে সৌদি সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম কোটার ভিত্তিতে গ্রুপ গঠন করতে হবে। সরকার অনুমোদিত সাধারণ হজ প্যাকেজ গ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও গ্রুপভুক্ত এজেন্সিগুলো পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে। তবে সরকার ঘোষিত হজ প্যাকেজ-২-এর চেয়ে কম সেবা দিয়ে কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করা যাবে না।

মারিয়া রহমান জুলাই ২১, ২০২৬
শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল। ছবি : সংগৃহীত

শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন কবে? মুখ খুললেন বেবিচক চেয়ারম্যান

ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে অনিয়ম: এমপিদের ৪টিসহ ৪৯ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

বিএসটিআইয়ের লোগো

মানহীন ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

সংগৃহীত ছবি
ওমরাহ যাত্রীদের সুখবর, এক বছরের মাল্টিপল ভিসা চালু করল সৌদি

এক বছরের মাল্টিপল-এন্ট্রি ওমরাহ ভিসা চালু করেছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। নতুন এই ভিসার মাধ্যমে এক বছরের মধ্যে একাধিকবার সৌদি আরবে প্রবেশ করে ওমরাহ পালন করা যাবে। তবে মোট অবস্থানের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৯০ দিন।   সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম গালফ নিউজ।    সৌদির নতুন ভিসাটি ইস্যুর তারিখ থেকে ৩৬৫ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাধিকবার সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন ভিসাধারীরা।     সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, সৌদি ভিশন ২০৩০ এবং ‘পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর অংশ হিসেবে নতুন এই ওমরাহ ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ওমরাহযাত্রীদের যাতায়াত সহজ করা, সেবার মান উন্নত করা এবং হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করা।     তবে প্রতিবার ওমরাহ পালনের আগে ভিসাধারীদের নুসুক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুমোদিত সেবা প্রদানকারীর কাছ থেকে একটি সার্ভিস প্যাকেজ কিনতে হবে। প্যাকেজের মেয়াদ ভিসার অবশিষ্ট বৈধতার চেয়ে বেশি হতে পারবে না। পাশাপাশি সৌদি আরবে যাওয়ার আগে নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে ওমরাহর অনুমতিপত্র (পারমিট) সংগ্রহ করতে হবে।     সৌদি আরও আরব জানায়, প্রতিবার সৌদি আরব ত্যাগের পর ভিসাটি সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় হবে। পরবর্তী সফরের শর্ত পূরণ হলে আবার সক্রিয় করা হবে।     তবে হজ মৌসুমে, অর্থাৎ জিলকদ মাসের ১ তারিখ থেকে জিলহজ মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত এই ভিসা কার্যকর থাকবে না।

মারিয়া রহমান জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত

জুলাইকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার দায়িত্ব সব দলের: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

চশমার প্রযুক্তিতে নতুন রূপ পাচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত

ছবি : সংগৃহীত

ভারত ছেড়ে চীন ও দক্ষিণ এশিয়ামুখী বাংলাদেশিরা, শঙ্কায় কলকাতার পর্যটন

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে ভারতের ২০০ ব্রডগেজ কোচ

ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ বাংলাদেশে আসছে। আগামী আগস্টের শুরু থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে আসবে কোচগুলো। ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ শাসনামলে ভারতের রেল বিভাগের অধীন রপ্তানি সংস্থা রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিসের (রাইটস) সঙ্গে ৯১৫ কোটি রুপির একটি চুক্তি করেছিল বাংলাদেশের সরকার।   এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে অর্থ সহায়তা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালা এলাকায় অবস্থিত রেল কারখানায় কোচ ও লোকোমোটিভগুলো তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।   ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কোচ তৈরির কাজ স্থগিত করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের মে মাস থেকে পুনরায় কাজ শুরু হয়। এর আগে এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি প্যাসেঞ্জার কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ পাঠানো হয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে নতুন এই ২০০ কোচ পাঠানোর ফরমায়েশকে রাইটসের উল্লেখ্যযোগ্য সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে রাইটসের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল মিথাল। তিনি আরও জানান, প্রথম চালান হিসেবে ২০টি কোচ শিগগিরই পাঠানো হবে বাংলাদেশে।   রাইটস লিমিটেড রেল মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান, যা পরিবহন পরিকাঠামোতে বিশেষজ্ঞ এবং রেল, মহাসড়ক, বিমানবন্দর ও নগর পরিবহনের জন্য পরিকল্পনা থেকে শুরু করে চালু করা পর্যন্ত পরিষেবা প্রদান করে। এটি বিশ্বব্যাপী ভারতীয় রেলের রোলিং স্টকের রপ্তানি শাখা হিসেবেও কাজ করে।   এদিকে বাংলাদেশের সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে যে, কলকাতা থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করার বিষয়ে সেপ্টেম্বরে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রেনটি যখন চালু ছিল, সে সময় পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত পেরিয়ে ৩৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৯ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছাত। ২০০৮ সালে উদ্বোধনের পর থেকে ট্রেনটিতে যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকলেও, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এর চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে কলকাতা থেকে খুলনা পর্যন্ত দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস রুটের উদ্বোধন করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শিক্ষক-জনতা অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশিদের পর্যটন ভিসা প্রদান বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। গত মাসে এই ভিসা ফের চালু করা হয়েছে বলে গত মাসে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। সূত্র : এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২০, ২০২৬

শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালকসহ কাস্টমসের তিন শীর্ষ পদে রদবদল

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে রাজনীতিকরা কেন অযোগ্য হবেন, হাইকোর্টের রুল

জুলাই অন্ততপক্ষে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে: রিজভী

0 Comments