খেলাধুলা

লড়াই করেও জাপানের কাছে হার বাংলাদেশের মেয়েদের

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চীনের মোকি শহরে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল।

 

ম্যাচজুড়ে জাপানের সঙ্গে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথম কোয়ার্টারে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে একটি গোল করে এগিয়ে যায় জাপান। তৃতীয় কোয়ার্টারেও ১-০ ব্যবধান ধরে রাখে তারা।

 

শেষ কোয়ার্টারে আরও একটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে জাপান। ফলে ২-০ গোলের পরাজয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশকে।

 

এই ম্যাচে জয় পেলে গতবার বাংলাদেশের পুরুষ দল যে সাফল্য অর্জন করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি করে নারী দলও সরাসরি অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেত।

 

নারী অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে এশিয়া অঞ্চল থেকে চারটি দল অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জুনিয়র এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ওঠা চার দল বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। তবে স্বাগতিক ভারত সরাসরি বিশ্বকাপে সুযোগ পেলে পঞ্চম স্থানে থাকা দলটির জন্যও সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ দলের পাকিস্তানি কোচ আরিফ আলী।

 

বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার আশা ধরে রাখতে বাংলাদেশকে এখন পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হবে। আগামী পরশু ওই ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া অথবা মালয়েশিয়া।

 

এদিকে, আগামীকাল অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ জুনিয়র এশিয়া কাপে জাপানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জয় পেলে বাংলাদেশ আবারও যুব বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। আর পরাজিত হলে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলতে হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও ব্যর্থ পাকিস্তান, বড় লিড ইংল্যান্ডের

এজবাস্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে পাকিস্তানকে অলআউট করে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইংল্যান্ড। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৩০ রান করেছে স্বাগতিকরা। ফলে প্রথম ইনিংসে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৯৭ রানে। সিরিজের প্রথম দুই টেস্ট জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। শেষ ম্যাচেও পাকিস্তানকে চাপে রাখার কাজটি প্রথম দিন থেকেই শুরু করে তারা। টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ৩৩.৫ ওভারেই ১৩৩ রানে গুটিয়ে দেয় ইংলিশরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ইংল্যান্ডেরও ভালো হয়নি। ৩৩ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। বেন ডাকেট ১১, জর্ডান কক্স ৪ ও অধিনায়ক জো রুট ৮ রান করে ফিরে যান। এরপর ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন এমিলিও গে ও হ্যারি ব্রুক। চতুর্থ উইকেটে ১০৪ রানের জুটি গড়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন দুজন। গে ১১৪ বলে ৬০ এবং ব্রুক ৯৭ বলে ৭৫ রান করেন। দুজনের বিদায়ের পর ড্যান লরেন্সও ৮২ বলে নয়টি চারে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। লাঞ্চে যাওয়ার আগে ইংল্যান্ডকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান জেমি স্মিথ। ৫৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করা এই ব্যাটার গ্যাস অ্যাটকিনসনকে সঙ্গে নিয়ে দলের লিড আরও বাড়ানোর পথে আছেন। অ্যাটকিনসন অপরাজিত আছেন ১৯ রানে। পাকিস্তানের হয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন রাজানুল্লাহ। মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ ইমরান পেয়েছেন একটি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসে ১৩৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেও ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সামনে পাকিস্তানের বোলাররা খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ফলে ম্যাচে বড় লিড নিয়ে শেষ টেস্টেও জয় তুলে নেওয়ার পথেই এগোচ্ছে ইংল্যান্ড।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লড়াই করেও জাপানের কাছে হার বাংলাদেশের মেয়েদের

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক স্পিনার ইমরান তাহির।

সিপিএলে সবচেয়ে বেশি বয়সে ৫ উইকেট নিয়ে ইমরান তাহিরের বিশ্বরেকর্ড

সিপিএল অভিষেকেই মিরাজের বাজিমাত

‘পেলে’ নামটি কীভাবে পেলেন ব্রাজিলের ফুটবল সম্রাট?

  এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো নামটি হয়তো অনেকের কাছেই অপরিচিত। কিন্তু ‘পেলে’ নামটি উচ্চারণ করলেই ফুটবলপ্রেমীদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক কিংবদন্তির ছবি। ব্রাজিলের ফুটবল সম্রাট, সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় পেলে ৮২ বছর বয়সে ইহকাল ত্যাগ করেছেন। তবে কীভাবে এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো ‘পেলে’ হয়ে উঠেছিলেন? এই নামের পেছনে আছে মজার এক গল্প।   পেলে খুব অল্প বয়সেই ফুটবল বিশ্বে নিজের ছাপ ফেলেছিলেন। মাত্র ১৭ বছর ২৩৯ দিন বয়সে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করে ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হন তিনি। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলেছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিনি জিতেছেন তিনটি বিশ্বকাপ শিরোপা।   কিংবদন্তিতুল্য ক্যারিয়ার ও অসাধারণ ফুটবল প্রতিভাই পেলেকে খেলাটির সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন করে তুলেছিল। কিন্তু তার বিখ্যাত নামটি কীভাবে এলো, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে অনেকেরই।   পেলে জন্মগ্রহণ করেন ব্রাজিলের ত্রেস কোরাসোয়েস শহরে। তার পুরো নাম ছিল এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো। বাবা ডনদিনহো ছিলেন ফ্লুমিনেন্সের ফুটবলার। তার আসল নাম ছিল জোয়াও রামোস দো নাসিমেন্তো। মা সেলেস্তে আরান্তেস।   পেলের প্রথম নামটি মূলত বিজ্ঞানী টমাস এডিসনের নাম অনুসরণ করে ‘এডিসন’ বানানে লেখা হয়েছিল। পরে তার বাবা-মা নামের বানান থেকে ‘আই’ বাদ দিয়ে ‘এডসন’ রাখেন। তবে জন্মসনদের একটি টাইপিং ভুলের কারণে বিভিন্ন নথিতে তার নাম ‘এডিসন’ হিসেবেও লেখা হয়েছিল। আর ‘পেলে’ নামটি আসে আরও ভিন্নভাবে।   ব্রাজিলের অনেক তারকা ফুটবলারই এক নামে পরিচিত- নেইমার, কাকা কিংবা পেলের মতো। তবে পেলের ডাকনামের উৎস নিয়ে বেশ কয়েকটি গল্প প্রচলিত থাকলেও সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য গল্পটি তার শৈশবের সঙ্গে জড়িত।   স্কুলজীবনে পেলে তার প্রিয় এক ফুটবলারের নাম সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারতেন না। সেই ফুটবলার ছিলেন গোলরক্ষক ‘বিলে’। যিনি ছিলেন পেলের বাবার সতীর্থ এবং ভাস্কো দা গামার হয়ে খেলতেন।   পেলে ছোটবেলায় ‘বিলে’ নামটি ভুল উচ্চারণ করে ‘পেলে’ বলতেন। সেই ভুল উচ্চারণই একসময় তার ডাকনামে পরিণত হয়। কিংবদন্তি ফুটবলার নিজেও তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘পেলে’ নামটির অর্থ কী, তা তিনি নিজেই জানতেন না। এমনকি তার শৈশবের বন্ধুরাও জানতো না।   কিন্তু স্কুলের সেই ভুল উচ্চারণ আর থামেনি। বরং ধীরে ধীরে ‘পেলে’ নামটিই স্থায়ী হয়ে যায়। এরপর সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তোকে গোটা বিশ্ব চিনেছে শুধু এক নামে। সেটা হচ্ছে পেলে!

