ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভাঙা হয়েছিল ষোড়শ শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী বাবরি মসজিদ। উত্তাল হয়েছিল গোটা ভারতবর্ষ। ৩৩ বছর পর, আরও একটা ৬ ডিসেম্বরে ফের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তেজনার ঘনঘটা।
শনিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে 'বাবরি মসজিদ'-এর শিল্যান্যাস করার সিদ্ধান্তে অনড় ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সেই অনুষ্ঠানে সমবেত হয়েছেন সৌদি আরবের বিশিষ্ট আমীর মাওলানাসহ লক্ষাধিক মুসল্লিগণ। এই মহতী বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে আগত হাজার হাজার মানুষকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য প্রায় ৪০ হাজার মানুষের খাওয়া-দাওয়ার বন্দোবস্ত করছেন হুমায়ুন কবীর।
তিনি ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে, পুলিশের সঙ্গে দেখাও করেছেন তিনি। তার ধারণা, শনিবার মোরাদিঘির কাছে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ ২৫ বিঘা জমিতে জড়ো হবেন। তিনি আরও বলেন, ভারতের বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী রাজ্য থেকে ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় নেতারাও আসছেন।
তিনি জানিয়েছেন, সৌদি আরব থেকে দুই জন কাজী সকালেই কলকাতা নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকেই একটি বিশেষ কনভয়ে পৌঁছবেন মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে। ইতোমধ্যেই বাবরি মসজিদ নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা রেজিনগরের সভাস্থলে পৌঁছে হুমায়ুন কবীর গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করেন।
এদিন তিনি বলেন, শুধুমাত্র তিন কাঠা জায়গার উপরে, এত বিরোধিতা সত্ত্বেও আমরা আজকে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করছি। ২৫ বিঘা জায়গার মধ্যে, হাসপাতাল হবে, বিশ্ববিদ্যালয় হবে, পার্ক হবে। পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে যত কোটি টাকা খরচ হয়, মুর্শিদাবাদসহ মালদা, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, প্রচুর মানুষ আর্থিক সহযোগিতা করবেন।
রাজ্য সরকারের টাকা এই মসজিদ নির্মাণে ব্যবহার করবেন না বলেও সাফ জানিয়েছেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, এতে মসজিদের 'পবিত্রতা' নষ্ট হবে। এটা আমি কোনওমতেই গ্রহণ করব না। ইতোমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ মসজিদ নির্মাণের জন্য যে যার সামর্থ্য মত নতুন ইট, পাথর ইত্যাদি সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হয়েছেন পবিত্র মসজিদ ময়দানে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আনা ইট,কাঠ,পাথরসহ সমস্ত সরঞ্জাম একত্রিত করে মসজিদ নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হবে। ভারতীয় সময় দুপুর সাড়ে বারোটায় নামাজ আদায় করার পর জনসভা শুরু হয়,এরপর বিকাল ৩টায় ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় রীতি অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে মূল বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
অন্য দিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার ধর্মতলা চত্বরের মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির পাদদেশ থেকে শনিবার দুপুর ১টা নাগাদ একটি সম্প্রীতি যাত্রার সূচনা করেন। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কয়েক হাজার মানুষ সেই সম্প্রীতি মিছিলে অংশ নেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি চক্রান্ত করে বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আগুন লাগাতে চাইছে। জাতি ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে বাংলার মানুষকে বিজেপির সেই অপচেষ্টাকে রুখতে হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিজেপির ধর্ম নিয়ে রাজনীতির তাস খেলা এবার বন্ধ হবে। বাংলায় কোনোরকম ধর্মীয় জিগির তুলে দাঙ্গা হাঙ্গামা করতে দেয়া হবে না। রাজ্য সরকার রাজ্য বাসীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এখন নতুন উত্তেজনার পারদ চড়েছে। ঐতিহ্যের অহংকার নাকি যুগের চাহিদায় পরিবর্তন? এই দুইয়ের এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। রবিবার একটি যুগান্তকারী জাতীয় গণভোটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সুইস