প্রযুক্তি

খোরদাদ-৩: ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার উন্নত ঢাল

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২২, ২০২৬
খোরদাদ-৩

আকাশপথে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যুদ্ধবিমান, স্টিলথ ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় আধুনিক ও বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ইরান গত কয়েক দশকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিভিন্ন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও কার্যকর ব্যবস্থাগুলোর একটি হলো "খোরদাদ-৩"।

 

ইসলামি বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর অ্যারোস্পেস ইউনিটের সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদ আমির আলী হাজিজাদেহর ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণে ইরানের হাতে থাকা সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

রা'দ থেকে খোরদাদ-৩

 

"খোরদাদ-৩" ব্যবস্থার সূচনা হয় "রা'দ" আকাশ প্রতিরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে। ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো রা'দ ব্যবস্থার কথা প্রকাশ্যে আসে। সে সময় এটি ৫০ কিলোমিটার পাল্লা এবং ২৭ কিলোমিটার উচ্চতায় লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার সক্ষমতা দেখিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

 

পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার সামনে প্রদর্শিত হয় এর আরও উন্নত সংস্করণ "খোরদাদ-৩"। মাঝারি পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রাশিয়ার বুক-এম২ই সিস্টেমের সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও এর নকশা ও প্রযুক্তিগত কাঠামো ছিল সম্পূর্ণ দেশীয় উন্নয়নের ফল।

 

উন্নত প্রযুক্তি ও যুদ্ধক্ষমতা

 

খোরদাদ-৩ ব্যবস্থার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ফেজড অ্যারে রাডার, যাতে প্রায় ১,৭০০টি উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে। এই রাডার একই সঙ্গে চারটি পৃথক লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত ও আটটি ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা করতে সক্ষম।

 

প্রথম দিকের সংস্করণে এর পাল্লা ছিল ৫০ কিলোমিটার। তবে পরবর্তী সংস্করণগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে এবং সর্বশেষ সংস্করণে তা ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়।

 

এই ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শব্দের গতির তিন থেকে চার গুণ বেশি গতিতে চলতে পারে। এর লেজারভিত্তিক প্রক্সিমিটি ফিউজ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুর নিকটে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম, যা আকাশযুদ্ধে এর কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে তোলে।

 

"গুলি করে সরে যাও" কৌশল

 

খোরদাদ-৩'র আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চ গতিশীলতা। পুরো সিস্টেমটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে দ্রুত মোতায়েন, আক্রমণ এবং অবস্থান পরিবর্তন করা যায়। সামরিক ভাষায় একে বলা হয় "Shoot and Scoot" কৌশল বা হামলা করে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করার কৌশল। এই কৌশলে প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে অবস্থান নেয় এবং সুযোগমতো শত্রুর উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুর ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। ফলে শত্রুপক্ষের জন্য সিস্টেমটির অবস্থান শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

 

সমুদ্রপথেও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা

 

খোরদাদ-৩ শুধু স্থলভিত্তিক নয়, নৌযানেও স্থাপনযোগ্য। এর ছোট ও সমন্বিত নকশা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির নৌ ইউনিটকে সমুদ্রপথে আরও কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা সুবিধা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা হলে এই ব্যবস্থা উপকূল থেকে বহু দূরের লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করতে সক্ষম। এর ফলে সমুদ্রভিত্তিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনা

 

২০১৯ সালের ২০ জুন হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৪সি "ট্রাইটন" ড্রোন ভূপাতিত করার মাধ্যমে সোম খোরদাদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনায় আসে।

এই ঘটনাকে ইরানের দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির একটি বড় সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দেয় যে আধুনিক ড্রোন ও নজরদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রযুক্তি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বুয়েট প্রকৌশলীদের ‘টিপসই’ এখন বিশ্বের ১১ দেশে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল প্রকৌশলীর হাতে গড়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম টিপসই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বের ১১টি দেশে। বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও এনজিওতে ব্যবহৃত হচ্ছে দেশে তৈরি এই প্রযুক্তি।   ইনোভেস টেকনোলজিসের এই প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি সক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে ১ হাজার ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও ২ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি ব্যবহারকারীকে সেবা দিচ্ছে। সফটওয়্যার, বায়োমেট্রিক ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৫ সালে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় তিন গুণ। বিশ্ববাজারে এই সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি নিজেদের ব্র্যান্ড পরিচিতিতেও পরিবর্তন এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।   বাংলাদেশে তৈরি সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সমাধান সাধারণত স্থানীয় বাজার পার হয়ে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নজির তুলনামূলক কম। টিপসইয়ের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে একযোগে ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এখন ইউরোপ ও এশিয়ার আরও কিছু দেশে উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।   এই সম্প্রসারণে বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত আছে অ্যাক্সিলারেটিং এশিয়া ও অরবিট ভেঞ্চারস। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে বিদেশি বিনিয়োগ আসার এই ধরনের ঘটনা দেশের স্টার্টআপ খাতের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   টিপসইয়ের বিপণন বিভাগের প্রধান অর্ণব সিকদার বলেন, ‘আমাদের প্রযুক্তি এগিয়েছে, প্ল্যাটফর্মও বড় হয়েছে। নতুন বাজারে যাওয়া এবং বাংলাদেশে তৈরি এই প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করানোই এখন আমাদের লক্ষ্য।’   আগামী কয়েক মাসের মধ্যে টিপসইয়ের সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, যন্ত্র, ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনজুড়ে ধাপে ধাপে নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি চালু করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের সাহায্য ছাড়াই প্রথমবার এআইয়ের সাইবার আক্রমণ

