ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের শোক প্রকাশ দেখে বিস্মিত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘ভেবেছিলাম মানুষ তাকে ঘৃণা করে। কিন্তু এত মানুষকে কাঁদতে দেখে আমি অবাক হয়েছি।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মানুষ তাকে (খামেনি) ঘৃণা করে। কিন্তু এত মানুষকে কাঁদতে দেখে আমি অবাক হয়েছি।’
তিনি আরও দাবি করেন, চাইলে জানাজায় উপস্থিত সবাইকে তিনি ‘নির্মূল’ করতে পারেন। তবে তা করলে আলোচনার জন্য আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, খামেনির জানাজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্পরিক আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘জানাজার সময় দুই পক্ষই একে অপরের ওপর কোনো হামলা চালাবে না।’
উল্লেখ্য, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে শনিবার (৪ জুন) লাখ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছেন। এ সময় উপস্থিত মানুষের কণ্ঠে শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন দেখা গেছে।
জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ খামেনির মৃত্যুকে পারিবারিক অভিভাবক হারানোর চেয়েও বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে তারা এই হামলার জন্য দায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯৫৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, আর বহু মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বা আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন। লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। সেখানে অসংখ্য আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার— দুই ভূমিকম্পের ১০ দিন পর আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান কার্যক্রম গুটিয়ে আনতে শুরু করেছে। তবে অনেক পরিবার এখনও স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে জীবিত উদ্ধার করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রথম ৭২ ঘণ্টা। যদিও চলতি সপ্তাহেও কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সদস্যদের সম্মাননা পদক প্রদান করেন। এ সময় উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত কয়েকটি কুকুরকেও সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার এখনও প্রিয়জনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েনি। আবার অনেকেই সবকিছু হারিয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল শনিবার তাদের কার্যক্রম শেষ করার প্রস্তুতি নেয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ফায়ার বিভাগের উদ্ধারকারী দল জানায়, সর্বশেষ অনুসন্ধানে আর কোনো জীবিত মানুষের সন্ধান না পাওয়ায় তারা অভিযান সমাপ্ত করছে। একইভাবে ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়ার দলও দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে অনেক ভেনেজুয়েলাবাসী অভিযোগ করেছেন, দুর্যোগের পর সরকারের তৎপরতা ছিল ধীরগতির। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই পরিবারগুলো নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, হাজার হাজার সেনাসদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল। লা গুয়াইরায় শনিবার ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধসে পড়া ভবন অপসারণ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে অনেক পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করে দাফনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। স্বেচ্ছাসেবী ফ্রান্সিসকো সাসকিয়া বলেন, ‘আমরা এখনও মরদেহ খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কাজটি খুব কঠিন। আজ আমরা দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছি, যা তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ ভূমিকম্পে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর হারিয়েছেন। হাসপাতালগুলোও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জার্মানির কট্টর ডানপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দল এএফডির বিরুদ্ধে পূর্বাঞ্চলীয় শহর এয়্যারফোর্টে বিক্ষোভে করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। তারা দলটির বার্ষিক সম্মেলনে যাওয়ার পথ অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। ফলে সম্মেলনস্থলে যাতায়াত কার্যত ব্যাহত হয়। শনিবারের ওই সম্মেলনে আল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) তাদের দুই নেতাকে পুনর্নির্বাচিত করে যারা একটি জাতীয় শক্তি হিসেবে দলটির উত্থানের তত্ত্বাবধান করছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, এএফডির দুই দিনের সম্মেলনকে ঘিরে বিভিন্ন ইউনিয়ন, সামাজিক গোষ্ঠীগুলো ও বামপন্থি পার্টিগুলোর বিক্ষোভকারীরা এয়ারফোর্টে জড়ো হয়। তাদের পাশাপাশি সম্মেলনের আগেই পুরো