বিশ্ব

কাবাঘরের গিলাফ পাঠানো হয়েছিল কুখ্যাত এপস্টেইনকে

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি : রয়টার্স
ফাইল ছবি : রয়টার্স


নতুন প্রকাশিত দণ্ডপ্রাপ্ত শিশু যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের নথিতে এমন ইমেইল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত কাবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র কাপড় পাঠানোর বিবরণ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত-সম্পর্কিত যোগাযোগের মাধ্যমে এই চালানটির ব্যবস্থা করা হয় এবং তা এপস্টেইনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে রবিবার মিডল ইস্ট আই এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চের তারিখযুক্ত এই চিঠিপত্রে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ব্যবসায়ী আজিজা আল-আহমাদি আবদুল্লাহ আল-মারি নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করে কিসওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি কাপড়ের টুকরা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিসওয়া হলো কালো রঙের, সোনালি সূচিকর্ম করা কাপড়, যা সৌদি আরবে ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবাকে আবৃত করে।


বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে কিসওয়ার গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। প্রতি বছর এই কাপড়টি কাবা থেকে সরিয়ে নতুন কাপড় বসানো হয়, আর পুরোনো কিসওয়ার অংশগুলোকে অত্যন্ত মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথির ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, সৌদি আরব থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মাধ্যমে বিমানপথে ফ্লোরিডায় এই সামগ্রী পাঠানো হয়। এতে চালানপত্র, কাস্টমস ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সরবরাহ—সবকিছুর সমন্বয়ের বিবরণ রয়েছে।


বার্তাগুলোতে তিনটি আলাদা অংশের কথা বলা হয়েছে- একটি কাবার ভেতর থেকে নেওয়া, একটি ব্যবহৃত বাইরের আবরণ থেকে নেওয়া এবং তৃতীয়টি একই উপকরণে তৈরি হলেও ব্যবহৃত হয়নি। ইমেইলে বলা হয়, অব্যবহৃত অংশটিকে ‘শিল্পকর্ম’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করার উপায় হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

২০১৭ সালের মার্চে এই চালানটি এপস্টেইনের বাড়িতে পৌঁছে। তখন তিনি ইতিমধ্যে কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন এবং যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।


একটি ইমেইলে আহমাদি কাপড়টির ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে সরাসরি এপস্টেইনকে লেখেন, ‘কালো অংশটি বিভিন্ন মতের অন্তত এক কোটি মুসলমান স্পর্শ করেছেন।’

তিনি আরো লেখেন, ‘তারা কাবার চারদিকে সাতবার ঘোরেন, তারপর যতটা পারেন এটি স্পর্শ করার চেষ্টা করেন এবং এই অংশটির ওপর তাদের দোয়া, কামনা, অশ্রু ও আশা রেখে যান—এই আশায় যে এরপর তাদের সব প্রার্থনা কবুল হবে।’

আহমাদির সঙ্গে এপস্টেইনের পরিচয় কিভাবে হয়েছিল বা কেন এই কাপড়গুলো তার কাছে পাঠানো হয় তা এই চিঠিপত্রে ব্যাখ্যা করা হয়নি।

আরেক দফা ইমেইলে দেখা যায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হারিকেন ইরমা ক্যারিবীয় অঞ্চলে আঘাত হানার পর সৌদি নাগরিক বলে ধারণা করা আহমাদি এপস্টেইনের খোঁজ নেন। তখন তার ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।


কয়েক দিন ধরে তিনি এপস্টেইনের সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্বীপে তার অবস্থার খোঁজ নেন। সেক্রেটারি জানান, সবাই নিরাপদ থাকলেও বহু স্থাপনা, গাছপালা ও ডক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যদিও ভেতরের অংশ মোটামুটি ঠিক আছে। জবাবে আহমাদি লেখেন, ‘নতুন টেন্ট পাঠানোর প্রতিশ্রুতি’।

লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপটি এপস্টেইনের যৌন পাচার কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

আরেকটি বার্তায় দেখা যায়, এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফ আহমাদিকে একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট পাঠান, তবে এর উদ্দেশ্য কী ছিল—তা পরিষ্কার নয়।

ইমেইল আদান-প্রদানে এপস্টেইন খুব কমই সরাসরি আহমাদির সঙ্গে কথা বলেছেন। একটি বার্তায় আহমাদি গ্রফকে জিজ্ঞেস করেন, নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে তিনি কি মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য এপস্টেইনের বাড়িতে গিয়ে বিদায় ও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে পারেন।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত একটি এফবিআই স্মারকে বলা হয়, এপস্টেইন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন। স্মারকে উল্লেখ করা হয়, তিনি ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ফাইল ছবি : রয়টার্স
কাবাঘরের গিলাফ পাঠানো হয়েছিল কুখ্যাত এপস্টেইনকে

