দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, খেলাধুলাবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠলে সমাজে ইতিবাচক ও গুণগত পরিবর্তন আসবে।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হাফ ম্যারাথন ‘ওয়ান রান’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলাই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। এজন্য সরকার যুবসমাজকে মাঠমুখী করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের চলমান উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এছাড়া দেশ-বিদেশের প্রায় এক হাজার অ্যাথলেট এই আয়োজনে অংশ নেন।
১ কিলোমিটার, ৫ কিলোমিটার, ১০ কিলোমিটার এবং ২১.১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন—এই চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে দেশি-বিদেশি দৌড়বিদদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতির ইতিবাচক অগ্রগতির প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার বক্তব্যে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত দৌড় প্রতিযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন মানুষকে সুস্থ ও ফিট থাকতে উৎসাহিত করে। ভবিষ্যতে তিনিও এমন আয়োজনে অংশ নিয়ে সবার সঙ্গে দৌড়াতে চান বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, সুস্থ সমাজ গঠনে নারী-পুরুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ৭৪ বছর বয়সী এক অ্যাম্বাসেডরের অনুপ্রেরণামূলক জীবনের গল্প তুলে ধরে তরুণদের উদ্দেশে জাইমা রহমান বলেন, “জীবনকে ভালোবাসুন, ফিট থাকুন।”
আন্তর্জাতিক মানের এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে গত কয়েক বছরে পেস বোলিংয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। তিনি বলেছেন, এক সময় যেখানে বাংলাদেশের প্রধান ভরসা ছিল স্পিন, এখন সেখানে ম্যাচ জয়ের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছেন পেসাররা। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি বাংলাদেশি পেসারদের উন্নতি ও মানসিকতার প্রশংসা করেন। ডোনাল্ড বলেন, বাংলাদেশ দলের সাবেক ও বর্তমান পেসারদের সঙ্গে তার এখনো নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব ছাড়লেও তিনি তাদের জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রেখে দিয়েছেন, যেখানে এখনো সবাই যুক্ত আছে। তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম এই গ্রুপটা মুছব না। তোমাদের যখনই দরকার হবে, আমি আছি। সময় পেলে আমি খোঁজ নিই। এই ৩–৪ বছরে গ্রুপটা যেভাবে বেড়েছে এবং উন্নতি করেছে, সেটা দেখা সত্যিই দারুণ।” তিনি বিশেষভাবে তাসকিন আহমেদকে নেতৃত্বের ভূমিকায় এগিয়ে আসায় প্রশংসা করেন এবং বলেন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে এখনো তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে—স্বাস্থ্য, পরিবারসহ নানা বিষয়ে তারা কথা বলেন। বাংলাদেশি তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তরিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও মন্তব্য করেন ডোনাল্ড। তিনি আরও বলেন, বর্তমান ক্রিকেটে টেস্ট ফরম্যাটই একজন পেসারের আসল দক্ষতা ও মানসিক শক্তি যাচাই করার জায়গা। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটই খেলোয়াড়দের প্রকৃত উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করে। ডোনাল্ড বলেন, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভুলের সুযোগ প্রায় নেই, তবে টেস্ট ক্রিকেটই আসল লড়াইয়ের মঞ্চ, যেখানে একজন বোলার নিজের সর্বোচ্চটা তুলে ধরতে পারে।
