আজও ম্যাজিক দেখালেন লিওনেল মেসি। দলের বড় বিপদের সময় আবারও ত্রাতার ভূমিকায় লিওলেন। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে দারুণ এক শটে গোল করেন তিনি। আর তাতে ২-২ গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।
এটি চলতি বিশ্বকাপে মাত্র ৫ ম্যাচে ৮টি গোল করলেন। এর মাধ্যমে তিনি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে নিজের করা মোট ৭টি গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেলেন, যে আসরে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
কাতারে এই ১০ নম্বর জার্সিধারী তারকা শুধুমাত্র পোল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন সেই ম্যাচে তিনি একটি পেনাল্টি মিস করেন। এছাড়া প্রথম রাউন্ডে সৌদি আরব ও মেক্সিকো, শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়া, কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস, সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া এবং গ্র্যান্ড ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে (জোড়া গোল) লক্ষ্যভেদ করেছিলেন তিনি।
এখন ২০২৬ সালে ৩৯ বছর বয়সেও এই আর্জেন্টাইন জাদুকর আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে হ্যাটট্রিক (৩ গোল), অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে একটি গোল করেন। এরপর শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে কেপ ভার্দে এবং এবার শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে জালের দেখা পেলেন তিনি।
এর মাধ্যমে মেসি চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে (৭ গোল) পেছনে ফেলে এককভাবে শীর্ষে উঠে এলেন। সেই সাথে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের রাজত্ব আরও পাকাপোক্ত করলেন তিনি।
বর্তমানে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা ২১টি, যেখানে ফরাসি তারকা এমবাপ্পের গোল ১৯টি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়ার পর ব্রাজিল দলে নেমেছে ভিন্ন এক বাস্তবতা। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর সেলেসাওদের বহনকারী বিমান ব্রাজিলে ফিরলেও ২৬ সদস্যের স্কোয়াড থেকে দেশে ফিরেছেন মাত্র একজন ফুটবলার। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লামেঙ্গোর ডিফেন্ডার দানিলো লুইজই ছিলেন একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) চার্টার্ড বিমানে দেশে ফেরেন। দলের বাকি খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজ নিজ ক্লাব কিংবা ব্যক্তিগত ছুটির গন্তব্যে চলে যান। রিও ডি জেনিরোতে বিমান অবতরণের প্রায় দুই ঘণ্টা পর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। দানিলোর সঙ্গে ছিলেন সিবিএফের নির্বাহী সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানো এবং টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর হুয়ান। তবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশায় দানিলো গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। এদিকে দলের ব্যর্থতার পরও কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতি আস্থা রেখেছে সিবিএফ। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে কায়েতানো জানান, কোচিং স্টাফের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নতুন বিশ্বকাপ চক্রের পরিকল্পনা শুরু করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। ফলাফল অবশ্যই প্রত্যাশিত হয়নি, তবে অনেক তরুণ খেলোয়াড় এই টুর্নামেন্টে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রীতি ম্যাচগুলোর প্রস্তুতি শুরু করব।’ শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়াকে হতাশাজনক উল্লেখ করে কায়েতানো বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আরও অনেক দূর যাওয়ার আশা করেছিলাম। তবে সামগ্রিকভাবে গত এক বছর চার মাসের কাজকে ইতিবাচক বলেই মূল্যায়ন করছি। যদি তা না হতো, তাহলে আনচেলত্তিকে দায়িত্বে রাখা হতো না।’ বিশ্বকাপ-পরবর্তী বিরতি শেষে আগামী সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচ থেকেই ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েক ডজন আইনপ্রণেতা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর দাবি তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই দাবি উঠেছে। গত ১ জুলাই বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগুন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পরের ম্যাচে তার খেলার সুযোগ ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপরই ইনফান্তিনোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য। ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, লারা উলটার্স ও নিলস ফুগলসাং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন লাল কার্ডের শাস্তির নিয়ম বদলে দেওয়া ফুটবলের ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার পরিপন্থি। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে ফিফা। আইনপ্রণেতারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোকে ফিফার এথিকস কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আবেদন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা জানতে চান, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো প্রভাব ছিল কি না এবং ফিফা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করেছে কি না। এদিকে ফিফা জানিয়েছে, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের ডিসিপ্লিনারি কমিটি। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতারা। ইতোমধ্যে ৩৫ সদস্য তদন্ত দাবির পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের ভাষ্য, খেলাধুলার সৌন্দর্য নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নিয়মের ওপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিয়ম বদলে গেলে ফুটবলের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়।
আজও ম্যাজিক দেখালেন লিওনেল মেসি। দলের বড় বিপদের সময় আবারও ত্রাতার ভূমিকায় লিওলেন। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে দারুণ এক শটে গোল করেন তিনি। আর তাতে ২-২ গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এটি চলতি বিশ্বকাপে মাত্র ৫ ম্যাচে ৮টি গোল করলেন। এর মাধ্যমে তিনি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে নিজের করা মোট ৭টি গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেলেন, যে আসরে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কাতারে এই ১০ নম্বর জার্সিধারী তারকা শুধুমাত্র পোল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন সেই ম্যাচে তিনি একটি পেনাল্টি মিস করেন। এছাড়া প্রথম রাউন্ডে সৌদি আরব ও মেক্সিকো, শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়া, কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস, সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া এবং গ্র্যান্ড ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে (জোড়া গোল) লক্ষ্যভেদ করেছিলেন তিনি। এখন ২০২৬ সালে ৩৯ বছর বয়সেও এই আর্জেন্টাইন জাদুকর আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে হ্যাটট্রিক (৩ গোল), অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে একটি গোল করেন। এরপর শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে কেপ ভার্দে এবং এবার শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে জালের দেখা পেলেন তিনি। এর মাধ্যমে মেসি চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে (৭ গোল) পেছনে ফেলে এককভাবে শীর্ষে উঠে এলেন। সেই সাথে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের রাজত্ব আরও পাকাপোক্ত করলেন তিনি। বর্তমানে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা ২১টি, যেখানে ফরাসি তারকা এমবাপ্পের গোল ১৯টি।