মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের কুয়ান্তান এলাকায় অবৈধ বিদেশি ওষুধ ও অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যপণ্য মজুদের অভিযোগে একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করেছে দেশটির মেরিন পুলিশ ফোর্স (অঞ্চল–৩)। অভিযানে গুদামটির দায়িত্বে থাকা ৩০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে কুয়ান্তান–সুঙ্গাই লেম্বিং সড়কের পাশে অবস্থিত গুদামটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মেরিন পুলিশ অঞ্চল–৩-এর কমান্ডার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জুলাফেন্দি হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয় এবং তল্লাশিতে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্য উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১১ ধরনের পণ্য—৩৭১ বক্স বিভিন্ন প্রকার ওষুধ এবং ৭৫০ কার্টন এনার্জি ড্রিংক। উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪০৫ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, এসব পণ্য বিদেশ থেকে আনা হলেও মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা ফার্মাসি বিভাগের প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না। ফলে এগুলোকে অনুমোদনহীন ও সম্ভাব্য জনস্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
কমান্ডার জুলাফেন্দি হাসান জানান, আটক বাংলাদেশি নাগরিক ও জব্দকৃত পণ্য পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৯৫২ সালের বিষ আইন, ওষুধ ও প্রসাধনী নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা এবং ১৯৮৩ সালের খাদ্য আইনের আওতায় ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো; পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় অনুমোদনহীন ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্যের বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ওমানের নিজুয়া এলাকায় দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. হোসাইন (৪২) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও তিন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। রোববার (২৯ জুন) কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হোসাইন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর লরেঞ্চ ইউনিয়নের বেরকা জামে মসজিদ এলাকার বাসিন্দা এবং নুরুজ্জামান সিকদারের ছেলে। পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ওমানে যান হোসাইন। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন তিনি। রোববার সকালে তিন সহকর্মীকে নিয়ে কোম্পানির গাড়িতে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর নিজুয়া এলাকার মহাসড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। দুর্ঘটনায় আহত অন্য তিন বাংলাদেশিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। হোসাইনের মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের ভাষ্য, পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন তিনি। তার দুই সন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। নিহতের স্বজনরা মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান জানিয়েছেন, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনার একটি মামলায় দীর্ঘ চার বছর ধরে বন্দী রয়েছেন মেহেরপুরের প্রবাসী রফিকুল ইসলাম। আদালতের দেওয়া তিন বছরের কারাদণ্ড শেষ হলেও প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে না পারায় এখনও তিনি দেশটিতে আটক রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, উন্নত জীবনের আশায় ২০১৯ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রফিকুল ইসলাম। কিন্তু ২০২২ সালে একটি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনি জটিলতায় পড়ে যান তিনি। পরে সৌদি আদালত তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের জরিমানা করেন। রফিকুলের স্ত্রী আশামনি বলেন, কারাভোগের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও জরিমানার অর্থ পরিশোধে অক্ষম হওয়ায় তাঁর স্বামী এখনও মুক্তি পাননি। ফলে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো, সন্তানের লেখাপড়ার ব্যয় বহন এবং বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসা করানো এখন তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না। দুর্ঘটনার পর থেকে সৌদিতে রফিকুলের নিয়োগকর্তা বা কফিলের সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যার কারণে আইনি সহায়তা পাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার এবং সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবারটি। তাদের আশা, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে জরিমানা কমানো, মওকুফ অথবা অন্য কোনো আইনি সমাধানের পথ বের হলে রফিকুল দেশে ফিরতে পারবেন। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতিও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন স্বজনরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রফিকুল একজন পরিশ্রমী প্রবাসী ছিলেন, যিনি পরিবারের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রেখেছেন। তাই তাঁর এই দুঃসময়ে রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত রেখেছে কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ এক সপ্তাহে বিভিন্ন অভিযানে ১৫ হাজার ২৩১ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আবাসন ও ভিসা-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭ হাজার ৫৮৯ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের দায়ে ৪ হাজার ৪৪৩ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার ১৯৯ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ১১ হাজার ২৯৭ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে মোট ২৬ হাজার ৪০৭ জন আইন লঙ্ঘনকারী বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪ হাজার ৩৩৪ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৭৩ জন নারী। সৌদি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়া, কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া বা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।