দারুণ এক মৌসুমের স্বপ্নময় সমাপ্তি টানল লেন্স। ১২০ বছরের ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফ্রেঞ্চ কাপ জিতে নিয়েছে ক্লাবটি। শুক্রবার স্টেড দে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নিসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতে উত্তর ফ্রান্সের দলটি। এই জয়ের নায়ক ছিলেন তারকা ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান থাউভিন। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই ফরাসি স্ট্রাইকার ফাইনালেও গোল করার পাশাপাশি একটি গোল বানিয়েও দেন। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করে নিজের অসাধারণ ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন তিনি। ম্যাচের ২৫ মিনিটে প্রথম গোল করে লেন্সকে এগিয়ে দেন থাউভিন। এরপর প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে তার নেওয়া কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওডসন এদুয়ার। দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও দ্রুত ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় নিস। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তেই জিব্রিল কুলিবালি একটি গোল শোধ করে দলকে আশার আলো দেখান।তবে দ্বিতীয়ার্ধে লেন্স আর ভুল করেনি। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে আবদাল্লাহ সিমা নিসের ডিফেন্ডারদের সঙ্গে শক্তির লড়াই জিতে বল জালে পাঠালে ৩-১ ব্যবধানে নিশ্চিত হয়ে যায় লেন্সের ঐতিহাসিক শিরোপা। পুরো মৌসুমে লিগ ওয়ানে পিএসজির সঙ্গে সমানতালে লড়াই করেছিল লেন্স। দীর্ঘ সময় শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও শেষ দিকে পিএসজির বিশাল স্কোয়াড গভীরতার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত লিগে দ্বিতীয় হলেও ফ্রেঞ্চ কাপ জিতে মৌসুমটা স্মরণীয় করে রাখল পিয়ের সাজের দল। তরুণ প্রতিভা ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের অসাধারণ মিশেলে সাজানো এই লেন্স দলকে পুরো মৌসুমে দারুণভাবে পরিচালনা করেছেন কোচ পিয়ের সাজ। আর সেই পরিশ্রমেরই পুরস্কার মিলল মৌসুম শেষে। অন্যদিকে নিসের জন্য হতাশা যেন কাটছেই না। ম্যাচে তারা দুবার পোস্টে বল মেরেও ভাগ্যের সহায়তা পায়নি। লিগে মার্চের মাঝামাঝি থেকে কোনো জয় না পাওয়া দলটি মৌসুম শেষ করেছে অবনমন অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থানে। এখন টিকে থাকার জন্য তাদের খেলতে হবে সাঁ-তেতিয়েনের বিপক্ষে প্লে-অফ। এদিকে ফাইনালটি আরেকটি বিশেষ কারণে আলোচনায় আসে। ম্যাচের রেফারি জেরোম ব্রিসার্ড নিজের জার্সিতে ৮৪ নম্বর পরে মাঠে নামেন। মূলত ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রতি সম্মান বাড়ানোর প্রচারণার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সৌদি ক্লাব আল নাসরকে ঘিরে এবার সামনে এলো বড় চমক। একাধিক গণমাধ্যমের দাবি, ক্লাবটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছেন বিশ্বখ্যাত কোচ পেপ গার্দিওলা। এমনকি তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগও করেছে আল নাসর। এমনটাই জানিয়েছে মার্কা। বর্তমানে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরেই নিজেদের প্রকল্প সাজাচ্ছে সৌদি ক্লাবটি। মাঠের পারফরম্যান্স থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা, সবকিছুর কেন্দ্রেই আছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। এবার সেই দলে গার্দিওলার মতো কোচকে আনার চিন্তা সৌদি ফুটবলের বড় বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। খবরে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে গার্দিওলার প্রতিনিধির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছিল। যদিও সেটি এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা চুক্তির পর্যায়ে যায়নি। সম্প্রতি ম্যানচেস্টার সিটি অধ্যায়ের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন গার্দিওলা।আর সেই সময়েই আল নাসরের আগ্রহের খবর সামনে আসায় জল্পনা আরো বেড়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই রোনালদো ও গার্দিওলা একই দলে কাজ করেন, তবে সেটি হবে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম আলোচিত জুটি। একদিকে রোনালদোর গোল করার ক্ষমতা ও নেতৃত্ব, অন্যদিকে গার্দিওলার কৌশলনির্ভর ফুটবল, দুইয়ের মিশেলে আল নাসর আরো ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। তবে এখনই নিশ্চিত কিছু নয়। গার্দিওলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনা এখনো কেবল প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। তবু এই সম্ভাবনাই বিশ্ব ফুটবলে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।