সন্তান হারিয়ে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

ওপেনএআই’র চ্যাটজিপিটিতে নতুন ফিচার যুক্ত

ওপেনএআই’র চ্যাটজিপিটিতে নতুন ফিচার যুক্ত

ছবি: সংগৃহীত
বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, প্রতিদিন ২০০ টাকা ভাতা; আবেদন শেষ ১৫ জুন

শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড।   দেশের ৬৪ জেলার ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী কর্মপ্রত্যাশী যুবক ও যুব নারীরা এ প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের কমপক্ষে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আইসিটি ও কম্পিউটারের মৌলিক জ্ঞান এবং ইংরেজিতে দক্ষ প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।   প্রশিক্ষণের মেয়াদ ৩ মাস, মোট ৬০০ ঘণ্টা। আগামী ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে।   আগ্রহীরা আগামী ১৫ জুন ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনপত্রের কপি সংরক্ষণ করতে হবে।   যোগ্য আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০ জুন এবং মৌখিক পরীক্ষা ২১ জুন। পরীক্ষার সময় ও স্থান মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের তালিকা ২৪ জুন প্রকাশ করা হবে।   প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি দিতে হবে না। প্রশিক্ষণার্থীরা প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে যাতায়াত ভাতা পাবেন। পাশাপাশি সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাশতার ব্যবস্থাও থাকবে। কোর্স সফলভাবে সম্পন্নকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হবে।   সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্রিল্যান্সিং খাতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৫৬ বছরের অমীমাংসিত গাণিতিক সমস্যার সমাধান করল গুগলের এআই

ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গল গ্রহে পাথরের অদ্ভুত স্তূপ কোথা থেকে এল, কারা রাখল

ছবি: সংগৃহীত

ফোন নম্বর ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলার নতুন সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত
দেড়-দুই লাখ টাকার সোলারে চলবে এসি, ফ্রিজ ও টিভি

দেশজুড়ে বাড়তে থাকা লোডশেডিং ও উচ্চ বিদ্যুৎ বিলের কারণে এখন অনেকেই ঝুঁকছেন সৌরবিদ্যুতের দিকে। বিশেষ করে ‘সোলার হাইব্রিড সিস্টেম’ এখন শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধু লাইট-ফ্যান নয়, এসি, ফ্রিজ, টিভি ও ওয়াশিং মেশিনের মতো ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রও চালানো সম্ভব হচ্ছে।   রাজধানীর গুলিস্তান ও কাপ্তানবাজারের সোলার মার্কেট ঘুরে জানা গেছে, একটি মাঝারি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় হাইব্রিড সোলার সেটআপ দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। এতে একটি এসি, ফ্রিজ, টিভি, কয়েকটি ফ্যান ও এলইডি লাইট চালানো সম্ভব।   ব্যবসায়ীরা জানান, আধুনিক হাইব্রিড সিস্টেমে দিনের বেলা সরাসরি সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা হয়, যা রাতে বা লোডশেডিংয়ের সময় ব্যাকআপ দেয়। ফলে বিদ্যুৎ বিলও অনেক কমে আসে।   সোলার ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ৩ থেকে ৫ কিলোওয়াটের সিস্টেমের। ভালো মানের ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি ও উন্নত প্যানেল ব্যবহার করলে এসব সিস্টেম ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে।   গুলিস্তানের এক সোলার ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক মাসে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে সোলারের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। প্রতি মাসে শত শত হাইব্রিড সিস্টেম বিক্রি হচ্ছে।   ক্রেতারাও বলছেন, একবার বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি লাভজনক। কারণ এতে বিদ্যুৎ বিল ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের ঝামেলাও থাকে না।   মিরপুরের বাসিন্দা প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, “গরমে এসি চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিল অনেক বেড়ে যায়। তাই এখন সোলারই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান মনে হচ্ছে।”   অন্যদিকে কুমিল্লার ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রামে নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি দোকান ও বাসার জন্য বড় সোলার সেটআপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

আক্তারুজ্জামান মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ভয়াবহ গরমের উৎস হতে পারে ডেটা সেন্টার, দাবি গবেষণায়

খোরদাদ-৩: ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার উন্নত ঢাল

ছবি: সংগৃহীত

আজ বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস

0 Comments