জনতা। প্রশ্ন উঠেছে, দেশটি কি তার শতাব্দীপ্রাচীন নিরপেক্ষতার নীতি কঠোর নিয়মে বেঁধে ফেলবে, নাকি বর্তমানের নমনীয় বৈদেশিক নীতিই বজায় রাখবে? সুইস সরকার এবং সংসদ দেশের নাগরিকদের প্রতি কড়া ভাষায় আহ্বান জানিয়েছে, যেন এই বহুল আলোচিত নিরপেক্ষতা রক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়। কিন্তু কেন এই রাজনৈতিক দ্বন্দ? এই প্রস্তাবের মূল প্রবক্তা হলো সোভারেনটিপন্থি রাজনীতিবিদরা এবং রক্ষণশীল সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি)। তাদের মূল অভিযোগ, ইউক্রেন সংঘাতের প্রাক্কালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাশিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে যেভাবে একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে বর্তমান সরকার, তাতে সুইজারল্যান্ডের শত বছরের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি চরমভাবে ধুলিসাৎ হয়েছে। এসভিপির প্রধান মার্সেল দেটলিং তো বলেই দিয়েছেন যে, সুইস কূটনীতিবিদরা বিশ্বজুড়ে বড়াই করার চেষ্টা করছেন, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। এমনকি ২০০৩ থেকে ২০০৮ সালের সাবেক ফেডারেল কাউন্সিলর ক্রিস্টোফ ব্লচার এই নমনীয় নীতিকে ‘বিপজ্জনক পাগলামি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের সাফ কথা, নিরপেক্ষতা মানে কোনো আপস নয়, এটি হতে হবে নিখুঁত এবং কঠোর। এই প্রস্তাব পাস হলে সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা সংবিধানে ‘চিরস্থায়ী এবং সশস্ত্র’ হিসেবে চিরতরে খোদাই হয়ে যাবে, যেখানে জাতিসংঘ বাদে কোনো পক্ষকেই একতরফা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যাবে না। তবে এর বিপরীতে দাঁড়িয়ে রয়েছে সরকারের কড়া অবস্থান। সুইস ফেডারেল কাউন্সিল পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, এমন কঠোর আইন দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে এবং সংকটের মুহূর্তে সরকারের হাত-পা বেঁধে ফেলবে। বর্তমান ব্যবস্থায় সুইজারল্যান্ড প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়। যেমনটা দেখা গেছে গত জুলাই মাস পর্যন্ত। হিসাব অনুযায়ী যেখানে ব্রাসেলসের টার্গেটে থাকা রুশ কোম্পানি ও ব্যক্তিদের আট দশমিক পাঁচ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক এবং রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও ছয় দশমিক আট বিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্কের বিশাল তহবিল ফ্রিজ বা জব্দ করে রেখেছে বার্ন। তবে এর একটি পয়সাও বাজেয়াপ্ত করার দাবি সাফ নাকচ করে দিয়েছে সুইস সরকার। মস্কো অবশ্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, পশ্চিমের এই নিষেধাজ্ঞার লাইনে হেঁটে সুইজারল্যান্ড নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর তকমা হারিয়ে ফেলেছে। এমনকি গত বছরের জুলাই মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ যখন সুইস ফেডারেল কাউন্সিলর ইগনাজিও কাসিসের মুখোমুখি হন, তখনো এই ক্ষোভের কথা খোলাখুলি জানানো হয়েছিল। রুশ পক্ষের স্পষ্ট দাবি, জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া যেকোনো একতরফা নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ এবং এটি সরাসরি অর্থনৈতিক যুদ্ধের সামিল। তাহলে এই ধুন্ধুমার লড়াইয়ের শেষ পরিণতি কী হতে চলেছে? সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী কাসিস বারবার সতর্ক করে বলেছেন যে, সংকট শুরু হওয়ার পর সহযোগিতার জন্য হাত বাড়ালে অনেক দেরি হয়ে যাবে। নিরপেক্ষতা কোনো স্বয়ংক্রিয় বা রোবোটিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি পরিস্থিতি বুঝে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার নামান্তর। এদিকে লেভাস সার্ভের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ বলছে, ভোটারদের একটি বিশাল অংশ সরকারের পক্ষেই রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রস্তাবটির পক্ষে রয়েছে মাত্র একত্রিশ শতাংশ মানুষ, আর এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে আটষট্টি শতাংশ ভোটার। সুইজারল্যান্ডের বিশ্বখ্যাত প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের এই দীর্ঘ ইতিহাসে এক লাখ সই সংগ্রহ করে তবেই এই সাংবিধানিক সংশোধনী প্রস্তাবটি ব্যালটে তোলার সুযোগ পেয়েছে। এখন দেখার বিষয়, রবিবার ব্যালট বাক্সে সুইস জনতা শেষ পর্যন্ত কোন রায় দেয়; ঐতিহ্যগত নমনীয় কূটনীতি, নাকি কঠোর সাংবিধানিক বাঁধন? সূত্র: আরটি
অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক কিশোরসহ ছয় ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় পশ্চিম তীরের নাবলুস, তুলকারেম ও জেনিন এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবলুসের দক্ষিণে বেইতা শহর থেকে ১৭ বছর বয়সী মাহমুদ দাহের মাহমুদ দাউদকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার আটকের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তুলকারেমের শুওয়েইকা এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাজেদ দাবাস ও তার ২০ বছর বয়সী ছেলে আহমেদ দাবাসকেও আটক করে ইসরায়েলি সেনারা। তাদের বাড়িতে অভিযান চালানোর পর বাবা-ছেলেকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছে ওয়াফা। এ ছাড়া জেনিনের মাসলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আরও তিন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন, ইসাম রাসেম আবু আল-রুব, খালেদ ফারুক আবু আল-রুব ও হানি আবু আল-রুব। এদিকে, গাজার পশ্চিম তীরে অভিযান ও গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলটিতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার এবং সহিংসতার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোস্তভ অঞ্চলের নোভোশাখতিনস্ক তেল শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর ইউরি স্লিউসার। শুক্রবার স্লিউসার জানান, রাতভর রোস্তভ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০টি ড্রোন ধ্বংস করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে হামলায় নোভোশাখতিনস্ক তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারটির বার্ষিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন, যা দৈনিক প্রায় ১ লাখ ব্যারেলের সমান। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত জ্বালানির বড় অংশ রপ্তানি করা হয়। ফলে হামলার কারণে শুধু রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নয়, দেশটির জ্বালানি রপ্তানিতেও প্রভাব পড়তে পারে। রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, নোভোশাখতিনস্ক ও কামেনস্ক-শাখতিনস্ক শহরসহ অঞ্চলের ছয়টি জেলায় রাতভর ড্রোন হামলা হয়। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব এলাকায় প্রায় ৫০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার পর শোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারটি রোস্তভ অঞ্চলের একমাত্র কার্যকর তেল শোধনাগার এবং দক্ষিণ রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। এর উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে পেট্রোল, ডিজেল, জাহাজের জ্বালানি, ফার্নেস ফুয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা নতুন নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় চাপ তৈরি করাই এসব হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য। নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারে এবারের হামলার সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের বিষয়ে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর আগে জেলেনস্কি জাতিসংঘে সতর্ক করে বলেছিলেন, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে সমঝোতা না হলে ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে এবং আসন্ন শীতে রাশিয়ার জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলবে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবারের হামলায় শুধু নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারই নয়, রাশিয়ার আরও কয়েকটি অঞ্চলের শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনাও আক্রান্ত হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, রাতভর হামলায় রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগার ও একটি যাত্রীবাহী ট্রেনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, পুরো দেশজুড়ে ওই রাতে মোট ৫৯২টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলা এবং ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় রুশ হামলা- দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ যুদ্ধের সামরিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে।