জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে চারটি আসনে নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এসব আসনে জমিয়েতর প্রার্থীরা তাদের দলীয় ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব আসনে বিএপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চারটি আসনে নির্বাচনি সমঝোতার কথা জানিয়ে এ আহ্বান জানান।
বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের সমঝোতা হওয়া আসনগুলো হলো—নীলফামারী-১ (মাওলানা মো. মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী), নারায়ণগঞ্জ-৪ (মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী), সিলেট-৫ (মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব)। এই চারটি আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না এবং জমিয়তের প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সমঝোতা অনুযায়ী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম অন্য কোনো আসনে প্রার্থী দেবে না। আমাদের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন ওই আসনগুলোতে খেজুর গাছ মার্কার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পূর্ণ সহযোগিতা করেন। খেজুর গাছকে বিজয়ী করার মাধ্যমেই ধানের শীষের শক্তি বৃদ্ধি পাবে।’
নির্বাচনি শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীদের বাইরে কেউ যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ায়, তবে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। দলীয় প্রার্থী বদলের এখন আর কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
দেশের বর্তমান সময়কে একটি ‘ভয়াবহ ট্রানজিশন পিরিয়ড’ বা রূপান্তরকাল হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু ব্যক্তি ও মহল এই সংকটময় সময়কে কেন্দ্র করে ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদসহ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমীর মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক, মহাসচিব মাওলানা মো. মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং উভয় দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় দুই নারীসহ চারজনকে লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে টিএসসি এলাকায় দুজন পুরুষ ও দুজন নারীকে লাঞ্ছনার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডারে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ তাদের ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করেন। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শাহরিয়ার ইসলাম তুষার, বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের রাকিব আহমেদ এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের শাহরিয়ার তানজিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কবর থেকে চুরি করা মানব কঙ্কাল বিক্রির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মণিপুরীপাড়া, তেজগাঁও কলেজ ও উত্তরা এলাকা থেকে মো. ফয়সাল আহম্মেদ (২৬) ও কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক (২৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও বিপুল পরিমাণ মানবদেহের হাড়সহ কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান। জানা গেছে, মো. ফয়সাল আহম্মেদ উত্তরার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে ইন্টার্নশিপের জন্য অপেক্ষা করছেন। একই কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী জহুরুল ইসলাম। তারা গত কয়েক বছর ধরেই কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে এবং অনলাইনে নিজেদের গ্রুপের মাধ্যমে কঙ্কাল বিক্রি করে আসছেন। এ কাজে জড়িত প্রায় সাতজনের একটি সক্রিয় চক্র।কবর থেকে চুরি করে এসব কঙ্কাল বিক্রি করতেন তারা। ডিসি মোহাম্মদ ইবনে মিজান বলেন, ‘রমজানের শুরু থেকে আমাদের বিশেষ অভিযান চলমান। সোমবার রাতে তেজগাঁও থানা-পুলিশ বিশেষ অভিযানের প্রস্তুতিকালে তেজগাঁও মণিপুরীপাড়ার একটি জায়গায় মানব কঙ্কাল বিক্রির চেষ্টার গোপন তথ্য জানা যায়। পুলিশ সেখানে গিয়ে কাজী জহুরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সন্দেহজনক চলাচল দেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।একপর্যায়ে তার হেফাজত থেকে একটি মানব কঙ্কাল জব্দ করা হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘জহুরুলকে আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এর সঙ্গে জড়িত আরো বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে এবং আরো দুজন কঙ্কালসহ তেজগাঁও কলেজের সামনে অবস্থা করছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। পরে সেখান থেকে মো. আবুল কালাম (৩৯) ও আসাদুল মুন্সী (৩২) নামের দুজনকে দুটি মানব কঙ্কালসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ দুজন শিক্ষার্থী নয়। তাদের মধ্যে কালামের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে কঙ্কাল উত্তোলনের অভিযোগে মামলা হয়েছিল।এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদকসহ মানব কঙ্কাল উত্তোলন ও চুরির ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ২১টি মামলা রয়েছে। মুন্সীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।’ গ্রেপ্তার তিনজনকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র উল্লেখ করে ডিসি বলেন, ‘তারা দেশব্যাপী এটা পরিচালনা করে আসছে। এ সময় তারা জানায়, জব্দ করা তিনটি কঙ্কাল ছাড়াও উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৯ নম্বর সেক্টরে সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের হোস্টেলের একটি কক্ষে ৪৪টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড় রয়েছে। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন ব্যাগ ও বস্তায় রাখা আরো ৪৪টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড় উদ্ধারসহ চক্রের মূল হোতা মো. ফয়সালকে আটক করা হয়।’ জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল জানান, তাদের একটি অনলাইন গ্রুপ আছে। এটির নাম বোন্স সেলিং (হাড় বিক্রি)। সেখানে তাদের ৭০০ জন কাজ করেন। গ্রুপটিতে ২০ হাজার সদস্য রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে দুই শিক্ষার্থী এই কঙ্কাল বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এখন পর্যন্ত তারা কেউ ৫০টি, কেউ ২০টি কঙ্কাল বিক্রি করেছেন। তাদের সঙ্গে আরো অনেকে জড়িত রয়েছেন যারা কবর থেকে লাশগুলো উত্তোলন করেন। তারা মূলত গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর অঞ্চল থেকে এসব কঙ্কাল নিয়ে আসেন।’ ডিসি ইবনে মিজান বলেন, ‘মাঠপর্যায় থেকে তারা ৬-৮ হাজার টাকায় কঙ্কালগুলো কেনেন। পরে সেগুলো ১৫-২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তারা কঙ্কাল বিক্রি করেন, তাদের কলেজের শিক্ষার্থীরা তা জানতেন। যখন কেউ অনলাইনে কঙ্কাল কেনার জন্য বুকিং দেন তখন তারা ১-২ সপ্তাহ সময় নেন। শিক্ষার্থীদের কাছে এবং যারা বিক্রি করত তাদের কাছেই তারা এসব কঙ্কাল বিক্রি করতেন। তারা চারজনই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। লাশ কবরস্ত করার এক বছর পর তারা সেটি পর্যবেক্ষণ করে তুলে নিয়ে আসেন। এ ক্ষেত্রে অরক্ষিত কবরগুলোতেই এই কাজগুলো করতেন। যেসব কবরে সিসি ক্যামেরা নাই, পর্যাপ্ত আলো নাই, নিরাপত্তা নেই সেসব কবর থেকেই তাদের লোকবল দিয়ে কঙ্কালগুলো সংগ্রহ করতেন। পরে কেমিক্যালের মাধ্যমে সেগুলো প্রক্রিয়া করে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করতেন। তাদের আজই আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে আসা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে আরো কারা কারা জড়িত সেই বিষয়গুলো বের করে আনার চেষ্টা করা হবে।’ ডিসি ইবনে মিজান জানান, কোনো পরিবার বা স্বজন যদি তাদের স্বজনদের লাশের জন্য অভিযোগ করেন তাহলে সেগুলো ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
দেশের সব সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থেকে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সোমবার (৯ মার্চ) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১০ মার্চ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকার ঘোষিত ছুটি চলাকালে দেশের সকল মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটসমূহের ক্লাস এবং অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাসমূহ বন্ধ থাকবে।