আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভাষা নিয়ে দুই পক্ষের সমঝোতা হয়েছে: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ অবসানে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে একমত হওয়ার পাশাপাশি চুক্তির ভাষা কী হবে তা নিয়েও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গতকাল শুক্রবার শাহবাজ এ তথ্য জানিয়ে বলেন, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করতে মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।

 

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘চূড়ান্ত খসড়া চুক্তি এবং সেটির ভাষা কী হবে’—সে বিষয়ে একমত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছে পাকিস্তান এবং তাঁরা পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য যুদ্ধরত দুই দেশের সঙ্গে কাজ করছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ লিখেছেন, ‘এর আগে কখনো শান্তির এতটা কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি’।

 

এমন এক সময়ে আলোচনায় এই অগ্রগতির খবর এল, যখন মাত্র গত সপ্তাহেই ইরান এবং প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের মধ্যে তিন দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার এক্সে এক পোস্টে বলেন, ‘একটি চুক্তি কখনোই এতটা কাছাকাছি ছিল না।’

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সেই পোস্টটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, তাঁরা একটি চুক্তির দোরগোড়ায় রয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে আগ্রাসন শুরু করেছিল, তা মধ্যপ্রাচ্যকে কাঁপিয়ে দিয়েছে এবং কার্যত পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের চালান আসা বন্ধ হয়ে গেছে। গত ৭ এপ্রিল থেকে সেখানে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

 

একজন ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির পর পরমাণুসংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয়গুলো আসবে।

শুক্রবার আরাগচি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, উভয় পক্ষ একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে এগোচ্ছে। এই চুক্তি ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করবে, লেবাননও এর অন্তর্ভুক্ত’।

ইসরায়েল মার্চের শুরু থেকে লেবাননে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ ইসরায়েল নয়। ইসরায়েলের নেতারা বলেছেন, তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা করছে না।

আরাগচি বলেছেন, প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত শর্তাবলি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো চাইলে এই সময়সীমা বাড়াতেও পারে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে এই মতবিরোধের প্রধান একটি কারণ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আশঙ্কা করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়—এটিকেই তাদের নেতারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে তেহরান জোর দিয়ে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা শুক্রবার বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি তেহরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করবে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, দুপক্ষ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর ৬০ দিনের এই সময়টি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার আলোচনা হবে। ইউরেনিয়াম অপসারণের দায়িত্ব কে নেবে বা যুক্তরাষ্ট্র কাকে বিবেচনা করছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে—এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুট হরমুজ প্রণালি।

এই প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং এর ফলে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা আছে। এ বিষয়ে আরাগচি বলেছেন, ইরান এমন একটি চুক্তি চায়, যা তেহরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘সেবার বিনিময়ে ফি’ আদায়ের অনুমতি দেবে।

 

যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য একটি টোলব্যবস্থা চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশগুলোর অভিযোগ, এর মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।

আরাগচি বলেন, ‘সেখানে খরচ হবে এবং সেই খরচ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের কয়েকটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

এ ছাড়া তিনজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আগের দিন বৃহস্পতিবার ট্রাম্প আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি কথা বলেন, যদিও এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি আরও তীব্র হামলা চালানোর এবং ইরানের তেল শিল্প দখলের হুমকি দিয়েছিলেন।

ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল এই আলোচিত চুক্তির কোনো পক্ষ নয়।

আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, এই চুক্তিতে মূল মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং এতে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর ও কাতারের সমর্থন রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ওমান উপকূলে আবার ট্যাংকারে হামলা, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ছে

ওমান উপকূলের হরমুজ প্রণালিতে আবারও একটি ট্যাংকার জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, অজ্ঞাত একটি বস্তু জাহাজটিতে আঘাত হানে।   সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ওমানের উপকূল থেকে প্রায় ৬ নটিক্যাল মাইল পূর্বে থাকা অবস্থায় গত শুক্রবার ট্যাংকারটি হামলার শিকার হয়। তবে এতে জাহাজের ক্রুরা নিরাপদ আছেন এবং কোনো পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। হামলার পর জাহাজটি তার গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে।   এর আগে গত সপ্তাহেও একই অঞ্চলে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওই ঘটনায় তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হন বলে জানা যায়।   এ ঘটনার পর ভারত তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতকে একাধিকবার তলব করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনালাপে জানান, হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশনা লঙ্ঘন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।   তিনি আরও বলেন, ইরানি তেলের অবৈধ পরিবহন রোধে নেওয়া পদক্ষেপ কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকে সতর্ক থাকতে হবে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হওয়ায় সেখানে একের পর এক হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় সরাসরি অংশ নয় ইসরায়েল - নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভাষা নিয়ে দুই পক্ষের সমঝোতা হয়েছে: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সামরিক বহরে যুক্ত হলো ১০৬ ‘অগ্নিবেগ’ ড্রোন