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি : রয়টার্স

ফেয়েনুর্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগ যাত্রা শুরু

কোমো সভাপতি মিরওয়ান সুয়ারসো নিজের আসন ছেড়ে দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়নস লিগে ঐতিহাসিক অভিষেক, প্রবীণ সমর্থকদের আসন ছাড়ছেন ক্লাব সভাপতি

মিচেল স্যান্টনার। সংগৃহীত ছবি

জাতীয় দলের জন্য বিগ ব্যাশ ছাড়লেন স্যান্টনার

ছবি: সংগৃহীত
রুবেলের আন্তর্জাতিক অভিষেক নিয়ে মাইক হাসির সঙ্গে তুলনা বাশারের

অস্ট্রেলিয়ায় উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন বাংলাদেশের রহস্যময় স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। ৯ দলের এই আসরে ১০ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। এরপর থেকে তাকে নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে বেশ আলোচনা। যদিও ৩০ বছর বয়সী এই স্পিনারের ক্রিকেটে পদচারণা নতুন নয়!   রুবেল এখনও বাংলাদেশ জাতীয় দলে ডাক পাননি। তবে যেভাবে ক্রিকেটসংশ্লিষ্টদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন, যেন ডাক পাওয়া সময়ের ব্যাপার। তবে কথা হচ্ছে ৩০ বছর বয়সে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়াটা কেমন হতে পারে! এই প্রসঙ্গে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন অবশ্য অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মাইক হাসি’র উদাহরণ টেনেছেন।   ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাশার বলেন, ‘আমরা তাকে (রুবেল) গত বছরের বিপিএল থেকে নজরে রেখেছি। যে নিয়মিত মিস্ট্রি বল করে আসছে। এমনকি সে ভালো একজন ফিল্ডারও। যদিও সে অতটা তরুণ নয়, কিন্তু মাইক হাসিও আন্তর্জাতিক অভিষেক (২৮ বছর বয়সে ওয়ানডে এবং দুই বছর পর টেস্ট) করেছিলেন বেশ দেরিতে। পরবর্তীতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটারে পরিণত হন। রুবেলের ক্ষেত্রেও বয়স বাধা হবে না।   দেরিতে অভিষেক হওয়ার পর মাইক হাসি ৭৯টি টেস্ট ম্যাচে ৫১.৫২ গড়ে ৬২৩৫ রান এবং ১৯টি সেঞ্চুরি করেছেন। তার টেস্ট ব্যাটিং গড় সবসময় ৫০-এর উপরে ছিল। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার মোট রান ১২,৩৯৮ এবং সেঞ্চুরি ২২টি। ২০০৬ সালে তিনি বিশ্বের নম্বর ওয়ান ওয়ানডে ব্যাটসম্যান হয়েছিলেন। এই ফরম্যাটে ১৮৫ ম্যাচে তিনি ৪৮.১৫ গড়ে ৫৪৪২ রান করেন হাসি। এ ছাড়া ৩৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে করেন প্রায় ৩৮ গড়ে ৭২১ রান।   এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যখন ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ ইতিহাসগড়া জয় পায়, এর এক সপ্তাহ পরেই ‘টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি’ টুর্নামেন্টে ওই ভেন্যুতে আলো ছড়ান রহস্যময় স্পিনার রুবেল। জাতীয় দলের পাইপলাইনে থাকা এবং নতুন-অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অংশগ্রহণে আয়োজিত ওই টুর্নামেন্টে তিনি যথাক্রমে ১৮ রানে ৪, ২৫ রানে ৩, ১৫ রানে ৪, ৩০ রানে ৩, ২১ রানে ৫ এবং ১৫ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন।   প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের ঘরোয়া লিগে এবং জাতীয় দলের নেটে নিয়মিতই বল করতেন রহস্য স্পিনার রুবেল। গত বছর আচমকা এসসিএল টি-টোয়েন্টি লিগে সুযোগ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে বল হাতে নিজেকে প্রমাণ করেন। পরে সুযোগ আসে লাল বলের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও। সবশেষ বিপিএলে নাম লিখিয়ে পুরোপুরি আলোচনায় আসেন রুবেল। তিনি বল হাতে যেন সবসময় আলাদা, অন্যরকম তার অ্যাকশন এবং বিশেষত তার দুসরা ডেলিভারির কারণে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জরিমানার মুখে আরেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার

ছবি: সংগৃহীত

রোনালদোর গড়া ২টি রেকর্ড ভেঙে দিলেন মেসি

ছবি: সংগৃহীত

রুবেলের আন্তর্জাতিক অভিষেক নিয়ে মাইক হাসির সঙ্গে তুলনা বাশারের

0 Comments