সারাদেশ

খুলনায় বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে যুবদল নেতাসহ দু’জনকে গুলি

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

খুলনায় ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে যুবদল নেতা মাসুম বিল্লাহসহ দু’জনকে গুলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর লবণচরা থানার পুটিমারী বাজারের জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি অফিসের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

 

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সার্জারি বিভাগের ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গুলিবিদ্ধ মাসুম বিল্লাহ পুটিমারী বাজার কমিটির সভাপতি। তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী। গুলিবিদ্ধ জাহিদ মাসুমের পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, দুপুরে মাসুম বিল্লাহ ও জাহিদ বিএনপি অফিসের ভেতরে বসে ছিলেন। এ সময় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত পারভেজ সেখানে প্রবেশ করেন। তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে অফিসের ভেতরে গুলির শব্দ শোনা যায়। পারভেজ বের হয়ে গেলে ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, মাসুম বিল্লাহর বাম পায়ে এবং জাহিদের ডান হাতের বাহুতে গুলি লেগেছে।

নগরীর লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারফ হোসেন জানান, মাসুম বিল্লাহ ও পারভেজ পূর্বপরিচিত। কোনো বিষয় নিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে দু’জন তর্কে জড়ান। পরে পারভেজ বাইরে থেকে পিস্তল এনে মাসুমকে লক্ষ্য করে গুলি করে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে জাহিদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে মাসুমের পায়েও গুলি করা হয়।

তিনি আরও জানান, পারভেজের বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
পল্লবীর শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলার অভিযোগপত্র রোববার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকার পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অভিযোগপত্র রোববার বিকালেই আদালতে জমা পড়বে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাতের পর এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।   এদিন সালাহউদ্দিন আহমদও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পল্লবীতে নিহত শিশুর বাসায় যান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ বিভাগ সততার সঙ্গে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আসামি তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন অভিযোগপত্র দেওয়ার পালা। অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে এখন ডিএনএ পরীক্ষা সারতে হবে। আমাদের সিআইডি ল্যাবে অলরেডি আদালতের অনুমতি নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার কাজ চলছে। ডিএনএ পরীক্ষার নিয়ম হলো, ন্যূনতম ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। যেহেতু এটা বৈজ্ঞানিক বিষয়, সেটা শেষ হবে রোববার দুপুরের মধ্যে। আমরা রোববার বিকেলের  মধ্যে ইনশাল্লাহ আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘তারপরে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন বিচারকার্য নিষ্পন্ন হয়, সেজন্য আমরা চেষ্টা করব।’ বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫২ মিনিটে পল্লবীতে শিশুটির বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী। তার সঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল আলম মিল্টনও ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নিহত শিশুর মা-বাবা এবং তার বড় বোনের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদেরকে সান্ত্বনা দেন। উল্লেখ্য, ঢাকার পল্লবীতে গত মঙ্গলবার সাত বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

খুলনায় বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে যুবদল নেতাসহ দু’জনকে গুলি

ছবি : সংগৃহীত

পশুর হাটে ১৪৪ ধারা জারি, ঈদের আগের রাত পর্যন্ত কার্যকর

বহিষ্কৃত ছাত্রদলের দুই নেতা। ছবি : সংগৃহীত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

ফাইল ছবি
পাওনা টাকার কথা বলে ডেকে নিয়ে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পাওনা টাকার কথা বলে এক গৃহবধূকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় তিনজনকে গ্রেফাতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ মে )  রাতে সাড়ে ৭টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর স্বামী আসলাম মিয়া। মামলার ১ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামিকে গ্রেফাতার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।  গ্রেফাতার তিনজন হলেন- লিটন (৪০), ইউসুফ হোসেন ফারুক (৫৭), মো. ইয়াসিন (২২)। তারা তিনজনই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া বাসিন্দা। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সেন্টার গলির একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি পরিচিত এক ব্যক্তি নাদিমের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ধার নেন। ওই টাকার জামিনদার ছিলেন অভিযুক্ত লিটন।পরে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে লিটন, ইউসুফ হোসেন ফারুক ও ইয়াসিন নামে তিন ব্যক্তি পাওনা টাকার বিষয়ে কথা বলার কথা বলে ওই গৃহবধূকে বাসা থেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে করে তাঁকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি নির্জন স্থানে নেয়া হয়। সেখানে প্রথমে লিটন ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। পরে লিটনের অন্য দুই বন্ধুও পালাক্রমে তাঁকে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে অন্যরা পাহারায় ছিলেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বামী আসলাম মিয়া বলেন,  ঘটনার পর ধর্ষণকারীরা বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে রাত নয়টার দিকে তাঁকে আবার বাসার সামনে আমার স্ত্রীকে পৌঁছে  হয়। বাসায় ফিরে সে আমাকে  পুরো ঘটনা জানান। ধর্ষণকারীদের গ্রেফতার করেছেন পুলিশ। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন,অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা নেয়া হয়েছে এবং এক ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামিকে গ্রেফাতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ডিবি কার্যালয়ে

ছবি : সংগৃহীত

ঈদের ফিরতি যাত্রার ট্রেনের টিকিট আজ থেকে বিক্রি

ছবি : সংগৃহীত

দাদা-দাদির কবরের পাশে শিশু রামিসা চিরনিদ্রায় শায়িত

ছবি : সংগৃহীত
খুলনা ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগ বন্ধ

ঝিনাইদহে একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে গেছে। এতে খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে কোটচাঁদপুরের সাফদারপুর রেলস্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   স্টেশন মাস্টার রিপন আলী বলেন,খুলনার মোংলা থেকে ছেড়ে আসা ঈশ্বরদিগামী একটি মালবাহী ট্রেন সাফদারপুর স্টেশনের কাছে পৌঁছালে রাত ৩টার দিকে পেছনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে খুলনার সঙ্গে রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।   তিনি আরও বলেন, সকাল ৭টার দিকে খুলনা থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন কোটচাঁদপুরে পৌঁছায়। দ্রুতই উদ্ধার কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা ভক্তদের সঙ্গে মিলেমিশে ব্রাজিলের ৪০০ ফুট পতাকা

ছবি : সংগৃহীত

ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল রামিসার আর বন্ধুদের দেওয়া হলো না চকলেট

ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় সেতুর টোল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

0 Comments