জার্মানি থেকে আসা অতিরিক্ত সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ শহরটিতে মোতায়েন করা হয়। দাঙ্গা দমনে প্রস্তুত পুলিশের নজরদারির মধ্যে এএফডির সম্মেলন কেন্দ্রে যাওয়ার মহাসড়ক ও সড়কগুলো অবরুদ্ধ করতে বিক্ষোভকারীরা সারিবদ্ধভাবে বসে পড়েন। পুলিশের হিসাবে পূর্বাঞ্চলীয় ওই শহরটিতে ও এর আশপাশে বিক্ষোভগুলোতে ১৫ হাজার মানুষ যোগ দিয়েছিল। সম্মেলনের শুরুতেই এএফডি পার্টি প্রধান পদে আলিস ভাইডল ও টিনো ক্রুপালাকে পুনর্নির্বাচিত করে। এদের তত্ত্বাবধানেই এএফডি জাতীয় জরিপের ফলাফলগুলোর শীর্ষস্থানে এএফডির উত্থান ঘটে। জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের সমর্থনের দিক দিয়ে এএফডি জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের রক্ষণশীল জোট থেকেও এগিয়ে আছে। সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তারা বিক্ষোভকারীদের গণতন্ত্র-বিরোধী বলে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা ও উপহাস করেন। জরিপে এএফডির উত্থানের যেই আভাস সামনে এসেছে তাতে উল্লসিত এই নেতারা চলতি বছরের আঞ্চলিক নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দলটি ক্ষমতায় আসবে, এমন বিশ্বাস প্রকাশ করেন। তারা তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে ক্লান্ত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও জার্মানিকে পতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। সম্মেলন শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটএ আগে দলটির কঠোর অভিবাসন বিরোধী অবস্থানের জানান দিয়ে এএফডির সামাজিক মাধ্যম সম্প্রচারে তথাকথিত ‘সেন্ড দেম ব্যাক’ গান বাজানো হয়। সম্মেলন কেন্দ্রের ভেতরে পুরনো দিনের নকশা ও নান্দনিকতার অনুসরণে তৈরি করা কার্ড বিক্রি করা হয়, যেগুলোর কোনো কোনটিতে লেখা ছিল, “তোমাকে নির্বাসিত করা হবে।” সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, এএফডির জনসমর্থন বেড়ে ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে যেখানে মের্ৎসের সিডিইউ/সিএসইউ রক্ষণশীল জোটের সমর্থন প্রায় ২২ শতাংশের মতো।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চরম অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন বিদ্রোহ আর ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে এবার রণংদেহী রূপ ধারণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী নেতাদের সরাসরি ‘বেইমান’ বা ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাকে দমানোর একমাত্র পথ হলো তাকে হত্যা করা। নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে যে অস্থিরতার আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল, তা এখন দাবানলে রূপ নিয়েছে। দলের ৮০ জন বিধায়কের বড় একটি অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা গোষ্ঠী গঠন করায় কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে তৃণমূল। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার (৪ জুলাই) বড়সড় ধাক্কা খান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করে যোগ দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরে। বিদ্রোহীদের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মমতা বলেন, ‘দলের প্রতীক বা সাইন বোর্ড কোথাও যাবে না। যারা আমাকে থামাতে চান, তাদের বলছি—আমাকে মেরেই ফেলুন।’ বিদ্রোহীদের কড়া সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজে তোমাদের মনোনয়নে সই করেছি, আর মাত্র দুই মাসের মধ্যেই তোমরা বেইমান হয়ে গেলে? সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত’। তার স্পষ্ট দাবি, এই বিদ্রোহীরা আসলে বিজেপির চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে, তবে তিনি কোনোভাবেই গেরুয়া শিবিরের সামনে মাথা নত করবেন না। দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বর্তমানে চলছে চরম উত্তেজনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘মা, মাটি, মানুষের’ সম্পদ কেউ গায়ের জোরে কেড়ে নিতে পারবে না। বিদ্রোহীরা যে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করেছে, সেটি ২০২৭ সাল পর্যন্ত লিজ নেওয়া এবং তা একান্তই দলের সম্পত্তি বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে দলের জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে মমতার বাসভবনের অফিসটিকেই প্রধান কার্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তৃণমূলের এই আড়াআড়ি বিভক্তি এখন আইনি লড়াইয়ের পথে। জোড়াফুল প্রতীকের আসল মালিক কে, তা নির্ধারণে আসরে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ই জুলাই বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে উভয় পক্ষকে নিজ নিজ দাবির সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘ডু অর ডাই’ অবস্থান রাজনৈতিকভাবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি