জাতীয়

জুলাই সনদ রক্তের বিনিময়ে তৈরি, সরকার গণভোটের প্রচার করতেই পারে : আলী রীয়াজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৭, ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ কেবল কাগজে কালো অক্ষরে ছাপা কোনো দলিল নয়, এটি ১৬ বছরের বেশি সময়ে গুম হয়ে যাওয়া মানুষের পরিবার-পরিজনের হাহাকার এবং ২৪ এর জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে তৈরি হয়েছে। তাই অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদের ভিত্তিতে গণভোটের পক্ষে প্রচার করতেই পারে।

আজ শনিবার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় মতবিনিময় সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘এই সনদ তৈরি হয়েছে ১৬ বছরের বেশি সময়ে গুম হয়ে যাওয়া মানুষের পরিবার-পরিজনের হাহাকার থেকে। যে মা তার সন্তানকে হারিয়েছে, তার প্রতিদিনের যে অশ্রু, তা দিয়ে তৈরি হয়েছে এই জুলাই সনদ। তরুণ শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসায়ী, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যেভাবে প্রাণ দিয়েছেন, সেই প্রাণের বিনিময়ে তৈরি হয়েছে এই সনদ। এটিই ভবিষ্যতের পথরেখা।’

গণভোট প্রশ্নে সরকারের নৈতিক ও আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার করতে পারেন কি না। সংবিধান, বিদ্যমান আইন এবং আরপিও, কোথাও এটি নিয়ে কোনো বাধা নেই। এ ছাড়া গণভোট সংক্রান্ত যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, সেখানেও কোনো বাধার বিষয় নেই। সরকার যদি কিছু প্রস্তাব করে, তবে সেই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন চাওয়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ১৯৭২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ৪৮টি গণভোট হয়েছে, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটিকে সাধারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার মনে করা ভুল হবে। এই সরকারের নৈতিক ভিত্তি হলো ১৪০০ মানুষের আত্মদান এবং হাজার হাজার আহত মানুষের ত্যাগ। সরকার জুলাই জাতীয় সনদ চাপিয়ে দিচ্ছে না, বরং ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ৯ মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনার ভিত্তিতে এটি তৈরি হয়েছে।’

গণভোটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই সনদ তৈরি হলেও গণভোটের প্রয়োজন মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, সব রাজনৈতিক দল দেশের সব জনগণের পুরোপুরি প্রতিনিধিত্ব করে না। দলের বাইরেও বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে, যারা কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। রাষ্ট্র সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদের সম্মতি নেওয়াটাও জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি হলো আইনি সুরক্ষা। এই গণভোটের মাধ্যমে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে সংবিধান সংস্কারের সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট বা ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো- ভবিষ্যতে যাতে কেউ আদালতে প্রশ্ন তুলতে না পারে যে, এই সংসদের কি সংবিধানের এত বড় সংস্কার বা সংশোধনী আনার এখতিয়ার আদৌ ছিল? জনগণ যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলে রায় দেয়, তবে সেই ক্ষমতা তারা পাবে এবং আদালত এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ প্রথম ১৮০ দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। এই সময়ের মধ্যে তারা জুলাই সনদের সংস্কারগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করবে। এরপর বাকি সময় তারা সাধারণ জাতীয় সংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ, দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও দুদক গঠন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার মতো মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে যে, এক জীবনে এক ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে যে, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের বেঞ্চ বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে বিচার পায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার বা কথা বলার সুযোগ থাকে না। জুলাই সনদে বলা হয়েছে, বাজেট ও অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যরা তাদের বিবেক অনুযায়ী ভোট দিতে পারবেন। এতে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তারা তাদের এলাকার সমস্যাগুলো সংসদে তুলে ধরতে পারবেন।’

বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ সোহেল রানার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘সোহেল রানা প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন ফ্যাসিবাদের অবসান। সোহেল রানার মতো ১৪০০ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তেই এই রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটের আয়োজন।’

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা) মনির হায়দার। এছাড়াও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-স্পেন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

