জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে চারটি আসনে নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এসব আসনে জমিয়েতর প্রার্থীরা তাদের দলীয় ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব আসনে বিএপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চারটি আসনে নির্বাচনি সমঝোতার কথা জানিয়ে এ আহ্বান জানান।
বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের সমঝোতা হওয়া আসনগুলো হলো—নীলফামারী-১ (মাওলানা মো. মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী), নারায়ণগঞ্জ-৪ (মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী), সিলেট-৫ (মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব)। এই চারটি আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না এবং জমিয়তের প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সমঝোতা অনুযায়ী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম অন্য কোনো আসনে প্রার্থী দেবে না। আমাদের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন ওই আসনগুলোতে খেজুর গাছ মার্কার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পূর্ণ সহযোগিতা করেন। খেজুর গাছকে বিজয়ী করার মাধ্যমেই ধানের শীষের শক্তি বৃদ্ধি পাবে।’
নির্বাচনি শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীদের বাইরে কেউ যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ায়, তবে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। দলীয় প্রার্থী বদলের এখন আর কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
দেশের বর্তমান সময়কে একটি ‘ভয়াবহ ট্রানজিশন পিরিয়ড’ বা রূপান্তরকাল হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু ব্যক্তি ও মহল এই সংকটময় সময়কে কেন্দ্র করে ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদসহ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমীর মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক, মহাসচিব মাওলানা মো. মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং উভয় দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
গণহত্যার বিচারের ধীরগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ১১ দলীয় জোট। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে তারা। সোমবার (২২ জুন) সকালে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে রাজধানীর বিজয়নগরে প্রতিবাদ সমাবেশ ডেকেছে ১১ দলীয় জোট। যেখানে উপস্থিত থাকবেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। একই দাবিতে আগামী ৪ জুলাই সব জেলায় বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণাও দিয়েছে জোটটি। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, সীমান্তে প্রতিবেশী দেশ অস্ত্র মজুত করলেও তাতে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে এসব ঘটনায় ১১ দল উদ্বিগ্ন। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন ইস্যুতেও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।তিনি বলেন, ২৩ জুন ঘিরে কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত দল তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে তা ঠেকানোর দায়িত্ব সরকারের, কোনো দলের না। এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়েও খারাপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খুলনা: জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য জাতিকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, এই বিপ্লব কোনো রাজনৈতিক দল, পরিবার বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়; বরং বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি মর্যাদাশীল, শক্তিশালী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংঘটিত হবে। গতকাল খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলটি জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বিএনপি নেতাদের ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে ফিরে আসার আহ্বান জানান এবং বলেন, জনরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করলে তার রাজনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ বা বিদেশি প্রভাবের কাছে মাথা নত করা হবে না। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি জনগণ দেখতে পায় যে জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করা হচ্ছে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। নির্বাচন ও সংসদীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটে নানা অনিয়ম ও কারচুপির মাধ্যমে জনগণের রায় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবে সংসদ ও রাজপথ—উভয় ক্ষেত্রেই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করা হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, পুশইনের নামে একটি প্রতিবেশী দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। তিনি সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, দেশের জনগণ সীমান্ত রক্ষায় তাদের পাশে রয়েছে। বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী সম্পর্ক চাইলেও দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এ দাবি এসেছে। তিনি ক্ষমতার ভারসাম্য, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্মসচিব অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে কখনো ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেননি বলে দাবি করেছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তার ভাষায়, ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি সাধারণত নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়, অথচ ড. ইউনূস তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন। সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে নিয়ে দুটি কথা বলেছিলেন, কিন্তু কোথাও “মাস্টারমাইন্ড” শব্দটি ব্যবহার করেননি। মাস্টারমাইন্ড একটি বাজে শব্দ। আপনি বলবেন “হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড”? মাস্টারমাইন্ড সবসময়ই নেতিবাচক অর্থ বহন করে।’ মাহফুজ আলম দাবি করেন, তাকে নিয়ে ড. ইউনূস এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমের দেওয়া বক্তব্যেও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ছিল না। তার ভাষায়, ‘স্যার খুবই স্পষ্টভাবে “ব্রেইনস বিহাইন্ড” শব্দটি ব্যবহার করেছেন। পশ্চিমা রাজনৈতিক আলোচনা বা বিতর্কে এ ধরনের শব্দগুচ্ছ স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ফ্রেম করা হয়েছে।’ কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, ‘আমরা কি কখনো বলি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান একটি ষড়যন্ত্র ছিল? এ কথা আইয়ুব খান বলেছেন, ইয়াহিয়ার শাসনামল বলেছে, পাকিস্তানের সামরিক জান্তা বলেছে। আজকে একই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।’ প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের ফাঁকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ লিডারস স্টেজ’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নিউইয়র্কে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের বন্ধু বিল ক্লিনটনের সঙ্গে আলাপকালে সফরসঙ্গী কয়েকজনকে পরিচয় করিয়ে দেন ড. ইউনূস। সে সময় কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মাহফুজ আলমকে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।