নতুন প্রকাশিত দণ্ডপ্রাপ্ত শিশু যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের নথিতে এমন ইমেইল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত কাবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র কাপড় পাঠানোর বিবরণ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত-সম্পর্কিত যোগাযোগের মাধ্যমে এই চালানটির ব্যবস্থা করা হয় এবং তা এপস্টেইনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে রবিবার মিডল ইস্ট আই এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।  প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চের তারিখযুক্ত এই চিঠিপত্রে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ব্যবসায়ী আজিজা আল-আহমাদি আবদুল্লাহ আল-মারি নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করে কিসওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি কাপড়ের টুকরা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিসওয়া হলো কালো রঙের, সোনালি সূচিকর্ম করা কাপড়, যা সৌদি আরবে ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবাকে আবৃত করে। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে কিসওয়ার গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। প্রতি বছর এই কাপড়টি কাবা থেকে সরিয়ে নতুন কাপড় বসানো হয়, আর পুরোনো কিসওয়ার অংশগুলোকে অত্যন্ত মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথির ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, সৌদি আরব থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মাধ্যমে বিমানপথে ফ্লোরিডায় এই সামগ্রী পাঠানো হয়। এতে চালানপত্র, কাস্টমস ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সরবরাহ—সবকিছুর সমন্বয়ের বিবরণ রয়েছে। বার্তাগুলোতে তিনটি আলাদা অংশের কথা বলা হয়েছে- একটি কাবার ভেতর থেকে নেওয়া, একটি ব্যবহৃত বাইরের আবরণ থেকে নেওয়া এবং তৃতীয়টি একই উপকরণে তৈরি হলেও ব্যবহৃত হয়নি। ইমেইলে বলা হয়, অব্যবহৃত অংশটিকে ‘শিল্পকর্ম’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করার উপায় হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ২০১৭ সালের মার্চে এই চালানটি এপস্টেইনের বাড়িতে পৌঁছে। তখন তিনি ইতিমধ্যে কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন এবং যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। একটি ইমেইলে আহমাদি কাপড়টির ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে সরাসরি এপস্টেইনকে লেখেন, ‘কালো অংশটি বিভিন্ন মতের অন্তত এক কোটি মুসলমান স্পর্শ করেছেন।’ তিনি আরো লেখেন, ‘তারা কাবার চারদিকে সাতবার ঘোরেন, তারপর যতটা পারেন এটি স্পর্শ করার চেষ্টা করেন এবং এই অংশটির ওপর তাদের দোয়া, কামনা, অশ্রু ও আশা রেখে যান—এই আশায় যে এরপর তাদের সব প্রার্থনা কবুল হবে।’ আহমাদির সঙ্গে এপস্টেইনের পরিচয় কিভাবে হয়েছিল বা কেন এই কাপড়গুলো তার কাছে পাঠানো হয় তা এই চিঠিপত্রে ব্যাখ্যা করা হয়নি। আরেক দফা ইমেইলে দেখা যায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হারিকেন ইরমা ক্যারিবীয় অঞ্চলে আঘাত হানার পর সৌদি নাগরিক বলে ধারণা করা আহমাদি এপস্টেইনের খোঁজ নেন। তখন তার ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কয়েক দিন ধরে তিনি এপস্টেইনের সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্বীপে তার অবস্থার খোঁজ নেন। সেক্রেটারি জানান, সবাই নিরাপদ থাকলেও বহু স্থাপনা, গাছপালা ও ডক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যদিও ভেতরের অংশ মোটামুটি ঠিক আছে। জবাবে আহমাদি লেখেন, ‘নতুন টেন্ট পাঠানোর প্রতিশ্রুতি’। লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপটি এপস্টেইনের যৌন পাচার কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আরেকটি বার্তায় দেখা যায়, এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফ আহমাদিকে একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট পাঠান, তবে এর উদ্দেশ্য কী ছিল—তা পরিষ্কার নয়। ইমেইল আদান-প্রদানে এপস্টেইন খুব কমই সরাসরি আহমাদির সঙ্গে কথা বলেছেন। একটি বার্তায় আহমাদি গ্রফকে জিজ্ঞেস করেন, নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে তিনি কি মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য এপস্টেইনের বাড়িতে গিয়ে বিদায় ও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে পারেন। এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত একটি এফবিআই স্মারকে বলা হয়, এপস্টেইন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন। স্মারকে উল্লেখ করা হয়, তিনি ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

গাজার দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে নতুন তথ্য জানাল হামাস

ইতিহাসে প্রথমবার এলপিজি রপ্তানি করল ভেনেজুয়েলা

ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করলে জলবায়ু গবেষণার কী হবে?