বাংলাদেশ ও স্পেনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সংসদীয় পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান।   বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, স্পেনের সিনেট ভবনে দেশটির সিনেটের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো রোলান ওজেডার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।   বৈঠকে বাংলাদেশ ও স্পেনের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল, দক্ষতা উন্নয়ন, জনশক্তি বিনিময় এবং নিরাপদ অভিবাসনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।   রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   এ লক্ষ্য অর্জনে দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রদূত। স্পেনে একটি দ্বিপক্ষীয় পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনেরও আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।   বৈঠকে স্পেনের সিনেট প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, স্পেনের বড় বড় কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করছে। পাশাপাশি গত কয়েক দশকে বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিরও প্রশংসা করেন তিনি।   স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদান নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানের প্রশংসা করে সিনেট প্রেসিডেন্ট তাদের ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত’ হিসেবে অভিহিত করেন।   রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান স্পেনের সিনেট প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং সংসদীয় পর্যায়ে বিনিময় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   স্পেনের সংসদ সদস্যদের বাংলাদেশে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের সংসদীয় যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ আরও বাড়বে।   বৈঠকে স্পেনে নতুন নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত বলেন, পর্যটন, আতিথেয়তা, কৃষি, আবাসন, নৌপরিবহন, সামুদ্রিক খাত এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার মতো বিভিন্ন খাতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীরা স্পেনের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারেন।   এ সময় নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্বার্থ সুরক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।   বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি ও সংসদীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সরকারি ক্রয়চুক্তির তথ্য প্রকাশের সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রের

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা আজ

১০০ মিটার তলিয়েছে পদ্মায়

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগের পর বরখাস্ত ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

 ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২৯ জুলাই অভিযোগ করলেও সোম ও মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর গতকাল মঙ্গলবার তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।   সূত্র জানায়, গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি পক্ষের চাপে ইয়াসীন আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি মতিঝিলে ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।    জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন সমকালকে বলেন, এমডির অনুমতি ছাড়া ওই কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে দুদকে অভিযোগটি জমা দিয়েছিলেন। এ কারণেই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এটা পর্ষদের সিদ্ধান্তের কোনো বিষয় না। এখন তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এ ব্যাপারে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেনকে কয়েক দফা ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।   ব্যাংকের অন্য এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ওই অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে সরকার এই মুহূর্তে চায় না সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রতিকে নিয়ে কোনো বিতর্ক হোক। তাকে ঘিরে প্রতিবেদনটি হওয়ায় আপাতত এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলা হলেও সমকালের হাতে আসা এক নথিতে দেখা যাচ্ছে, গত ২৬ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের পর ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড, সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি সোয়েটার ও এই প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর গত ২৭ জুলাই শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল কাদের সরদার সাক্ষরিত অনুমোদন পত্রে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইয়াসীন আলীকে ক্ষমতা দেওয়া হয়। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীর সঙ্গে কথা বলতে পারেনি সমকাল।   জানা গেছে, জনতা ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতিতে অভিযুক্ত অ্যননটেক্স গ্রুপ কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় এস আলম গ্রুপ। অ্যাননটেক্সের মালিকানাধীন ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করে পরস্পর যোগসাজশে তা আত্মসাতের যুক্ত থাকার অভিযোগে এস আলম, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনিরুল মওলাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য দুদকে অভিযোগ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠক, আলোচনায় যেসব বিষয়

ছবি: সংগৃহীত

গুম ও মানবাধিকার আইনে দায়মুক্তি, উদ্বেগ জানাল টিআইবি

ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড কৃষি ও খাদ্য বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা

কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি বিনিময় ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।   এতে বলা হয়, বুধবার নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে মিনিস্ট্রি ফর প্রাইমারি ইন্ডাস্ট্রিজের (এমপিআই) সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সম্ভাবনার কথা জানানো হয়।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এ বৈঠকে অংশ নেয়। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে এমপিআইয়ের দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক প্রধান ডায়না রেইচ প্রতিনিধিত্ব করেন।   বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি প্রযুক্তি, দুগ্ধ শিল্প, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।   বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের উন্নত বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানি ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও বৃহৎ ভোক্তা বাজারের বিষয়টি তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   বৈঠকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বৃহৎ ভোক্তা বাজারকে কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।   এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, তাজা ফল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রবেশ সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আমদানি স্বাস্থ্যমান (আইএইচএস), স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) ব্যবস্থা, পণ্যের মানের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   বাংলাদেশে উন্নত খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং ইলেকট্রনিক ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেশন (ই-ফাইটো) ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতা কামনা করা হয়।   বৈঠকে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সুসংগঠিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।   এ সময় বাংলাদেশ রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ যোগদানের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন কামনা করে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে উত্তরণ-পরবর্তী ট্রানজিশন সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।   দুই দেশের ব্যবসায়িক ফোরাম প্রতিষ্ঠা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ এবং নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।   বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল আশা প্রকাশ করে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১২, ২০২৬
ফাইল ছবি

গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণা, ৬ জনের ৭ দিনের রিমান্ড

ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জে গৃহবধু তানিয়া হত্যার মূল আসামি গ্রেফতার

0 Comments