ছবি: সংগৃহীত
জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা সইয়ের সম্ভাবনা, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা আগামী রোববারের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির জন্য সুইজারল্যান্ডের জেনেভাকে সবচেয়ে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তির ভাষা চূড়ান্ত করার কাজ এখনও চলছে। বিশেষ করে লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।   সূত্রগুলো বলছে, শনিবারের মধ্যে চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষ থেকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নাম আলোচনায় রয়েছে।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার দিকে অগ্রগতি হয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আলোচনার বর্তমান পর্যায়ে ইরান তাদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি বাস্তবায়নের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে হামলা বন্ধের বিষয়।   এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিও সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   তবে প্রাথমিক সমঝোতায় পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না-ও থাকতে পারে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, এ বিষয়ে পরবর্তী পর্যায়ে পৃথক আলোচনা চালানো হবে।   ইরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের দাবি জানানো হয়ে আসছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।   ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আলোচনার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাস এবং ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। এমনকি দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক সহায়তা পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   যদিও সম্ভাব্য চুক্তির সব শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবু বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের নতুন পথ খুলে যেতে পারে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন অভিযানের আশঙ্কায় ইউরেনিয়াম ভাণ্ডারে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করেছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন: ইলন মাস্কের সম্পদের উত্থানের গল্প

ছবি: সংগৃহীত

কেন বাড়ছে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রবণতা?

ছবি: সংগৃহীত
জাপানে জন্মহার ও প্রজনন হার ইতিহাসের সর্বনিম্নে, বিয়ে কমার প্রভাব স্পষ্ট

জাপানে জন্মহার ও প্রজনন হার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। কম সংখ্যক বিয়ে ও পরিবার গঠনের প্রবণতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে দেশটির গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞরা।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে জন্ম নিয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৭১ হাজারের কিছু বেশি শিশু, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার কম। ১৮৯৯ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর এটি সর্বনিম্ন জন্মসংখ্যা বলে জানিয়েছে জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে।   একই সময়ে দেশটির মোট প্রজনন হার (একজন নারী তার জীবদ্দশায় গড়ে কতজন সন্তানের জন্ম দিতে পারেন) কমে দাঁড়িয়েছে ১.১৪-এ, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বনিম্ন হার।   এ নিয়ে টানা দশ বছর ধরে জাপানে জন্মহার কমছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের গতি পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক দ্রুত ঘটছে।   সরকারি গবেষকেরা ধারণা করেছিলেন, প্রজনন হার এত নিচে নামতে ২০৪০ সালের কাছাকাছি সময় লাগতে পারে। তবে বাস্তবে তা অনেক আগেই ঘটে গেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মহার কমার অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়া। শতাব্দীর শুরুতে জাপানে বছরে প্রায় ৮ লাখ বিয়ে নিবন্ধিত হতো, যা এখন কমে প্রায় ৫ লাখে নেমে এসেছে।   জাপানে সাধারণত বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যেই সন্তান জন্মের হার বেশি হওয়ায় বিয়ে কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জন্মহারের ওপর।   তবে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অবিবাহিত জাপানিদের প্রায় ৮০ শতাংশ এখনো বিয়ে করতে আগ্রহী।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক পরিবর্তনের কারণে জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে। কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগের পরিবর্তন, বিশেষ করে রিমোট ওয়ার্কের বিস্তার, ব্যক্তিগত যোগাযোগের সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে।   এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে হয়রানি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রও সংকুচিত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ে বিষয়ক সংস্থা ও ম্যাচমেকিং সেবাগুলোর চাহিদা আবারও বাড়তে শুরু করেছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা হ্রাস এখন জাপানের সবচেয়ে বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।   তথ্যসূত্র: আনাদোলু

আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থি চার আন্দোলনকারীর ৪–৮ বছরের কারাদণ্ড, ‘সন্ত্রাস সংশ্লিষ্টতা’ নিয়ে বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

চুক্তিতে ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছেন ট্রাম্প : ইরান

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সমঝোতার আভাস, নিজেদের বিজয়ী দাবি তেহরানের

0 Comments