ছবি : সংগৃহীত
১৮০০ ওমরাহ ট্রাভেল এজেন্সির কার্যক্রম স্থগিত সৌদির

১৮০০ ওমরাহ ট্রাভেল এজেন্সির কার্যক্রম স্থগিত করেছে সৌদি আরব। দুর্বল পারফরম্যান্স ও সেবার মানে ঘাটতির কারণে এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমরাহ খাতে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ বিদেশি ট্রাভেল এজেন্সি রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০০টির সঙ্গে চুক্তি স্থগিত করেছে সৌদি আরব। রোববার দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, নিয়মিত মূল্যায়নের সময় সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর সেবা ও কার্যক্রমে বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়েছে। এসব ঘাটতি দূর করার জন্য এজেন্সিগুলোকে ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই স্থগিতাদেশ শুধু নতুন ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এটি একটি নিয়ন্ত্রক উদ্যোগের অংশ, যার উদ্দেশ্য এজেন্সিগুলোকে নির্ধারিত মান ও বিধি অনুযায়ী কার্যক্রম সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণ করলে তাদের সঙ্গে করা চুক্তি পুনরায় কার্যকর করা হবে। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব হজযাত্রীর কাছে ইতোমধ্যে বৈধ ভিসা রয়েছে বা যাদের বুকিং সম্পন্ন হয়েছে, তাদের ওমরাহ কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না এবং সেবা স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঘাসসান আল-নওয়াইমি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ত্রুটি সংশোধনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওমরাহ খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদার এবং হাজিদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে মন্ত্রণালয় নিয়মিত নজরদারি ও মূল্যায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬ 0
সাগরে নৌবহর। ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক মহড়া

দুই দেশের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের বাজেটে বাংলাদেশের জন্য ৬০ কোটি রুপি অনুদান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত।

বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ ট্রাম্পের

বেলুচিস্তানে হামলা ও অভিযানে নিহত ২০০
বেলুচিস্তানে হামলা ও অভিযানে নিহত ২০০

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিষিদ্ধ বেলুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সহযোগীরা গত শনিবার ১২টি শহরে সমন্বিত হামলা চালায়। এতে অন্তত আট নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। এ প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৯২ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়। অভিযানে ১৫ সেনাসদস্যও নিহত হন। এ ছাড়া ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।   গতকাল রোববার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ও বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ হামলার নকশা বিদেশ থেকে করা হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গত ৪০ ঘণ্টায় ১৪৫ ‘সন্ত্রাসী’, ১৭ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও ৩১ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। গতকাল বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতিও এমন তথ্য জানিয়েছেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সদস্যরা কোয়েটা, মাসতুং, নুশকি, ডালবানদিন, খারান, পাঞ্জগুর, তাম্প, গোয়াদর ও পাসনি এলাকায় একযোগে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা নারী, শিশু ও শ্রমিকসহ ১৮ জন নিরীহ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে। আইএসপিআর বলেছে, ‘হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে। অভিযানে তিন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীসহ ৯২ সন্ত্রাসী নিহত হয়। লড়াইয়ে ১৫ সেনাসদস্য বীরত্বের সঙ্গে প্রাণ দেন। এলাকাগুলোতে সন্ত্রাসীদের মূলহোতা ও সহায়তাকারীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকভি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা কোথায় বসে এসব করছে, তার অকাট্য প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। আমরা বিশ্ববাসীর কাছে তাদের মুখোশ খুলে দেব।’ মুখ্যমন্ত্রী বুগতি বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি পুরো বেলুচ পরিবারও রয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক কমানো সম্ভব হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঞ্জাব থেকে বেলুচিস্তানে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডেরা গাজি খান শহরের পুলিশ উপকমিশনার উসমান খালিদ বলেন, ফোর্ট মুনরো হাইওয়ে ও তৌনসা-মুসা খেল সড়ক দিয়ে যান চলাচল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার ওই হামলাকে সন্ত্রাসীদের একটি ‘মরিয়া পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬ 0
ইরানে যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি : সংগৃহীত

ইরানে সামরিক হামলার দিনক্ষণ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রকে জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রতীকী ছবি ।

ভারতের শেয়ারবাজারে বড় ধস, ১০ লাখ কোটি হাওয়া

ছবি : সংগৃহীত

তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৮, আহত ২৬

0 Comments