আন্তর্জাতিক

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা নিহত

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৪, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ-পশ্চিম শহরতলিতে ইসরাইলের হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। হামলার পর হিজবুল্লাহ নিজেদের নেতার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে।

 

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, নিহত হিজবুল্লাহ নেতা হাইথাম আলী আল-তাবতাবাই। তিনি হিজবুল্লাহর চিফ অব স্টাফ এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন। প্রতিবেদনে তাকে সংগঠনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। হামলাটি ঘনবসতিপূর্ণ দাহিয়েহ জেলার একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহ বলেছে, এই হামলায় ইসরাইল একটি ‘গুরুতর সীমারেখা’ লঙ্ঘন করেছে। হামলা সংঘটিত হয়েছে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই, যা গত বছরের নভেম্বরে মধ্যস্থতায় কার্যকর হয়েছিল।

 

ইসরাইলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহ সামরিক ক্ষমতা পুনর্গঠন এবং লেবাননে অস্ত্র পরিবহনের চেষ্টা করছে। রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিকল্প হিসেবে তারা বিস্ফোরক ড্রোনের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এতে দক্ষিণ বৈরুতে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা, ইউরোপের প্রতি কঠোর বার্তা ট্রাম্পের

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইউরোপের দেশগুলোর প্রতি কঠোর ও হুঁশিয়ারিমূলক বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কৌশলগত নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রভাবের দিক থেকে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ফলে এই বিষয়ে কোনো ধরনের আপত্তি বা চাপ তিনি গ্রহণ করবেন না। এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ড শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়; বরং এটি আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপ দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে উপেক্ষা করছে, যা ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসনের সময় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও দৃঢ়। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ইউরোপ যদি এই ইস্যুতে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া শুধু কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না—অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান আর্কটিক অঞ্চলে নতুন নৌপথ, সামরিক ঘাঁটি এবং বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিভিন্ন শক্তিধর দেশের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা বাড়ছে, যার প্রতিফলন ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এ ধরনের কঠোর ভাষা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পারস্পরিক সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়াতে পারে এবং আর্কটিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের এই অবস্থান ভবিষ্যতে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক এবং আর্কটিক অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

তুরস্ক-কাতারকে হুমকি দিলেন নেতানিয়াহু!

ছবি : সংগৃহীত

করাচিতে শপিং মলে ভয়াবহ আগুন : নিহত ২৮, নিখোঁজ ৮১

ছবি : সংগৃহীত

কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশকে যোগ দিতে দিলেন না আয়োজকরা

ছবি : সংগৃহীত
বার্সেলোনায় ট্রেন দুর্ঘটনায় চালক নিহত, আহত বহু

মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে স্পেনে আবারও ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্সেলোনায় একটি কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। এতে চালক প্রাণ হারান। এছাড়া আহত হন ৩৭ জন। যারমধ্যে পাঁচজনের অবস্থা বেশ গুরুতর।   এরআগে গত রোববার দক্ষিণ স্পেনে আরেক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হন।   স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ট্রেনটি রেললাইনের পাশের দেয়ালে ধাক্কা খায়।   কাতালুনিয়া আঞ্চলিক ফায়ার ইন্সপেক্টর ক্লাউডি গালার্দো জানিয়েছেন, ট্রেন থেকে সব যাত্রীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   স্পেনের বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েকদিন ধরে বিরূপ আবহাওয়া বিরাজ করছে। দেশটির উপকূলীয় এলাকা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উচ্চসতর্কতা জারি করা হয়েছে। এরমধ্যেই পরপর দুটি বড় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটল।   দুর্ঘটনার পর ট্রেনের ভেতর এক যাত্রী আটকা পড়েছিলেন। পরবর্তীতে তাকে বের করে নিয়ে আসতে সমর্থ হন উদ্ধারকারীরা। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।   আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা বেশ গুরুতর। ছয়জন তাদের চেয়ে কম আহত হয়েছেন। আর ২৬ জন মাঝারি মাত্রার আঘাত পেয়েছেন।   এ দুর্ঘটনার সময় বার্সেলোনায় আরেকটি কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। তবে সেখানে কেউ হতাহত হননি। দেশটির এক রেল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে লাইনে পাথর পড়ে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।   সূত্র: বিবিসি

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ফরাসি প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত মেসেজ প্রকাশ করে দিলেন ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

দুঃসময় সামলে মোনাকোকে নাস্তানাবুদ করল রিয়াল মাদ্রিদ

ছবি : সংগৃহীত

সৌদিতে কমছে প্রবাসীদের কাজের সুযোগ, নতুন নির্দেশনা জারি

ছবি : সংগৃহীত
ইরানে বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা, বাড়ছে পারমাণবিক ঝুঁকির আশঙ্কা

ইরানে সাম্প্রতিক দেশব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করে বিক্ষোভে জড়িত ও নেতৃত্বদানকারীদের সম্পদ জব্দের কার্যক্রম শুরু করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীদের বিচারের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।   এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে গুরুতর ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দীর্ঘায়িত হলে ইরানের সংরক্ষিত পারমাণবিক উপকরণ ভুল হাতে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দীর্ঘ শাসনের অবসান কামনার কথা বলেন। এর জবাবে খামেনি ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহায়তার অভিযোগ তোলেন এবং সহিংসতায় হাজারো মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। এ উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরী দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মালাক্কা প্রণালি হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিচার বিভাগের মূল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যাদের শাস্তি প্রাপ্য তাদের অযৌক্তিকভাবে ছাড় দেওয়া হলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে। এদিকে, সীমিত আকারে ইন্টারনেট চালু হলেও দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। একই সময়ে বিচার বিভাগের প্রধান দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, খুনি ও সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় বিক্ষোভে জড়ানো ব্যক্তিরা চাইলে ‘ইসলামী সহানুভূতি’ পেতে পারেন। উল্লেখ্য, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি, জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড অবমূল্যায়ন ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজধানীর গ্র্যান্ড বাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। বরং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দাবি করেছেন, এই আন্দোলনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি সংযোগ রয়েছে এবং সহিংসতা উসকে দিতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জড়িত। ইরান সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী নয় বরং সশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত ‘সন্ত্রাসীরা’ এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। অন্যদিকে বিদেশভিত্তিক পর্যবেক্ষক ও ইরানি বিরোধীরা বলছেন, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও কয়েক হাজার মৃত্যুর খবর যাচাই করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৪ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে—যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিক্ষোভ দমনের পাশাপাশি পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার সুযোগে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের কাছাকাছি।   বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই উপকরণ চুরি হয়ে গেলে বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহৃত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বই নতুন এক পারমাণবিক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ইরান তার নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

নগরের ভেতরে বন কমাবে তাপমাত্রা, বাঁচবে বিদ্যুৎ খরচ

ছবি: সংগৃহীত

গাজা শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেলেন পুতিন

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: অন্তত ৭ নিহত, আহত ২০-এর বেশি

0 Comments